। আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা ‘ইশার সালাতের তাকবীর দেয়া হলো। এমন সময় এক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে বলল, হে আল্লাহর রসূল! আমার কিছু প্রয়োজনীয় কথা আছে। এই বলে সে দাঁড়িয়ে তাঁর সঙ্গে কথা বলতে লাগল। এদিকে সকলে বা কিছু সংখ্যক লোক তন্দ্রাচ্ছন্ন হয়ে পড়ল। অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের নিয়ে সালাত আদায় করলেন। (বর্ণনাকারী) অযুর কথা উল্লেখ করেননি।[1] সহীহ : মুসলিম।
। ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সিজদায় গিয়ে (কখনো) ঘুমিয়ে যেতেন, এমনকি তাঁর নাক ডাকার আওয়াজ শোনা যেত। অতঃপর তিনি দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করতেন, কিন্তু অযু করতেন না। বর্ণনাকারী বলেন, আমি তাঁকে বললাম, আপনি ঘুমানোর পরও অযু না করেই সালাত আদায় করলেন? তিনি বললেনঃ যে ব্যক্তি শুয়ে ঘুমায়, অযু করা তারই কর্তব্য। ‘উসমান ও হাম্মাদ আরো বলেন, এর কারণ হলো, শুয়ে ঘুমালে শরীরের বাঁধন ঢিলা হয়ে যায়। [1] দুর্বল : মিশকাত ৩১৮। ইমাম আবূ দাউদ (রহঃ) বলেন, যে ব্যক্তি শুয়ে ঘুমায় অযু করা তারই কর্তব্য- এ হাদীসটি মুনকার। এটি কেবলমাত্র ইয়াযীদ আল-দালানী ক্বাতাদাহ সূত্রে বর্ণনা করেছেন। একদল বর্ণনাকারী ইবনু ‘আব্বাস রাযিয়াল্লাহু ‘আনহুমা সূত্রে হাদীসের প্রথমাংশ বর্ণনা করেছেন। কিন্তু তারা উপরোক্ত কথার কিছুই উল্লেখ করেননি। ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) বলেছেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (অসর্তকতা) থেকে মাহফুয ছিলেন। وَقَالَتْ عَائِشَةُ قَالَ النَّبِيُّ صلي الله عليه وسلم " تَنَامُ عَيْنَاىَ وَلَا يَنَامُ قَلْبِي " . صحيح : م . وَقَالَ شُعْبَةُ إِنَّمَا سَمِعَ قَتَادَةُ مِنْ أَبِي الْعَالِيَةِ أَرْبَعَةَ أَحَادِيثَ حَدِيثَ يُونُسَ بْنِ مَتَّى وَحَدِيثَ ابْنِ عُمَرَ فِي الصَّلَاةِ وَحَدِيثَ الْقُضَاةُ ثَلَاثَةٌ وَحَدِيثَ ابْنِ عَبَّاسٍ حَدَّثَنِي رِجَالٌ مَرْضِيُّونَ مِنْهُمْ عُمَرُ وَأَرْضَاهُمْ عِنْدِي عُمَرُ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَذَكَرْتُ حَدِيثَ يَزِيدَ الدَّالَانِيِّ لأَحْمَدَ بْنِ حَنْبَلٍ فَانْتَهَرَنِي اسْتِعْظَامًا لَهُ وَقَالَ مَا لِيَزِيدَ الدَّالَانِيِّ يُدْخِلُ عَلَى أَصْحَابِ قَتَادَةَ وَلَمْ يَعْبَأْ بِالْحَدِيثِ . ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমার চক্ষুদ্বয় ঘুমায়, কিন্তু আমার অন্তর ঘুমায় না। সহীহ : মুসলিম।
হাদিস 203 — Sunan Abu Dawud 1:203
হাসানহাসানদাঈফদাঈফ
حَدَّثَنَا حَيْوَةُ بْنُ شُرَيْحٍ الْحِمْصِيُّ، - فِي آخَرِينَ - قَالُوا حَدَّثَنَا بَقِيَّةُ، عَنِ الْوَضِينِ بْنِ عَطَاءٍ، عَنْ مَحْفُوظِ بْنِ عَلْقَمَةَ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَائِذٍ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ، - رضى الله عنه - قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " وِكَاءُ السَّهِ الْعَيْنَانِ فَمَنْ نَامَ فَلْيَتَوَضَّأْ " .
। ‘আলী ইবনু আবূ তালিব (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ চক্ষুদ্বয় হচ্ছে পশ্চাৎদ্বারের সংরক্ষণকারী। কাজেই যে ব্যক্তি (চোখ বন্ধ করে) ঘুমায়, সে যেন অযু করে।[1] হাসান।
। শাকীক সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‘আব্দুল্লাহ (রাঃ) বলেছেনঃ রাস্তার ধুলা-ময়লার উপর দিয়ে অতিক্রম করা সত্তেও আমরা অযু করতাম না এবং আমরা (সালাতের মধ্যে নিজেদের) চুল ও কাপড়-চোপড়ও সামলাতাম না।[1] সহীহ।
। ‘আলী ইবনু তালক (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কেউ সালাতের মধ্যে (পশ্চাৎ-দ্বারে) বায়ু নির্গত করলে সে যেন ফিরে গিয়ে অযু করে এবং পুনরায় সালাত আদায় করে।[1] দুর্বল : যঈফ আল-জামি‘উস সাগীর ৬০৭, মিশকাত ৩১৪, ১০০৬।
হাদিস 206 — Sunan Abu Dawud 1:206
সহিহসহিহসহিহIsnaad Hasan
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا عَبِيدَةُ بْنُ حُمَيْدٍ الْحَذَّاءُ، عَنِ الرُّكَيْنِ بْنِ الرَّبِيعِ، عَنْ حُصَيْنِ بْنِ قَبِيصَةَ، عَنْ عَلِيٍّ، - رضى الله عنه - قَالَ كُنْتُ رَجُلاً مَذَّاءً فَجَعَلْتُ أَغْتَسِلُ حَتَّى تَشَقَّقَ ظَهْرِي فَذَكَرْتُ ذَلِكَ لِلنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم - أَوْ ذُكِرَ لَهُ - فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لاَ تَفْعَلْ إِذَا رَأَيْتَ الْمَذْىَ فَاغْسِلْ ذَكَرَكَ وَتَوَضَّأْ وُضُوءَكَ لِلصَّلاَةِ فَإِذَا فَضَخْتَ الْمَاءَ فَاغْتَسِلْ " .
