। কুরাইব (রহ.) সূত্রে বর্ণিত। একদা তিনি উসামাহ ইবনু যায়িদ (রাযি.)-কে জিজ্ঞেস করেন, যে দিন সন্ধ্যায় আপনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পিছনে আরোহণ করে ফিরছিলেন, তখন আপনারা কি করছিলেন? তিনি বললেন, আমরা ঐ পাহাড়ী পথে যাই যেখানে রাত যাপনের জন্য লোকেরা অবতরণ করে। সেখানে পৌঁছে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর উষ্ট্রী বসিয়ে পেশাব করলেন। বর্ণনাকারী এখানে পানি প্রবাহের কথা বলেননি। অতঃপর উযুর পানি চাইলেন, তিনি হালকাভাবে উযু করলেন। আমি জিজ্ঞেস করলাম, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি কি সালাত আদায় করবেন? তিনি বললেনঃ সালাত সামনে গিয়ে (পড়বো)। বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর তিনি সওয়ারীতে চড়ে মুযদালিফায় আসেন এবং ইকামাত হলে মাগরিবের সালাত আদায় করেন। এদিকে লোকেরা উটের পিঠ থেকে মালপত্র না নামিয়েই তাদের উটগুলো নিজ নিজ তাঁবুতে বসিয়ে দিলেন। এরপর ইকামাত দিয়ে ‘ইশার সালাত আদায় করলেন। অতঃপর লোকেরা তাদের উটের পিঠের মালপত্র নামালো। মুহাম্মাদ ইবনু কাসীর তার হাদীসে বৃদ্ধি করেছেন যে, আমি (কুয়াইব) জিজ্ঞেস করলাম, পরবর্তী সকালে আপনার কি করেছেন? উসামাহ বলেন, আজ ফাদল তাঁর বাহনের পেছণে চড়লেন এবং আমি কুরাইশদের অগ্রগামী দলটির সাথে পায়ে হেঁটে রওয়ানা হলাম।[1] সহীহ।
। ‘আলী (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, অতঃপর তিনি উসামাহকে বাহনের পেছনে বসিয়ে মধ্যম গতিতে উষ্ট্রী চালিয়ে গেলেন। এ সময় লোকেরা তাদের উটকে ডানে-বামে মারধর কর হাঁকিয়ে নিয়ে যাচ্ছিল। কিন্তু তিনি তাদের দিকে ভ্রুক্ষেপ না করে বলতে লাগলেনঃ শান্ত গতিতে চলো হে লোকেরা! অতঃপর সূর্য ডুবার পরই তিনি আরাফা থেকে প্রত্যাবর্তন করেন।[1] হাসান, তার এ কথাটি বাদেঃ ‘তিনি ভ্রুক্ষেপ করলেন না।’ মাহফূয হলোঃ তিনি লক্ষ্য করলেন।’ ইমাম তিরমিযী একে সহীহ বলেছেন।
হাদিস 1923 — Sunan Abu Dawud 11:203
সহিহসহিহসহিহসহিহ Bukhari (1666) Sahih Muslim (1286)
। হিশাম ইবনু ‘উরওয়াহ (রহ.) থেকে তাঁর পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি উসামাহ (রাযি.)-এর কাছে বসা ছিলাম। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিদায় হজে (হজ্জে) কিভাবে পথ চলেছেন সে সম্পর্কে তাকে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মধ্যম গতিতেই চলেছেন। তিনি প্রশস্ত পথে উপনীত হলে একটু দ্রুত গতিতে পথ অতিক্রম করতেন। হিশাম (রহ.) বলেন, এরূপ গতিকে ‘আন-নাচ্ছ’ আনাক বলে।[1] সহীহ।
হাদিস 1924 — Sunan Abu Dawud 11:204
হাসান Sahihহাসান SahihহাসানIsnaad Hasan
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ، حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ، حَدَّثَنَا أَبِي، عَنِ ابْنِ إِسْحَاقَ، حَدَّثَنِي إِبْرَاهِيمُ بْنُ عُقْبَةَ، عَنْ كُرَيْبٍ، مَوْلَى عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبَّاسٍ عَنْ أُسَامَةَ، قَالَ كُنْتُ رِدْفَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَلَمَّا وَقَعَتِ الشَّمْسُ دَفَعَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم .
। উসামাহ (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাহনের পেছনে ছিলাম। যখন সূর্য অস্ত গেলো তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘আরাফাত থেকে রওয়ানা হলেন।[1] হাসান সহীহ।
হাদিস 1925 — Sunan Abu Dawud 11:205
সহিহসহিহসহিহIsnaad Hasan Sahih Bukhari (1672) Sahih Muslim (1280 After 1285)
। ‘আব্দুল্লাহ ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.)-এর মুক্তদাস কুরাই (রহ.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি উসামাহ ইবনু যায়িদ (রাযি.)-কে বলতে শুনেছেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরাফা থেকে রওয়ানা করলেন। তিনি পাহাড়ী পথে পৌঁছে পেশাব করার পর হালকা উযু করলেন, পূর্নাঙ্গ উযু করলেন না। উসামাহ ইবনু যায়িদ (রাযি.) বলেন, আমি তাকে জিজ্ঞেস করি, আপনি কি সালাত আদায় করবেন? তিনি বললেন, আরো সামনে এগিয়ে সালাত আদায় করবো। তিনি পুনরায় বাহনে চড়লেন এবং মুযদালিফায় এসে বাহন থেকে নেমে উত্তমরূপে উযু করলেন। তারপর সালাতের ইকামত দেয়া হলে তিনি মাগরিবের সালাত আদায় করলেন। অতঃপর সকল লোক নিজ নিজ স্থানে নিজেদের্ উট বসালো। অতঃপর ‘ইশার সালাতের ইকামত দেয়া হলে তিনি ‘ইশার সালাত পড়লেন, কিন্তু এ দুই সালাতের মাঝখানে কোনো আর সালাত পড়েননি।[1] সহীহ।
হাদিস 1926 — Sunan Abu Dawud 11:206
সহিহসহিহসহিহসহিহ Muslim (703 After 1287)
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْلَمَةَ، عَنْ مَالِكٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ سَالِمِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم صَلَّى الْمَغْرِبَ وَالْعِشَاءَ بِالْمُزْدَلِفَةِ جَمِيعًا .
। আয-যুহরী (রহ.) থেকে তার নিজস্ব সনদে পূর্বোক্ত হাদীসের সমার্থক হাদীস বর্ণিত। তিনি বলেন, প্রত্যেক সালাতের জন্য পৃথক ইকামাত দ্বারা উভয় সালাত একত্রে আদায় করেছেন। আহমাদ (রহ.) বলেন, ওয়াকী‘ (রহ.) বলেছেন, প্রতিটি সালাত আদায় করেছেন এক ইকামাতে।[1] ওয়াকী‘র বর্ণনাটি সহীহ।
। আহমাদ ইবনু হাম্বাল (রহ.)-এর সনদ দ্বারা আয যুহরী (রহ.) থেকে হাম্মাদ সূত্রে পূর্বোক্ত হাদীসের সমার্থক হাদীস বর্ণিত। বর্ণনাকারী ‘উসমান ইবনু ‘উমার বলেছেন, প্রত্যেক সালাতের জন্য এক ইকামাত দিয়ে এবং প্রথম সালাতে আযান দেয়া হয়নি। আর এ উভয় সালাতের কোনোটির পরে অন্য কোনো সালাত আদায় করেননি। মাখলাদ (রহ.) বলেন, উভয় সালাতের কোনোটির জন্য আযান দেননি।[1] সহীহঃ তার এ কথাটি বাদেঃ ‘‘আযান দেয়া হয়নি...।’’ এটাই সঠিক।
। ‘আব্দুল্লাহ ইবনু মালিক (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ইবনু ‘উমার (রাযি.)-এর সাথে মাগরিবের তিন এবং ‘ইশার দুই রাক‘আত সালাত আদায় করেছি। মালিক ইবনুল হারিস (রহ.) তাকে বললেন, এ আবার কেমন সালাত? তিনি বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে আমি এ দুটি সালাত এই স্থানে এক ইকামাতে আদায় করেছি।[1] সহীহ ‘‘প্রত্যেক সালাত’’ অতিরিক্তসহ। যেমন পূর্বের হাদীসে রয়েছে।