। ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর রাতে সালাত আদায়কালে তিনি তাঁর ও কিবলার মধ্যবর্তী স্থানে ঐ বিছানায় ঘুমিয়ে থাকতেন, যেখানে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘুমাতেন। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিতর সালাত আদায়ের ইচ্ছা করলে তাকে জাগিয়ে দিতেন, ফলে তিনিও বিতর সালাত আদায় করতেন।[1] সহীহ : বুখারী ও মুসলিম।
। ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, অত্যন্ত দুঃখের বিষয় যে, তোমরা (সালাত ভঙ্গের ব্যাপারে) আমাদেরকে গাধা ও কুকুরের পর্যায়ভুক্ত করেছ। অথচ আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে এরূপ অবস্থায় সালাত আদায় করতে দেখেছি যে, আমি তাঁর সামনে আড়া-আড়িভাবে শুয়ে থাকতাম। তিনি সিজদা্ করতে চাইলে আমার পায়ে চিমটি কাটতেন, এতে আমি আমার পা গুটিয়ে নিতাম। অতঃপর তিনি সিজদা্ করতেন।[1] সহীহ : বুখারী।
। ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর রাতে সালাত আদায়কালে ঘুমন্ত অবস্থায় আমার দু’ পা তাঁর সামনে থাকত। তিনি যখন সিজদা্ করতে চাইতেন, তখন আমার পায়ে খোঁচা দিতেন। ফলে আমি পা গুটিয়ে নিতাম, অতঃপর তিনি সিজদা্ করতেন।[1] সহীহ : বুখারী ও মুসলিম।
হাদিস 714 — Sunan Abu Dawud 2:324
হাসান Sahihহাসান SahihহাসানIsnaad Hasan
حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بِشْرٍ، ح قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَحَدَّثَنَا الْقَعْنَبِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ، - يَعْنِي ابْنَ مُحَمَّدٍ وَهَذَا لَفْظُهُ - عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرٍو، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّهَا قَالَتْ كُنْتُ أَنَامُ وَأَنَا مُعْتَرِضَةٌ، فِي قِبْلَةِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَيُصَلِّي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَأَنَا أَمَامَهُ فَإِذَا أَرَادَ أَنْ يُوتِرَ . زَادَ عُثْمَانُ غَمَزَنِي ثُمَّ اتَّفَقَا فَقَالَ " تَنَحَّىْ " .
। ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সামনে কিবলার দিকে আড়া-আড়িভাবে শুয়ে থাকতাম। এরূপ অবস্থায়ই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (রাতের নফল) সালাত আদায় করতেন। অতঃপর তিনি বিতর সালাত আদায়ের ইচ্ছা করলে আমাকে চিমটি কাটতেন আর বলতেনঃ উঠো এবং পাশে দাঁড়াও। বর্ণনাকারী ‘উসমানের বর্ণনায় ‘চিমটি কাটার’ কথাটি আছে। [1] হাসান সহীহ : বুখারী ও মুসলিম।
। ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি বালিগ হওয়ার কাছাকাছি বয়সে একটি মাদী গাধার পিঠে সওয়ার হয়ে মিনায় আসলাম। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লোকদের সালাত আদায় করাচ্ছিলেন। আমি একটি কাতারের সামনে দিয়ে অতিক্রম করে গাধীর পিঠ থেকে নামলাম এবং সেটিকে ঘাস খাওয়ার জন্য ছেড়ে দিয়ে কাতারে শামিল হলাম। এ সময় কেউ আমাকে এ ব্যাপারে নিষেধ করেনি। ইমাম আবূ দাউদ (রহঃ) বলেন, এটা হলো কা’নবীর বর্ণনা। এটাই পূর্ণাঙ্গ। ইমাম মালিক (রহঃ) বলেন, ইমামের সামনে দিয়ে অতিক্রম করলে সালাতের ক্ষতি হয় কিন্তু কাতারের সামনে দিয়ে অতিক্রম করলে কোন ক্ষতি নেই।[1] সহীহ : বুখারী ও মুসলিম।
