। সুলাইম ইবনু মুতাইর (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার কাছে আমার পিতা মুতাইর আলোচনা করেছেন যে, তিনি হজের (হজ্জের) উদ্দেশ্যে রাওয়ানা হলেন। তিনি আস-সুয়াইদাহ নামক জায়গাতে পৌঁছলে এক লোক ঔষুধের খোঁজে তার কাছে এলো। সে বললো, আমাকে এমন এক ব্যক্তি অবহিত করেছেন, যিনি বিদায় হজে (হজ্জে) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে শুনেছেন। এ সময় তিনি লোকদের সমাবেশ নসীহাত করেছিলেন। তিনি তাদেরকে সৎ কাজের আদেশ এবং অসৎ কাজের নিষেধ করেছিলেন। তিনি বলেছিলেনঃ হে জনগণ! উপঢৌকন যদি উপঢৌকনের পর্যায়ে থাকে তবেই তা গ্রহণ করো। যখন কুরাইশরা রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখল নিয়ে মতবিরোধে লিপ্ত হবে, তখন দানকর্যে পরিণত হবে, কাজেই তোমরা তা পরিত্যাগ করবে।
হাদিস 2959 — Sunan Abu Dawud 20:32
দাঈফদাঈফদাঈফদাঈফ
حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عَمَّارٍ، حَدَّثَنَا سُلَيْمُ بْنُ مُطَيْرٍ، - مِنْ أَهْلِ وَادِي الْقُرَى - عَنْ أَبِيهِ، أَنَّهُ حَدَّثَهُ قَالَ سَمِعْتُ رَجُلاً، يَقُولُ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي حَجَّةِ الْوَدَاعِ فَأَمَرَ النَّاسَ وَنَهَاهُمْ ثُمَّ قَالَ " اللَّهُمَّ هَلْ بَلَّغْتُ " . قَالُوا اللَّهُمَّ نَعَمْ . ثُمَّ قَالَ " إِذَا تَجَاحَفَتْ قُرَيْشٌ عَلَى الْمُلْكِ فِيمَا بَيْنَهَا وَعَادَ الْعَطَاءُ أَوْ كَانَ رُشًا فَدَعُوهُ " . فَقِيلَ مَنْ هَذَا قَالُوا هَذَا ذُو الزَّوَائِدِ صَاحِبُ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم .
। সুলাইম ইবনু মুতাইর (রহঃ) থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি এক ব্যক্তিকে বলতে শুনেছি, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বিদায় হজের (হজ্জের) ভাষণে বলতে শুনেছিঃ তিনি লোকদেরকে সৎ কাজের আদেশ এবং অসৎ কাজ থেকে নিষেধ করার পর বললেনঃ হে আল্লাহ! আমি কি পৌঁছে দিয়েছি? লোকেরা বললো, হে আল্লাহ! হ্যাঁ। (তিনি পৌঁছে দিয়েছেন)। অতঃপর তিনি বললেনঃ কুরাইশরা যখন রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখল নিয়ে অন্তর্দন্দ্বে লিপ্ত হবে এবং উপঢৌকন ঘুষে পরিণত হবে তখন তোমরা এ জাতীয় উপঢৌকন গ্রহণ করবে না। বলা হলো, কে এ ব্যক্তি? লোকেরা বললো, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবী যুল-যাইয়িদ (রাঃ)।
