। সাফওয়ান ইবনু ইয়ালা (রহঃ) থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার এক কর্মচারী এক লোকের সঙ্গে বিবাদে লিপ্ত হলে লোকটি তার হাত কামড়িয়ে ধরে এবং সে টান দিয়ে তার হাত ছাড়িয়ে আনলে তার সামনের পাঁচটি দাঁত পড়ে যায়। সে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট অভিযোগ নিয়ে এলে তিনি তার মামলা খারিজ করে দেন এবং বলেনঃ তুমি কি চাও যে, সে তার হাত তোমার মুখে পুড়ে রাখুক আর তুমি তা উটের মতো চিবাতে থাকো? বর্ণনাকারী বলেন, ইবনু আবূ মুলাইকাহ (রহঃ) তার দাদার সূত্রে আমাকে জানিয়েছে, আবূ বাকর (রাঃ)ও অনুরূপ ঘটনা দিয়াতের দাবী বাতিল করেছেন এবং বলেন, তার দাঁত পড়ে গেলো।[1] সহীহ।
। ইয়ালা ইবনু উমাইয়্যাহ (রহঃ) সূত্রে অনুরূপ বর্ণিত। এতে আরো আছেঃ অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তোমার ইচ্ছে হলে তুমিও তার মুখে হাত দাও আর সে চিবাতে থাকুক। তারপর তুমি তার মুখ থেকে হাত বের করে আনো। অতঃপর তিনি তার দাঁতের দিয়াতের দাবী বাতিল করেন।[1] সনদ সহীহ।
। আমর ইবনু শু‘আইব (রহঃ) থেকে পর্যায়ক্রমে তার পিতা এবং তার দাদার সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ চিকিৎসা বিদ্যাহীন ব্যক্তি চিকিৎসা করলে তাতে সে দায়ী হবে। নাদর (রহঃ) বলেন, ইবনু জুরাইজ (রহঃ) হাদীসটি আমার নিকট বর্ণনা করেছেন। ইমাম আবূ দাঊদ (রহঃ) বলেন, হাদীসটি ওয়ালিদ একাই বর্ণনা করেছেন। হাদীসটি সহীহ কি না তা আমরা জানি না।[1] হাসান।
। আব্দুল আযীয ইবনু উমার ইবনু আব্দুল আযীয (রহঃ) বর্ণনা করেন, আমার পিতার নিকট যেসব প্রতিনিধি দল এসেছিল তাদের কেউ কেউ আমার নিকট বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যেসব ডাক্তার চিকিৎসা শাস্ত্র সম্পর্কে জ্ঞান রাখে না, তারা যদি কোনো গোত্রের চিকিৎসা করে এবং এর ফলে রোগীর ক্ষতি হয় তাহলে সে এজন্য দায়ী হবে। আব্দুল আযীয (রহঃ) বলেন, তবে সাধারণভাবে ডাক্তার দায়ী হবে না, বরং শিরা উন্মুক্ত করা, অস্ত্রপাচার করা ও উত্তপ্ত লোহার শেক দেয়া ইত্যাদি বুঝানো হয়েছে।[1] হাসান।
। আব্দুল্লাহ ইবনু আমর (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কা বিজয়ের দিন ভাষণ দেয়ার সময় তিনবার ‘আল্লাহু আকবার’ বলার পর বলেন, ‘‘আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, তিনি এক, তিনি তাঁর ওয়াদাকে বাস্তাবায়িত করেছেন, তাঁর বান্দাকে সাহায্য করেছেন এবং তিনি একাই (কাফিরদের) দলগুলোকে পরাজিত করেছেন।’’ আমি এ পর্যন্ত মুসাদ্দাদ থেকে মুখস্থ করেছি। অতঃপর উভয়ের বর্ণনা মিলে গেছে। ‘‘জেনে রাখো! অন্ধকার যুগে কিসাসের ব্যাপারে যেসব বংশীয় মর্যাদার দাবি করা হতো তা আমার দু’ পদতলে প্রোথিত। কিন্তু হাজীদের পানি পান করানো ও কা‘বা ঘরের খেদমতের প্রথা আগের মহো বহাল থাকবে। অতঃপর তিনি বলেন, জেনে রাখো! ইচ্ছাকৃত হত্যা সদৃশ হলো ভুলবশত নরহত্যা যা চাবুক বা লাঠির আঘাতে হয়ে থাকে, এজন্য একশো উট দিয়া দিতে হবে যার মধ্যে চল্লিশটি উষ্ট্রী হবে গর্ভবর্তী।[1] হাসান।
। ইমরান ইবনু হুসাইন (রাঃ) থেকে বর্ণিত। একদা এক দরিদ্র ব্যক্তির গোলাম অপর এক ধনী লোকের গোলামের কান কেটে ফেললো। অতঃপর তার পরিবারের লোকেরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে বললো, হে আল্লাহর রাসূল! আমরা তো গরীব। অতএব তিনি তার উপর কোনো কিছু ধার্য করেননি। সহীহ।
। ইবনু আব্বাস (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোনো ব্যক্তি অজ্ঞাতভাবে নিহত হলে বা লোকজনের পাথর নিক্ষেপের সময় তার আঘাতে বা চাবুকের আঘাতে নিহত হলে ভুলক্রমে হত্যার দিয়াত প্রযোজ্য। আর যাকে ইচ্ছাকৃতভাবে হত্যা করা হয়, তার হত্যার কিসাস কার্যকর হবে। কেউ এতে বাধা দিলে তার উপর আল্লাহ, ফিরিশতাকূল ও সকল মানুষের অভিশাপ।[1] সহীহ।
। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ চতুষ্পদ জন্তু আহত হলে তা কিসাসযোগ্য নয়, খনিতে চাপা পড়ে ও কূপের মধ্যে পড়ে মারা গেলে নিহত ব্যক্তির রক্তমূল্য ক্ষমা এবং মাটির নীচের প্রাপ্ত সম্পদের এক-পঞ্চমাংশ (সরকারকে) দিতে হবে। ইমাম আবূ দাঊদ (রহঃ) বলেন, জন্তু যদি দিবাভাগে মাঠে চলাকালে আহত করে এবং সঙ্গে রাখাল না থাকে তাহলে মাফ, কিন্তু এরূপ রাতের বেলা সংঘটিত হলে এ হুকুম প্রযোজ্য নয়।[1] সহীহ।