। ‘আত্বা ইবনু আবূ রাবাহ্ (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি ‘আয়িশাহ্ (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করলেন, নারীদের কি জন্তুর উপর সালাত আদায়ের অনুমতি রয়েছে? তিনি বললেন, সুবিধা কিংবা অসুবিধা কোন অবস্থাতেই তাদের জন্য এর অনুমতি নেই। মুহাম্মাদ ইবনু শু‘আইব (রহঃ) বলেন, এ বিধান ফারয সালাতের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।[1] সহীহ।
। ‘ইমরান ইবনু হুসাইন (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছি এবং মাক্কাহ বিজয়ের দিনেও তাঁর সাথে ছিলাম। তিনি মাক্কায় আঠার দিন অবস্থান করেন। এ সময় তিনি (ফারয) সালাত দু’ রাক্‘আত আদায় করেন এবং বলেনঃ হে শহরবাসী! তোমরা চার রাক‘আত সালাত আদায় করবে। কেননা আমরা মুসাফির সম্প্রদায় (তাই চার রাক‘আতের স্থলে দু’ রাকআত আদায় করেছি)।[1] দুর্বল।
। ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাক্কায় সতের দিন অবস্থানকালে সালাতকে ক্বসর করেছেন। ইবনু ‘আব্বাস রাযিয়াল্লাহু ‘আনহুমা বলেন, কোন ব্যক্তি কোথাও সতের দিন অবস্থান করলে তাকে সালাত ক্বসর করতে হবে। এর চেয়ে বেশি দিন অবস্থান করলে, সে সালাত পুরো আদায় করবে।[1] ইমাম আবূ দাউদ (রহঃ) বলেন, ইবনু ‘আব্বাস রাযিয়াল্লাহু ‘আনহুমা সূত্রে অন্য বর্ণনায় রয়েছে, তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ঊনিশ দিন অবস্থান করেছেন। সহীহ : বুখারী এ শব্দে : (ঊনিশ দিন ...) আর এটাই অধিক গ্রহণযোগ্য।
। ইবনু ‘আব্বাস রাযিয়াল্লাহু ‘আনহুমা সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাক্কাহ বিজয়ের বছরে সেখানে পনের দিন অবস্থান করেন এবং এ সময় তিনি সালাত ক্বসর করেন।[1] দুর্বল মুনকার। ইমাম আবূ দাউদ (রহঃ) হাদীসটি ইবনু ইসহাক সূত্রেও বর্নিত হয়েছে, তাতে বর্ণনাকারীগণ ইবনু ‘আব্বাসের নাম উল্লেখ করেননি।
হাদিস 1232 — Sunan Abu Dawud 4:35
দাঈফ Munkarদাঈফ Munkarদাঈফসহিহ
حَدَّثَنَا نَصْرُ بْنُ عَلِيٍّ، أَخْبَرَنِي أَبِي، حَدَّثَنَا شَرِيكٌ، عَنِ ابْنِ الأَصْبَهَانِيِّ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَقَامَ بِمَكَّةَ سَبْعَ عَشْرَةَ يُصَلِّي رَكْعَتَيْنِ .
