। ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, ফাতিমাহ বিনতু আবূ হুবাইশ (রাঃ) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে বলেন, আমি একজন রক্তপ্রদর রোগীনী, কখনো পবিত্র হই না। আমি কি সালাত ত্যাগ করব? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ এটা একটি শিরা (হতে নির্গত রক্ত), হায়িয নয়। যখন হায়িয হবে তখন সালাত ছেড়ে দিবে। হায়িযের সময়সীমা শেষ হয়ে গেলে তোমার রক্ত ধুয়ে (গোসল করে) সালাত আদায় করবে।[1] সহীহ : বুখারী ও মুসলিম।
। বুহায়্যাহ (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি শুনলাম, জনৈক মহিলা ‘আয়িশাহ্ (রাঃ)-কে এমন মহিলা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করছে যার হায়িযের গোলমাল হয়েছে, রক্তস্রাব অনবরত জারী রয়েছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে (‘আয়িশাহ্’কে) নির্দেশ দিলেন আমি যেন তাকে বলি, ইতিপূর্বে প্রতিমাসে যে ক’দিন তার হায়িয হত তা গণনা করে রাখবে, আর ঐ দিনগুলো পর্যন্ত অপেক্ষা করবে এবং ঐ দিনগুলোতে সালাত ছেড়ে দিবে। অতঃপর গোসল করে (লজ্জাস্থানে) পট্টি বেঁধে সালাত আদায় করবে।[1] দুর্বল।
। ফাতিমাহ বিনতু আবূ হুবাইশ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, তার রক্তস্রাব হলে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেনঃ হায়িযের রক্ত কালো হয়ে থাকে, তা (দেখলেই) চেনা যায়। যদি এ রক্ত হয় তাহলে সালাত থেকে বিরত থাকবে। আর যদি অন্য রকম হয় তাহলে অযু করে সালাত আদায় করবে। কারণ তা হচ্ছে একটি রগ থেকে নির্গত রক্ত। [1] হাসান। قَالَ أَبُو دَاوُدَ : قَالَ ابْنُ الْمُثَنَّى : حَدَّثَنَا بِهِ ابْنُ أَبِي عَدِيٍّ مِنْ كِتَابِهِ هَكَذَا ثُمَّ حَدَّثَنَا بِهِ بَعْدُ حِفْظًا قَالَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَمْرٍو عَنِ الزُّهْرِيِّ عَنْ عُرْوَةَ عَنْ عَائِشَةَ أَنَّ فَاطِمَةَ كَانَتْ تُسْتَحَاضُ . فَذَكَرَ مَعْنَاهُ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ : وَقَدْ رَوَى أَنَسُ بْنُ سِيرِينَ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ فِي الْمُسْتَحَاضَةِ قَالَ إِذَا رَأَتِ الدَّمَ الْبَحْرَانِيَّ فَلَا تُصَلِّي وَإِذَا رَأَتِ الطُّهْرَ وَلَوْ سَاعَةً فَلْتَغْتَسِلْ وَتُصَلِّي . - صحيح . ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, ফাতিমাহর রক্তস্রাব হয়েছিল .... তারপর অনুরূপ বর্ণনা করেন। ইমাম আবূ দাউদ (রহঃ) বলেন, আনাস ইবনু সীরীন ইবনু আব্বাস রাযিয়াল্লাহু ‘আনহুমা থেকে মুস্তাহাযা সম্পর্কে বর্ণনা করে বলেছেনঃ যদি সে গাঢ়, প্রচুর ও ব্যাপক রক্ত দেখে তাহলে সালাত আদায় করবে না। আর পবিত্রতা দেখলে- যদিও তা অল্প কিছুক্ষণের জন্য হয়- গোসল করে সালাত আদায় করবে। সহীহ। وَقَالَ مَكْحُولٌ إِنَّ النِّسَاءَ لَا تَخْفَى عَلَيْهِنَّ الْحَيْضَةُ إِنَّ دَمَهَا أَسْوَدُ غَلِيظٌ فَإِذَا ذَهَبَ ذَلِكَ وَصَارَتْ صُفْرَةً رَقِيقَةً فَإِنَّهَا مُسْتَحَاضَةٌ فَلْتَغْتَسِلْ وَلْتُصَلِّي . - لم أَرَهُ . মাকহূল বলেন, মেয়েলোকদের নিকট হায়িযের রক্ত অস্পষ্ট বা অজানা কিছু নয়। হায়িযের রক্ত গাঢ় কালো রঙের হয়ে থাকে। এটা শেষ হয়ে হালকা হলুদ বর্ণ ধারণ করলে তা-ই ইস্তেহাযা। তখন তার গোসল করে সালাত আদায় করা কর্তব্য। আমি এটি পাইনি। قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَرَوَى حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ عَنِ الْقَعْقَاعِ بْنِ حَكِيمٍ عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ فِي الْمُسْتَحَاضَةِ إِذَا أَقْبَلَتِ الْحَيْضَةُ تَرَكَتِ الصَّلَاةَ وَإِذَا أَدْبَرَتِ اغْتَسَلَتْ وَصَلَّتْ . - صحيح . সাঈদ ইবনুল মুসাইয়্যাব মুস্তাহাযা সম্পর্কে বলেন, হায়িয শুরু হলে সালাত ছেড়ে দিবে। আর তা শেষ হয়ে গেলে গোসল করে সালাত আদায় করবে। সহীহ। وَرَوَى سُمَىٌّ وَغَيْرُهُ عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ تَجْلِسُ أَيَّامَ أَقْرَائِهَا . وَكَذَلِكَ رَوَاهُ حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ : وَرَوَى يُونُسُ عَنِ الْحَسَنِ الْحَائِضُ إِذَا مَدَّ بِهَا الدَّمُ تُمْسِكُ بَعْدَ حَيْضَتِهَا يَوْمًا أَوْ يَوْمَيْنِ فَهِيَ مُسْتَحَاضَةٌ. وَقَالَ التَّيْمِيُّ عَنْ قَتَادَةَ إِذَا زَادَ عَلَى أَيَّامِ حَيْضِهَا خَمْسَةُ أَيَّامٍ فَلْتُصَلِّي. قَالَ التَّيْمِيُّ : فَجَعَلْتُ أَنْقُصُ حَتَّى بَلَغْتُ يَوْمَيْنِ فَقَالَ : إِذَا كَانَ يَوْمَيْنِ فَهُوَ مِنْ حَيْضِهَا . وَسُئِلَ ابْنُ سِيرِينَ عَنْهُ فَقَالَ النِّسَاءُ أَعْلَمُ بِذَلِكَ. সুমাই’ প্রমুখ সাঈদ ইবনুল সুমাইয়্যাব থেকে আরো বর্ণনা করেছেনঃ হায়িযের দিনগুলোতে যেন বসে থাকে (অপেক্ষা করে)। ..... ইমাম আবূ দাউদ (রহঃ) বলেন, ইউনুস হাসান থেকে বর্ণনা করেন, ঋতুবতী মেয়েলোকের রক্তস্রাব অধিক দিন অব্যাহত থাকলে হায়িযের পর একদিন অথবা দু’দিন সালাত আদায় করা থেকে বিরত থাকবে। তারপর সে মুস্তাহাযা গণ্য হবে। আত-তায়মী ক্বাতাদাহ থেকে বর্ণনা করে বলেন, তার হায়িযের দিন থেকে যদি পাঁচদিন অতিরিক্ত অতিবাহিত হয়ে যায়, তাহলে সে সালাত আদায় করবে। আত-তায়মী আরো বলেন, আমি তা কমিয়ে দু’দিন ধার্য করেছি। অতএব ঐ দু’ দিন হায়িযের মধ্যে গণ্য হবে। ইবনু সীরীনকে এ ব্যাপারে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, মহিলারা এ বিষয়ে অধিক অবগত।
। হামনা বিনতু জাহশ রাযিয়াল্লাহু ‘আনহুমা সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার অত্যন্ত বেশী ঋতুস্রাব হত। আমি আমার অবস্থা বর্ণনা ও মাসআলাহ জিজ্ঞেস করার জন্য রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট গেলাম। আমি তাঁকে আমার বোন যয়নাব বিনতু জাহশের ঘরে পেলাম। আমি তাঁকে জিজ্ঞেস করলাম, হে আল্লাহর রসূল! আমার অত্যন্ত বেশী রক্তস্রাব হয়। এ ব্যাপারে আপনি আমাকে (সালাত ইত্যাদি বিষয়ে) কি পরামর্শ দেন? আমার সালাত-(রোযা) সিয়ামও বন্ধ। তিনি বলেনঃ আমি তোমাকে তুলা ব্যবহারের পরামর্শ দিচ্ছি। এতে তোমার রক্ত বন্ধ হয়ে যাবে। হামনা বলেন, তা এর চেয়েও বেশী। তিনি বলেন, কাপড়ের পট্টি বেঁধে নাও। হামনা বলেন, তা এর চেয়েও বেশী। আমার তো রীতিমত রক্ত প্রবাহিত হতে থাকে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তাহলে আমি তোমাকে দু’টি বিষয়ের নির্দেশ দিচ্ছি। তার কোন একটি অনুসরণ করলেই তোমার জন্য যথেষ্ট হবে। উভয়টির উপর যদি ‘আমল করতে পার, তাহলে তা তুমিই ভাল জান। তিনি তাকে বললেনঃ এটা শয়তানের লাথি বা স্পর্শবিশেষ। কাজেই তুমি (প্রতি মাসে) নিজেকে ছয় অথবা সাতদিন ঋতুবতী ধরে নেবে। আর এর প্রকৃত বিষয় সম্পর্কে আল্লাহই ভাল অবগত। তারপর গোসল করবে। যখন তুমি নিজেকে পাক-পবিত্র মনে করবে তখন তেইশ অথবা চব্বিশ দিন যাবত সালাত আদায় করবে ও সিয়াম পালন করবে। এটাই তোমার জন্য যথেষ্ট। এরূপ প্রতিমাসে কর যেরূপ অন্যান্য মহিলারা হায়িয ও পবিত্রতার ক্ষেত্রে করে থাকে। আর তুমি এরূপও করতে পারঃ যুহরের সালাত দেরীতে এবং ‘আসরের সালাত এগিয়ে এনে আদায় করে নেবে। গোসল সেরে নিয়ে এভাবে যুহর ও ‘আসরের সালাত একত্রে আদায় করবে। অপরদিকে মাগরিবকে দেরীতে ও ‘ইশাকে এগিয়ে আনবে। গোসল সেরে নিয়ে উভয় ওয়াক্তের সালাত একত্রে আদায় করে নেবে। আর ফজরের সময় গোসল করে সালাত আদায় করে নেবে ও সিয়াম পালন করবে- যদি এরূপ করা তোমার পক্ষে সম্ভবপর হয়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ দু’টি পন্থার মধ্যে এই দ্বিতীয় পদ্ধতিই আমার নিকট অধিকতর পছন্দনীয়।