। জাবির ইবনু আব্দুল্লাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ লুণ্ঠনকারীর হাত কাটা যাবে না। যে ব্যক্তি দিবালোকে লুণ্ঠন করে সে আমাদের অন্তর্ভুক্ত নয়।[1] সহীহ।
হাদিস 4392 — Sunan Abu Dawud 40:42
সহিহসহিহসহিহ
وَبِهَذَا الإِسْنَادِ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لَيْسَ عَلَى الْخَائِنِ قَطْعٌ " .
। একই সূত্রে জাবির (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ প্রতারকের হাত কাটা যাবে না।[1] সহীহ।
হাদিস 4393 — Sunan Abu Dawud 40:43
সহিহসহিহসহিহ
حَدَّثَنَا نَصْرُ بْنُ عَلِيٍّ، أَخْبَرَنَا عِيسَى بْنُ يُونُسَ، عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ، عَنْ جَابِرٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِمِثْلِهِ زَادَ " وَلاَ عَلَى الْمُخْتَلِسِ قَطْعٌ " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ هَذَانِ الْحَدِيثَانِ لَمْ يَسْمَعْهُمَا ابْنُ جُرَيْجٍ مِنْ أَبِي الزُّبَيْرِ وَبَلَغَنِي عَنْ أَحْمَدَ بْنِ حَنْبَلٍ أَنَّهُ قَالَ إِنَّمَا سَمِعَهُمَا ابْنُ جُرَيْجٍ مِنْ يَاسِينَ الزَّيَّاتِ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَقَدْ رَوَاهُمَا الْمُغِيرَةُ بْنُ مُسْلِمٍ عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ عَنْ جَابِرٍ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم .
। জাবির (রাঃ) থেকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সূত্রে অনুরূপ হাদীস বর্ণিত। তাতে আরো রয়েছেঃ লুণ্ঠনকারীর হাত কাটা যাবে না। ইমাম আবূ দাঊদ (রহঃ) বলেন, ইবনু জুরাইজ উপরোক্ত হাদীসদ্বয় আবুয-যুবায়র থেকে শুনেননি। আমি আহমাদ ইবনু হাম্বাল (রহঃ) থেকে জেনেছি, তিনি বলেছেন, ইবনু জুরাইজ উপরোক্ত হাদীসদ্বয় ইয়াসীন আয-যাইয়াতের কাছে শুনেছেন। ইমাম আবূ দাঊদ (রহঃ) বলেন, মুগীরাহ ইবনু মুসলিম হাদীসদ্বয় আবূ-যুবায়র (রাঃ) থেকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সূত্রে বর্ণনা করেছেন।[1] সহীহ।
। সাফওয়ান ইবনু উমাইয়্যাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমি তিরিশ দিরহাম মূল্যের আমার একটি চাদরে মসজিদে ঘুমিয়েছিলাম। অতঃপর এক ব্যক্তি এসে আমার কাছ থেকে সেটা টেনে নিয়ে যায়। তাকে হাতে নাতে ধরে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আসা হলে তিনি তার হাত কাটার আদেশ দিলেন। বর্ণনাকারী বলেন, আমি তাঁর নিকট হাযির হয়ে বললাম, মাত্র ত্রিশটি দিরহামের কারণে আপনি তার হাত কাটবেন? আমি তার নিটক এটা বাকীতে বিক্রি করছি। তিনি বললেনঃ তুমি তাকে আমার নিকট নিয়ে আসার পূর্বে তা করলে না কেন? ইমাম আবূ দাঊদ (রহঃ) বলেন, যায়িদাহ সিমাকের সূত্রে জুআইদ ইবনু হুযাইর থেকে এ হাদীস বর্ণনা করে বলেন, সাফওয়ান ঘুমিয়েছিলেন। তাউস ও মুজাহিদ এ হাদীস বর্ণনা করে বলেন, তিনি ঘুমন্ত ছিলেন। চোর এসে তার মাথার নীচ থেকে চাঁদরটি চুরি করে নিয়ে যায়। আবূ সালামাহ ইবনু আব্দুর রাহমান এ হাদীস বর্ণনা করে বলেন, চোরটি তার মাথার নীচ থেকে চাদরটা টান দিয়ে নিয়ে যায়। তিনি জাগ্রত হয়ে চিৎকার দেন এবং তাকে ধরে ফেলা হয়। যুহরী (রহঃ) সাফওয়ান ইবনু আব্দুল্লাহ থেকে বর্ণনা করে বলেন, তার চাদরটাকে তিনি বালিশ বানিয়ে মাথার নীচে রেখে মসজিদে ঘুমান। এ সময় এক চোর এসে তার চাদরটা হস্তগত করে। তিনি তাকে ধরে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট নিয়ে আসেন।[1] সহীহ।
