। আনাস ইবনু মালিক (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুরবানীর দিন জামরাতুল আকাবায় কংকর মেরে মিনায় তাঁর অবস্থান স্থলে ফিরে এসে কুরবানীর পশু আনিয়ে তা যাবাহ করলেন। পরে নাপিত ডাকিয়ে প্রথমে তাঁর মাথার ডান দিকের চুল মুড়ালেন এবং তিনি উপস্থিত লোকদেরকে এক বা দুইগাছি করে চুল বিতরণ করলেন। তারপর মাথার বাম দিকের চুল মুড়ালেন। অতঃপর তিনি জিজ্ঞেস করলেন, এখানে আবূ তালহা আছে কিনা? অবশিষ্ট চুলগুলো তিনি আবূ তালহা (রাযি.)-কে দিলেন।[1] সহীহ।
। হিশাম ইবনু হাসসান (রহ.) থেকে উপরোক্ত সনদে পূর্বের অনুরূপ হাদীস বর্ণিত। তাতে আরো আছে, তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নাপিতকে বললেনঃ ডানদিক থেকে শুরু করো এবং তা মুন্ডন করো।[1] সহীহ।
। ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। মিনাতে অবস্থানকালে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে (হজ্জের)) বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হয়। তিনি জবাবে বলতে থাকেনঃ ‘কোনো দোষ নেই।’ এক ব্যক্তি জিজ্ঞেস করলো, আমি কুরবানী করার পূর্বেই মাথা মুড়িয়েছি। তিনি বললেনঃ এখন কুরবানী করো, কোনো দোষ নেই। লোকটি বললো, সন্ধ্যা হয়ে গেছে অথচ এখনো কংকর নিক্ষেপ করিনি। তিনি বললেনঃ এখন কংকর নিক্ষেপ করো, কোনো দোষ নেই।[1] সহীহ।
। ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ নারীদের মাথার চুল মুড়ানোর প্রয়োজন নেই। বরং তারা চুল কাটাবে।[1] সহীহ, পরবর্তী হাদীস দ্বারা।
। ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ নারীদের জন্য মাথা কামানোর দরকার নেই, তাদেরকে চুল ছাঁটতে হবে।[1] সহীহ।
হাদিস 1986 — Sunan Abu Dawud 11:266
সহিহসহিহসহিহ Bukhari (1774)
حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا مَخْلَدُ بْنُ يَزِيدَ، وَيَحْيَى بْنُ زَكَرِيَّا، عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ، عَنْ عِكْرِمَةَ بْنِ خَالِدٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ اعْتَمَرَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَبْلَ أَنْ يَحُجَّ .
। ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর শপথ! রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘আয়িশাহ (রাঃ)-কে যিলহজ (হজ্জ) মাসে ‘উমরা করিয়েছেন এজন্যই যে, যাতে মুশরিকদের কাজের বিরোধিতা হয়। কেননা কুরাইশদের এ গোত্র এবং তাদের অনুসারীরা বলতোঃ ‘উটের পিঠের ঘা শুকিয়ে পশম গজলে এবং সফর মাস এলে ‘উমরা করতে ইচ্ছুকদের ‘উমরা করা বৈধ। মুশরিকরা যিলহজ (হজ্জ) এবং মুহাররম মাস শেষ না হওয়া পর্যন্ত ‘উমরা করা হারাম মনে করতো।[1] সহীহ।
। আবূ বাকর ইবনু ‘আব্দুর রহমান (রহ.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, মারওয়ানের যে দূতকে উম্মু মা‘কিলের নিকট প্রেরণ করা হয়, তিনি আমাকে জানিয়েছেন, উম্মু মা‘কিল (রাযি.) বলেছেন, আবূ মা‘কিল রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে হজ (হজ্জ) গমনের ইচ্ছা করেছিলেন। তিনি ঘরে এলে উম্মু মা‘কিল (রাযি.) বললেন, আমি অবগত হয়েছি, আমার উপরও হজ (হজ্জ) ফরয হয়েছে। সুতরাং তারা (স্বামী-স্ত্রী) উভয়ে পদব্রজে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট উপস্থিত হলেন। উম্মু মা‘কিল বলেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমার উপর হজ (হজ্জ) ফরয হয়েছে। আর আবূ মা‘কিলের নিকট একটি উষ্ট্রী আছে। আবূ মা‘কিল (রাযি.) বললেন, সে সত্যই বলেছে, কিন্তু আমি তো সেটি আল্লাহর পথে যুদ্ধের কাজে সাদাকাহ করেছি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তুমি এটা তাকে দিয়ে দাও, সে হজ (হজ্জ) করে আসুক। কেননা এটাও আল্লাহর পথ। নির্দেশ মোতাবেক তিনি উষ্ট্রীটি তাকে দিলেন। তিনি বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমি তো বৃদ্ধ মহিলা এবং অসুস্থ। সুতরাং এমন কোনো কাজ আছে কি যা আমার হজের (হজ্জের) বিকল্প হবে? তিনি বললেনঃ রমাযান মাসের ‘উমরা তোমার হজের (হজ্জের) জন্য যথেষ্ট।[1] হাসান।
। আবূ বাকর ইবনু ‘আব্দুর রহমান (রহ.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, মারওয়ানের যে দূতকে উম্মু মা‘কিলের কাছে প্রেরণ করা হয়েছিল, তিনি আমাকে জানিয়েছেন যে, উম্মু মা‘কিল (রাযি.) বলেছেনঃ আবূ মা‘কিল রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে হজ (হজ্জ) করার ইচ্ছা করেছিলেন। তিনি ঘরে এলে উম্মু মা‘কিল (রাযি.) বলেন, আমার উপরও যে হজ (হজ্জ) ফরয হয়েছে তা আমি অবগত হয়েছি। কাজেই স্বামী-স্ত্রী দু‘জনেই পায়ে হেঁটে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে গেলেন। উম্মু মা‘কিল (রাযি.) বললেন, হে আল্লাহ রাসূল! আমার উপর হজ (হজ্জ) ফরয হয়েছে। আর আবূ মা‘কিলের নিকট (বাহন উপযোগী) একটি উষ্ট্রী আছে। আবূ মা‘কিল (রাযি.) বললেন, সে সত্য বলেছে, কিন্তু আমি তো সেটি আল্লাহর পথে সাদাকাহ করে দিয়েছি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তুমি ওটা (উষ্ট্রীটি) একে দাও, সে হজ (হজ্জ) করে আসুক। কারণ এটাও তো আল্লাহর পথ। ফলে তিনি তাকে তা দিলেন। তিনি বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমি একজন বৃদ্ধা মহিলা এবং অসুস্থ। কাজেই এমন কোনো আমল আছে কি যা করলে আমার হজের (হজ্জের) পরিবর্তে যথেষ্ট হবে? তিনি বললেনঃ রমাযানের একটি ‘উমরা তোমার হজের (হজ্জের) জন্য যথেষ্ট হবে।[1] সহীহ, তবে মহিলার এ কথাটি বাদেঃ আমি একজন বৃদ্ধা মহিলা।...’’
। উম্মু মা‘কিল (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন বিদায় হজ (হজ্জ) গমন করেন তখন আমাদের একটি মাত্র উট ছিলো, সেটাও আবূ মা‘কিল (রাযি.) আল্লাহর পথে (জিহাদে) সাদাকাহ করেছেন। এদিকে আমরা অসুস্থ হলাম এবং আবূ মা‘কিলও মৃত্যুবরণ করলেন। আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (হজ্জে)) চলে গেলেন। তিনি হজ (হজ্জ) সম্পন্ন করার পর আমি তাঁর কাছে আসলে তিনি বললেনঃ হে উম্মু মা‘কিল! আমাদের সাথে যেতে তোমাকে কিসে বাঁধা দিয়েছে? তিনি বললেন, আমরা তো প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। কিন্তু আবূ মা‘কিল মারা গেলেন। আমাদের যে উটটি ছিলো, যা দ্বারা আমি হজ (হজ্জ) সম্পন্ন করতে চেয়েছিলাম, সেটাকেও আবূ মা‘কিল আল্লাহর পথে দান করার ওয়াসিয়্যাত করেছেন। তিনি বললেন, তুমি সেটা নিয়েই বের হলে না কেন? কারণ হজ (হজ্জ) করাও আল্লাহর পথের সদৃশ! তুমি যখন আমাদের সাথে এ হজ (হজ্জ) করতে পারলে না সুতরাং রমযান মাসে ‘উমরা আদায় করো। কেননা এ সময়ের ‘উমরা হজের (হজ্জের) সমতুল্য। এরপর থেকে উম্মু মা‘কিল প্রায়ই বললেন, হজ্জ হজ’ই এবং ‘উমরা ‘উমরাই। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একথা কেবল আমার জন্যই বলেছেন নাকি সবার জন্য তা আমি অবহিত নই।[1] সহীহ, তার এ কথাটি বাদেঃ ‘‘তিনি প্রায়ই বলতেন...।’’
হাদিস 1990 — Sunan Abu Dawud 11:270
হাসান Sahihহাসান Sahihহাসান
حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَارِثِ، عَنْ عَامِرٍ الأَحْوَلِ، عَنْ بَكْرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ أَرَادَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الْحَجَّ فَقَالَتِ امْرَأَةٌ لِزَوْجِهَا أَحِجَّنِي مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَلَى جَمَلِكَ . فَقَالَ مَا عِنْدِي مَا أُحِجُّكِ عَلَيْهِ . قَالَتْ أَحِجَّنِي عَلَى جَمَلِكَ فُلاَنٍ . قَالَ ذَاكَ حَبِيسٌ فِي سَبِيلِ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ . فَأَتَى رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ إِنَّ امْرَأَتِي تَقْرَأُ عَلَيْكَ السَّلاَمَ وَرَحْمَةَ اللَّهِ وَإِنَّهَا سَأَلَتْنِي الْحَجَّ مَعَكَ قَالَتْ أَحِجَّنِي مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم . فَقُلْتُ مَا عِنْدِي مَا أُحِجُّكِ عَلَيْهِ . فَقَالَتْ أَحِجَّنِي عَلَى جَمَلِكَ فُلاَنٍ . فَقُلْتُ ذَاكَ حَبِيسٌ فِي سَبِيلِ اللَّهِ . فَقَالَ " أَمَا إِنَّكَ لَوْ أَحْجَجْتَهَا عَلَيْهِ كَانَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ " . قَالَ وَإِنَّهَا أَمَرَتْنِي أَنْ أَسْأَلَكَ مَا يَعْدِلُ حَجَّةً مَعَكَ . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " أَقْرِئْهَا السَّلاَمَ وَرَحْمَةَ اللَّهِ وَبَرَكَاتِهِ وَأَخْبِرْهَا أَنَّهَا تَعْدِلُ حَجَّةً مَعِي " . يَعْنِي عُمْرَةً فِي رَمَضَانَ .
। ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হজের (হজ্জের) ইচ্ছা করলেন। তখন জনৈক মহিলা (উম্মু মা‘কিল) তার স্বামীকে বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে আমার হজে (হজ্জে) গমনের ব্যবস্থা করে দিন। তিনি বললেন, তোমাকে হজে (হজ্জে) পাঠাবার মতো (বাহন) ব্যবস্থা আমার কাছে নেই। তিনি (উম্মু মা‘কিল) বললেন, অমুক উটটি দ্বারা আমাকে হজে (হজ্জে) গমনের ব্যবস্থা করুন। তিনি বললেন, তা তো মহান শক্তিমান আল্লাহর পথে (জিহাদের জন্য) আবদ্ধ। অতঃপর তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে বললেন, আমার স্ত্রী আপনাকে সালাম জানিয়েছে এবং আপনার উপর আল্লাহর রহমত কামনা করেছে। সে আপনার সাথে হজে (হজ্জে) যেতে আমার কাছে অনুমতি চেয়ে বলেছে, আমাকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে হজে (হজ্জে) গমনের ব্যবস্থা করে দিন। আমি বলেছি, আমার কাছে তোমাকে হজে (হজ্জে) পাঠানোর কোনো ব্যবস্থা নেই। সে বললো, অমুক উট দ্বারা আমাকে হজে (হজ্জে) গমনের সুযোগ দিন। আমি বললাম, সেটি তো মহান শক্তিমান, আল্লাহর পথে (জিহাদের জন্য) আবদ্ধ। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেনঃ তুমি তাকে সেটির দ্বারা হজে (হজ্জে) গমনের ব্যবস্থা করে দিলে তাও আল্লাহর পথেই হতো। সে আমাকে আপনার কাছে জিজ্ঞেস করতে বলেছে, আপনার সাথে হজ (হজ্জ) করার সমতুল্য সওয়াব পাওয়ার মতো কোনো কাজ আছে কিনা? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তাকে আমার সালাম জানাবে, তার উপর আল্লাহর রহমত ও বরকত বর্ষিত হোক। তাকে এ সংবাদও দিবে, রমযান মাসে ‘উমরা করা আমার সাথে হজ (হজ্জ) করার সমতুল্য।[1] হাসান সহীহ।