। মু‘আয (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে ইয়ামেনে প্রেরণের সময় নির্দেশ দেনঃ প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি থেকে এক দীনার করে জিযয়া নিবে কিংবা সমমূল্যের ইয়ামেনে উৎপাদিত মু‘আফিরী কাপড় গ্রহণ করবে।
হাদিস 3039 — Sunan Abu Dawud 20:112
দাঈফসহিহসহিহদাঈফ
حَدَّثَنَا النُّفَيْلِيُّ، حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، حَدَّثَنَا الأَعْمَشُ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ مَسْرُوقٍ، عَنْ مُعَاذٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم مِثْلَهُ .
। মু‘আয (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছ থেকে এ সনদেও উপরের হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন।
। যিয়াদ ইবনু হুদাইর (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আলী (রাঃ) বলেছেন, আমি বেঁচে থাকলে খৃষ্টান বনূ তাগলিবের যুদ্ধবাজ লোকদেরকে অবশ্যই হত্যা করবো এবং তাদের সন্তানদের বন্দী করবো। কারণ আমি তাদের ও নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মধ্যে এ মর্মে চুক্তিপত্র লিখেছিলাম যে, ‘‘তারা তাদের সন্তানদেরকে খৃষ্টান বানাবে না।’’ আবূ দাঊদ (রহঃ) বলেন, এ হাদীসটি মুনকার (প্রত্যাখ্যাত)। আমি জানতে পেরেছি, ইমাম আহমাদ ইবনু হাম্বল (রহঃ) হাদীসটি দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করেছেন। কারো মতে এটা মাতরূক হাদীসের পর্যায়ে। অধস্তন বর্ণনাকারী ‘আব্দুর রাহমান ইবনু হানীর কারণে লোকেরা একে মুনকার হাদীস মনে করতেন। আবূ আলী‘ বলেন, আবূ দাঊদ (রহঃ) যখন সংকলণ দ্বিতীয়বার শুনান, তখন তিনি এতে উল্লেখিত হাদীসটি পাঠ করেননি।
। ইবনু আব্বাস (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নাজরানের খৃষ্টানদের সাথে বছরে দু’ হাজার জোড়া কাপড় দেয়ার শর্তে সন্ধি করেন। তারা অর্ধেক কাপড় সফর মাসে এবং অবশিষ্ট অর্ধেক রজব মাসে মুসলিমদের নিকট পরিশোধ করবে এবং তারা তিরিশটি লৌহবর্ম, তিরিশটি ঘোড়া, তিরিশটি উট এবং প্রত্যেক প্রকারের তিরিশটি করে যুদ্ধাস্ত্র তাদেরকে জিহাদরে জন্য ধার হিসাবে প্রদান করবে। কেউ যদি ইয়ামেনে বিশ্বাসঘাতকতা করে কিংবা বিদ্রোহ করে তাহলে তা দমনের জন্য এ অস্ত্র ব্যবহার করা হবে। যুদ্ধের পর মুসলিমরা এগুলো তাদেরকে ফিরত দিতে বাধ্য থাকবে। এ ধার দেয়ার বিনিময়ে তাদের গীর্জাসমূহ ধ্বংস করা হবে না, তাদের পুরোহিতদের বিতাড়িত করা হবে না এবং তাদের ধর্মের উপর হস্তক্ষেপ করা হবে না। চুক্তির এ শর্তগুলো ততক্ষণই বলবৎ থাকবে যতক্ষণ তারা বিরূপ পরিস্থিতি সৃষ্টি না করবে এবং সুদের ব্যবসায় না জড়াবে। বর্ণনাকারী ইসমাঈল বলেন, নাজরানবাসীরা সুদের ব্যবসায় জড়িয়ে চুক্তির শর্ত ভঙ্গ করে।