। ‘আব্দুল্লাহ ইবনু কা‘ব ইবনু মালিক আল-আনসারী (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। একদা আনসারদের সমন্বয়ে গঠিত যুদ্ধাদল তাদের দল নেতার সাথে পারস্যে অবস্থান করছিলো। ‘উমার (রাঃ) প্রতি বছর সেনাবাহিনী স্থানান্তর করতেন। একবার তিনি কোনো কাজে ব্যস্ত থাকার কারণে স্থানান্তরের পদক্ষেপ নিতে পারেননি। সময় অতিবাহিত হওয়ায় সিমান্তের সেনাদল ফিরে আসে। এতে ‘উমার (রাঃ) তাদের প্রতি কঠোর মনোভাব প্রদর্শন করে তাদেরকে ধমকালেন। অথচ তারা সবাই রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবী ছিলেন। তারা বললেন, হে ‘উমার! আপনি আমাদের ব্যাপারে উদাসীন হয়ে পড়েছেন। আপনি আমাদের বিষয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অনুসৃত নীতি পরিহার করেছেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নির্দেশ হলোঃ এক বাহিনীর পিছনে অপর বাহিনীর প্রেরণ এবং পরবর্তী বাহিনীর তদস্থলে অবস্থান গ্রহণ।
। আদী আল-কিনদী (রহঃ)-এর এক পুত্রের সূত্রে বর্ণিত। ‘উমার ইবনু আব্দুল আযীয (রহঃ) কর্মচারীদের প্রতি লিখেন, কেউ ফাই এর খাত সম্পর্কে জানতে চাইলে তাকে ‘উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ)-এর নির্দেশিত নীতি অনুসরণ করতে বলবে। কেননা মু‘মিনগণ তার অনুসৃত নীতিকে সঠিক এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণীর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ পেয়েছে। মহান আল্লাহ ‘উমার (রাঃ)-এর মুখ ও অন্তর দ্বারা সত্যের প্রকাশ ঘটিয়েছেন। তিনি উপঢৌকন প্রবর্তন ও নির্ধারণ করেছেন। জিযিয়া প্রদানের বিনিময়ে অন্যান্য ধর্মাবলম্বিদের নিরাপত্তা নিশ্চয়তা বিধান করেছেন। তিনি আরো বলেছেনঃ জিযিয়াতে এক-পঞ্চামাংশ নেই বা এটা গানীমাতের মতো নয়।
। আবূ যার (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছিঃ নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ উমারের মুখে সত্যকে স্থাপন করেছেন। তিনি ন্যায়নিষ্ঠার সাথেই কথা বলতেন।
। মালিক ইবনু আওস ইবনুল হাসাদান (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা দিনের কিছু অংশ অতিবাহিত হওয়ার পর ‘উমার (রাঃ) আমাকে ডেকে পাঠালেন। আমি তার কাছে গিয়ে দেখি, তিনি খেজুরের ছোবরার তৈরী একটি তক্তপোষের উপর বসে আছেন। আমি তার কাছে উপস্থিত হলে তিনি বললেন, হে মালিক! তোমার সম্প্রদায়ের কিছু লোক আমার কাছে এসেছে। আমি কিছু জিনিস তাদেরকে দেয়ার নির্দেশ দিয়েছি। সেগুলো তুমি তাদের মধ্যে বণ্টন করে দিবে। আমি বললাম, আপনি যদি আমি ছাড়া অন্য কাউকে বণ্টনের দায়িত্ব দিতেন। তিনি বললেন, এটা নাও (বণ্টন করো)। খাদেম ইয়ারফা এসে বললো, হে আমীরুল মু‘মিনীন! উসমান ইবনু আফফান (রাঃ), ‘আব্দুর রাহমান ইবনু আওফ (রাঃ), যুবায়র ইবনুল আওয়ান (রাঃ) এবং সা‘দ ইবনু আবূ ওয়াক্কাস (রাঃ) আপনার