। মু‘আয ইবনু জাবাল (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাবুকের যুদ্ধে ছিলেন। (সাধারণত সফরকালে) যদি সূর্য পশ্চিমাকাশে ঢলার পর তিনি কোথাও রওয়ানা হতেন, তখন তিনি যুহর ও ‘আসরের সালাত একত্রে আদায় করতেন এবং সূর্য ঢলার পূর্বে রওয়ানা হলে তিনি যুহরকে বিলম্বে আদায় করতেন আর ‘আসরকে প্রথম ওয়াক্তে পড়ে নিতেন। তিনি মাগরিবেও অনুরূপ করতেন। অর্থাৎ রওয়ানা হবার পূর্বে সূর্য ঢুবে গেলে মাগরিব ও ‘ইশা একত্র আদায় করতেন। আর সূর্য ডুবার পূর্বে রওয়ানা হলে মাগরিবকে বিলম্ব করে ‘ইশার সাথে একত্রে আদায় করতেন।[1] সহীহ।
। ইবনু ‘উমার রাযিয়াল্লাহু ‘আনহুমা সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সফরকালে কেবলমাত্র একবারই মাগরিব ও ‘ইশার সালাতকে একত্র করেছেন (একাধিকবার নয়)।[1] ইমাম আবূ দাঊদ (রহঃ) বলেন, এ হাদীস আইয়ূব হতে তিনি নাফি‘ হতে ইবনু ‘উমার রাযিয়াল্লাহু ‘আনহুমা সূত্রে ‘মওকূফ হিসাবে বর্ণিত হয়েছে। অর্থাৎ যেদিন (তার স্ত্রী) সাফিয়্যাহর মৃত্যু সংবাদে ইবনু ‘উমার মদীনার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন শুধুমাত্র ঐ রাতেই নাফি’ (রহঃ) ইবনু ‘উমারকে দু’ সালাতকে একত্র করতে দেখেন, এছাড়া অন্য সময় নয়। অপরদিকে মাকহূল নাফি‘ হতে বর্ণনা করেছেন, তিনি ইবনু ‘উমার রাযিয়াল্লাহু ‘আনহুমা-কে একবার কিংবা দু‘বার এরূপ করতে দেখেছেন। মুনকার।
। ইবনু ‘আব্বাস রাযিয়াল্লাহু ‘আনহুমা সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শত্রুর ভয় ও বৃষ্টির কারণ ছাড়াই মাদীনাতে যুহর ও ‘আসর এবং মাগরিব ও ‘ইশার সালাত একত্রে আদায় করেছেন। ইবনু ‘আব্বাস রাযিয়াল্লাহু ‘আনহুমা কে এর কারণ জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, তাঁর উম্মাত যেন কোন অসুবিধায় না পড়ে সেজন্যই তিনি এরূপ করেন।[1] সহীহ : মুসলিম।
। ‘আবদুল্লাহ ইবনু ওয়াক্বিদ (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। একদা ইবনু ‘উমার রাযিয়াল্লাহু ‘আনহুমা-এর মুয়াযযিন ‘আস-সালাত’ বললে তিনি বলেন, চলো, এগিয়ে চলো! ইতিমধ্যে লালিমা দূরীভূত হবার সময় হলে তিনি (বাহন থেকে) নেমে মাগরিবের সালাত আদায় করলেন। অতঃপর কিছুক্ষণ অপেক্ষা করে লালিমা দূরীভূত হবার পর ‘ইশার সালাত আদায় করলেন। এরপর তিনি বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোন সফরে দ্রুত যাওয়ার প্রয়োজন হলে এরূপ করতেন, যেরূপ আমি করলাম। অতঃপর তিনি সেই দিন ও রাতের সফরে তিন দিনের পথ অতিক্রম করেন।[1] সহীহ : কিন্তু তার বক্তব্য, (লালিমা দূরীভূত হওয়ার সময়) কথাটি শায। মাহফূয হচ্ছেঃ (লালিমা দূরীভূত হওেয়ার পর)।
। নাফি‘ (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন লালিমা দূরীভূত হবার সময় হলো, তখন তিনি (বাহন থেকে) নেমে উভয় সালাতকে (মাগরিব ও ‘ইশা) একত্রে আদায় করলেন।[1] সহীহ।
। ইবনু ‘আব্বাস রাযিয়াল্লাহু ‘আনহুমা সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাদীনাতে আমাদেরকে নিয়ে আট রাক‘আত (অর্থাৎ যুহরের চার ও ‘আসরের চার) এবং সাত রাক‘আত (মাগরিবের তিন ও ‘ইশার চার) সালাত আদায় করেছেন।[1] সহীহ : বুখারী ও মুসলিম। ইমাম আবূ দাউদ (রহঃ) বলেন, বর্ণনাকারী সুলায়মান ও মুসাদ্দাদ তাঁদের বর্ণনায় ‘আমাদেরকে নিয়ে’ কথাটি বলেননি। ইমাম আবূ দাউদ (রহঃ) তাওয়ামাহর মুক্তদাস সলিহ ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) সূত্রে বর্ণনা করেন যে, সেদিন বৃষ্টি না হওয়া সত্ত্বেও সালাত একত্র করেছেন। সহীহ।
হাদিস 1215 — Sunan Abu Dawud 4:18
দাঈফদাঈফদাঈফদাঈফ
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ صَالِحٍ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ مُحَمَّدٍ الْجَارِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ مُحَمَّدٍ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ، عَنْ جَابِرٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم غَابَتْ لَهُ الشَّمْسُ بِمَكَّةَ فَجَمَعَ بَيْنَهُمَا بِسَرِفَ .
। জাবির (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাক্কাতে অবস্থানকালে সূর্য ঢুবে গেলে ‘সারিফ’ নামক স্থানে উভয় সালাতকে (মাগরিব ও ‘ইশা) একত্রে আদায় করেছেন।[1] দুর্বল।
। ‘আবদুল্লাহ ইবনু দীনার (রহঃ) বলেন, একদা সূর্য ডুবল আর আমি তখন ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার রাযিয়াল্লাহু ‘আনহুমা-এর সাথে ছিলাম। আমরা (তখনও) পথ চলতে থাকলাম। যখন আমরা দেখলাম যে, সন্ধ্যা হয়ে গেছে তখন বললাম, আস-সালাত। কিন্তু তিনি পথ অতিক্রম করতেই থাকলেন। এমনকি লালিমা দূরীভূত হয়ে গেলো এবং নক্ষত্ররাজিও উদিত হলো। অতঃপর তিনি বাহন থেকে নামলেন দু’ ওয়াক্তের সালাত একত্রে আদায় করলেন। অতঃপর তিনি বললেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে দেখেছি, কোন সফরে তাঁর দ্রুত যাওয়ার প্রয়োজন হলে তিনি এ সালাতকে এরূপে আদায় করেছেন। তিনি বলতেন, এই দুই সালাতকে রাতের কিছু অংশ অতিবাহিত হবার পর একত্র করা যায়। ইমাম আবূ দাউদ (রহঃ) বলেন, ইবনু ‘উমার রাযিয়াল্লাহু ‘আনহুমা লালিমা দূরীভূত হবার পরই দু’ সালাতকে একত্র করেছেন।[1] সহীহ।