। ইবনু ‘আব্বাস রাযিয়াল্লাহু ‘আনহুমা সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাক্কায় সতের দিন অবস্থানকালে (ফারয সালাত চার রাক‘আতের স্থলে) দু’ রাক‘আত করে সালাত আদায় করেন।[1] দুর্বল মুনকার। সহীহ হচ্ছে ঊনিশ দিন।
হাদিস 1233 — Sunan Abu Dawud 4:36
সহিহসহিহসহিহসহিহ Bukhari (1081) Sahih Muslim (693)
। আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে মাদীনাহ হতে মাক্কাতে রওয়ানা হলাম। আমরা মাদীনাতে প্রত্যাবর্তন না করা পর্যন্ত তিনি দু’ রাক‘আত করে সালাত আদায় করেন। বর্ণনাকারী বলেন, আমরা জিজ্ঞেস করলাম, আপনারা কি সেখানে কিছু কাল অবস্থান করেছেন? তিনি বললেন, আমরা দশদিন অবস্থান করেছিলাম।[1] সহীহ : বুখারী ও মুসলিম।
হাদিস 1234 — Sunan Abu Dawud 4:37
সহিহসহিহIsnaad Sahih
حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَابْنُ الْمُثَنَّى، - وَهَذَا لَفْظُ ابْنِ الْمُثَنَّى - قَالاَ حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ، - قَالَ ابْنُ الْمُثَنَّى - قَالَ أَخْبَرَنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عُمَرَ بْنِ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، أَنَّ عَلِيًّا، - رضى الله عنه - كَانَ إِذَا سَافَرَ سَارَ بَعْدَ مَا تَغْرُبُ الشَّمْسُ حَتَّى تَكَادَ أَنْ تُظْلِمَ ثُمَّ يَنْزِلُ فَيُصَلِّي الْمَغْرِبَ ثُمَّ يَدْعُو بِعَشَائِهِ فَيَتَعَشَّى ثُمَّ يُصَلِّي الْعِشَاءَ ثُمَّ يَرْتَحِلُ وَيَقُولُ هَكَذَا كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَصْنَعُ . قَالَ عُثْمَانُ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ عُمَرَ بْنِ عَلِيٍّ سَمِعْتُ أَبَا دَاوُدَ يَقُولُ وَرَوَى أُسَامَةُ بْنُ زَيْدٍ عَنْ حَفْصِ بْنِ عُبَيْدِ اللَّهِ يَعْنِي ابْنَ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ أَنَّ أَنَسًا كَانَ يَجْمَعُ بَيْنَهُمَا حِينَ يَغِيبُ الشَّفَقُ وَيَقُولُ كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يَصْنَعُ ذَلِكَ وَرِوَايَةُ الزُّهْرِيِّ عَنْ أَنَسٍ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم مِثْلُهُ .
। ‘আবদুল্লাহ ইবনু মুহাম্মাদ ইবনু ‘উমার ইবনু ‘আলী ইবনু আবূ তালিব (রহঃ) হতে তার পিতা ও তার দাদার সুত্রে বর্ণিত। ‘আলী (রাঃ) সফরকালে সূর্যাস্তের পরও চলা অব্যাহত রাখতেন। অবশেষে অন্ধকার ঘনিয়ে এলে বাহন থেকে নেমে মাগরিবের সালাত আদায় করতেন। তারপর রাতের খাবার চেয়ে নিয়ে তা খাওয়ার পর ‘ইশার সালাত আদায় করতেন। অতঃপর আবার রওয়ানা দিতেন এবং বলতেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরূপ করতেন। ‘আবদুল্লাহ ইবনু মুহাম্মাদ ইবনু ‘উমার ইবনু ‘আলীর সূত্রে ‘উসমান বলেন, আমি আবূ দাউদ (রহঃ)-কে বলতে শুনেছি, উসামাহ ইবনু যায়িদ, হাফস ইবনু ‘উবায়দুল্লাহ অর্থাৎ আনাস ইবন মালিকের পুত্র হতে বর্ণনা করেন, আনাস (রাঃ) পশ্চিমাকাশের লালিমা দূরীভূত হবার পর উভয় সালাত একত্রে আদায় করতেন এবং বলতেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরূপ করতেন।[1] সহীহ। যুহরী হতে আনাস (রাঃ) সূত্রে অনুরূপ মারফূ‘ বর্ণনা রয়েছে।
। জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ রাযিয়াল্লাহু ‘আনহুমা সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাবূকে বিশ দিন অবস্থানকালে সালাত ক্বসর করেছেন।[1] সহীহ।
হাদিস 1236 — Sunan Abu Dawud 4:39
হাসান SahihসহিহহাসানIsnaad Sahih
حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ مَنْصُورٍ، حَدَّثَنَا جَرِيرُ بْنُ عَبْدِ الْحَمِيدِ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنْ مُجَاهِدٍ، عَنْ أَبِي عَيَّاشٍ الزُّرَقِيِّ، قَالَ كُنَّا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِعُسْفَانَ وَعَلَى الْمُشْرِكِينَ خَالِدُ بْنُ الْوَلِيدِ فَصَلَّيْنَا الظُّهْرَ فَقَالَ الْمُشْرِكُونَ لَقَدْ أَصَبْنَا غِرَّةً لَقَدْ أَصَبْنَا غَفْلَةً لَوْ كُنَّا حَمَلْنَا عَلَيْهِمْ وَهُمْ فِي الصَّلاَةِ فَنَزَلَتْ آيَةُ الْقَصْرِ بَيْنَ الظُّهْرِ وَالْعَصْرِ فَلَمَّا حَضَرَتِ الْعَصْرُ قَامَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مُسْتَقْبِلَ الْقِبْلَةِ وَالْمُشْرِكُونَ أَمَامَهُ فَصَفَّ خَلْفَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم صَفٌّ وَصَفَّ بَعْدَ ذَلِكَ الصَّفِّ صَفٌّ آخَرُ فَرَكَعَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَرَكَعُوا جَمِيعًا ثُمَّ سَجَدَ وَسَجَدَ الصَّفُّ الَّذِينَ يَلُونَهُ وَقَامَ الآخَرُونَ يَحْرُسُونَهُمْ فَلَمَّا صَلَّى هَؤُلاَءِ السَّجْدَتَيْنِ وَقَامُوا سَجَدَ الآخَرُونَ الَّذِينَ كَانُوا خَلْفَهُمْ ثُمَّ تَأَخَّرَ الصَّفُّ الَّذِي يَلِيهِ إِلَى مَقَامِ الآخَرِينَ وَتَقَدَّمَ الصَّفُّ الأَخِيرُ إِلَى مَقَامِ الصَّفِّ الأَوَّلِ ثُمَّ رَكَعَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَرَكَعُوا جَمِيعًا ثُمَّ سَجَدَ وَسَجَدَ الصَّفُّ الَّذِي يَلِيهِ وَقَامَ الآخَرُونَ يَحْرُسُونَهُمْ فَلَمَّا جَلَسَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَالصَّفُّ الَّذِي يَلِيهِ سَجَدَ الآخَرُونَ ثُمَّ جَلَسُوا جَمِيعًا فَسَلَّمَ عَلَيْهِمْ جَمِيعًا فَصَلاَّهَا بِعُسْفَانَ وَصَلاَّهَا يَوْمَ بَنِي سُلَيْمٍ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ رَوَى أَيُّوبُ وَهِشَامٌ عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ عَنْ جَابِرٍ هَذَا الْمَعْنَى عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَكَذَلِكَ رَوَاهُ دَاوُدُ بْنُ حُصَيْنٍ عَنْ عِكْرِمَةَ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ وَكَذَلِكَ عَبْدُ الْمَلِكِ عَنْ عَطَاءٍ عَنْ جَابِرٍ وَكَذَلِكَ قَتَادَةُ عَنِ الْحَسَنِ عَنْ حِطَّانَ عَنْ أَبِي مُوسَى فِعْلَهُ وَكَذَلِكَ عِكْرِمَةُ بْنُ خَالِدٍ عَنْ مُجَاهِدٍ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَكَذَلِكَ هِشَامُ بْنُ عُرْوَةَ عَنْ أَبِيهِ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَهُوَ قَوْلُ الثَّوْرِيِّ .