সাক্ষাতপ্রার্থী। তিনি বললেন, হ্যাঁ, তাদেরকে আসতে বলো। সুতরাং তারা এলেন। ইয়ারফা আবার এসে বললো, হে আমীরুল মু‘মিনীন! আল-আব্বাস ও আলী (রাঃ) ভিতরে আসার অনুমতি প্রার্থী। তিনি বললেন, হ্যাঁ, তাদেরকে আসতে দাও। তারাও প্রবেশ করলেন। আল আব্বাস (রাঃ) বললেন, হে আমীরুল মু‘মিনীন! আমার ও আলীর মাঝে ফায়সালা করুন এবং তাদের শান্তি বিধান করুন। মালিক ইবনু আওস (রাঃ) বলেন, আমার মনে হলো, তারা দু’জনে এ জন্যই উসমান (রাঃ) ও তার সঙ্গীদের এখানে আগে পাঠিয়েছেন। ‘উমার (রাঃ) বললেন, ধৈর্য ধরো শান্ত হও। অতঃপর তিনি উপস্থিত লোকদের লক্ষ্য করে বললেন, আমি আপনাদের সেই মহান আল্লাহর শপথ দিচ্ছি, যাঁর নির্দেশে আসমান-যমীন সুপ্রতিষ্ঠিত। আপনাদের কি জানা আছে, রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ‘‘‘আমরা (নবীগণ) কোনো উত্তরাধিকার রেখে যাই না। ‘আমরা যা রেখে যাই তা সাদাকাহ গণ্য’’? তারা সকলে বললেন, হ্যাঁ। অতঃপর তিনি আলী ও আব্বাসকে বললেন, আপনাদের উভয়কে সেই মহান আল্লাহর শপথ করে জিজ্ঞেস করছি, যাঁর নির্দেশে আসমান-যমীন অস্তিত্বমান! আপনারা কি জানেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ‘‘আমাদের (নবীদের) কোনো উত্তরাধিকার নেই, ‘আমরা যা রেখে যাই তা সাদাকাহ গণ্য’’? ‘উমার (রাঃ) বলেন, মহান আল্লাহ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বিশেষ বৈশিষ্ট্য দিয়েছেন, যা অন্য কাউকে দেননি। মহান আল্লাহ বলেন, আর যা কিছু আল্লাহ তাদের (ইয়াহুদীদের) থেকে তাঁর রাসূলের নিকট ফিরিয়ে দিয়েছেন, তার জন্য তোমরা ঘোড়া ও উট পরিচালিত করনি। বরং আল্লাহ তাঁর রাসূলদেরকে যার উপর ইচ্ছা কর্তৃত্ব দান করেছেন। আর আল্লাহ প্রতিটি বিষয়ের উপরই ক্ষমতাবান’’[সুরাহ আল-হাশরঃ ৬] মহান আল্লাহ তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বনূ নাযীর গোত্রের সম্পদ ফাই হিসেবে দান করেন। আল্লাহর শপথ! এ সম্পদের ব্যাপারে তিনি তোমাদের উপর কাউকে অগ্রাধিকার দেননি এবং তিনি তোমাদের বাদ দিয়ে অন্য কাউকেও দেননি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ সম্পদ থেকে তার পরিবারের এক বছরের ভরণ পোষণের পরিমাণ নিতেন এবং অবশিষ্ট সম্পদ মুসলিমদের কল্যাণে ব্যায় করতেন। ‘উমার (রাঃ) উপস্থিত লোকদেরকে আবার বললেন, আমি আপনাদেরকে সেই মহান আল্লাহর শপথ দিয়ে জিজ্ঞেস করছি, যাঁর নির্দেশে আসমান-যমীন সুপ্রতিষ্ঠিত! আপনারা কি এসব জানেন? তারা বললেন, হ্যাঁ, অতঃপর তিনি আল আব্বাস ও আলী (রাঃ)-কে লক্ষ্য করে বললেন, আমি আপনাদের উভয়কে আল্লাহর শপথ দিয়ে বলছি, যাঁর নির্দেশে আসমান-যমীন সুপ্রতিষ্ঠিত! আপনাদের কি এসব বিষয়ে জানা আছে? তারা উভয়ে