। সাঈদ ইবনু যুবায়র (রহ.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা ইবনু ‘উমার (রাযি.)-এর সাথে আরাফা থেকে ফিরে যখন মুযদালিফায় আসলাম তখন তিনি এক ইকামাতে মাগরিব ও ‘ইশার সালাত যথাক্রমে তিন ও দুই রাক‘আত পড়ালেন। সালাত শেষে ইবনু ‘উমার (রাযি.) আমাদেরকে বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে এ স্থানে এভাবেই সালাত পড়িয়েছেন।[1] সহীহ। কিন্তু ‘‘প্রত্যেক সালাতের জন্য’’ এ কথাটি বৃদ্ধি না করে ‘‘এক ইকামাতে’’ বলাটা শায। যেমন গত হয়েছে।
। সালামাহ ইবনু কুহাইল (রহ.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি সাঈদ ইবনু যুবায়র (রহ.)-কে দেখেছি, তিনি মুযদালিফায় ইকমাত দিয়ে মাগরিবের তিন রাক‘আত এবং ‘ইশার দুই রাক‘আত সালাত আদায় করেছেন। অতঃপর তিনি বললেন, আমি ইবনু ‘উমার (রাযি.)-কে এ স্থানে এমনটি করতে দেখেছি। আর তিনি বলেছেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে এখানে এরূপ করতে দেখেছি।[1] সহীহ। তবে এতে শুযুয বিদ্যমান। যা ১৯৩১ নং হাদীসে উল্লেখ রয়েছে।
। আশ্‘আস ইবনু সুলাইম (রহ.) থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ইবনু ‘উমার (রাযি.)-এর সাথে আরাফা থেকে মুযদালিফা পর্যন্ত আসি। মুযদালিফায় আসা পর্যন্ত তিনি তাকবীর ও তাহলীল পাঠ করেছেন। এরপর তিনি আযান ও ইকামাত দেন অথবা এক ব্যক্তিকে নির্দেশ করলে সে আযান ও ইকামাত দিলে তিনি আমাদেরকে নিয়ে মাগরিবের তিন রাক‘আত সালাত আদায় করলেন। তারপর আমাদের দিকে ফিরে বললেন, সালাত। অতঃপর নিয়ে তিনি দুই রাক‘আত ‘ইশার সালাত আদায় করলেন। এরপর রাতের খাবার আনতে বললেন। বর্ণনাকারী আশ‘আস বলেন, ‘ইলাজ ইবনু ‘আমর, ইবনু ‘উমার (রাযি.) সূত্রে আমার পিতা বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। পরবর্তীতে ইবনু ‘উমার (রাযি.)-কে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে এভাবেই সালাত আদায় করেছি।[1] সহীহ। তবে তার কথাঃ ‘‘তিনি বললেন, সালাত’’- এটি শায। মাহফূয হচ্ছেঃ ‘‘অতঃপর ইকামাত দিলেন।’’ যেমন পূর্বের ১৯২৭ ও ১৯২৮ নং হাদীসদ্বয়ে রয়েছে।
। ইবনু মাসঊদ (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‘ইশা ও মাগরিবের সালাতকে মুযদালিফায় একত্রে আদায় করা এবং পরের দিন ফজরের সালাত ওয়াক্তের পূর্বে আদায় করে নেয়া, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে এই দুই সালাত ছাড়া কোনো সালাত ওয়াক্তের পূর্বে আদায় করতে দেখিনি।[1] সহীহ।
। ‘আলী (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুযদালিফায় রাত যাপনের পর সকালে ‘কুযাহ’ পাহাড়ে অবস্থান করেন এবং বললেনঃ এটি ‘কুযাহ’ এবং এটাই অবস্থানকাল। মুযদালিফার গোটা এলাকাই অবস্থানের স্থান। (তারপর মিনায় এসে বললেন) আমি এ স্থানে কুরবানী করেছি। মিনার পুরো এলাকাই কুরবানী স্থান। সুতরাং তোমরা তোমাদের নিজ নিজ অবস্থানে কুরবানী করো।[1] হাসান সহীহ।
