। ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবাসে ও সফরে সালাত দুই দুই রাক‘আত করে ফারয করা হয়েছিল। পরবর্তীতে সফরের সালাত ঠিক রাখা হয় এবং আবাসের সালাত বৃদ্ধি করা হয়।[1] সহীহ : বুখারী ও মুসলিম।
। ইয়া‘লা ইবনু উমাইয়্যাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ‘উমার উবনুল খাত্তাব (রাঃ) কে জিজ্ঞেস করলাম, আজকাল লোকেরা যে সালাত ক্বসর করে এ বিষয়ে আপনার অভিমত কি? কেননা মহাপরাক্রশালী আল্লাহ বলেছেন, ‘‘যদি তোমরা কাফিরদের হামলার আশংকা করো তাহলে সালাত ক্বসর হিসেবে আদায় করতে পারো’’ (৪ : ১০১)। কিন্তু বর্তমানে আশংকা দূরীভূত হয়ে গেছে। ‘উমার (রাঃ) বললেন, তুমি যে ব্যাপারে আশ্চর্যবোধ করছো, আমিও তাতে আশ্চর্যবোধ করেছিলাম। অতঃপর আমি এ বিষয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেছেনঃ এটি একটি সাদাকা, যা মহান আল্লাহ তোমাদেরকে দান করেছেন। সুতরাং তোমরা তাঁর অনুদান গ্রহণ করো।[1] সহীহ : মুসলিম।
। ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াযীদ আল-হুনায়ী (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) কে সালাত ক্বসর করা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিন মাইল বা তিন ফার্সাখ্ দূরত্বের সফরে বের হলে দু’ রাক‘আত সালাত আদায় করতেন।[1] সহীহ : মুসলিম।
হাদিস 1202 — Sunan Abu Dawud 4:5
সহিহসহিহসহিহসহিহ Bukhari (1089) Sahih Muslim (690)
حَدَّثَنَا زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا ابْنُ عُيَيْنَةَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ الْمُنْكَدِرِ، وَإِبْرَاهِيمَ بْنِ مَيْسَرَةَ، سَمِعَا أَنَسَ بْنَ مَالِكٍ، يَقُولُ صَلَّيْتُ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الظُّهْرَ بِالْمَدِينَةِ أَرْبَعًا وَالْعَصْرَ بِذِي الْحُلَيْفَةِ رَكْعَتَيْنِ .
। আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে মাদীনায় যুহরের সালাত চার রাক‘আত এবং যুল-হুলায়ফাতে ‘আসরের সালাত দু’ রাক‘আত আদায় করেছি।[1] সহীহ : বুখারী ও মুসলিম।
। ‘উক্ববাহ ইবনু ‘আমির (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, যখন কোন বকরীর রাখাল পাহাড়ের চূড়ায় অবস্থানকালে আযান দিয়ে সালাত আদায় করে তখন মহান আল্লাহ তার উপর সন্তুষ্ট হয়ে বলেনঃ (হে মালায়িকাহ)! তোমরা আমার বান্দার দিকে তাকিয়ে দেখো, সে আযান দিয়ে সালাত আদায় করছে। সে তো আমাকে ভয় করার কারণেই এরূপ করছে। কাজেই আমি আমার এ বান্দাকে ক্ষমা করে দিলাম এবং তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবো।[1] সহীহ।
হাদিস 1204 — Sunan Abu Dawud 4:7
সহিহসহিহIsnaad Hasan
حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، عَنِ الْمِسْحَاجِ بْنِ مُوسَى، قَالَ قُلْتُ لأَنَسِ بْنِ مَالِكٍ حَدِّثْنَا مَا، سَمِعْتَ مِنْ، رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم . قَالَ كُنَّا إِذَا كُنَّا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي السَّفَرِ فَقُلْنَا زَالَتِ الشَّمْسُ أَوْ لَمْ تَزُلْ صَلَّى الظُّهْرَ ثُمَّ ارْتَحَلَ .
। আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে সফরে থাকাবস্থায় বলাবলি করতাম যে, সূর্য কি পশ্চিমাকাশে ঢলে পড়েছে কিনা? অথচ ঐ সময় তিনি সালাত আদায় করতেন। অতঃপর সেখান থেকে রওয়ানা করতেন।[1] সহীহ।
। আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোন স্থানে (যুহরের সময়) যাত্রাবিরতী করলে যুহর সালাত আদায় না করা পর্যন্ত সেখান থেকে পুনরায় রওয়ানা করতেন না। এক ব্যক্তি আনাস (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করলো, তখন যদি ঠিক দুপুর হয় তবুও? তিনি বললেন, হ্যাঁ, ঠিক দুপুর হলেও।[1] সহীহ।
হাদিস 1206 — Sunan Abu Dawud 4:9
সহিহসহিহসহিহ Muslim (706)
حَدَّثَنَا الْقَعْنَبِيُّ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ الْمَكِّيِّ، عَنْ أَبِي الطُّفَيْلِ، عَامِرِ بْنِ وَاثِلَةَ أَنَّ مُعَاذَ بْنَ جَبَلٍ، أَخْبَرَهُمْ أَنَّهُمْ، خَرَجُوا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي غَزْوَةِ تَبُوكَ فَكَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَجْمَعُ بَيْنَ الظُّهْرِ وَالْعَصْرِ وَالْمَغْرِبِ وَالْعِشَاءِ فَأَخَّرَ الصَّلاَةَ يَوْمًا ثُمَّ خَرَجَ فَصَلَّى الظُّهْرَ وَالْعَصْرَ جَمِيعًا ثُمَّ دَخَلَ ثُمَّ خَرَجَ فَصَلَّى الْمَغْرِبَ وَالْعِشَاءَ جَمِيعًا .
। আবুত-তুফাইল ‘আমির ইবনু ওয়াসিলাহ (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। মু‘আয ইবনু জাবাল (রাঃ) তাদেরকে অবহিত করেন যে, তাবুক যুদ্ধে তারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে বের হন। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুহর ও ‘আসর সালাত একত্রে এবং মাগরিব ও ‘ইশা সালাত একত্রে আদায় করেন। এদিন তিনি সালাত বিলম্বে আদায় করেন। (যুহর বিলম্ব করে) যুহর ও ‘আসর একত্রে আদায় করেন। অতঃপর তিনি আবার (তাঁবুতে) প্রবেশ করেন। তারপর বেরিয়ে মাগরিব ও ‘ইশার সালাত একত্রে আদায় করেন।[1] সহীহ : মুসলিম।
। নাফি‘ (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। ইবনু ‘উমার (রাঃ) মাক্কাতে অবস্থানকালে তাঁর নিকট স্বীয় স্ত্রী সাফিয়্যাহর (রাঃ) মৃত্যুর সংবাদ পৌঁছলে তিনি (মাদীনায়) রওয়ানা হলেন। পথিমধ্যে সূর্য অস্ত গিয়ে নক্ষত্রও প্রকাশিত হলো (অথচ তিনি মাগরিবের সালাত আদায় করলেন না)। অতঃপর তিনি বলেন, কোন সফরে দ্রুত যাওয়ার প্রয়োজন হলে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ দু’ ওয়াক্তের সালাত (মাগরিব ও ‘ইশা) একত্র করতেন। এ বলে তিনি তার সফর অব্যাহত রাখলেন। ইতিমধ্যে পশ্চিমাকাশের লালিমা দূরীভূত হলো। তারপর তিনি (বাহন থেকে) নামলেন এবং উভয় সালাত একত্রে আদায় করলেন।[1] সহীহ : বুখারী, মুসলিম তার সূত্রে মারফুভাবে।