। আলী (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও আবূ বাকর (রাঃ) মদ পানের অপরাধে চল্লিশটি বেত্রাঘাত করেছেন, আর উমার (রাঃ) তা আশিতে পূর্ণ করেছেন। এর প্রতিটি সুন্নাত। ইমাম আবূ দাঊদ (রহঃ) বলেন, আল-আসমাঈ ‘‘এর শীতলতা উপভোগকারী এর উত্তাপ সহ্য করবে’’ বাগধারার ব্যাখ্যায় বলেন, যিনি খিলাফাতের সুবিধা ভোগ করেছেন তাকেই এর ভার বহন করতে হবে। ইমাম আবূ দাঊদ (রহঃ) বলেন, আবূ সাসান হুসাইন ইবনু মুনযির ছিলেন তার গোত্রের সরদার।[1] সহীহ।
। মুআবিয়াহ ইবনু আবূ সুফিয়ান (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ লোকেরা মদ পান করলে, তাদের বেত্রাঘাত করো। পুনরায় পান করলে বেত্রাঘাত করো। আবারো পান করলে বেত্রাঘাত করো, পুনরায় পান করলে বেত্রাঘাত করো, আবারো পান করলে তাদের হত্যা করো।[1] হাসান সহীহ।
। ইবনু উমার (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ ... উপরের হাদীসের সমার্থবোধক। এতে রয়েছেঃ আমার ধারণা, তিনি পঞ্চমবারে বলেছেনঃ আবারো যদি সে মদ পান করে তবে তাকে হত্যা করো। ইমাম আবূ দাঊদ (রহঃ) বলেন, আবূ গুতাইফ বর্ণিত হাদীসেরও পঞ্চমবারের কথা উল্লেখ আছে।[1] সনদ দুর্বল।
হাদিস 4484 — Sunan Abu Dawud 40:134
হাসান Sahihহাসান SahihIsnaad Sahih
حَدَّثَنَا نَصْرُ بْنُ عَاصِمٍ الأَنْطَاكِيُّ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ الْوَاسِطِيُّ، حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي ذِئْبٍ، عَنِ الْحَارِثِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِذَا سَكِرَ فَاجْلِدُوهُ ثُمَّ إِنْ سَكِرَ فَاجْلِدُوهُ ثُمَّ إِنْ سَكِرَ فَاجْلِدُوهُ فَإِنْ عَادَ الرَّابِعَةَ فَاقْتُلُوهُ " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَكَذَا حَدِيثُ عُمَرَ بْنِ أَبِي سَلَمَةَ عَنْ أَبِيهِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم " إِذَا شَرِبَ الْخَمْرَ فَاجْلِدُوهُ فَإِنْ عَادَ الرَّابِعَةَ فَاقْتُلُوهُ " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَكَذَا حَدِيثُ سُهَيْلٍ عَنْ أَبِي صَالِحٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم " إِنْ شَرِبُوا الرَّابِعَةَ فَاقْتُلُوهُمْ " . وَكَذَا حَدِيثُ ابْنِ أَبِي نُعْمٍ عَنِ ابْنِ عُمَرَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَكَذَا حَدِيثُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَالشَّرِيدِ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَفِي حَدِيثِ الْجَدَلِيِّ عَنْ مُعَاوِيَةَ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " فَإِنْ عَادَ فِي الثَّالِثَةِ أَوِ الرَّابِعَةِ فَاقْتُلُوهُ " .
। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কেউ মাতাল হলে তাকে বেত্রাঘাত করো। আবার মাতাল হলে তাকে বেত্রাঘাত করো, আবার মাতাল হলে বেত্রাঘাত করো, চতুর্থবারও যদি এর পুনরাবৃত্তি হয়, তবে তাকে হত্যা করো। ইমাম আবূ দাঊদ (রহঃ) বলেন, উমার ইবনু আবূ সালামাহও পর্যায়ক্রমে তার পিতা ও আবূ হুরাইরাহ সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে এরূপ বর্ণনা করেছেনঃ কেউ মদ পান করলে তাকে বেত্রাঘাত করো। চতুর্থবারও যদি এরূপ করে তবে তাকে হত্যা করো। ইমাম আবূ দাঊদ (রহঃ) বলেন, অনুরূপভাবে সুহাইল পর্যায়ক্রমে আবূ সালিহ ও আবূ হুরাইরাহ সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে এরূপ বর্ণনা করেছেনঃ চতুর্থবার যদি তারা মদ পান করে তাহলে তাদের হত্যা করো। একইভাবে ইবনু আবূ নুআইম ইবনু উমারের সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে এরূপ বর্ণনা করেছেন। আর আব্দুল্লাহ ইবনু উমার (রাঃ) এবং আশ-শারীদ (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সূত্রে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। তবে আল জাদলী মুআবিয়াহ (রাঃ)-এর সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেনঃ সে তৃতীয় বার বা চতুর্থবার মদ পান করলে তাকে হত্যা করো।[1] হাসান সহীহ।
। কাবিসাহ ইবনু যুওয়াইব (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ যে ব্যক্তি মদ পান করে তাকে বেত্রাঘাত করো। আবারো পান করলে তাকে বেত্রাঘাত করো। আবারো পান করলে তাকে বেত্রাঘাত করো। তৃতীয় কিংবা চতুর্থবার যদি সে এরূপ করে তবে তাকে হত্যা করো। অতঃপর মদ পানের অপরাধে জনৈক ব্যক্তিকে ধরে আনা হলে তিনি তাকে বেত্রাঘাত করেন। পুনরায় তাকে এ অপরাধে নিয়ে আসা হলে তিনি তাকে বেত্রাঘাত করেন। অতঃপর একই অপরাধে তাকে নিয়ে আসা হলে তিনি বেত্রাঘাত করেন আর হত্যা পরিহার করেন। তা ছিলো অবকাশ। সুফিয়ান বলেন, যুহরী (রহঃ) মানসূর ইবনুল মুতামির ও মুখাওয়াল ইবনু রাশিদের উপস্থিতিতে এ হাদীস বর্ণনা করে বলেনঃ তোমরা দু’ জন প্রতিনিধি হিসেবে ইরাকবাসীদের নিকট গিয়ে এ হাদীস বর্ণনা করো। ইমাম আবূ দাঊদ (রহঃ) বলেন, আশ-শাদীদ ইবনু সুওয়াইদ ও সুরাহবিল ইবনু আওস, আব্দুল্লাহ ইবনু আমর, আব্দুল্লাহ ইবনু উমার, আবূ গুতাইফ আল কিন্দী এবং আবূ সালামাহ ইবনু আব্দুর রাহমান (রাঃ) আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) সূত্রে এ হাদীস বর্ণনা করেছে।[1] যঈফ মুরসাল।
হাদিস 4486 — Sunan Abu Dawud 40:136
সহিহসহিহসহিহ
حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ مُوسَى الْفَزَارِيُّ، حَدَّثَنَا شَرِيكٌ، عَنْ أَبِي حُصَيْنٍ، عَنْ عُمَيْرِ بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ عَلِيٍّ، رضى الله عنه قَالَ لاَ أَدِي - أَوْ مَا كُنْتُ لأَدِيَ - مَنْ أَقَمْتُ عَلَيْهِ حَدًّا إِلاَّ شَارِبَ الْخَمْرِ فَإِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لَمْ يَسُنَّ فِيهِ شَيْئًا إِنَّمَا هُوَ شَىْءٌ قُلْنَاهُ نَحْنُ .