। জাবির (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমি আরাফার এ স্থানে অবস্থান করেছি। কিন্তু পুরো আরাফাই অবস্থানের স্থান। আর আমি মুযদালিফার এ স্থানে অবস্থান করেছি। তবে মুযদালিফার পুরো এলাকাটিই অবস্থান স্থল। আমি মিনার এ স্থানে কুরবানী করেছি। মিনার পুরো এলাকাই কুরবানীর স্থান। কাজেই তোমরা তোমাদের নিজ নিজ অবস্থানে কুরবানী করো।[1] সহীহ। এটি গত হয়েছে (হা/১৯০৭ ও)
। ‘আতা (রহ.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা জাবির ইবনু ‘আব্দুল্লাহ (রাযি.) আমাকে বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আরাফার পুরো এলাকাই অবস্থানের জায়গা। মিনার সম্পূর্ণ এলাকা কুরবানীর স্থান এবং মুযদালিফার বিস্তৃত এলাকা অবস্থানের স্থান এবং মক্কার প্রতিটি অলি-গলি চলাচলের পথ এবং কুরবানীর স্থান।[1] হাসান সহীহ।
হাদিস 1938 — Sunan Abu Dawud 11:218
সহিহসহিহসহিহ Bukhari (3838)
حَدَّثَنَا ابْنُ كَثِيرٍ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ عَمْرِو بْنِ مَيْمُونٍ، قَالَ قَالَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ كَانَ أَهْلُ الْجَاهِلِيَّةِ لاَ يُفِيضُونَ حَتَّى يَرَوُا الشَّمْسَ عَلَى ثَبِيرٍ فَخَالَفَهُمُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فَدَفَعَ قَبْلَ طُلُوعِ الشَّمْسِ .
। ‘আমর ইবনু মায়মূন (রহ.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‘উমার ইবনুল খাত্তাব (রাযি.) বলেছেন, জাহিলী যুগের লোকেরা (মুযদালিফা থেকে) সূর্যোদয়ের পূর্বে রওয়ানা হতো না। কিন্তু নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের বিপরীত করেছেন। তিনি সূর্য উঠার পূর্বেই রওয়ানা করেছেন।[1] সহীহ।
হাদিস 1939 — Sunan Abu Dawud 11:219
সহিহসহিহসহিহসহিহ Bukhari (1678) Sahih Muslim (1293)
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، أَخْبَرَنِي عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ أَبِي يَزِيدَ، أَنَّهُ سَمِعَ ابْنَ عَبَّاسٍ، يَقُولُ أَنَا مِمَّنْ، قَدَّمَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لَيْلَةَ الْمُزْدَلِفَةِ فِي ضَعَفَةِ أَهْلِهِ .
। ‘উবাইদুল্লাহ ইবনু আবূ ইয়াযীদ (রহ.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.)-কে বলতে শুনেছেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর পরিবারের যেসব দুর্বল লোককে মুযদালিফার রাতে আগেই প্রেরণ করেছিলেন, আমিও তাদের মধ্যে ছিলাম।[1] সহীহ।
। ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বনী ‘আব্দুল মুত্তালিবের অল্প বয়স্কদেরকে মুযদালিফার রাতে গাধার পিঠে চড়িয়ে আগেভাগেই [মিনায়] পাঠান এবং তিনি আমাদের উরুতে হালকা আঘাত করে বলেনঃ হে আমার প্রিয় সন্তান! সূর্যোদয়ের পূর্বে তোমরা জামরায় কংকর মারবে না। ইমাম আবূ দাঊদ (রহ.) বলেন, (اللَّطْخُ) ‘আল-লাতখু’ শব্দের অর্থ হচ্ছে মৃদু আঘাত করা।[1] সহীহ।