। ইবনু উমার (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। জনৈকা মাখযূমী মহিলা বিভিন্ন জিনিস ধার নিয়ে পরে তা অস্বীকার করতো। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নির্দেশে তার হাত কেটে দেয়া হয়। ইমাম আবূ দাঊদ (রহঃ) বলেন, জুরাইরিয়া নাফি‘ থেকে ইবনু উমার অথবা সাফিয়্যাহ বিনতু আবূ উবাইদ সূত্রে বর্ণনা করেনঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ভাষণ দিতে দাঁড়িয়ে বলেনঃ এমন কোনো মহিলা আছে কি যে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের নিকট তওবা করবে? একথা তিনি তিনবার বলেন। তখন ঐ মহিলাটি সেখানে উপস্থিত ছিলো; কিন্তু সে দাঁড়ায়নি এবং কথাও বলেনি। ইমাম আবূ দাঊদ (রহঃ) বলেন, ইবনু গানাজ নাফি‘র সূত্রে সাফিয়্যাহ বিনতু আবূ উবাইদ সূত্রে এ হাদীস বর্ণনা করে বলেনঃ মহিলাটির বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেয়া হয়।[1] সহীহ।
হাদিস 4396 — Sunan Abu Dawud 40:46
সহিহসহিহসহিহসহিহ Bukhari (2648) Sahih Muslim (1688)
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى بْنِ فَارِسٍ، حَدَّثَنَا أَبُو صَالِحٍ، عَنِ اللَّيْثِ، قَالَ حَدَّثَنِي يُونُسُ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، قَالَ كَانَ عُرْوَةُ يُحَدِّثُ أَنَّ عَائِشَةَ رضى الله عنها قَالَتِ اسْتَعَارَتِ امْرَأَةٌ - تَعْنِي - حُلِيًّا عَلَى أَلْسِنَةِ أُنَاسٍ يُعْرَفُونَ وَلاَ تُعْرَفُ هِيَ فَبَاعَتْهُ فَأُخِذَتْ فَأُتِيَ بِهَا النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فَأَمَرَ بِقَطْعِ يَدِهَا وَهِيَ الَّتِي شَفَعَ فِيهَا أُسَامَةُ بْنُ زَيْدٍ وَقَالَ فِيهَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مَا قَالَ .
। আয়িশাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। এক অপরিচিত মহিলা কিছু পরিচিত লোকের নামে অলংকার ধার নেয়। অতঃপর সে এগুলো বিক্রি করে দেয়। তাকে ধরে নিয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট হাযির করা হয়। তিনি তার হাত কাটার নির্দেশ দেন। এ সেই মহিলা যার জন্য উসামাহ ইবনু যায়িদ (রাঃ) সুপারিশ করেছিলেন। আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার ব্যাপারে যা বলার বলেছিলেন।[1] সহীহ।
হাদিস 4397 — Sunan Abu Dawud 40:47
সহিহসহিহসহিহসহিহ Muslim (1688)
حَدَّثَنَا عَبَّاسُ بْنُ عَبْدِ الْعَظِيمِ، وَمُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى، قَالاَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ كَانَتِ امْرَأَةٌ مَخْزُومِيَّةٌ تَسْتَعِيرُ الْمَتَاعَ وَتَجْحَدُهُ فَأَمَرَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم بِقَطْعِ يَدِهَا وَقَصَّ نَحْوَ حَدِيثِ قُتَيْبَةَ عَنِ اللَّيْثِ عَنِ ابْنِ شِهَابٍ زَادَ فَقَطَعَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يَدَهَا .