বললেন, হ্যাঁ। অতঃপর যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইন্তেকাল করেন, আবূ বাকর (রাঃ) বললেন, এখন আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রতিনিধি। আপনি এবং ইনি (আলী) আবূ বাকর (রাঃ)-এর নিকট আসলেন। আপনি আপনার ভ্রাতুস্পুত্রের পরিত্যক্ত সম্পদের আপনার মীরাস দাবী করলেন এবং ইনি তার শ্বশুরের সম্পদের স্ত্রীর মীরাস দাবী করলেন। আবূ বাকর (রাঃ) বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ‘‘আমাদের (নবীদের) কোনো ওয়ারিস নেই, ‘আমরা যা রেখে যাই তা সাদাকাহ হিসেবে গণ্য।’’ আল্লাহ জানেন, আবূ বাকর ছিলেন সত্যবাদী, কল্যাণকামী, হিদায়াতপ্রাপ্ত ও সত্যের অনুসারী। তিনি উক্ত সম্পদের মুতাওয়াল্লী হন। পরবর্তীতে আবূ বাকর (রাঃ) মারা গেলে আমি বললাম, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উত্তরসূরি এবং আবূ বাকর (রাঃ)-এর প্রতিনিধি। আল্লাহর ইচ্ছায় আমি এখন এ সম্পদের তত্ত্বাবধায়ক। আপনি এবং ইনি আমার নিকট এসেছেন। আপনাদেরকে উভয়ের উদ্দেশ্য এ কথা একই। আমি আপনাদের কাছে তা অর্পণ করতে পারি। শর্ত হলো, আপনারা আল্লাহর ওয়াদা মেনে চলবেন এবং এ সম্পদের ক্ষেত্রে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অনুসৃত নীতি অনুসরণ করবেন। উক্ত শর্তে সেগুলো আপনারা আমার কাছ থেকে নিয়েছিলেন। পরে আবার আমার নিকট এসেছেন। আপনারা চাচ্ছেন, এখন আমি পূর্বের ফায়সালার বিপরীত ফায়সালা প্রদান করি। আল্লাহর শপথ! কিয়ামত পর্যন্ত আমি এর বিপরীত করবো না। আপনারা এ দায়িত্ব পালনে অপারগ হলে এ দায়িত্ব আমার উপর ন্যস্ত করুন। আবূ দাঊদ (রহঃ) বলেন, আর আব্বাস (রাঃ) ও আলী (রাঃ) এ সম্পত্তির দায়িত্বভার তাদের উভয়ের মধ্যে বণ্টন করতে ‘উমার (রাঃ)-এর নিকট আবেদন করেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী, ‘‘‘আমরা যা রেখে যাই তাতে উত্তরাধিকার হবে না। বরং তা সাদাকাহ হিসেবে গণ্য।’’ এ হাদীস তাদের উভয়ের অজানা ছিলো না। বরং তারাও সত্যের অনুসন্ধানেই ছিলেন। এ জন্যই ‘উমার (রাঃ) বললেন, আমি এ সম্পদ ভাগ করবো না, বরং একে এর পূর্বাবস্থায়ই রাখবো।
। মালিক ইবনু আওস (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি উক্ত ঘটনা সম্পর্কে বলেন, তারা উভয়ে অর্থাৎ আলী ও আব্বাস (রাঃ) খায়বারের ফাইলদ্ধ সম্পদ নিয়ে বিবাদে লিপ্ত হলেন- যা বনূ নাযীর গোত্রের কাছ থেকে আল্লাহ তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে দান করেছিলেন। আবূ দাঊদ (রহঃ) বলেন, ‘উমার (রাঃ)-এর ইচ্ছা ছিলো এ সম্পদের উপর বণ্টনের নামও নেয়া যাবে না।
