। আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি জুম্মার দিন জানাবাতের গোসলের ন্যায় গোসল করে সর্বপ্রথম জুম্মার সালাতের জন্য মসজিদে চলে আসবে, সে যেন একটি উট কুরবানীর সাওয়াব পাবে। আর যে ব্যক্তি তার পরে আসবে, সে একটি গাভী কুরবানীর সাওয়াব পাবে। তারপর তৃতীয় নম্বরে যে আসবে সে একটি ছাগল কুরবানীর সাওয়াব পাবে। তারপর চতুর্থ নম্বরে যে আসবে সে একটি মুরগী কুরবানীর সাওয়াব পাবে। তারপর পঞ্চম নম্বরে যে আসবে সে আল্লাহর পথে একটি ডিম সাদাকা করার সাওয়াব পাবে। অতঃপর ইমাম যখন খুতবাহ্ দেয়ার উদ্দেশ্যে বের হয়ে আসেন, তখন মালায়িকাহ (ফিরিশতারা) খুতবাহ্ শোনার জন্য উপস্থিত হন।[1] সহীহ: বুখারী ও মুসলিম।
। ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, লোকেরা নিজেদের শ্রমে নিয়োজিত থাকত এবং ঐ (বস্ত্র পরিহিত) অবস্থায়ই জুম্মার সালাত আদায়ে চলে যেত। তখন তাদের বলা হলো, যদি তোমরা গোসল করে আসতে (তাহলে ভাল হত)! [1] সহীহ: বুখারী ও মুসলিম।
। ‘ইকরিমাহ (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। ইরাকের অধিবাসী কিছু লোক এসে বলল, হে ইবনু ‘আব্বাস! আপনি জুম্মার দিন গোসল করা ওয়াজিব বলে মনে করেন কি? ইবনু ‘আব্বাস রাযিয়াল্লাহু ‘আনহুমা বললেন, না, তবে করাটা ভাল এবং তাতে গোসলকারীর অধিকতর পবিত্রতা হাসিল হয়। আর যে ব্যক্তি গোসল করে না তার জন্য এটা ওয়াজিব নয়। কিভাবে গোসলের সূচনা হয় আমি তোমাদেরকে তা জানাচ্ছি। তৎকালে লোকেরা কঠোর পরিশ্রম করত, পশমী পোশাক পরত এবং নিজেদের পিঠে করে বোঝা বহন করত। তাদের মাসজিদও ছিল সংকীর্ণ ও খেজুরের ডালের তৈরি নীচু ছাদ বিশিষ্ট। একদা গরমের দিনে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আসলেন। লোকদের কাপড় ঘামে ভিজে তা থেকে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছিল। এতে একের দ্বারা অন্যেরা কষ্ট বোধ করছিল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুর্গন্ধ পেয়ে বললেনঃ হে লোক সকল! যখন এদিন (জুমু'আর দিন) আসে, তখন তোমরা গোসল করে সাধ্যানুযায়ী তেল ও সুগন্ধি লাগাবে। ইবনু ‘আব্বাস রাযিয়াল্লাহু ‘আনহুমা বলেন, পরবর্তীতে মহান আল্লাহ তাদের সম্পদশালী করেন। ফলে তারা পশমের পরিবর্তে অন্যান্য (উত্তম) কাপড় পরিধান করতে থাকেন, কাজ-কর্ম অন্যদের দ্বারাও করাতে থাকেন এবং মাসজিদও প্রশস্ত হয়, তখন পরস্পর পরস্পরের ঘামের গন্ধে কষ্ট পাওয়াও দূরীভূত হয়।[1] হাসান।
হাদিস 354 — Sunan Abu Dawud 1:354
হাসানহাসানহাসান Lighairihiহাসান
حَدَّثَنَا أَبُو الْوَلِيدِ الطَّيَالِسِيُّ، حَدَّثَنَا هَمَّامٌ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنِ الْحَسَنِ، عَنْ سَمُرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَنْ تَوَضَّأَ يَوْمَ الْجُمُعَةِ فَبِهَا وَنِعْمَتْ وَمَنِ اغْتَسَلَ فَهُوَ أَفْضَلُ " .
। সামুরাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি অযু করল, সে তো ভাল ও উত্তম কাজ করল। আর যে গোসল করল সে অধিকতর উত্তম কাজ করল।[1] হাসান।
হাদিস 355 — Sunan Abu Dawud 1:355
সহিহসহিহসহিহ
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ كَثِيرٍ الْعَبْدِيُّ، أَخْبَرَنَا سُفْيَانُ، حَدَّثَنَا الأَغَرُّ، عَنْ خَلِيفَةَ بْنِ حُصَيْنٍ، عَنْ جَدِّهِ، قَيْسِ بْنِ عَاصِمٍ قَالَ أَتَيْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم أُرِيدُ الإِسْلاَمَ فَأَمَرَنِي أَنْ أَغْتَسِلَ بِمَاءٍ وَسِدْرٍ .
