। মুহাম্মাদ ইবনু ‘আমর ইবনু ‘আত্বা (রহঃ) বলেন, আমি আবূ হুমাইদ আস-সাইদী (রাঃ)-কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর দশজন সাহাবীর উপস্থিতিতে বলতে শুনেছি, যাদের মধ্যে আবূ ক্বাতাদাহ (রাঃ)-ও ছিলেন। আবূ হুমাইদ (রাঃ) বললেন, আমি তোমাদের মধ্যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সালাত সম্পর্কে সর্বাধিক জ্ঞাত। তারা বললেন, তাহলে আপনি বর্ণনা করুন। তখন তিনি হাদীস বর্ণনা করেন। তাতে তিনি এও বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাতে সাজদার সময় দুই পায়ের আঙ্গুলগুলো খোলা রাখতেন। অতঃপর ‘‘আল্লাহু আকবার’’ বলে মাথা উঠাতেন এবং বাম পা বিছিয়ে তার উপর বসতেন। অতঃপর দ্বিতীয় রাক’আতও তিনি অনুরূপভাবে আদায় করতেন। এরপর তিনি হাদীসের অবশিষ্ট অংশ বর্ণনা করেন যে, সবশেষে তিনি সালাম ফিরানোর পূর্বের সিজদা্ শেষ করে বাম পা বাইরের দিকে বের করে বাম পাশের নিতম্বের উপর বসতেন। ইমাম আহমাদ ইবনু হাম্বালের বর্ণনায় আরো রয়েছে, এভাবে হাদীস বর্ণনার পর উপস্থিত সাহাবীগণ বললেন, হাঁ, আপনি সত্যই বলেছেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এভাবেই সালাত আদায় করতেন। কিন্তু ইমাম আহমাদ ইবনু হাম্বল ও মুসাদ্দাদ তাদের বর্ণিত হাদীসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দ্বিতীয় রাক‘আতে কিরূপে বসতেন তা বর্ণনা করেননি।[1] সহীহ : এটি গত হয়েছে (৭৩০ নং)।
। মুহাম্মদ ইবনু ‘আমর ইবনু ‘আত্বা (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। একদা তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর একদল সাহাবীর সাথে বসা ছিলেন। তখন পূর্বোক্ত হাদীসটি আলোচিত হয়। অবশ্য তাতে সাহাবী আবূ ক্বাতাদাহর নাম উল্লেখ নেই। তিনি বর্ণনা করলেন, তিনি যখন দুই রাক’আত সম্পন্ন করে বসতেন তখন বাম পা বাইরের দিকে ছড়িয়ে দিয়ে নিতম্বের উপর বসলেন।[1] সহীহ
। মুহাম্মদ ইবনু ‘আমর আল-‘আমিরী (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, যে মাজলিসে এ হাদীসটি আলোচিত হচ্ছিল সেখানে আমিও উপস্থিত ছিলাম। বর্ণনাকারী বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন দুই রাক‘আত শেষে বসতেন তখন বাম পায়ের তালুর ওপর ভর করে বসতেন, এ সময় তাঁর নিতম্ব মাটিতে লাগিয়ে রাখতেন এবং উভয় পা একদিকে বের করে দিতেন।[1] সহীহ
। ‘আব্বাস অথবা ‘আইয়াশ ইবনু সাহল আস-সাঈদী (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি এমন একটি মাজলিসে ছিলেন যেখানে তাঁর পিতাও উপস্থিত ছিলেন। অতঃপর তিনি হাদীস বর্ণনা করেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাজদারত অবস্থায় দুই হাতের তালু, দুই হাঁটু এবং দুই পায়ের পাতার উপর ভর করলেন। তিনি বসার সময় নিতম্বের উপর বসলেন এবং অপর পা খাড়া করে রাখলেন, অতঃপর তাকবীর বলে সিজদা্ করলেন, এরপর আবার তাকবীর বলে না বসে দাঁড়িয়ে গেলেন। এরপর পূর্বের নিয়মেই তাকবীর বলে পরবর্তী রাক‘আতের রুকূ‘ করলেন। অতঃপর দু’ রাক‘আত শেষে বসলেন। এরপর তিনি ক্বিয়ামের মনস্থ করে ‘আল্লাহু আকবার’ বলে দাঁড়িয়ে গেলেন এবং পরবর্তী দু’ রাক‘আত আদায় করলেন। অতঃপর শেষ বৈঠকে প্রথমে ডান দিক এবং পরে বাম দিকে সালাম ফিরালেন। দুর্বল। ইমাম ইমাম আবূ দাঊদ (রহঃ) বলেন, ‘আবদুল হামীদ কর্তৃক বর্ণিত নিতম্বের উপর বসা এবং দুই রাক’আতের পর দাঁড়ানোর সময় হাত উঠানোর কথাটি তাঁর হাদীসে উল্লেখ নেই।
। ‘আব্বাস ইবনু সাহল (রহঃ) বলেন, আবূ হুমাইদ, আবূ উসাইদ, সাহল ইবনু সা’দ ও মুহাম্মাদ ইবনু মাসলামাহ (রাঃ) এক জায়গায় সমবেত হলেন। তখন তিনি এ হাদীসটি বর্ণনা করলেন। কিন্তু তাতে দ্বিতীয় রাক‘আতের পর দাঁড়ানোর সময় হাত উঠানো এবং (ক্ষনিক) বসার কথা উল্লেখ নাই। বরং তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাত শেষান্তে বসার সময় বাম পা বিছিয়ে দিয়ে ডান পায়ের আঙ্গুলগুলো ক্বিবলা (কিবলা/কেবলা)হমুখী করে বসলেন।[1] সহীহ : এটি গত হয়েছে (৭৩৩ নং)।
