। ‘আব্দুল্লাহ ইবনু ‘আমর ইবনুল ‘আস (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ জ্ঞান তিন প্রকার। এগুলো ছাড়া যা আছে তা অতিরিক্ত। (১) মুহকাম আয়াতসমূহ (২) প্রতিষ্ঠিত হাদীস (৩) ন্যায্যভাবে সম্পত্তি বণ্টনের জ্ঞান।
। জাবির (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি অসুস্থ হয়ে পড়লে আমাকে দেখার জন্য নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং আবূ বাকর (রাঃ) পায়ে হেটে উপস্থিত হলেন। তখন আমি বেহুঁশ থাকায় তাঁর সাথে কথা বলতে পারিনি। তিনি উযু করলেন এবং তাঁর উযুর পানি আমার গায়ে ছিটিয়ে দিলেন। আমি জ্ঞান ফিরে পেয়ে বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমার সম্পত্তি কি করবো? আমার শুধু কয়েকটি বোন আছে। জাবির (রাঃ) বলেন, অতঃপর উত্তরাধিকার সম্পর্কিত আয়াত অবতীর্ণ হলোঃ ‘‘লোকেরা তোমার কাছে ফতোয়া জিজ্ঞেস করে। বলো, আল্লাহ তোমাদের সম্পর্কের ফতোয়া দিচ্ছেন ...।’’ (সূরা আন-নিসাঃ)
। জাবির (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি অসুস্থ হয়ে পড়ি। তখন আমার অধীনে আমার সাতটি বোন ছিলো। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে দেখতে আসলেন। তিনি আমার মুখমন্ডলে ফুঁ দিলেন। আমি জ্ঞান ফিরে পেয়ে বলি, হে আল্লাহর রাসূল! আমি আমার বোনদের জন্য আমার সম্পত্তির দুই-তৃতীয়াংশ ওসিয়াত করবো কি? তিনি বললেনঃ তাদের প্রতি অনুগ্রহ করো। আমি বললাম, তাহলে অর্ধেক? তিনি বললেনঃ তাদেরকে অনুগ্রহ করো। আমাকে ছেড়ে চলে যাবার সময় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ হে জাবির! এ রোগে তুমি মারা যাবে বলে মনে হচ্ছে না। মহান আল্লাহ আয়াত অবতীর্ণ করেছেন এবং তোমার বোনদের বিষয়টি সুস্পষ্ট করে দিয়েছেন। তিনি তাদের জন্য তোমার সম্পত্তির দুই-তৃতীয়াংশ নির্ধারণ করেছেন। অধস্তন বর্ণনাকারী বলেন, জাবির (রাঃ) বলতেন, আমার ব্যাপারে এ আয়াত অবতীর্ণ হয়ঃ ‘‘লোকেরা তোমার কাছে ফতোয়া জিজ্ঞেস করে। বলো, আল্লাহ তোমাদের কালালাহ সম্পর্কের ফতোয়া দিচ্ছে...।’’ (সূরা আন-নিসাঃ ১৭৬।)
হাদিস 2888 — Sunan Abu Dawud 19:4
সহিহসহিহসহিহসহিহ Bukhari (4605) Sahih Muslim (1618)
। আল-বারাআ ইবনু ‘আযিব (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে বললো, হে আল্লাহর রাসূল! ‘‘লোকেরা তোমাকে কালালাহ সম্পর্কে ফতোয়া জিজ্ঞেস করে।’’ কালালাহ কি? তিনি বললেনঃ যে আয়াত গরমকালে অবতীর্ণ হয়েছে তাই তোমার জন্য যথেষ্ট (অর্থাৎ সূরা আন-নিসার ১৭৬ নং আয়াত)। আমি আবূ ইসহাককে বলি, ‘কালালাহ’ ঐ ব্যক্তিকে বলা হয় যে সন্তানহীন অবস্থায় মারা যায়। তিনি বললেন, হ্যাঁ, লোকদের ধারণা এরূপই।
। হুযাইল ইবনু শুরাহবীল আল-আওদী (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি আবূ মূসা আল-আশ‘আরী (রাঃ) ওসালমান ইবনু রবী‘আহ (রাঃ)-এর নিকট উপস্থিত হয়ে উভয়কে কন্যা, পুত্রের কন্যা ও সহোদর বোনের মীরাস সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলো। তারা উভয়ে বললেন, মৃতের কন্যা অর্ধেক পাবে এবং সহোদর বোন অর্ধেক পাবে। তারা পুত্রের কন্যা (নাতনীকে) উত্তরাধিকার করেননি। (তারা বললেন) তুমি ইবনু মাসঊদ (রাঃ)-কে গিয়ে জিজ্ঞেস করতে পারো। হয় তো তিনিও আমাদের মতই বললেন। লোকটি তার নিকট এসে প্রশ্ন করলো এবং তাকে তাদের কথাও জানালো। তিনি বললেন, (যদি ঐরূপ অভিমত সমর্থন করি) তবে তো আমি পথভ্রষ্ট হবো এবং হিদায়াতপ্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত থাকবো না। আমি এ বিষয়ে সেই ফায়সালাই দিবো যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দিয়েছেন। মেয়ে পাবে অর্ধেক এবং পুত্রের কন্যা (নাতনী) পাবে ছয় ভাগের এক ভাগ যেন (উভয়টি মিলে) দুই-তৃতীয়াংশ পূর্ণ হয়। আর অবশিষ্ট (এক-তৃতীয়াংশ) অংশ পাবে সহোদর বোন।
