। আবূ উমামাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। একদা এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে বললো, হে আল্লাহর রাসূল! আমি হদ্দযোগ্য অপরাধ করেছি। কাজেই আমাকে শাস্তি দিন। তিনি প্রশ্ন করলেনঃ তুমি আসার সময় উযু করেছো কি? সে বললো, হ্যাঁ। তিনি আবার প্রশ্ন করলেনঃ আমরা সালাত আদায়ের সময় তুমি কি আমাদের সঙ্গে সালাত আদায় করেছো? সে বললো, হ্যাঁ। তিনি বললেনঃ চলে যাও, নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমার অপরাধ ক্ষমা করেছেন।[1] সহীহ।
। আযহাব ইবনু আব্দুল্লাহ আল-হারাযী (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। কিলা‘আ এলাকার কিছু লোকের মাল চুরি হলে তারা একদল তাঁতীর বিরুদ্ধে অভিযোগ করলো। অতঃপর তারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবী নু‘মান ইবনু বশীরের নিকট (ঐ অভিযুক্তদের) নিয়ে এলো। তিনি তাদের কয়েক দিন আটকে রাখার পর ছেড়ে দেন। অভিযোগকারীরা এসে নু‘মান (রাঃ)-কে বললো, মারধর ও তদন্ত ছাড়াই আপনি তাদের ছেড়ে দিলেন? নু‘মান (রাঃ) বললেন, তোমরা কি চাও? তোমরা যদি চাও আমি তোমাদের মারধর করি। আর তাতে যদি তোমাদের মাল উদ্ধার হয় তবে তো ভালো। অন্যথায় আমি তাদের পিঠে যেরূপ আঘাত করবো, সেরূপ আঘাত তোমাদের পিঠেও করবো। তারা বললো, এটা কি আপনার ফায়সালা? তিনি বললেন, এটা আল্লাহ ও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ফায়সালা। ইমাম আবূ দাঊদ (রহঃ) বলেন, এ কথার দ্বারা তিনি তাদেরকে সতর্ক করেছেন। অর্থাৎ স্বেচ্ছায় স্বীকার করার পরই প্রহার করা যেতে পারে।[1] হাসান।
হাদিস 4383 — Sunan Abu Dawud 40:33
সহিহসহিহসহিহ Bukhari (6789) Sahih Muslim (1684)
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ حَنْبَلٍ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، قَالَ سَمِعْتُهُ مِنْهُ، عَنْ عَمْرَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، رضى الله عنها أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَقْطَعُ فِي رُبْعِ دِينَارٍ فَصَاعِدًا .
। আয়িশাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক দীনারের এক-চতুর্থাংশ বা এর চাইতে বেশী চুরির অপরাধে চোরের হাত কাটতেন।[1] সহীহ।
হাদিস 4384 — Sunan Abu Dawud 40:34
সহিহসহিহসহিহ Bukhari (6790) Sahih Muslim (1684)
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ صَالِحٍ، وَوَهْبُ بْنُ بَيَانٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا ح، وَحَدَّثَنَا ابْنُ السَّرْحِ، قَالَ أَخْبَرَنَا ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي يُونُسُ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ عُرْوَةَ، وَعَمْرَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، رضى الله عنها عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " تُقْطَعُ يَدُ السَّارِقِ فِي رُبْعِ دِينَارٍ فَصَاعِدًا " . قَالَ أَحْمَدُ بْنُ صَالِحٍ الْقَطْعُ فِي رُبْعِ دِينَارٍ فَصَاعِدًا .
। আয়িশাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ দীনারের এক-চতুর্থাংশ অথবা এর চেয়ে বেশী পরিমাণ সম্পদ চুরির দায়ে চোরের হাত কাটা হবে। আহমাদ ইবনু সালিহ বলেন, দীনারের এক-চতুর্থাংশ বা এর চেয়ে বেশী সম্পদ চুরির অপরাধে হাত কাটা যায়।।[1] সহীহ।
হাদিস 4385 — Sunan Abu Dawud 40:35
সহিহসহিহসহিহসহিহ Bukhari (6795) Sahih Muslim (1686)
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْلَمَةَ، حَدَّثَنَا مَالِكٌ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَطَعَ فِي مِجَنٍّ ثَمَنُهُ ثَلاَثَةُ دَرَاهِمَ .