। আলী (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি কারো উপর হাদ্দ কার্যকর করলে এবং তাতে সে মারা গেলে আমি তার ক্ষতিপূরণ পরিশোধ করবো না, মদ পানের অপরাধী ব্যতীত। কেননা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ ব্যাপারে কোনো নির্দিষ্ট নিয়ম দেননি। এর যা কিছু শাস্তি প্রচলিত আছে তা আমরা নিজেরা নির্ধারণ করেছি।[1] সহীহ।
। আব্দুর রাহমান ইবনু আযহার (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি যেন এখনো দেখছি যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সৈন্যশিবিরের মধ্যে খালিদ ইবনু ওয়ালিদের শিবির খুঁজছেন। এমতাবস্থায় জনৈক মদ্দপায়ীকে ধরে আনা হলো। তিনি লোকদের বললেনঃ তোমরা একে প্রহার করো। অতএব তাদের কেউ জুতা দিয়ে, কেউ বা লাঠি দিয়ে আর কেউ বা ‘মিতাখাহ’ দিয়ে তাকে প্রহার করলো। ইবনু ওয়াহব বলেন, ‘মিতাখাহ’ অর্থ খেজুরের কাঁচা ডাল। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জমিন থেকে কিছু মাটি নিয়ে তার মুখমন্ডলে ছুঁড়ে মারলেন।[1] হাসান সহীহ।
। আব্দুর রাহমান ইবনু আযহার (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হুনাইনে অবস্থানকালে জনৈক মাতালকে তাঁর নিকট আনা হলো। তিনি তার মুখমন্ডলে মাটি ছুঁড়ে মারলেন এবং তাকে প্রহার করতে সাহাবীদের নির্দেশ দিলেন। তারা তাদের জুতা ও হাতে যা কিছু ছিলো তা দিয়ে তাকে প্রহার করতে লাগলেন, যতক্ষণ না তিনি তাদের বললেন যে, থামো। অতঃপর তারা প্রহার বন্ধ করলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ইন্তেকালের পর আবূ বাকর (রাঃ) মদ পানের জন্য চল্লিশটি বেত্রাঘাত করেন। অতঃপর উমারও তার খিলাফাতের প্রথম পর্যায়ে চল্লিশটি বেত্রাঘাত করেন এবং পরবর্তী পর্যায়ে আশিটি বেত্রাঘাত করেন। অতঃপর উসমান (রাঃ) আশি এবং চল্লিশ দু’ ধরণের শাস্তিই প্রয়োগ করেন। অতঃপর মু‘আবিয়াহ (রাঃ) মদ পানের শাস্তি আশি বেত্রাঘাত নির্ধারণ করেন।[1] সহীহ।
। আব্দুর রাহমান ইবনু আযহার (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি মক্কা বিজয়ের দিন সকালবেলা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জনতার ভীড়ের মধ্যে পদব্রজে খালিদ ইবনুল ওয়ালীদ (রাঃ)-এর শিবিরের সন্ধান করতে দেখি। আমি তখন উঠতি বয়সের যুবক। তাঁর নিকট এক মদ্যপায়ীকে উপস্থিত করা হলে তাঁর নির্দেশে লোকজন তাকে তাদের হাতের নিকট সহজলভ্য জিনিস দ্বারা প্রহার করে। আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার প্রতি ধূলা নিক্ষেপ করেন। আবূ বাকর (রাঃ)-এর সময় এক মদপায়ীকে উপস্থিত করা হলে তিনি লোকজনকে প্রশ্ন করেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উক্ত ব্যক্তিকে কয়টি বেত্রাঘাত করেছেন? তারা চল্লিশ বার বেত্রাঘাতের কথা উল্লেখ করে। অতএব আবূ বাকর (রাঃ) চল্লিশটি বেত্রাঘাত করেন। উমার (রাঃ) খলীফাহ হলে খালিদ ইবনুল ওয়ালীদ (রাঃ) তাকে লিখে পাঠান যে, লোকজন মাদক গ্রহণের নিষেধাজ্ঞাকে উপেক্ষা করছে এবং হাদ্দ ও শাস্তির ভয়কে পরোয়া করছে না। উমার (রাঃ) বলেন, আপনার নিকট যারা আছে তাদের প্রশ্ন করুন। তার সঙ্গে ছিলেন সর্বাগ্রে ইসলাম গ্রহণকারী মুহাজিরগণ। তিনি তাদের নিকট প্রশ্ন করলে তারা আশিটি বেত্রাঘাত সম্পর্কে ঐকমত্য হন। বর্ণনাকারী বলেন, ‘আলী (রাঃ) বলেছেন, কোনো ব্যক্তি মাদক গ্রহণ করলে সে মিথ্যা কথা বলে। অতএব আমি মনে করি, তাকে মিথ্যা বলার শাস্তির মতই শাস্তি দেয়া উচিত।[1] হাসান।
। হাকীম ইবনু হিযাম (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মসজিদের ভিতরে কিসাস গ্রহণ করতে, কবিতা আবৃত্তি করতে এবং হাদ্দ কার্যকর করতে নিষেধ করেছেন।[1] হাসান।