। আবূ আইয়ূব (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ যুহরের পূর্বে এক সালামে চার রাক‘আত সালাত রয়েছে, এগুলোর জন্য আকাশের সকল দরজা খুলে দেয়া হয়।[1] হাসান।
হাদিস 1271 — Sunan Abu Dawud 5:22
হাসানহাসানহাসানIsnaad Hasan
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنَا أَبُو دَاوُدَ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مِهْرَانَ الْقُرَشِيُّ، حَدَّثَنِي جَدِّي أَبُو الْمُثَنَّى، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " رَحِمَ اللَّهُ امْرَأً صَلَّى قَبْلَ الْعَصْرِ أَرْبَعًا " .
। ইবনু ‘উমার রাযিয়াল্লাহু ‘আনহুমা সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ এমন ব্যক্তির উপর অনুগ্রহ করেন, যে ‘আসরের পূর্বে চার রাক‘আত সালাত আদায় করে।[1] হাসান।
হাদিস 1272 — Sunan Abu Dawud 5:23
দাঈফহাসানহাসানIsnaad Hasan
حَدَّثَنَا حَفْصُ بْنُ عُمَرَ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ عَاصِمِ بْنِ ضَمْرَةَ، عَنْ عَلِيٍّ، عَلَيْهِ السَّلاَمُ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ يُصَلِّي قَبْلَ الْعَصْرِ رَكْعَتَيْنِ .
। ইবনু ‘আব্বাস রাযিয়াল্লাহু ‘আনহুমা-এর মুক্তদাস কুরাইব (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। একদা ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আব্বাস, ‘আবদুর রহমান ইবনু আযহার ও আল-মিসওয়ার ইবনু মাখরামাহ (রাঃ) সকলেই তাকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর স্ত্রী ‘আয়িশাহ্ (রাঃ)-এর কাছে প্রেরণ করেন। (তারা তাকে বললেন), আমাদের পক্ষ হতে ‘আয়িশাহকে সালাম জানাবে, তাঁকে ‘আসরের পরে দু’ রাক‘আত সালাত সম্বন্ধে জিজ্ঞেস করবে এবং বলবে যে, আমরা জানতে পেরেছি, আপনি ঐ দু’ রাক‘আত সালাত আদায় করে থাকেন। অথচ আমাদের কাছে সংবাদ পৌঁছেছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা পড়তে নিষেধ করেছেন। (বর্ণনাকারী কুরাইব বলেন), অতঃপর আমি তাঁর কাছে যাই এবং তারা আমাকে যে সংবাদসহ পাঠিয়েছেন, তা পৌঁছাই। তিনি বললেন, এ বিষয়ে উম্মু সালামাহ (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করো। তারপর আমি তাদের নিকট ফিরে এসে তার বক্তব্য তাদেরকে জানাই। তারা আমাকে পুনরায় উম্মু সালামাহ (রাঃ)-এর নিকট ‘আয়িশাহর অনুরূপ সংবাদসহ পাঠালেন। উম্মু সালামাহ (রাঃ) বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ দু’ রাক‘আত আদায় করতে নিষেধ করেছেন, তা আমিও শুনেছি। কিন্তু পরবর্তীতে আমি তাকে এ দু’ রাক‘আত আদায় করতে দেখেছি। তবে তিনি এ দু’ রাক‘আত আদায় করেছেন ‘আসরের (ফারয) সালাতের পরে। অতঃপর তিনি যখন আমার কাছে আসেন, তখন আনসারের বনি হারাম গোত্রীয় কতিপয় মহিলা আমার কাছে উপস্থিত ছিল। তিনি সে সময় তা আদায় করেছেন। আমি আমার এক দাসীকে তাঁর কাছে এ বলে প্রেরণ করি