। সালিম ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রহঃ) হতে তার পিতার সুত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ভূমি বৃষ্টি, নদ-নদী ও ঝর্ণার পানি দ্বারা সিঞ্চিত হয় অথবা যে ভূমিতে তলদেশে থেকে আপনা আপনিই পানি সিঞ্চিত হয়, তাতে ‘উশর’ দেয়া ওয়াজিব (অর্থাৎ উৎপাদিত ফসলের এক-দশমাংশ যাকাত দিবে)। আর যে ভূমি উষ্ট্রী, বালতি কিংবা সেচ যন্ত্র দিয়ে সিঞ্চন করা হয়, তার যাকাত হলো, উশরের অর্ধেক (অর্থাৎ বিশ ভাগের এক ভাগ)।[1] সহীহ : বুখারী ও মুসলিম।
। জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ভূমি নদ-নদী ও ঝর্ণার পানি দ্বারা সিঞ্চিত হয়, তার যাকাত হলো, এক-দশমাংশ। আর যে ভূমি উষ্ট্রী দ্বারা (অন্য উপায়ে) সিঞ্চিত হয়, তার যাকাত বিশ ভাগের এক ভাগ।[1] সহীহ : মুসলিম।
। ওয়াকী’ (রহঃ) বলেন, কাবূস-কেই বা’ল ভূমি বলা হয়। যে ভূমিতে বৃষ্টির পানির সাহায্যে ফসল জন্মায়, তাই ‘কাবূস’। ইবনুল আসওয়াদ (রহঃ) বলেন, ইয়াহইয়া ইবনু আদম (রহঃ) বলেছেন, আমি আবূ ইয়াস আল-আসাদীকে ‘বা‘ল’ (ভূমি) সম্বন্ধে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, বৃষ্টির পানি দ্বারা সিঞ্চিত ভূমি এবং নাযর বিন শুমাইল বলেনঃ বা‘ল হল বৃষ্টির পানি।[1] সহীহ মাক্বতূ‘।
। মু‘আয ইবনু জাবাল (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে ইয়ামানে প্রেরণের সময় বললেন, ফসল থেকে ফসল, বকরীপাল থেকে বকরী, উটপাল থেকে উষ্ট্রী, গরুর পাল থেকে গাভী যাকাত বাবদ গ্রহণ করবে।[1] দুর্বল। ইমাম আবূ দাউদ (রহঃ) বলেন, আমি মিসরের একটি শসা মেপেছি তের বিঘত লম্বা এবং একটি তরমুজ বা লেবু দেখেছি, যা দুই টুকরা করে একটি উষ্ট্রীর উপর দু’টি বোঝার মত সমান ভারী অবস্থায় ছিল।
হাদিস 1600 — Sunan Abu Dawud 9:45
হাসানহাসানহাসানIsnaad Hasan
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ أَبِي شُعَيْبٍ الْحَرَّانِيُّ، حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ أَعْيَنَ، عَنْ عَمْرِو بْنِ الْحَارِثِ الْمِصْرِيِّ، عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، قَالَ جَاءَ هِلاَلٌ - أَحَدُ بَنِي مُتْعَانَ - إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِعُشُورِ نَحْلٍ لَهُ وَكَانَ سَأَلَهُ أَنْ يَحْمِيَ لَهُ وَادِيًا يُقَالُ لَهُ سَلَبَةُ فَحَمَى لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ذَلِكَ الْوَادِي فَلَمَّا وُلِّيَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ - رضى الله عنه - كَتَبَ سُفْيَانُ بْنُ وَهْبٍ إِلَى عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ يَسْأَلُهُ عَنْ ذَلِكَ فَكَتَبَ عُمَرُ رضى الله عنه إِنْ أَدَّى إِلَيْكَ مَا كَانَ يُؤَدِّي إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مِنْ عُشُورِ نَحْلِهِ لَهُ فَاحْمِ لَهُ سَلَبَةَ وَإِلاَّ فَإِنَّمَا هُوَ ذُبَابُ غَيْثٍ يَأْكُلُهُ مَنْ يَشَاءُ .