। ইবনু উমার (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিন দিরহাম মূল্যের বর্ম চুরির দায়ে চোরের হাত কেটেছেন।[1] সহীহ।
। আব্দুল্লাহ ইবনু উমার (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমন এক চোরের হাত কেটেছেন, যে মহিলাদের জন্য নির্দিষ্ট স্থান থেকে তিন দিরহাম মূল্যের একটি বর্ম চুরি করেছিল।[1] সহীহ।
। ইবনু আব্বাস (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক দীনার অথবা দশ দিরহাম মূল্যের বর্ম চুরির অপরাধে এক ব্যক্তির হাত কেটেছেন।[1] শায।
। মুহাম্মাদ ইবনু ইয়াহইয়া ইবনু হাব্বান (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। একদা একটি গোলাম এক ব্যক্তির বাগান থেকে খেজুরের চারা চুরি করে এনে তার মনিবের বাগানে রোপণ করে। চারাগাছের মালিক তা খুঁজতে খুঁজতে পেয়ে যায় এবং এ গোলামের ব্যাপারে তৎকালীন মদীনার গভর্নর মাওয়ান ইবনুল হাকামের কাছে বিচার প্রার্থী হয়। মারওয়ান গোলামটিকে বন্দী করে রাখেন এবং তার হাত কাটতে মনস্থ করেন। অতঃপর গোলামটির মনিব রাফি‘ ইবনু খাদীজ (রাঃ)-এর নিকট গিয়ে এ ব্যাপারে প্রশ্ন করলে তিনি তার নিকট বর্ণনা করেন যে, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছেনঃ ফল আর খেজুরের চারা চুরির অপরাধে হাত কাটা যাবে না। লোকটি বললো, মারওয়ান তো আমার গোলামকে ধরে রেখেছেন আর তার হাত কাটতে চাচ্ছেন। আমি চাই, আপনি আমার সাথে তার নিকট গিয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এ ব্যাপারে যা শুনেছেন, তা তাকে জানাবেন। অতঃপর রাফি‘ ইবনু খাদীজ (রাঃ) তার সঙ্গে মারওয়ান ইবনু হাকামের নিকট গিয়ে বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছিঃ ‘ফল আর খেজুরের চারা চুরির অপরাধে হাত কাটা যাবে না।’ অতঃপর মারওয়ানের আদেশে গোলামটিকে ছেড়ে দেয়া হয়।[1] সহীহ।
। আমর ইবনু শু‘আইব (রহঃ) থেকে পর্যায়ক্রমে তার পিতা ও তার দাদা আব্দুল্লাহ ইবনু আমর ইবনুল আস (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে গাছে ঝুলন্ত ফল সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেনঃ কোনো ক্ষুধার্ত লোক তা খেলে এবং কাপড়ে বেধে নিয়ে না গেলে তার কোনো অপরাধ নেই। কিন্তু কেউ যদি কাপড়ে বেধে তা থেকে কিছু নিয়ে যায় তবে তাকে এর দ্বিগুণ জরিমানা দিতে হবে এবং শাস্তিও ভোগ করতে হবে। আর কেউ যদি এমন স্থান থেকে তা চুরি করে, যেখানে ফল শুকানোর জন্য রাখা হয়েছে, আর চুরিকৃত ফলের মূল্য একটি বর্মের মূল্যের সমপরিমাণ হয়, তবে তার হাত কাটা যাবে। কেউ উপরোক্ত মূল্যের কম পরিমাণ চুরি করলে তাকে দ্বিগুণ জরিমানা করা হবে এবং তাকে শাস্তিও দেয়া হবে। ইমাম আবূ দাঊদ (রহঃ) বলেন, খেজুর শুকানোর স্থানকে ‘জারীন’ বলা হয়।[1] হাসান।