যে, তুমি তাঁর পাশে দাঁড়িয়ে তাঁকে বলবে, হে আল্লাহর রসূল! উম্মু সালামাহ (রাঃ) এ দু’ রাক‘আত সালাত সম্পর্কে আপনাকে নিষেধ করতে শুনেছেন। অথচ এখন তিনি দেখছেন যে, আপনি তা নিজেই আদায় করছেন। এ সময় তিনি হাত দিয়ে ইশারা করলে তাঁর থেকে সরে দাঁড়াবে। তিনি বলেন, দাসী তাই করলো। তিনি তাকে হাত দ্বারা ইঙ্গিত করায় সে সরে দাঁড়িলো। অতঃপর তিনি সালাত শেষে বললেনঃ হে আবূ উমাইয়্যার কন্যা! তুমি আমাকে ‘আসরের পরে দু’ রাক‘আত সালাত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেছো। ইসলাম গ্রহণের উদ্দেশ্যে ‘আবদুল ক্বায়িস গোত্রীয় কতিপয় লোক আমার নিকট আসার কারণে আমি যুহরের পরের দু’ রাক‘আত আদায় করতে পারিনি। এটা সেই দু’ রাক‘আত।[1] সহীহ : বুখারী ও মুসলিম।
হাদিস 1274 — Sunan Abu Dawud 5:25
সহিহসহিহIsnaad Sahih
حَدَّثَنَا مُسْلِمُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنْ هِلاَلِ بْنِ يِسَافٍ، عَنْ وَهْبِ بْنِ الأَجْدَعِ، عَنْ عَلِيٍّ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم نَهَى عَنِ الصَّلاَةِ بَعْدَ الْعَصْرِ إِلاَّ وَالشَّمْسُ مُرْتَفِعَةٌ .
। ‘আলী (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘আসরের পর সালাত আদায় করতে নিষেধ করেছেন। অবশ্য সূর্য উঁচুতে থাকাবস্থায় আদায় করা যায়।[1] সহীহ।
হাদিস 1275 — Sunan Abu Dawud 5:26
দাঈফদাঈফদাঈফ
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ كَثِيرٍ، أَخْبَرَنَا سُفْيَانُ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ عَاصِمِ بْنِ ضَمْرَةَ، عَنْ عَلِيٍّ، قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُصَلِّي فِي إِثْرِ كُلِّ صَلاَةٍ مَكْتُوبَةٍ رَكْعَتَيْنِ إِلاَّ الْفَجْرَ وَالْعَصْرَ .
। ‘আলী (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফজর ও ‘আসর ব্যতীত প্রত্যেক ফারয সালাতের পরে দু’ রাক‘আত সালাত আদায় করতেন।[1] দুর্বল।
। ইবনু ‘আব্বাস রাযিয়াল্লাহু ‘আনহুমা সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, কতিপয় আল্লাহর প্রিয় লোক আমার কাছে সাক্ষ্য দেন, ‘উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) ছিলেন তাদের একজন। মূলতঃ আমার নিকট ‘উমার (রাঃ) ছিলেন তাদের মধ্যকার অধিক আল্লাহর প্রিয়। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ফজরের পর সূর্যোদয় পর্যন্ত কোনো সালাত নেই এবং ‘আসরের পর সূর্যাস্ত পর্যন্ত কোনো সালাত নেই।[1] সহীহ : বুখারী ও মুসলিম।