[1] ইমাম আবূ দাউদ (রহঃ) বলেন, আমর ইবনু সাবিত-ইবনু আকীল (রহঃ) বলেন, হামনা (রাঃ) বলেন, দু’টি পন্থার মধ্যে শেষোক্তটিই আমার অধিক পছন্দনীয়। ইবনু আকীল কথাটি হামনার উক্তি বলে বর্ণনা করেছেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বক্তব্য নয়। ইমাম আবূ দাউদ (রহঃ) বলেন, আমর ইবনু সাবিত রাফিযী বলেন, এটা ইয়াহ্ইয়াহ্ ইবনু মাঈন সূত্রে বর্ণিত। কিন্তু তিনি হাদীস বর্ণনার ক্ষেত্রে সত্যবাদী ছিলেন। ইমাম আবূ দাউদ (রহঃ) বলেন, আমি আহমাদ (রহঃ)-কে বলতে শুনেছি, ইবনু আকীল বর্ণিত হাদীসের ব্যাপারে সন্দেহ পোষণ করি।
হাদিস 288 — Sunan Abu Dawud 1:288
সহিহসহিহসহিহসহিহ
حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي عَقِيلٍ، وَمُحَمَّدُ بْنُ سَلَمَةَ الْمُرَادِيُّ، قَالاَ حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، عَنْ عَمْرِو بْنِ الْحَارِثِ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ عُرْوَةَ بْنِ الزُّبَيْرِ، وَعَمْرَةَ بِنْتِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ عَائِشَةَ، زَوْجِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّ أُمَّ حَبِيبَةَ بِنْتَ جَحْشٍ خَتَنَةَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَتَحْتَ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَوْفٍ اسْتُحِيضَتْ سَبْعَ سِنِينَ فَاسْتَفْتَتْ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي ذَلِكَ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِنَّ هَذِهِ لَيْسَتْ بِالْحَيْضَةِ وَلَكِنْ هَذَا عِرْقٌ فَاغْتَسِلِي وَصَلِّي " . قَالَتْ عَائِشَةُ فَكَانَتْ تَغْتَسِلُ فِي مِرْكَنٍ فِي حُجْرَةِ أُخْتِهَا زَيْنَبَ بِنْتِ جَحْشٍ حَتَّى تَعْلُوَ حُمْرَةُ الدَّمِ الْمَاءَ .
। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর স্ত্রী ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর শ্যালিকা এবং ‘আবদুর রহমান ইবনু ‘আওফ (রাঃ)-এর স্ত্রী উম্মু হাবীবাহ বিনতু জাহশের সাত বছর পর্যন্ত ইস্তিহাযা অব্যাহত থাকে। তিনি এ বিষয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট মাসআলাহ জানতে চাইলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, এটা হায়িয নয়, বরং এটা শিরার রক্তবিশেষ। কাজেই তুমি গোসল করে সালাত আদায় করবে। ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) বলেন, উম্মু হাবীবাহ (রাঃ) তার বোন যায়নাব বিনতু জাহশের ঘরে একটি বিরাট পাত্রে গোসল করতেন। তার ইস্তিহাযা রক্তের লালিমা পানিতে প্রাধান্য হত (দেখা যেত)।[1] সহীহ : বুখারী ও মুসলিম। এটি গত হয়েছে ২৮৫ নং- এ।
। ইবনু শিহাব (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‘আমরাহ বিনতু ‘আবদুর রহমান (রহঃ) উম্মু হাবীবাহ (রাঃ) সূত্রে উক্ত হাদীস বর্ণনা করেছেন। তাতে রয়েছেঃ ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) বলেন, তিনি (উম্মু হাবীবাহ) প্রত্যেক সালাতের জন্য গোসল করতেন।[1] সহীহ।
। ‘উরওয়াহ (রহঃ) ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) থেকে একই হাদীস বর্ণনা করেছেন। তাতে তিনি বলেছেন, তিনি প্রত্যেক সালাতের জন্য গোসল করতেন। ইবনু ‘উয়াইনাহ তার হাদীসে বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে (প্রত্যেক সালাতের জন্য) গোসল করার নির্দেশ দিয়েছেন। তবে যুহরী এ কথা উল্লেখ করেননি।