। বাজালা (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ছিলাম আহনাফ ইবনু কায়িসের চাচা জাযই ইবনু মু‘আবিয়ার সচিব। ‘উমার (রাঃ)-এর মৃত্যুর এক বছর পূর্বে তার লেখা একটি পত্র আমাদের কাছে আসে। পত্রের বিষয়বস্তু এরূপঃ ‘‘প্রত্যেক যাদুকরকে হত্যা করবে, প্রত্যেক মুহরিম অগ্নিপূজারী স্বামী-স্ত্রীর বিবাহ ছিন্ন করবে এবং তাদেরকে যামযামা থেকে বিরত রাখবে।’’ অতঃপর ‘আমরা একদিনে তিনজন জাদুকর হত্যা করি এবং আল্লাহর কিতাবে বিধিবদ্ধ প্রতিটি অগ্নিপূজারী পুরুষ ও তার মুহরিম স্ত্রীর বৈবাহিক সম্পর্ক ছিন্ন করি। বর্ণনাকারী বলেন, একদা তিনি (জাযই) অনেক খাবার তৈরী করে অগ্নিপূজারীদের ডাকালেন। তিনি তার রানের উপর তরবারি রাখলেন। তারা খাবার খেলো কিন্তু গুনগুন শব্দ করলো না। তারা একটি কিংবা দু’টি খচ্চর বোঝাই রূপা দিলো। কিন্তু ‘উমার (রাঃ) কখনো অগ্নিপূজারীদের কাছ থেকে জিযয়া নেননি। অতঃপর ‘আব্দুর রাহমান ইবনু আওফ (রাঃ) যখন সাক্ষী দেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘হাজার’ এলাকার অগ্নিপূজারীদের কাছ থেকে জিযয়া গ্রহণ করেছেন তখন তিনি তা গ্রহণ করলেন।
। ইবনু আব্বাস (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে যখন বাহরাইনের অধিবাসীদের পক্ষ থেকে রাজবংশের একটি লোক আসলো। যারা ছিলো হাজার এলাকার অগ্নিপূজারী সম্প্রদায়। সে কিছুক্ষণ তাঁর নিকট অবস্থান করে বেরিয়ে গেলো। আমি তাকে জিজ্ঞেস করলাম, আল্লাহ ও তাঁর রাসূল তোমাদের জন্য কি ফায়সালা দিলেন? তখন সে বললো, মন্দ ফায়সালা দিয়েছেন। ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেন, ‘আব্দুর রাহমান ইবনু আওফ (রাঃ) বলেছেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের কাছ থেকে জিযয়া গ্রহণ করেন। ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেন, লোকেরা ‘আব্দুর রাহমান (রাঃ)-এর বক্তব্যকে গ্রহণ করলো এবং আসবাযীর কাছে আমি যা শুনেছিলাম তা বর্জন করলো।
। উরওয়াহ ইবনুয যুবায়র (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। একদা হিশাম ইবনু হাকীম ইবনু হিযাম (রাঃ) দেখেন, হিমসের শাসক কতিপয় কিবতীর কাছ থেকে জিযয়া আদায় করতে তাদেরকে রোদের মধ্যে দাঁড় করিয়ে রেখেছে। তিনি বললেন, এ কী ব্যাপার? আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছিঃ যারা দুনিয়াতে মানুষকে অহেতুক শাস্তি দিবে, কিয়ামতের দিন মহান আল্লাহ তাদেরকে শাস্তি দিবেন।
। হারব ইবনু ‘উবাইদুল্লাহ (রাঃ) থেকে তার নানার সূত্রে বর্ণিত। তিনি (নানা) তার পিতার সূত্রে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ উশর ধার্য হবে ইয়াহুদী ও নাসারাদের (ব্যবসায়িক পণ্যের) উপর। মুসলিমদের উপর হবে না।
হাদিস 3047 — Sunan Abu Dawud 20:120
দাঈফদাঈফদাঈফ
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عُبَيْدٍ الْمُحَارِبِيُّ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ السَّائِبِ، عَنْ حَرْبِ بْنِ عُبَيْدِ اللَّهِ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِمَعْنَاهُ قَالَ " خَرَاجٌ " . مَكَانَ " الْعُشُورُ " .
। হারব ইবনু ‘উবাইদুল্লাহ (রাঃ) তার সনদ পরম্পরায় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এ হাদীসটি বর্ণনা করেন। তবে তাতে উশরের স্থলে খাযরাজ শব্দ উল্লেখ আছে।