। ‘আমর ইবনু আনবাসাহ আস-সুলামী (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি জিজ্ঞেস করলাম, হে আল্লাহর রসূল! রাতের কোন অংশ অধিক শ্রবণীয় (অর্থাৎ আল্লাহ দু‘আ বেশি কবুল করেন)? তিনি বলেনঃ রাতের শেষাংশ, এ সময় যতটুকু ইচ্ছা সালাত আদায় করবে। কেননা এ সময়ে মালায়িকাহ (ফিরিশতাগণ) এসে ফজরের সালাত শেষ হওয়া পর্যন্ত উপস্থিত থাকেন এবং লিপিবদ্ধ করেন। অতঃপর সূর্য উঠা পর্যন্ত সালাত হতে বিরত থাকবে, যতক্ষণ না তা এক কিংবা দুই তীর পরিমাণ উপরে উঠে। কারণ সূর্য উদিত হয় শয়তানের দুই শিংয়ের মধ্য দিয়ে। আর কাফিররা এ সময় তার পূজা করে থাকে। এরপর তীরের ছায়া ঠিক থাকা (দ্বি প্রহরের পূর্ব) পর্যন্ত যত ইচ্ছা সালাত আদায় করবে, এ সময়ের সালাত সম্পর্কে ফিরিশতাগণ সাক্ষ্য দিয়ে থাকেন এবং তা লিপিবদ্ধ করেন। অতঃপর সালাত হতে বিরত থাকবে, কেননা এ সময় জাহান্নাম উত্তপ্ত করা হয় এবং তার সমস্ত দরজা খুলে দেয়া হয়। যখন সূর্য পশ্চিমাকাশে হেলে পড়বে তখন যত ইচ্ছা সালাত আদায় করবে, কেননা ‘আসরের সালাত পর্যন্ত এ সময়ের মধ্যকার সালাত সম্পর্কে সাক্ষ্য দেয়া হয়। অতঃপর সূর্য অস্ত যাওয়া পর্যন্ত সালাত হতে বিরত থাকবে, কেননা তা শয়তানের দুই শিংয়ের মধ্য দিয়ে অস্ত যায় এবং এ সময় কাফিররা তার উপাসনা করে থাকে। অতঃপর বর্ণনাকারী এ বিষয়ে দীর্ঘ হাদীস বর্ণনা করেন।[1] আল-‘আব্বাস (রহঃ) বলেন, আবূ উমামাহ (রাঃ) হতে আবূ সাল্লাম (রহঃ) আমার কাছে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। তবে তাতে আমি অনিচ্ছাকৃত কিছু ভুল করেছি, সেজন্যে আমি আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাই এবং তাঁরই কাছে তওবা করি। সহীহ : মুসলিম, এ বাক্য বাদে (جوف الليل)।
। ইবনু ‘উমার রাযিয়াল্লাহু ‘আনহুমা-এর মুক্তদাস ইয়াসার (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা ইবনু ‘উমার রাযিয়াল্লাহু ‘আনহুমা আমাকে সুবহি সাদিকের পর সালাত আদায় করতে দেখে বললেন, হে ইয়াসার! রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের নিকট আসলেন। ঠিক ঐ সময় আমরা এ সালাত আদায় করছিলাম। তিনি বললেনঃ অবশ্যই তোমাদের উপস্থিতরা যেন অনুপস্থিতদের কাছে পৌঁছিয়ে দেয় যে, সুবহি সাদিকের পর (ফজরের) দু’ রাক‘আত সুন্নাত ব্যতীত তোমরা অন্য কোন সালাত আদায় করবে না।[1] সহীহ : মুসলিম।
হাদিস 1279 — Sunan Abu Dawud 5:30
সহিহসহিহসহিহসহিহ Bukhari (593) Sahih Muslim (835)
حَدَّثَنَا حَفْصُ بْنُ عُمَرَ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنِ الأَسْوَدِ، وَمَسْرُوقٍ، قَالاَ نَشْهَدُ عَلَى عَائِشَةَ - رضى الله عنها - أَنَّهَا قَالَتْ مَا مِنْ يَوْمٍ يَأْتِي عَلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم إِلاَّ صَلَّى بَعْدَ الْعَصْرِ رَكْعَتَيْنِ .
। আল-আসওয়াদ ও মাসরূক্ব (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তারা উভয়ে বলেন, আমরা ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) সম্পর্কে সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, তিনি বলেছেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে দিনই আমার কাছে আসতেন, তখন তিনি ‘আসরের পর দু’ রাক‘আত সালাত আদায় করতেন।[1] সহীহ : বুখারী ও মুসলিম।