। ‘উমার (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, বনূ নাযীর গোত্রের সম্পদ আল্লাহ তাঁর রাসূলকে দান করেন। এগুলো অর্জন করতে মুসলিমদের ঘোড়া বা উট চালাতে হয়নি। এ সম্পদ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জন্য নির্দিষ্ট ছিলো। এর থেকে তিনি তাঁর পরিবারের সারা বছরের ভরণপোষণের ব্যয়ভার বহন করতেন। আর অবশিষ্ট অংশ দিয়ে ঘোড়া ও আল্লাহর পথে যুদ্ধের সরঞ্জাম সংগ্রহ করতেন। ইবনু ‘আবদাহ (রহঃ) বলেন, তা ব্যয় করা হতো ঘোড়া ও অস্ত্র সংগ্রহের জন্য।
। আয-যুহরী (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‘উমার (রাঃ) বলেছেন, (মহান আল্লাহর বাণীঃ) ‘‘আর যা কিছু আল্লাহ তাদের (ইয়াহুদীদের) থেকে তাঁর রাসূলের নিকট ফিরিয়ে দিয়েছেন, তার জন্য তোমরা ঘোড়া ও উট পরিচালিত করনি। বরং আল্লাহ তাঁর রাসূলদেরকে যার উপর ইচ্ছা কর্তৃত্ব দান করেন। আর আল্লাহ প্রতিটি বিষয়ের উপরই ক্ষমতাবান’’।[সূরা আল-হাশরঃ ৬] আয-যুহরী (রহঃ) বলেন ‘উমার (রাঃ) বলেছেন, উরাইনাহ, ফাদাক ইত্যাদি এলাকা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জন্য নির্দিষ্ট ছিলো। যেমন অন্য আয়াতে বলা হয়েছেঃ ‘‘যা কিছুই আল্লাহ এ জনপদের লোকদের থেকে তাঁর রাসূলের দিকে ফিরিয়ে দিয়েছেন তা আল্লাহ, রাসূল এবং আত্মীয়-স্বজন, ইয়াতীম, মিসকীন ও পথিকদের জন্য। ঐসব মুহাজিরের জন্যও, যারা নিজেদের ঘর-বাড়ি ও সম্পদ থেকে বিতারিত ও বহিস্কৃত। এবং যারা এ মুহাজিরদের আসার আগে ঈমান এনে দারুল হিজরাতেই বসবাসকারী ছিলো এবং যারা তাদের পরে হিজরাত করে তাদের কাছে এসেছে (তাদের জন্যও)...।’’[সূরা আল-হাশরঃ ৭-১০] এ আয়াতগুলো সকলক লোককে অন্তর্ভুক্ত করেছে। এমন কোনো মুসলিম নেই যার যুদ্ধলব্ধ সম্পদে অধিকার নেই। আইয়ূব (রহঃ) বলেন, অথবা বর্ণনাকারী 'অধিকার' এর স্থলে 'অংশ' শব্দ বলেছেন। হ্যাঁ, তোমাদের কতিপয় কৃতদাস এ থেকে বাদ পড়েছে।
। মালিক ইবনু আওস ইবনুল হাদাসান (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‘উমার (রাঃ) নিজের বক্তব্যের অনুকূলে যুক্তি পেশ করে বললেন, কেবলমাত্র রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জন্য ফাই-এর সম্পদে তিনটি বিশেষ অংশ ছিলোঃ বনূ নাযীর, খায়বার ও ফাদাক। বনূ নাযীর এলাকা থেকে প্রাপ্ত আয় দৈনন্দিনের প্রয়োজন পূরণে ব্যয় করা হতো। ফাদাক থেকে অর্জিত আয় পথিকদের জন্য ব্যয় করা হতো। খায়বার এলাকার আয়কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিন ভাগে ভাগ করেছেন। দু’ অংশ মুসলিমদের সার্বিক কল্যাণে ব্যয় করা হতো এবং অপর অংশ দ্বারা তাঁর পরিবারের ব্যয়ভার বহন করা হতো। আর অবশিষ্ট অংশ গরীব মুহাজিরদের মাঝে বণ্টন করা হতো।