। জাবির ইবনু ‘আব্দুল্লাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা ‘আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে বেরিয়ে আল-আসওয়াফ নামক স্থানে এক আনসারী মহিলার নিকট উপস্থিত হই। তখন ঐ মহিলা তার দু’টি মেয়ে নিয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এসে বললো, হে আল্লাহর রাসূল! এরা সাবিত ইবনু কায়িস (রাঃ)-এর কন্যা। তিনি আপনার সাথে উহুদ যুদ্ধে যোগদান করে শহীদ হন। এদের চাচা এদের সমস্ত সম্পত্তি দখল করে নিয়েছে এবং এদের জন্য কিছুই রাখেনি। হে আল্লাহর রাসূল! এ বিষয়ে আপনি কি বলেন? আল্লাহর শপথ! এদের সম্পত্তি না থাকলে এদেরকে বিবাহ দেয়া সম্ভব নয়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ এদের ফায়সালা আল্লাহই দিবেন। বর্ণনাকারী বলেন, ইতিমধ্যে সূরা আন-নিসার আয়াত অবতীর্ণ হলোঃ ‘‘তোমাদের সন্তানদের ব্যাপারে আল্লাহ তোমাদেরকে বিধান দিচ্ছেন...।’’[আয়াত ১১-১৪] রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তোমরা ঐ মহিলা ও তার প্রতিপক্ষকে আমার নিকট ডেকে আনো। তিনি মেয়ে দু’টির চাচাকে বললেনঃ সম্পত্তির তিন ভাগের দুই ভাগ এদেরকে দিয়ে দাও, এদের মাকে আট ভাগের এক ভাগ এবং অবশিষ্ট সম্পদ তোমার। ইমাম আবূ দাঊদ (রহঃ) বলেন, বর্ণনাকারী বিশর ভুল করেছেন। আসলে মেয়ে দু’টি সা‘দ ইবনুল রবী‘ (রাঃ)-এর কন্যা। কারণ সা‘দ ইবনু কায়িস (রাঃ) শহীদ হন ইয়ামেমার যুদ্ধে।
। জাবির ইবনু ‘আব্দুল্লাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। সা‘দ ইবনুল রবী‘ (রাঃ)-এর স্ত্রী বলেন, হে আল্লাহর রাসূল! সা‘দ (রাঃ) দুনিয়া থেকে বিদায় নিয়েছেন এবং দু’টি কন্যা সন্তান রেখে গেছেন। অতঃপর হাদীসের বাকী অংশ উপরের হাদীসের অনুরূপ। আবূ দাঊদ (রহঃ) বলেন, এ হাদীসটি অধিক সঠিক।
হাদিস 2893 — Sunan Abu Dawud 19:9
সহিহসহিহসহিহ Bukhari (6734)
حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا أَبَانُ، حَدَّثَنَا قَتَادَةُ، حَدَّثَنِي أَبُو حَسَّانَ، عَنِ الأَسْوَدِ بْنِ يَزِيدَ، أَنَّ مُعَاذَ بْنَ جَبَلٍ، وَرَّثَ أُخْتًا وَابْنَةً فَجَعَلَ لِكُلِّ وَاحِدَةٍ مِنْهُمَا النِّصْفَ وَهُوَ بِالْيَمَنِ وَنَبِيُّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَوْمَئِذٍ حَىٌّ .
। আল-আসওয়াদ ইবনু ইয়াযীদ (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জীবদ্দশায় মু‘আয ইবনু জাবাল (রাঃ) ইয়ামেনে অবস্থানকালে এক বোন ও এক কন্যার প্রত্যেককে মৃতের সম্পত্তির অর্ধেক অর্ধেক প্রদান করেছেন।
। কাবীসহ ইবনু যুয়াইব (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা জনৈক মৃতের নানী আবূ বাকর সিদ্দীক (রাঃ)-এর নিকট এসে তার মীরাস চাইলে তিনি বলেন, আল্লাহর কিতাবে তোমার কোনো অংশ উল্লেখ নেই। আমার জানামতে আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাতেও কিছু উল্লেখ নেই। সুতরাং এখন তুমি চলে যাও এ বিষয়ে আমি লোকদেরকে জিজ্ঞেস করে দেখি। তিনি লোকদেরকে জিজ্ঞেস করলে আল মুগীরাহ ইবনু শু‘বাহ (রাঃ) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট উপস্থিত ছিলাম। তিনি তাকে ছয় ভাগের-এক ভাগ প্রদান করেছেন। তিনি বললেন, ঐ সময়ে তোমার সাথে অন্য কেউ ছিলো কি? আল-মুগীরাহ (রাঃ) বলেন, মুহাম্মাদ ইবনু মাসলামাহ (রাঃ) ছিলেন। অতঃপর তিনিও আল-মুগীরাহ ইবনু শু‘বাহ (রাঃ)-এর অনুরূপ বললেন। আবূ বাকর (রাঃ) তাকে ছয় ভাগের এক ভাগ প্রদানের নির্দেশ দিলেন। অতঃপর ‘উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ)-এর খিলাফতের সময় জনৈক দাদী এসে তার মীরাস সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেন, তোমার উত্তরাধিকার সম্পর্কে আল্লাহর কিতাবে কিছু উল্লেখ নেই। প্রথমে প্রদত্ত নির্দেশ নানীর ব্যাপারে ছিলো। আর আমার নিজের পক্ষ থেকে মীরাসের বিষয়ে বাড়াবাড়ি করা সম্ভব নয়। সুতরাং তুমিও এক-ষষ্ঠাংশের বেশি পাবে না। যদি তোমরা দাদী-নানী উভয়ে জীবিত থাকো তাহলে তা ঐ এক-ষষ্ঠাংশ তোমাদের উভয়ের মধ্যে (অর্ধেক করে) ভাগ করা হবে। আর যদি উভয়ের মধ্যে কোনো একজন জীবিত থাকলে সে তা একাই পাবে।