সালাতুল খাওফ (ভয়কালীন সালাত) প্রসঙ্গে مَنْ رَأَى أَنْ يُصَلِّيَ بِهِمْ وَهُمْ صَفَّانِ فَيُكَبِّرُ بِهِمْ جَمِيعًا، ثُمَّ يَرْكَعُ بِهِمْ جَمِيعًا، ثُمَّ يَسْجُدُ الإِمَامُ وَالصَّفُّ الَّذِي يَلِيهِ وَالآخَرُونَ قِيَامٌ يَحْرُسُونَهُمْ، فَإِذَا قَامُوا سَجَدَ الآخَرُونَ الَّذِينَ كَانُوا خَلْفَهُمْ، ثُمَّ تَأَخَّرَ الصَّفُّ الَّذِي يَلِيهِ إِلَى مَقَامِ الآخَرِينَ وَتَقَدَّمَ الصَّفُّ الأَخِيرُ إِلَى مَقَامِهِمْ، ثُمَّ يَرْكَعُ الإِمَامُ وَيَرْكَعُونَ جَمِيعًا، ثُمَّ يَسْجُدُ وَيَسْجُدُ الصَّفُّ الَّذِي يَلِيهِ، وَالآخَرُونَ يَحْرُسُونَهُمْ، فَإِذَا جَلَسَ الإِمَامُ وَالصَّفُّ الَّذِي يَلِيهِ سَجَدَ الآخَرُونَ ثُمَّ جَلَسُوا جَمِيعًا ثُمَّ سَلَّمَ عَلَيْهِمْ جَمِيعًا . قَالَ أَبُو دَاوُدَ : هَذَا قَوْلُ سُفْيَانَ কারো মতে, এ সালাতের পদ্ধতি হচ্ছেঃ ইমাম সকলকে দুই কাতারে ভাগ করে সালাত আরম্ভ করবেন। তারপর তিনি সবাইকে নিয়ে তাকবীর বলবেন, অতঃপর রুকূ‘ করবেন। অতঃপর ইমাম তার নিকটবর্তী কাতারের লোকদের নিয়ে সিজদা্ করবেন, তখন দ্বিতীয় কাতারের লোকেরা তাদেরকে পাহারা দিবে। অতঃপর প্রথম কাতারের লোকেরা উঠে দাঁড়ালে দ্বিতীয় কাতারের লোকেরা সিজদা্ করবে, যারা তাদের পিছনে ছিল। অতঃপর ইমামের নিকটবর্তী কাতারের লোকেরা পিছনে সরে সেই স্থানে যাবে যেখানে দ্বিতীয় কাতারের লোকেরা দাঁড়িয়েছে। এ সময় পিছনের কাতারের লোকেরা প্রথম কাতারের লোকদের স্থানে আসবে। এরপর সকলে একত্রে রুকূ‘ করবে। অতঃপর ইমাম তার নিকটবর্তী কাতারের লোকদের নিয়ে সিজদা্ করবেন। তখন অপর দল তাদেরকে পাহারা দিবে। অতঃপর ইমাম ও তার নিকটবর্তী কাতার বসলে অন্য কাতার সিজদা্ করবে। অতঃপর সকলে একত্রে বসে একসঙ্গে সালাম ফিরাবে। ইমাম আবূ দাঊদ (রহঃ) বলেন, ‘সালাতুল খাওফ’ এ পদ্ধতিতে আদায় করা সুফয়ান সওরীর অভিমত। ১২৩৬। আবূ ‘আইয়াশ আয-যুরাক্বী (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে ‘উসফান নামক স্থানে ছিলাম। তখন খালিদ ইবনুল ওয়ালীদ মুশরিকদের সেনাধিনায়ক ছিলেন। আমরা যুহরের সালাত আদায় করলে মুশরিকরা পরস্পর বলাবলি করলো, নিশ্চয় আমরা ধোঁকার মধ্যে আছি, আমরা তো একটি সুবর্ণ সুযোগ পেয়েছি। তাদের সালাতরত অবস্থায় আক্রমণ করতে পারলে তো (আমাদের নিশ্চিত বিজয়)। এমন সময় যুহর ও ‘আসর সালাতের মধ্যবর্তী সময়ে সালাত ক্বসর সম্পর্কিত আয়াত অবতীর্ণ হয়। কাজেই ‘আসরের ওয়াক্ত হলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিবলামুখী হয়ে সালাতে দাঁড়ান। তখন মুশরিকরা তাঁর সম্মুখে অবস্থান করছিল। (মুসলিমদের) এক জামা‘আত কাতারবদ্ধভাবে রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পিছনে দাঁড়ালো, এবং তার পিছনে দাঁড়ালো দ্বিতীয় কাতার। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রুকূ‘ করলে তারাও একসাথে রুকূ‘ করলো। অতঃপর তিনি সিজদা্ করলে যে কাতার তাঁর কাছাকাছি ছিল, তারাও সিজদা্ করলো, আর পিছনের কাতার এদেরকে পাহারা দিতে লাগলো। যখন প্রথম কাতার দু‘টি সিজদা্ করে দাঁড়ালো তখন তাদের পিছনের কাতারের লোকেরা সিজদা্ করলো। এ পর্যন্ত প্রত্যেক কাতারের লোকদের একটি রুকূ‘ ও দু‘টি করে সিজদা্ পূর্ণ হলো। অতঃপর প্রথম কাতারের লোকেরা দ্বিতীয় কাতারে সরে এলো। