। নাফি‘ (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, ইবনু ‘উমার (রাঃ) দাজনান নামক জায়গায় সালাতের জন্য আযান দিলেন, অতঃপর ঘোষণা করলেন, সকলেই নিজ নিজ জায়গাতে সালাত আদায় করে নাও। নাফি‘ (রহঃ) বলেন, অতঃপর ইবনু ‘উমার (রাঃ) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে হাদীস বর্ণনা করেন যে, সফরে, বৃষ্টি কিংবা শীতের রাতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘোষণাকারীকে সালাতের জন্য ঘোষণা দেয়ার নির্দেশ দিতেন। অতঃপর সে ঘোষণা করতোঃ তোমরা নিজ নিজ জায়গায় সালাত আদায় করে নাও।[1] সহীহ। ইমাম আবূ দাউদ (রহঃ) বলেন, হাদীসটি হাম্মাদ ইবনু সালামাহ (রহঃ) আইয়ূব ও ‘উবায়দুল্লাহ (রহঃ) হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি তাতে বলেছেন, সফরে, প্রচন্ড শীত বা বৃষ্টির রাতে। এটি কে মারফু করলো তা আমি পাইনি।
। নাফি‘ (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। একদা ইবনু ‘উমার (রাঃ) প্রচন্ড শীত ও ঝড়ো হাওয়ার রাতে দাজনান নামক স্থানে সালাতের জন্য আযান দেন এবং আযান শেষে ঘোষণা করেন, সকলেই নিজ নিজ জায়গাতে সালাত আদায় করে নাও, সকলেই নিজ নিজ জায়গাতে সালাত আদায় করে নাও। অতঃপর বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সফরকালীন প্রচন্ড শীত কিংবা বৃষ্টির রাতে মুয়াযযিনকে ঘোষণা করতে আদেশ দিতেনঃ তোমরা সকলেই নিজ নিজ স্থানে সালাত আদায় করে নাও।[1] সহীহ।
। নাফি‘ (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। ইবনু ‘উমার (রাঃ) এক ঝড়ো হাওয়া ও শীতের রাতে সালাতের জন্য আযান দিলেন এবং বললেন, সকলেই নিজ নিজ স্থানে সালাত আদায় করো। অতঃপর বললেন, শীত কিংবা বৃষ্টির রাতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুয়াযযিনকে ঘোষণা দেয়ার নির্দেশ দিতেনঃ তোমরা নিজ নিজ জায়গাতে সালাত আদায় করে নাও।[1] সহীহ : বুখারী ও মুসলিম।
হাদিস 1064 — Sunan Abu Dawud 2:675
MunkarMunkarদাঈফ
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ النُّفَيْلِيُّ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ نَادَى مُنَادِي رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِذَلِكَ فِي الْمَدِينَةِ فِي اللَّيْلَةِ الْمَطِيرَةِ وَالْغَدَاةِ الْقَرَّةِ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَرَوَى هَذَا الْخَبَرَ يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ الأَنْصَارِيُّ عَنِ الْقَاسِمِ عَنِ ابْنِ عُمَرَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ فِيهِ فِي السَّفَرِ .
। ইবনু ‘উমার (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা মাদীনাতে বৃষ্টির রাতে ও শীতের ভোরে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মুয়াযযিন এরূপ ঘোষণা করেন।[1] মুনকার। ইমাম আবূ দাউদ (রহঃ) বলেন, ইয়াহইয়া ইবনু সা‘ঈদ আল-আনসারী এ হাদীসটি কাসিম হতে ইবনু ‘উমার (রাঃ) সূত্রে মারফূভাবে বর্ণনা করেছেন। তাতে সফরের কথা উল্লেখ আছে। সহীহ।
হাদিস 1065 — Sunan Abu Dawud 2:676
সহিহসহিহসহিহ Muslim (698)
حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا الْفَضْلُ بْنُ دُكَيْنٍ، حَدَّثَنَا زُهَيْرٌ، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ، عَنْ جَابِرٍ، قَالَ كُنَّا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي سَفَرٍ فَمُطِرْنَا فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لِيُصَلِّ مَنْ شَاءَ مِنْكُمْ فِي رَحْلِهِ " .
