। হামাল ইবনু মালিকের কিসসা ইবনু আব্বাস (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, সে একটি মৃত ছেলে সন্তান জন্ম দিলো, যার (মাথায়) চুল ছিলো। মহিলাটিও মারা যায়। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হত্যাকারীণীর পিতৃ পক্ষীয় আত্মীয়দেরকে দিয়াত দেয়ার আদেশ দেন। তার চাচা বললেন, হে আল্লাহর নবী! সে এমন একটি ছেলে প্রসব করেছে যার মাথায় চুল গজিয়েছে মাত্র। আর হত্যাকারিণীর পিতা বললো, নিশ্চয়ই সে মিথ্যা বলছে। আল্লাহর কসম! সে না চিৎকার করেছে, না আহার করেছে। অতএব এ ধরণের হত্যায় জরিমানা হয় না। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ এটা কি জাহিলিয়্যাতের ছন্দোময় বক্তৃতা ও গণকের মন্ত্র? শিশুটির বিনিময়ে একটি গোলাম দাও। ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেন, তাদের দু’ জনের একজনের নাম ছিলো মুলাইকাহ এবং অপরজনের নাম ছিলো উম্মু গুতাইফ।[1] দুর্বল।
হাদিস 4575 — Sunan Abu Dawud 41:82
সহিহসহিহদাঈফদাঈফ
حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا يُونُسُ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَاحِدِ بْنُ زِيَادٍ، حَدَّثَنَا مُجَالِدٌ، قَالَ حَدَّثَنَا الشَّعْبِيُّ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، أَنَّ امْرَأَتَيْنِ، مِنْ هُذَيْلٍ قَتَلَتْ إِحْدَاهُمَا الأُخْرَى وَلِكُلِّ وَاحِدَةٍ مِنْهُمَا زَوْجٌ وَوَلَدٌ فَجَعَلَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم دِيَةَ الْمَقْتُولَةِ عَلَى عَاقِلَةِ الْقَاتِلَةِ وَبَرَّأَ زَوْجَهَا وَوَلَدَهَا . قَالَ فَقَالَ عَاقِلَةُ الْمَقْتُولَةِ مِيرَاثُهَا لَنَا قَالَ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لاَ مِيرَاثُهَا لِزَوْجِهَا وَوَلَدِهَا " .
। জাবির ইবনু আব্দুল্লাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। হুযাইল গোত্রের দু’ নারীর একজন অপরজনকে হত্যা করে, আর উভয়েরই স্বামী-সন্তান ছিলো। বর্ণনাকারী বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিহত মহিলার দিয়াত হত্যাকারিনীর পিতৃপক্ষীয় আত্মীয়দের উপর সোর্পদ করেন এবং তার স্বামী ও সন্তানদেরকে দায়মুক্ত করেন। বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর (কিসাসে) নিহত মহিলার আত্মীয়রা বললো, আমরা তার উত্তরাধিকারী হবো। বর্ণনাকারী বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ না, তার উত্তরাধিকারের অংশীদার হবে তার স্বামী ও সন্তান।[1] সহীহ।
হাদিস 4576 — Sunan Abu Dawud 41:83
সহিহসহিহসহিহসহিহ Bukhari (6910) Sahih Muslim (1681)
حَدَّثَنَا وَهْبُ بْنُ بَيَانٍ، وَابْنُ السَّرْحِ، قَالاَ حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي يُونُسُ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ، وَأَبِي، سَلَمَةَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ اقْتَتَلَتِ امْرَأَتَانِ مِنْ هُذَيْلٍ فَرَمَتْ إِحْدَاهُمَا الأُخْرَى بِحَجَرٍ فَقَتَلَتْهَا فَاخْتَصَمُوا إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَضَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم دِيَةَ جَنِينِهَا غُرَّةٌ عَبْدٌ أَوْ وَلِيدَةٌ وَقَضَى بِدِيَةِ الْمَرْأَةِ عَلَى عَاقِلَتِهَا وَوَرَّثَهَا وَلَدَهَا وَمَنْ مَعَهُمْ فَقَالَ حَمَلُ بْنُ مَالِكِ بْنِ النَّابِغَةِ الْهُذَلِيُّ يَا رَسُولَ اللَّهِ كَيْفَ أَغْرَمُ دِيَةَ مَنْ لاَ شَرِبَ وَلاَ أَكَلَ وَلاَ نَطَقَ وَلاَ اسْتَهَلَّ فَمِثْلُ ذَلِكَ يُطَلُّ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِنَّمَا هَذَا مِنْ إِخْوَانِ الْكُهَّانِ " . مِنْ أَجْلِ سَجْعِهِ الَّذِي سَجَعَ .
। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, হুযাইল গোত্রের দু’ জন মহিলা পরস্পরে মারামারি কালে একজন অপরজনকে পাথর ছুঁড়ে মেরে হত্যা করে। অতঃপর উভয়ের অভিভাবক রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট বিচার প্রার্থনা করলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার গর্ভস্থ শিশুর দিয়াত হিসেবে একটি মূল্যবান দাস বা দাসী প্রদানের নির্দেশ দিলেন এবং নিহত মহিলার দিয়াত হত্যাকারিনীর গোত্রের লোকজনের উপর ধার্য করে দেন এবং দিয়াতের উত্তরাধিকারী নিহতের সন্তান ও তার সঙ্গের অন্যান্য অংশীদারকে। ফলে হুযাইল গোত্রের হামাল ইবনু মালিক ইবনু নাবিগাহ বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! পানাহার করেনি, কথাও বলেনি, চিৎকারও দেয়নি, এমন শিশুর দিয়াত কিভাবে আমরা পরিশোধ করবো। এরূপ ক্ষেত্রে জরিমানা বৃথা। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ সে যেভাবে ছন্দোবদ্ধ বক্তব্য রেখে যাচ্ছে মনে হচ্ছে সে গণকের ভাই।[1] সহীহ।
। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) সূত্রে অনুরূপ ঘটনা বর্ণিত। তিনি বলেন, ঐ দন্ডিত মহিলা, যার বিরুদ্ধে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি দাস দিয়াত প্রদানের নির্দেশ দিয়েছিলেন সে মারা গেলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নির্দেশ দিলেন, দন্ডিতার সন্তানরা তার পরিত্যক্ত সম্পত্তির মালিক হবে এবং তার দিয়াত আদায় করবে তার আত্মীয়রা।[1] সহীহ।
। আবূ হুরাইরাহ ইবনু বুরাইদাহ (রহঃ) থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। একদা জনৈক মহিলা অপর এক মহিলার উপর পাথর ছুঁড়ে মারলে তার গর্ভপাত হয়ে যায়। ঘটনাটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট পেশ করা হলে তিনি সন্তানের দিয়াত ধার্য করেন পাঁচশ ছাগল এবং ঐ দিনই পাথর নিক্ষেপ করেন। ইমাম আবূ দাঊদ (রহঃ) বলেন, হাদীসটিতে পাঁচশ ছাগলের উল্লেখ আছে কিন্তু সঠিক হলো একশো ছাগল। ইমাম আবূ দাঊদ (রহঃ) বলেন, আব্বাস এরূপই বলেছেন এবং এটা ভুল ধারণা মাত্র।[1] দুর্বল।
। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গর্ভস্থ ভ্রূণের ক্ষতি সাধণের জরিমানা ধার্য করেন একটি উত্তম দাস বা দাসী অথবা একটি ঘোড়া বা খচ্চর। ইমাম আবূ দাঊদ (রহঃ) বলেন, এ হাদীস মুহাম্মাদ ইবনু আমর (রহঃ) থেকে হাম্মাদ ইবনু সালামাহ ও খালিদ ইবনু আব্দুল্লাহ (রহঃ)ও বর্ণনা করেছেন। তবে তারা ঘোড়া ও খচ্চরের কথা উল্লেখ করেননি।[1] শায।
। আশ-শা‘বী (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল-গুররাহ হলো পাঁচশ দিরহাম। ইমাম আবূ দাঊদ (রহঃ) বলেন, রাবী‘আহ বলেছেন, গুররাহ হলো পাঁচশ দীনার।[1] সনদ দুর্বল।
। ইবনু আব্বাস (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, নিহত মুকাতাব গোলামের দিয়াত সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সিদ্ধান্ত দিয়েছেন যে, মুকাতাব তার নির্ধারিত মুক্তিপণ থেকে যে পরিমাণ অর্থ আদায় করেছে সে পরিমাণ স্বাধীন ব্যক্তির সমান দিয়াত হিসেবে আদায় করবে এবং বাকী অংশ গোলামের দিয়াতের পরিমানে হবে।[1] সহীহ।
হাদিস 4582 — Sunan Abu Dawud 41:89
সহিহসহিহIsnaad Sahih
حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ أَيُّوبَ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِذَا أَصَابَ الْمُكَاتَبُ حَدًّا أَوْ وَرِثَ مِيرَاثًا يَرِثُ عَلَى قَدْرِ مَا عَتَقَ مِنْهُ " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ رَوَاهُ وُهَيْبٌ عَنْ أَيُّوبَ عَنْ عِكْرِمَةَ عَنْ عَلِيٍّ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَأَرْسَلَهُ حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ وَإِسْمَاعِيلُ عَنْ أَيُّوبَ عَنْ عِكْرِمَةَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَجَعَلَهُ إِسْمَاعِيلُ ابْنُ عُلَيَّةَ قَوْلَ عِكْرِمَةَ .
। ইবনু আব্বাস (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ মুকাতাব গোলাম হাদ্দ এর অপরাধে অভিযুক্ত হলে বা মৃতের ওয়ারিস হলে সে তার মুক্ত হওয়ার অংশের অংশীদার হবে। ইমাম আবূ দাঊদ (রহঃ) বলেন, এ হাদীসটি উহাইদ (রহঃ) আইয়ূব থেকে, তিনি ইকরিমাহ থেকে তিনি আলী থেকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সূত্রে বর্ণনা করেছেন। অন্য দিকে হাম্মাদ ইবনু যায়িদ ও ইসমাঈল (রহঃ) আইয়ূব থেকে তিনি ইকরিমাহ থেকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সূত্রে মুরসালভাবে বর্ণনা করেছেন। ইসমাঈল ইবনু উলাইয়াহ এটিকে ইকরিমাহ (রহঃ)-এর বক্তব্যে গণ্য করেছেন।[1] সহীহ।
। আমর ইবনু শু‘আইব (রহঃ) থেকে পর্যায়ক্রমে তার পিতা এবং তার দাদার সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ যিম্মীর দিয়াত স্বাধীন ব্যক্তির দিয়াতের অর্ধেক।[1] হাসান।