। খুযায়মাহ ইবনু সাবিত (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে ইস্তিনজা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, তিনটি পাথর দ্বারা ইস্তিনজা করবে, যাতে গোবর থাকবে না।[1] সহীহ।
। ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পেশাব করলেন। সে সময় ‘উমার (রাঃ) পানি ভর্তি একটি লোটা নিয়ে তাঁর পিছনে দাঁড়ালেন। তিনি বললেন, হে ‘উমার! এই লোটা কেন? ‘উমার (রাঃ) বলেন, আপনার অযুর পানি। তিনি বললেন, পেশাব করলেই অযু করতে হবে, আমাকে এরূপ নির্দেশ দেয়া হয়নি! আমি এরূপ করলে তা অবশ্যই (অবশ্য পালনীয়) সুন্নাত হয়ে যাবে।[1] দুর্বল: মিশকাত ৩৬৮।
। আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি বাগিচায় প্রবেশ করলেন। তখন তাঁর সঙ্গে একটি বালক ছিল। বালকটির নিকট পানির বদনা ছিল এবং সেই ছিল আমাদের মধ্যকার সবচেয়ে কম বয়সী। সে বদনাটি গাছের নিকট রাখল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্বীয় প্রয়োজন পূরণার্থে ঐ পানি দ্বারা ইস্তিন্জা করে আমাদের নিকট ফিরে আসলেন।[1] সহীহ: বুখারী ও মুসলিম।
। আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, এই আয়াত কুবাবাসীদের সম্পর্কে হয়েছিলঃ ‘‘সেখানে এমন সব লোক রয়েছে যারা পাক-পবিত্র থাকতে ভালবাসে।’’ (সূরাহ তওবা্ : ১০৮)। তিনি (রাবী) বলেন, কুবাবাসীরা পানি দিয়ে পবিত্রতা অর্জন করত। তাই তাদের শানে এই আয়াত অবতীর্ন হয়েছিল।[1] সহীহ।
। আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন পায়খানায় যেতেন আমি তখন লোটা কিংবা মশকে করে পানি নিয়ে আসতাম। তিনি ইস্তিন্জার পর মাটিতে হাত ঘষতেন। অতঃপর আমি অন্য একটি পাত্রে পানি নিয়ে আসতাম, যদ্বারা তিনি অযু করতেন।[1] হাসান। ইমাম আবূ দাউদ (রহঃ) বলেন, আসওয়াদ ইবনু ‘আমরের হাদীসটি অধিকতর পূর্ণাঙ্গ।
হাদিস 46 — Sunan Abu Dawud 1:46
সহিহসহিহসহিহসহিহ Bukhari (887، 7240) Sahih Muslim (252)
। আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) মারফূ‘ভাবে বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যদি না আমি মু’মিনদের জন্য কষ্টকর মনে করতাম, তবে তাদের অবশ্যই ‘ইশার সালাত বিলম্বে আদায় করার এবং প্রত্যেক সালাতের সময় মিসওয়াক করার নির্দেশ দিতাম। [1] সহীহ: ‘ইশার বাক্যটি বাদে বুখারী ও মুসলিম।
। যায়িদ ইবনু খালিদ আল-জুহানী (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছিঃ আমার উম্মাতের উপর কষ্টকর না হলে অবশ্যই আমি তাদেরকে প্রত্যেক সালাতের পূর্বে মিসওয়াক করার নির্দেশ দিতাম। আবূ সালামাহ বলেন, আমি যায়িদ (রাঃ)-কে দেখেছি, তিনি মসজিদে বসে থাকতেন, আর মিসওয়াক তার কানের ঐ স্থানে লেগে থাকত, যেখানে লেখকের কলম থাকে। অতঃপর যখনই তিনি সালাতের জন্য যেতেন, মিসওয়াক করে নিতেন।[1] সহীহ।
। ‘আব্দুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, মুহাম্মাদ ইবনু ইয়াহ্ইয়া ইবনু হাব্বান তার নিকট জিজ্ঞেস করেছিলেন, অযু থাকুক বা না থাকুক প্রত্যেক সালাতের পূর্বেই যে ‘আবদু্ল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) অযু করে থাকেন তার কারণ কি? জবাবে ‘আব্দুল্লাহ (রাঃ) বললেন, যায়িদ ইবনুল খাত্তাবের কন্যা আসমা এ মর্মে হাদীস বর্ণনা করেছেন যে, ‘আব্দুল্লাহ ইবনু হানযালাহ তাঁকে বলেছেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে প্রত্যেক সালাতের পূর্বে অযু করার নির্দেশ দেয়া হয়েছিল। চাই তাঁর অযু থাকুক বা না থাকুক। তাঁর জন্য যখন এটা কষ্টকর হয়ে পড়ল, তখন তাঁকে সালাতের পূর্বে কেবল মিসওয়াক করতে নির্দেশ দেয়া হয়। ‘আব্দুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) নিজের সক্ষমতা অনুভব করে কোন সালাতের জন্যই অযু ত্যাগ করতেন না।[1] হাসান।
হাদিস 49 — Sunan Abu Dawud 1:49
সহিহসহিহসহিহসহিহ Bukhari (244) Sahih Muslim (254)
حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، وَسُلَيْمَانُ بْنُ دَاوُدَ الْعَتَكِيُّ، قَالاَ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، عَنْ غَيْلاَنَ بْنِ جَرِيرٍ، عَنْ أَبِي بُرْدَةَ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ مُسَدَّدٌ قَالَ أَتَيْنَا رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم نَسْتَحْمِلُهُ فَرَأَيْتُهُ يَسْتَاكُ عَلَى لِسَانِهِ - قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَقَالَ سُلَيْمَانُ قَالَ دَخَلْتُ عَلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَهُوَ يَسْتَاكُ وَقَدْ وَضَعَ السِّوَاكَ عَلَى طَرَفِ لِسَانِهِ - وَهُوَ يَقُولُ " إِهْ إِهْ " . يَعْنِي يَتَهَوَّعُ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ قَالَ مُسَدَّدٌ فَكَانَ حَدِيثًا طَوِيلاً اخْتَصَرْتُهُ .
। আবূ বুরদাহ হতে তাঁর পিতার সূত্রে বর্ণিত। মুসাদ্দাদ বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট (যুদ্ধের) বাহন চাইতে গেলাম। তখন তাঁকে দেখলাম, তিনি জিহ্বার উপর মিসওয়াক করছেন। আর সুলাইমান বর্ণনা করেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট গেলাম। তিনি তখন মিসওয়াক করছিলেন। তিনি তাঁর জিহ্বার এক পাশে মিসওয়াক রেখে উহ্! উহ্! বলছিলেন, অর্থাৎ বমির ভাব করছিলেন। [1] সহীহ : বুখারী ও মুসলিম। ইমাম আবূ দাউদ (রহঃ) বলেন, মুসাদ্দাদ বলেন, হাদীসটি দীর্ঘ, আমি তা সংক্ষেপে বর্ণনা করেছি।
। ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিসওয়াক করছিলেন। তখন তাঁর নিকট এমন দু’ ব্যক্তি ছিল যাদের একজন অপরজনের অপেক্ষা বয়োজ্যেষ্ঠ। এমন সময় তাঁর নিকট মিসওয়াক করার ফাযীলাত সম্পর্কে ওয়াহী নাযিল হলোঃ দু’জনের মধ্যে যে বড় তাকে মিসওয়াক দিন।[1] সহীহ।