। ‘আমর ইবনু শু‘আইব (রহঃ) হতে পর্যায়ক্রমে তার পিতা ও তার দাদা সূত্রে বর্ণিত। মুত্য়ান গোত্রের হিলাল নামক এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট তার মধুর ‘উশর’ নিয়ে এলেন এবং তাঁর নিকট ‘সালাবাহ্’ নামক একটি সমতলভূমি বন্দোবস্ত চাইলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে উক্ত ভূমিটি বন্দোবস্ত দিলেন। পরবর্তীতে যখন ‘উমার (রাঃ) খলীফা হন, তখন (এ এলাকার আমীর) সুফয়ান ইবনু ওয়াহাব ‘উমার ইবনুল খাত্তাবকে (রাঃ) ঐ ভূমির বিষয়ে চিঠি লিখে জানতে চাইলেন। উত্তরে ‘উমার (রাঃ) তাকে লিখেনঃ তিনি (হিলাল) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট তার মধুর যে ‘উশর’ দিতেন তিনি যদি তা তোমাকেও দেন তাহলে ‘সালাবা’ ওয়াদীতে তার বন্দোবস্ত বহাল রাখবে। অন্যথায় তা বনের মৌমাছি হিসেবে গণ্য হবে এবং যে কেউ তার মধু খেতে পারবে।[1] হাসান।
। ‘আমর ইবনু শু‘আইব (রাঃ) হতে পর্যায়ক্রমে তার পিতা ও তার দাদার সূত্রে বর্ণিত। ‘শাবাবাহ’ হচ্ছে ফাহম গোত্রের উপগোত্র। অতঃপর বর্ণনাকারী পূর্বের হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেন। বর্ণনাকারী বলেন, (মধুর যাকাত হচ্ছে) প্রত্যেক দশ মশকের জন্য এক মশক। সুফয়ান ইবনু ‘আবদুল্লাহ আস-সাকাফী তাদেরকে দু‘টি সমতলভূমি বন্দোবস্ত দিয়েছিলেন। তারা তাকে (মধুর) যাকাত সেভাবেই দিতেন যেমনটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে দিতেন। তিনি তাদের দু‘টি সমভূমির বন্দোবস্ত বহাল রেখেছিলেন।[1] হাসান।
। ‘আমর ইবনু শু‘আইব (রহঃ) হতে পর্যায়ক্রমে তার পিতা ও তার দাদার সুত্রে বর্ণিত। ফাহম গোত্রের উপগোত্র...অতঃপর মুগীরাহর হাদীসের অনুরূপ। তিনি বলেন, (মধুর যাকাত) দশ মশকে এক মশক দেয়া ওয়াজিব। তিনি আরো বলেন, সমভূমি দু‘টি তাদের মালিকানায় ছিল।[1] হাসান।
। আত্তাব ইবনু আসীদ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আঙ্গুরের পরিমাণ নির্ধারণ করতে নির্দেশ দিয়েছেন, যেমন খেজুরের পরিমাণ নির্ধারণ হয় এবং আঙ্গুরের যাকাত গ্রহণ করবে কিশমিশ দ্বারা, যেমন পাকা খেজুরের যাকাত শুকনা খেজুর দ্বারা নেয়া হয়।[1] দুর্বল।
। ‘আবদুর রহমান ইবনু মাসউদ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা সাহল ইবনু আবূ হাসমাহ (রাঃ) আমাদের মাজলিসে এসে বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে নির্দেশ দিয়েছেনঃ যখন অনুমানে পরিমাণ নির্ধারণ করবে, তখন তা হতে এক-তৃতীয়াংশ বাদ দিবে। এক-তৃতীয়াংশ বাদ দিতে অসম্মত হলে এক-চতুর্থাংশ ছেড়ে দিবে।[1] ইমাম আবূ দাঊদ (রহঃ) বলেন, অনুমানকারী ব্যবসার জন্য এক-তৃতীয়াংশ বাদ দিবে। দুর্বল।