। আবূস সাহবা সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)-এর নিকট সালাত নষ্ট হওয়ার কারণ সম্পর্কে আলোচনা করলাম। ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) বললেন, একদা আমি এবং বনু ‘আবদুল মুত্তালিবের এক বালক গাধার পিঠে আরোহণ করে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট আসলাম। তখন তিনি সালাত আদায় করছিলেন। সে ও আমি গাধার পিঠ থেকে নামলাম এবং আমরা গাধাটিকে কাতারের সামনে ছেড়ে দিলাম। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একে আপত্তিকর মনে করলেন না। এ সময় বনু ‘আবদুল মুত্তালিবের দু’টি বালিকা এসে কাতারের মধ্যে প্রবেশ করল। এতেও তিনি কোন ভ্রুক্ষেপ করলেন না।[1] সহীহ।
। মানসূর (রহঃ) হতে একই সানাদে উপরোক্ত হাদীস বর্ণিত হয়েছে। ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) বলেন, তখন ‘আবদুল মুত্তালিব গোত্রের দু’টি মেয়ে ঝগড়ারত অবস্থায় আসল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে ধরে ফেললেন। ‘উসমান বলেন, তারপর উভয়কে পৃথক করে দিলেন। দাউদ বলেন, তারপর তাদের একজনকে অপরজন হতে আলাদা করে দিলেন কিন্তু তিনি এরূপ করা আপত্তিকর মনে করলেন না।[1] সহীহ।
। আল-ফাদল ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের নিকট আসলেন। আমরা তখন আমাদের বাগানে ছিলাম। তাঁর সাথে ‘আব্বাস (রাঃ)-ও ছিলেন। তিনি বালু ভূমিতে সালাত আদায় করলেন। অথচ তাঁর সামনে কোন সুতরাহ ছিল না। আমাদের মাদী গাধা এবং কুকুরটি তাঁর সামনে দৌড়াদৌড়ি করছিল। কিন্তু তিনি একে আপত্তিকর মনে করলেন না।[1] দুর্বল।
হাদিস 719 — Sunan Abu Dawud 2:329
দাঈফদাঈফহাসান
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْعَلاَءِ، حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ، عَنْ مُجَالِدٍ، عَنْ أَبِي الْوَدَّاكِ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لاَ يَقْطَعُ الصَّلاَةَ شَىْءٌ وَادْرَءُوا مَا اسْتَطَعْتُمْ فَإِنَّمَا هُوَ شَيْطَانٌ " .
। আবূ সাঈদ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ সালাতের সামনে দিয়ে কোন কিছু অতিক্রম করলে সালাত ভঙ্গ হয় না। তবে সাধ্যানুযায়ী তোমরা এরূপ করতে বাধা দিবে। কারণ সে তো একটা শয়তান।[1] দুর্বল।
হাদিস 720 — Sunan Abu Dawud 2:330
দাঈফদাঈফহাসান
حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَاحِدِ بْنُ زِيَادٍ، حَدَّثَنَا مُجَالِدٌ، حَدَّثَنَا أَبُو الْوَدَّاكِ، قَالَ مَرَّ شَابٌّ مِنْ قُرَيْشٍ بَيْنَ يَدَىْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ وَهُوَ يُصَلِّي فَدَفَعَهُ ثُمَّ عَادَ فَدَفَعَهُ ثَلاَثَ مَرَّاتٍ فَلَمَّا انْصَرَفَ قَالَ إِنَّ الصَّلاَةَ لاَ يَقْطَعُهَا شَىْءٌ وَلَكِنْ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " ادْرَءُوا مَا اسْتَطَعْتُمْ فَإِنَّهُ شَيْطَانٌ " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ إِذَا تَنَازَعَ الْخَبَرَانِ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم نُظِرَ إِلَى مَا عَمِلَ بِهِ أَصْحَابُهُ مِنْ بَعْدِهِ .
। আবূল ওয়াদ্দাক সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাঃ) সালাত আদায় করছিলেন এমন সময় তাঁর সামনে দিয়ে এক কুরাইশ যুবক অতিক্রম করলে তিনি তাকে বাধা দিলেন। সে পুনরায় অতিক্রম করতে চইলে তিনি তাকে আবারো বাধা দিলেন। এরূপ তিনবার হলো। অতঃপর সালাত শেষে তিনি বললেন, বস্তুত সালাতকে কোন কিছুই নষ্ট করতে পারে না। তবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা যথাসাধ্য (সালাতের সামনে দিয়ে অতিক্রমকারীকে) বাধা দিবে। কারণ সে একটা শয়তান। [1] ইমাম আবূ দাউদ (রহঃ) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দু’টি হাদীস পরস্পর বিরোধী হলে তাঁর পরে তাঁর সাহাবীগণ যেরূপ আমল করেছেন তা বিবেচনায় আনতে হবে। দুর্বল।