। ‘আবদুল্লাহ ইবনু মাস’ঊদ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা যখন সালাতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে তাশাহহুদের বৈঠকে বসতাম তখন বলতাম, ‘‘বান্দাদের পূর্বে আল্লাহর প্রতি সালাম, তারপর অমুক ও অমুকের প্রতি সালাম। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমরা ‘‘আল্লাহর প্রতি সালাম বর্ষিত হোক’’ এরূপ বলো না। কেননা আল্লাহ নিজেই সালাম বা শান্তিদাতা। বরং তোমরা সালাতের তাশাহহুদের বৈঠকে বসে বলবে, ‘‘আত্তাহিয়্যাতু লিল্লাহি ওয়াস্সলাওয়াতু ওয়াত্-ত্বায়্যিবাতু। আসসালামু ‘আলাইকা আইউহান্ নাবিয়্যু ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু। আস্সালামু ‘আলাইনা ওয়া ‘আলা ‘ইবাদিল্লাহিস সালিহীন’’ (অর্থঃ আমাদের সব সালাম ও অভিবাদন, সালাত ও দু‘আ এবং পবিত্রতা মহান আল্লাহর জন্য। হে নবী! আপনার উপর সালাম, আল্লাহর রহমত ও কল্যাণ বর্ষিত হোক। আমাদের ও আল্লাহর সকল নেক বান্দার উপর শান্তি বর্ষিত হোক)। কেননা তোমরা যখন এটা পাঠ করবে তখন তা আসমান ও যমীন অথবা আসমান ও যমীনের মাঝে আল্লাহর যত নেক বান্দা আছে সবার নিকটেই পৌছে যাবে। ‘‘আশহাদু আল্-লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান ‘আবদুহু ওয়া রসূলুহু’’- (অর্থঃ আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া অন্য কোন ইলাহ নাই। আমি আরো সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও রসূল)। এরপর তোমরা নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী দু‘আ পাঠ করবে।[1] সহীহ : বুখারী ও মুসলিম।
। ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, সালাতে তাশাহহুদের বৈঠকে আমরা কি পাঠ করবো প্রথমে তা জানতাম না। এ সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জানতেন। এরপর তিনি পূর্বানুরূপ হাদীস বর্ণনা করেন। সহীহ। শারীক (রহঃ) জামি‘ ইবনু শাদ্দাদের মাধ্যমে এবং আবূ ওয়াইল ও ‘আবদুল্লাহ ইবনু মাস‘উদ (রাঃ) হতেও অনুরূপ হাদীস বর্ণিত আছে। তিনি বলেছেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে কিছু কথা শিখিয়ে দিলেন, তবে তাশাহহুদ শিক্ষার মত করে নয়। তা হলোঃ ‘‘আল্লাহুম্মা বাইনা কুলূবিনা ওয়া আসলিহ্ যাতা বাইনিনা ওয়াহদিনা সুবুলাস্-সালামী ওয়া নাজ্জিনা মিনায্ যুলুমাতি ইলান্নূর। ওয়া জাননিবনাল ফাওয়াহিশা মা যাহারা মিনহা মা বাতানা ওয়া বারিক লানা ফী আসমাইনা ওয়া আবসারিনা ও ক্বালূবিনা ওয়া আযওয়াজিনা ওয়া যুররিয়্যাতিনা ওয়া তুব ‘আলাইনা ইন্নাকা আন্তাত্ তাওওয়াবুর রহীম। ওয়াজ্‘আলনা শাকিরীনা লিনি‘মাতিকা মুসনীনা বিহা ক্বাবিলীহা ওয়া আতিম্মাহা ‘আলাইনা’’।[1] দুর্বল।
। আল-কাসিম ইবনু মুখায়মিরাহ (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আলকামাহ (রহঃ) আমার হাত ধরে বলেন, একবার ‘আবদুল্লাহ ইবনু মাস‘ঊদ (রাঃ) তার হাত ধরে বললেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘আবদুল্লাহর হাত ধরে সালাতের তাশাহহুদ পাঠ শিখিয়েছেন। অতঃপর তিনি আ‘মাশ (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত হাদীসে উল্লেখিত দু‘আর অনুরূপ দু‘আ শিক্ষা দেন। অতঃপর বললেন, যখন তুমি এ দু‘আ পড়বে অথবা পড়া শেষ করবে তখন তোমার সালাত শেষ হবে। এরপর তুমি উঠে যেতে চাইলে উঠে যাবে নতুবা বসে থাকতে চাইলে বসে থাকবে।[1] শায, এটুকু অতিরিক্ত যোগে : ‘‘যখন তুমি এ দু‘আ পড়বে....’’। সঠিক হচ্ছে এটি ইবনু মাসউদের নিজস্ব বক্তব্য।