। ‘আলী (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার খুব বেশী মযী নির্গত হত। এজন্য আমি গোসল করতাম, এমনকি (অত্যধিক গোসলের কারণে) আমার পিঠ ফেটে যেত (ব্যথা অনূভূত হতো)। তাই আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বিষয়টি অবহিত করলাম কিংবা কেউ তাঁকে বিষয়টি অবহিত করলো। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ এরূপ করো না। তোমার (লজ্জাস্থানে) মযী দেখতে পেলে তা ধুয়ে নিবে এবং সালাতের অযুর ন্যায় অযু করবে। তবে বীর্য নির্গত হলে গোসল করবে।[1] সহীহ : তার এ কথাটি বাদে ‘তবে বীর্য নির্গত হলে গোসল করবে।’
হাদিস 207 — Sunan Abu Dawud 1:207
সহিহসহিহসহিহদাঈফ
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْلَمَةَ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ أَبِي النَّضْرِ، عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ يَسَارٍ، عَنِ الْمِقْدَادِ بْنِ الأَسْوَدِ، أَنَّ عَلِيَّ بْنَ أَبِي طَالِبٍ، - رضى الله عنه - أَمَرَهُ أَنْ يَسْأَلَ لَهُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنِ الرَّجُلِ إِذَا دَنَا مِنْ أَهْلِهِ فَخَرَجَ مِنْهُ الْمَذْىُ مَاذَا عَلَيْهِ فَإِنَّ عِنْدِي ابْنَتَهُ وَأَنَا أَسْتَحْيِي أَنْ أَسْأَلَهُ . قَالَ الْمِقْدَادُ فَسَأَلْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنْ ذَلِكَ فَقَالَ " إِذَا وَجَدَ أَحَدُكُمْ ذَلِكَ فَلْيَنْضَحْ فَرْجَهُ وَلْيَتَوَضَّأْ وُضُوءَهُ لِلصَّلاَةِ " .
। আল-মিক্বদাদ ইবনুল আস্ওয়াদ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা ‘আলী ইবনু আবূ তালিব (রাঃ) তাকে নির্দেশ দিলেন, তিনি যেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞাসা করেন, কোন ব্যক্তি স্বীয় স্ত্রীর নিকটবর্তী হলেই বীর্যরস নির্গত হলে তার করণীয় কি? নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কন্যা আমার কাছে রয়েছে, সেজন্য আমি তাঁকে (সরাসরি) এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করতে লজ্জাবোধ করছি। মিক্বদাদ (রাঃ) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেনঃ তোমাদের কারো এরূপ অবস্থা হলে সে যেন তার লজ্জাস্থান ধুয়ে নেয় এবং সালাতের অযুর ন্যায় অযু করে।[1] সহীহ।
হাদিস 208 — Sunan Abu Dawud 1:208
সহিহসহিহদাঈফ
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ يُونُسَ، حَدَّثَنَا زُهَيْرٌ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ عُرْوَةَ، أَنَّ عَلِيَّ بْنَ أَبِي طَالِبٍ، قَالَ لِلْمِقْدَادِ وَذَكَرَ نَحْوَ هَذَا قَالَ فَسَأَلَهُ الْمِقْدَادُ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لِيَغْسِلْ ذَكَرَهُ وَأُنْثَيَيْهِ " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَرَوَاهُ الثَّوْرِيُّ وَجَمَاعَةٌ عَنْ هِشَامٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ عَلِيٍّ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ فِيهِ : " وَالأُنْثَيَيْنِ " .
। ‘উরওয়াহ (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। ‘আলী ইবনু আবূ তালিব (রাঃ) মিক্বদাদ (রাঃ)-কে বললেনঃ অতঃপর পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেন। মিক্বদাদ (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে (মযী বের হলে করণীয় সম্পর্কে) জিজ্ঞাসা করলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ সে যেন তার পুরুষাঙ্গ ও অন্ডকোষ ধুয়ে নেয়।[1] সহীহ।
। ‘আলী ইবনু আবূ তালিব (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি মিক্বদাদ (রাঃ)-কে বললাম, অতঃপর পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ। মিক্বদাদ (রাঃ) হতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সূত্রে অন্য এক বর্ণনায় ‘অন্ডকোষের’ কথা উল্লেখ নেই।[1] সহীহ।
। সাহল ইবনু হুনায়িফ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার অত্যধিক বীর্যরস নির্গত হতো। ফলে অধিকাংশ সময় আমি গোসল করতাম। অবশেষে আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেনঃ বীর্যরস নির্গত হলে অযু করাই যথেষ্ট। আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল! কাপড়ে বীর্যরস লেগে গেলে করণীয়? তিনি বললেনঃ এক অঞ্জলি পানি নিয়ে কাপড়ের যে স্থানে মযী লেগেছে বলে মনে হবে, ঐ স্থান হালকাভাবে ধুয়ে ফেললেই যথেষ্ট হবে।[1] হাসান।