। কাসিম ইবনু ‘আসিম (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট ইসলাম গ্রহণের উদ্দেশ্যে এলে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বরই পাতা মেশানো পানি দিয়ে গোসল করার নির্দেশ দিলেন।[1] সহীহ।
হাদিস 356 — Sunan Abu Dawud 1:356
হাসানহাসানদাঈফদাঈফ
حَدَّثَنَا مَخْلَدُ بْنُ خَالِدٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا ابْنُ جُرَيْجٍ، قَالَ أُخْبِرْتُ عَنْ عُثَيْمِ بْنِ كُلَيْبٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، أَنَّهُ جَاءَ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ قَدْ أَسْلَمْتُ . فَقَالَ لَهُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " أَلْقِ عَنْكَ شَعْرَ الْكُفْرِ " . يَقُولُ احْلِقْ . قَالَ وَأَخْبَرَنِي آخَرُ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ لآخَرَ مَعَهُ " أَلْقِ عَنْكَ شَعْرَ الْكُفْرِ وَاخْتَتِنْ " .
। ‘উসাইম ইবনু কুলাইব তার পিতা হতে তার দাদার সূত্রে বর্ণনা করে বলেন, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে গিয়ে বললেন, আমি ইসলাম কবুল করেছি। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেনঃ তুমি কুফর অবস্থার চুল ফেলে দাও (মুন্ডন করো)। ‘উসাইমের দাদা বলেন, আমাকে অন্য একজন বলেছেন, তার সাথে আরেকজন ছিল, তাকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তুমি কুফর অবস্থার চুল ফেলে দাও এবং খাতনা করে নাও।[1] হাসান।
। মু‘আযাহ (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‘আয়িশাহ্ (রাঃ)-কে এমন ঋতুবতী মহিলা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলো যার কাপড়ে হায়িযের রক্ত লেগেছে। তিনি বললেন, ঐ কাপড় ধুয়ে ফেলবে। রক্তের চিহ্ন সম্পূর্ণ দূর না হলে কোন হলুদ জিনিস দ্বারা তার রং পরিবর্তন করে ফেলবে। তিনি আরো বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট একাধিক্রমে তিন তিনবার হায়িযকাল অতিক্রম করি। অথচ আমি (কাপড়ে রক্ত না লাগার কারণে) আমার কাপড় ধৌত করিনি।[1] সহীহ।
। মুজাহিদ (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) বলেন, আমাদের কারও নিকট শুধু একটি কাপড় থাকত। ঋতুস্রাব অবস্থায় সেটাই তাঁর পরনে থাকত। কাপড়ে রক্ত লেগে গেলে তিনি মুখের লালা দ্বারা ভিজিয়ে তা ঘষে নিতেন।[1] সহীহ : বুখারী।
। বাক্কার ইবনু ইয়াহ্ইয়াহ থেকে তার দাদীর সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি উম্মু সালামাহ (রাঃ)-এর নিকট গেলাম। সে সময় এক কুরাইশ মহিলা তাকে হায়িযের কাপড়ে সালাত আদায় করা যায় কিনা জিজ্ঞাসা করেন। উম্মু সালামাহ (রাঃ) বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগে আমাদের হায়িয হত। হায়িয চলাকালীন সময় পর্যন্ত আমাদের কেউ কেউ একই কাপড় পরিহিত থাকত। অতঃপর সে পাক হলে পরিহিত কাপড় উলটপালট করে দেখত। তাতে রক্ত লেগে থাকলে আমরা তা ধুয়ে ঐ কাপড়েই সালাত আদায় করতাম। আর কিছু না লেগে থাকলে (ধোয়া) ছেড়ে দিতাম। ঐ কাপড় পরে সালাত আদায়ে আমাদেরকে কোন কিছুই বিরত রাখত না। আমাদের মধ্যকার কারো চুল ঝুটি বাঁধা থাকলে গোসল করার সময় তা খুলত না, বরং তিন অঞ্জলি পানি হাতে নিয়ে মাথার উপর ঢেলে দিত। যখন চুলের গোড়ায় ভালভাবে পানি পৌঁছে যেত তখন তা ঘষে নিত। অতঃপর সমগ্র শরীরে পানি ঢেলে দিত।[1] দুর্বল।
। আসমা বিনতু আবূ বাকর (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি এক মহিলাকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট জিজ্ঞেস করতে শুনেছি, পবিত্র হওয়ার পর (হায়িযকালীন) কাপড় আমরা কি করব? তাতে কি সালাত আদায় করা যাবে? তিনি বললেনঃ তা দেখে নিবে। তাতে রক্ত লেগে থাকলে সামান্য পানি দিয়ে রক্ত খুঁটে ফেলে পানি ছিটিয়ে রক্তের স্থান ধুয়ে ফেলবে যেন রক্তের চিহ্ন না থাকে। অতঃপর সেটা পরিধান করে সালাত আদায় করবে।[1] হাসান সহীহ।