। সাহল ইবনু সা‘দ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে বানী ‘আমর ইবনু ‘আওফ গোত্রের লোকদের সংঘর্ষের সংবাদ পৌছলে তিনি তাদের মধ্যে আপোষ-মীমাংসার জন্য যুহর সালাতের পর সেখানে যান। তিনি বিলাল (রাঃ)-কে বললেন, আমার ফিরে আসার পূর্বেই ‘আসর সালাতের ওয়াক্ত হয়ে গেলে আবূ বাকরকে লোকদের সালাতে ইমামাত করতে বলবে। অতঃপর ‘আসর সালাতের ওয়াক্ত হলে বিলাল (রাঃ) আযান দিলেন। এরপর ইক্বামাত(ইকামত/একামত) দিয়ে আবূ বাকরকে (ইমামাত করার) আদেশ করলে আবূ বাকর সামনে অগ্রসর হলেন। বর্ণনাকারী হাদীসের শেষাংশে বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, সালাতে কোন কিছু ঘটলে পুরুষরা ‘‘সুবহানাল্লাহ’’ বলবে এবং নারীরা হাততালি দিবে।[1] সহীহ : বুখারী।
। ঈসা ইবনু আইয়ূব (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‘নারীদের হাততালি দেয়া’ কথাটির অর্থ হলো, তারা ডান হাতের দুই আঙ্গুল বাম হাতের তালুর উপর মারবে।[1] সহীহ মাক্বতু‘।
হাদিস 943 — Sunan Abu Dawud 2:554
সহিহসহিহসহিহসহিহ
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ شَبُّويَةَ الْمَرْوَزِيُّ، وَمُحَمَّدُ بْنُ رَافِعٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ يُشِيرُ فِي الصَّلاَةِ .
। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, (সালাতে ইমামের কোন ক্রটি হলে) পুরুষরা ‘‘সুবহানাল্লাহ’’ বলবে এবং মহিলারা হাততালি দিবে। কেউ যদি সালাতরত অবস্থায় এরূপ ইশারা করে যদ্দ্বারা নির্দিষ্ট কোন অর্থ বুঝায় তবে সে উক্ত সালাত পুনরায় আদায় করবে। দুর্বল। ইমাম আবূ দাউদ (রহঃ) বলেন, এ হাদীসটি সন্দেহমূলক।
। আবূ যার (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমাদের কেউ সালাতে দাঁড়ালে তার সামনে আল্লাহর রহমত থাকে। সুতরাং এ সময় মুসল্লী যেন পাথরকুচি (ইত্যাদি) সরাতে ব্যস্ত না হয়।[1] দুর্বল।
হাদিস 946 — Sunan Abu Dawud 2:557
সহিহসহিহসহিহসহিহ Bukhari (1207) Sahih Muslim (546)
حَدَّثَنَا مُسْلِمُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنَا هِشَامٌ، عَنْ يَحْيَى، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ مُعَيْقِيبٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " لاَ تَمْسَحْ وَأَنْتَ تُصَلِّي فَإِنْ كُنْتَ لاَ بُدَّ فَاعِلاً فَوَاحِدَةً تَسْوِيَةَ الْحَصَى " .
। মু‘আইক্বীব (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, সালাতরত অবস্থায় তুমি পাথরকুচি সরাবে না। যদি সরাতেই হয় তবে কেবল একবার পাথরকুচি সরিয়ে জায়গা সমান করতে পারো।[1] সহীহ : বুখারী ও মুসলিম।
হাদিস 947 — Sunan Abu Dawud 2:558
সহিহসহিহসহিহসহিহ Bukhari (1220) Sahih Muslim (545)
حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ بْنُ كَعْبٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ هِشَامٍ، عَنْ مُحَمَّدٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ نَهَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنْ الاِخْتِصَارِ فِي الصَّلاَةِ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ يَعْنِي يَضَعُ يَدَهُ عَلَى خَاصِرَتِهِ .
। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাত আদায়কালে কোমরে হাত রাখতে নিষেধ করেছেন। ইমাম আবূ দাঊদ (রহঃ) বলেন, এর অর্থ হলো, পেটের পার্শ্বদেশে হাত রাখা।[1] সহীহ : বুখারী ও মুসলিম।
। হিলাল ইবনু ইয়াসাফ (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি যখন (শাম দেশের) রাক্কাহ নামক শহরে যাই তখন আমার বন্ধুদের একজন আমাকে বললেন, আপনি কি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কোন সাহাবীর সাক্ষাত পেতে আগ্রহী? আমি বললাম, এটা তো আমার জন্য গনীমাতস্বরূপ। অতঃপর আমাদেরকে ওয়াবিসাহ (রাঃ) এর নিকট নিয়ে যাওয়া হলো। আমি আমার সাথীকে বললাম, প্রথমে আমরা তাঁর বেশভুষা দেখবো। আমরা দেখলাম, তিনি মাথার সাথে লেপটে থাকা দুই কানবিশিষ্ট একটি টুপি এবং রেশম ও পশমের তৈরি ধূসর রংয়ের কাপড় পরিধান করেছেন। তিনি লাঠিতে ভর দিয়ে সালাত আদায় করছিলেন। আমরা সালাম দেওয়ার পর তাকে (লাঠিতে ভর দিয়ে সালাত আদায় সম্পর্কে) জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেন, উম্মু ক্বাইস বিনতে মিহসান (রাঃ) আমার নিকট বর্ণনা করেন যে, যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বয়স বেশী হলো এবং তাঁর শরীরের গোশত ঢিলা হয়ে গেল তখন তিনি তাঁর সালাতের স্থানে একটি লাঠি রাখতেন এবং তার উপর ভর করে সালাত আদায় করতেন।[1] সহীহ।
হাদিস 949 — Sunan Abu Dawud 2:560
সহিহসহিহসহিহসহিহ Bukhari (1200) Sahih Muslim (539)
। যায়িদ ইবনু আরক্বাম (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমাদের কেউ সালাত আদায় অবস্থায়ই তার পাশের ব্যক্তির সাথে কথা বলতো। অতঃপর এ আয়াত নাযিল হয়ঃ ‘‘তোমরা আল্লাহর একান্ত অনুগত হয়ে (সালাতে) দাঁড়াও’’ (সূরাহ আল-বাক্বারাহ : ২৩৮)। এ আয়াতে আমাদেরকে সালাতে চুপ থাকতে আদেশ দেয়া হয় এবং কথাবার্তা বলতে নিষেধ করা হয়।[1] সহীহ : বুখারী ও মুসলিম।
। ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আমর (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার নিকট বর্ণনা করা হয় যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, কোন ব্যক্তি বসে (নফল) সালাত আদায় করলে তা অর্ধেক সালাত আদায় হিসেবে ধর্তব্য। অতঃপর আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট গিয়ে দেখলাম, তিনি বসে সালাত আদায় করছেন। এ দৃশ্য দেখে আমি আমার মাথায় হাত রাখলাম। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে জিজ্ঞাসা করলেন, হে ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আমর! তোমার কি হয়েছে? আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল! আমার নিকট হাদীস বর্ণনা করা হয়েছিল যে, আপনি বলেছেন, কোন ব্যক্তি বসে (নফল) সালাত আদায় করলে তা (দাঁড়িয়ে) অর্ধেক সালাত আদায়ের সমতুল্য। অথচ আপনি বসে সালাত আদায় করছেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হ্যাঁ, আমি তাই বলেছি। কিন্তু আমি তোমাদের কারো মত নই।[1] সহীহ : মুসলিম।