। আয়িশাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, মাখযূম গোত্রের এক মহিলা জিনিসপত্র ধার নেয়ার পর তা অস্বীকার করতো। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার হাত কাটতে নির্দেশ দেন। ইবনু শিহাব থেকে বর্ণিত এই হাদীসে আরো আছেঃ অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার হাত কেটে দেন।[1] সহীহ।
হাদিস 4398 — Sunan Abu Dawud 40:48
সহিহসহিহসহিহদাঈফ
حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ، أَخْبَرَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ حَمَّادٍ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنِ الأَسْوَدِ، عَنْ عَائِشَةَ، رضى الله عنها أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " رُفِعَ الْقَلَمُ عَنْ ثَلاَثَةٍ عَنِ النَّائِمِ حَتَّى يَسْتَيْقِظَ وَعَنِ الْمُبْتَلَى حَتَّى يَبْرَأَ وَعَنِ الصَّبِيِّ حَتَّى يَكْبَرَ " .
। আয়িশাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তিন ধরণের লোকের উপর থেকে কলম উঠিয়ে নেয়া হয়েছেঃ (১) নিদ্রিত ব্যক্তি, যতক্ষণ না জাগ্রত হয়, (২) অসুস্থ (পাগল) ব্যক্তি, যতক্ষণ না আরোগ্য লাভ করে এবং (৩) অপ্রাপ্ত বয়স্ক বালক, যতক্ষণ না বালেগ হয়।[1] সহীহ।
। ইবনু আব্বাস (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা যেনার অপরাধে জনৈকা উম্মাদিনীকে ধরে এনে উমার (রাঃ)-এর নিকট হাযির করা হয়। তিনি এ ব্যাপারে লোকদের সঙ্গে পরামর্শ করে তাকে পাথর মেরে হত্যা করার নির্দেশ দেন। এ সময় আলী (রাঃ) তার পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। তিনি প্রশ্ন করলেন এর কি হয়েছে? উপস্থিত লোকেরা বললো, সে অমুক গোত্রের উম্মাদিনী (পাগল মহিলা), সে যেনা করেছে। উমার (রাঃ) তাকে পাথর মেরে হত্যা করার আদেশ দিয়েছেন। বর্ণনাকারী বলেন, তিনি বললেন, তোমরা তাকে নিয়ে ফিরে যাও। অতঃপর তিনি উমারের নিকট এসে বললে, হে আমীরুল মু‘মিনীন! আপনি কি জানেন না, তিন ধরণের লোকের উপর থেকে কলম উঠিয়ে নেয়া হয়েছেঃ (১) পাগল, যতক্ষণ না সুস্থ হয়, (২) নিদ্রিত ব্যক্তি, যতক্ষণ না জাগ্রত হয় এবং (৩) নাবালেগ শিশু, যতক্ষণ না বালেগ হবে। তিনি বললেন, হ্যাঁ। আলী (রাঃ) বলেন, তাহলে তাকে পাথর মারা হবে কেন? তিনি বলেন, কোনো কারণ নেই। আলী (রাঃ) বলেন, তবে তাকে ছেড়ে দিন। বর্ণনাকারী বলেন, তিনি তাকে ছেড়ে দিলেন এবং ‘আল্লাহু আকবার’ ধ্বনি উচ্চারণ করলেন।[1] সহীহ।
। আ‘মাশ (রহঃ) সূত্রে অনুরূপ হাদীস বর্ণিত। এতে রয়েছেঃ তিনি বলেন, নাবালেগ যতক্ষণ না বুদ্ধিমান হবে। তিনি বলেনঃ পাগল যতক্ষণ না সুস্থ জ্ঞানসম্পন্ন হবে। বর্ণনাকারী বলেন, উমার (রাঃ) ‘আল্লাহু আকবার’ ধ্বনি দিতে থাকেন।[1] সহীহ।