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রুকূ‘ করলে সকলে একত্রে রুকূ‘ করলো এবং পিছনের কাতারের লোকেরা তাদেরকে পাহারা দিল। যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তাঁর কাছাকাছি কাতারের লোকেরা বসলেন, তখন দ্বিতীয় কাতারের লোকেরা সিজদা্ করলো। অতঃপর তারা সবাই বসে পড়লো, এরপর তিনি সবাইকে নিয়ে একত্রে সালাম ফিরালেন। এভাবে তিনি ‘উসফান নামক স্থানে সালাত আদায় করলেন। আর এটা ছিল বনূ সুলাইম গোত্রের বিরুদ্ধে অভিযানকালে তাঁর সালাতুল খাওফ আদায়ের পদ্ধতি।[1] সহীহ। ইমাম আবূ দাউদ (রহঃ) বলেন, আইয়ূব বর্ণনা করেন, হিশাম আবুয যুবাইর হতে জাবির সূত্রে এরূপ অর্থের হাদীস নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন। সহীহ : মুসলিম। অনুরূপ বর্ণনা করেছেন দাউদ ইবনু হুসাইন, ‘ইকরিমাহ হতে ইবনু ‘আব্বাস সূত্রে। হাসান সহীহ। অনুরূপভাবে ‘আবদুল মালিক ‘আত্বা হতে জাবির সূত্রে। একইভাবে ক্বাতাদাহ, হাসান হতে হিত্তান সূত্রে আবূ মূসার কর্মমূলক বর্ণনা। সহীহ : মুসলিম। অনুরূপভাবে ‘ইকরিমা ইবনু খালিদ বর্ণনা করেছেন মুজাহিদ হতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সূত্রে। আমি এটি পাইনি। একইভাবে হিশাম ইবনু ‘উরওয়াহ তার পিতা হতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সূত্রে। সহীহ মুরসাল। এ নিয়মে সালাতুল খাওফ আদায় করা সুফয়ান সাওরীর অভিমত।
হাদিস 1237 — Sunan Abu Dawud 4:40
সহিহসহিহসহিহসহিহ Bukhari (4131) Sahih Muslim (841)
حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُعَاذٍ، حَدَّثَنَا أَبِي، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الْقَاسِمِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ صَالِحِ بْنِ خَوَّاتٍ، عَنْ سَهْلِ بْنِ أَبِي حَثْمَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم صَلَّى بِأَصْحَابِهِ فِي خَوْفٍ فَجَعَلَهُمْ خَلْفَهُ صَفَّيْنِ فَصَلَّى بِالَّذِينَ يَلُونَهُ رَكْعَةً ثُمَّ قَامَ فَلَمْ يَزَلْ قَائِمًا حَتَّى صَلَّى الَّذِينَ خَلْفَهُمْ رَكْعَةً ثُمَّ تَقَدَّمُوا وَتَأَخَّرَ الَّذِينَ كَانُوا قُدَّامَهُمْ فَصَلَّى بِهِمُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم رَكْعَةً ثُمَّ قَعَدَ حَتَّى صَلَّى الَّذِينَ تَخَلَّفُوا رَكْعَةً ثُمَّ سَلَّمَ .
। সাহল ইবনু আবূ হাসমাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। একদা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সাহাবীদেরকে নিয়ে সালাতুল খাওফ আদায় করেন। তিনি তাঁর পিছনে সাহাবীদেরকে দুই কাতারে দাঁড় করান। অতঃপর তাঁর কাছাকাছি কাতারের লোকদের নিয়ে এক রাক‘আত সালাত আদায় করেন। অতঃপর তাঁর কাছাকাছি কাতারের লোকেরা নিজেরাই বাকী এক রাক‘আত আদায় করে নেন কিন্তু তিনি যথারীতি দাঁড়িয়ে থাকলেন। অতঃপর যারা পিছনের (দ্বিতীয়) কাতারে ছিল তারা সম্মুখে আসলো এবং যারা সম্মুখে ছিল তারা পিছনে চলে গেল। তারপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এদেরকে নিয়ে এক রাক‘আত সালাত আদায় করলেন। অতঃপর তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বসে রইলেন আর পিছনের লোকেরা বাকী এক রাক‘আত পূর্ণ করলো। সবশেষে তিনি সালাম ফিরালেন।[1] সহীহ : বুখারী ও মুসলিম।