। জাবির (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক সফরে আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে ছিলাম। ঐ সময় বৃষ্টি হলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমাদের কারোর ইচ্ছা হলে নিজ অবস্থানে সালাত আদায় করতে পারে।[1] সহীহ : মুসলিম।
। মুহাম্মাদ ইবনু সীরীনের চাচাতো ভাই ‘আবদুল্লাহ ইবনুল হারিস (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। একদা বৃষ্টির দিনে ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) তার মুয়াযযিনকে বললেন, আযানের মধ্যে তুমি যখন ‘‘আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রাসূলুল্লাহ’’ বলবে তখন এরপর ‘‘হাইয়্যা ‘আলাস-সালাহ’’ বলবে না। বরং বলবেঃ ‘সল্লু ফী বুয়ূতিকুম’ (তোমরা নিজ নিজ ঘরে সালাত আদায় করো)। লোকেরা এটাকে অপছন্দ করলে ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) বললেন, আমার চাইতে উত্তম যিনি তিনিও এরূপ করেছেন। নিঃসন্দেহে জুমু‘আহর সালাত ওয়াজিব। কিন্তু এরূপ কাদা ও বৃষ্টির মধ্যে তোমাদেরকে হেঁটে আসতে (ঘর হতে বের করতে) আমি পছন্দ করি নাই।[1] সহীহ : বুখারী ও মুসলিম।
হাদিস 1067 — Sunan Abu Dawud 2:678
সহিহসহিহIsnaad Sahih
حَدَّثَنَا عَبَّاسُ بْنُ عَبْدِ الْعَظِيمِ، حَدَّثَنِي إِسْحَاقُ بْنُ مَنْصُورٍ، حَدَّثَنَا هُرَيْمٌ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ الْمُنْتَشِرِ، عَنْ قَيْسِ بْنِ مُسْلِمٍ، عَنْ طَارِقِ بْنِ شِهَابٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " الْجُمُعَةُ حَقٌّ وَاجِبٌ عَلَى كُلِّ مُسْلِمٍ فِي جَمَاعَةٍ إِلاَّ أَرْبَعَةً عَبْدٌ مَمْلُوكٌ أَوِ امْرَأَةٌ أَوْ صَبِيٌّ أَوْ مَرِيضٌ " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ طَارِقُ بْنُ شِهَابٍ قَدْ رَأَى النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم وَلَمْ يَسْمَعْ مِنْهُ شَيْئًا .
। ত্বারিক্ব ইবনু শিহাব (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ জুমু‘আহর সালাত সত্য- যা প্রত্যেক মুসলিমের উপর জামা‘আতের সাথে আদায় করা ফারয। তবে চার শ্রেণীর লোকের জন্য ফার্য নয়ঃ ক্রীতদাস, নারী, শিশু ও রোগী।[1] সহীহ। ইমাম আবূ দাউদ (রহঃ) বলেন, ত্বারিক্ব ইবনু শিহাব (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে দেখেছেন, কিন্তু তাঁর থেকে কিছু শুনেননি।
। ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মসজিদে জুমু‘আহর সালাত অনুষ্ঠিত হওয়ার পর ইসলামে সর্বপ্রথম জামা‘আতের সাথে জুমু‘আহর সালাত আদায় করা হয়েছে বাহরাইনের ‘জুয়াসা’ নামক একটি গ্রামে। ‘উসমান (রহঃ) বলেন, সেটি ছিল ‘আবদুল ক্বায়িস গোত্রের বসতি এলাকা।[1] সহীহ : বুখারী।
। ‘আবদুর রহমান ইবনু কা‘ব হতে তার পিতা কা‘ব ইবনু মালিক (রাঃ) এর সুত্রে বর্ণিত। তিনি অন্ধ হওয়ার পর ‘আবদুর রহমান হয়েছিলেন তার পরিচালক। তিনি (কা‘ব ইবনু মালিক) যখনই জুমু‘আহর দিন জুমু‘আহর সালাতের আযান শুনতেন তখন আস‘আদ ইবনু যুরারাহ (রাঃ) এর জন্য দু‘আ করতেন। ‘আবদুর রহমান ইবনু কা‘ব বলেন, আমি তাকে জিজ্ঞেস করলাম, আপনি (জুমু‘আহর) আযান শুনলেই আস‘আদ ইবনু যুরারাহর জন্য রহমতের দু‘আ করেন কেন? তিনি বললেন, কারণ তিনিই সর্বপ্রথম ‘নাকীউল খাদামাত’ এর বনূ বায়াদার মালিকানাধীন হাররার ‘হাযম আন-নবীত’ নামক স্থানে আমাদেরকে নিয়ে জুমু‘আহর সালাত আদায় করেছেন। তখন আমি জিজ্ঞেস করলাম, তখন আপনারা সংখ্যায় কতজন ছিলেন? তিনি বললেন, চল্লিশজন।[1] হাসান।
। ইয়াস ইবনু আবূ রামলাহ আশ্-শামী (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, মু‘আবিয়াহ ইবনু আবূ সুফয়ান (রাঃ) যখন যায়িদ ইবনু আরক্বাম (রাঃ)-কে প্রশ্ন করছিলেন আমি তখন সেখানে উপস্থিত ছিলাম। মু‘আবিয়াহ বললেন, আপনি কি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে একই দিনে দুই ‘ঈদ (অর্থাৎ জুমু‘আহ ও ‘ঈদ) উদযাপন করেছেন। তিনি (যায়িদ) বললেন, হ্যাঁ। মু‘আবিয়াহ (রাঃ) বললেন, তিনি তা কিভাবে আদায় করেছেন? যায়িদ ইবনু আরক্বাম বললেন, তিনি ‘ঈদের সালাত আদায় করেছেন। অতঃপর জুমু‘আহর সালাত আদায়ের ব্যাপার অবকাশ দিয়ে বলেছেনঃ কেউ জুমু‘আহর সালাত আদায় করতে চাইলে আদায় করে নিবে।[1] সহীহ।