তিনি আরো বলেছেন, তোমরা চার ব্যক্তির নিকট হতে কুরআন শিক্ষা কর, ‘আবদুল্লাহ ইবনু মাস‘ঊদ, সালিম মাওলা আবূ হুযায়ফাহ, উবাই ইবনু কা‘ব ও মু‘আয ইবনু জাবাল (রাঃ)। (৩৭৫৮) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৪৭৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৪৮৫ শেষাংশ)
তিনি আরো বলেছেন, তোমরা চার ব্যক্তির নিকট হতে কুরআন শিক্ষা কর, ‘আবদুল্লাহ ইবনু মাস‘ঊদ, সালিম মাওলা আবূ হুযায়ফাহ, উবাই ইবনু কা‘ব ও মু‘আয ইবনু জাবাল (রাঃ)। (৩৭৫৮) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৪৭৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৪৮৫ শেষাংশ)
‘আলকামাহ (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি সিরিয়া গেলাম। মসজিদে দু’রাকআত সালাত আদায় করে দু‘আ করলাম, হে আল্লাহ্, আমাকে একজন সৎ সাথী মিলিয়ে দিন। তখন আমি একজন বৃদ্ধকে আসতে দেখলাম। তিনি ছিলেন আবূ দারদা (রাঃ)। তিনি যখন আমার নিকটে আসলেন, তখন আমি বললাম, আশা করি আমার দু‘আ কবুল হয়েছে। তিনি আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কোথাকার লোক? আমি বললাম, আমার ঠিকানা কুফায়। তিনি বললেন, তোমাদের মাঝে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জুতা, বালিস ও উযূর পাত্র বহনকারী [আবদুল্লাহ ইবনু মাস‘ঊদ (রাঃ)] কি বিদ্যমান নেই? তোমাদের মাঝে ঐ ব্যক্তি কি নেই, যাকে শয়তান হতে নিরাপদ করে দেয়া হয়েছে? [অর্থাৎ আম্মার (রাঃ)]। তোমাদের মাঝে কি গোপন তথ্যাভিজ্ঞ ব্যক্তিটি [হুযাইফাহ (রাঃ)] নেই, যিনি ব্যতীত এসব গোপন রহস্য অন্য কেউ জানে না। (আমি বললাম, আছেন) অতঃপর তিনি জিজ্ঞেস করলেন, ইবনু মাস‘ঊদ (রাঃ) وَاللَّيْلِ কিভাবে পড়েন? আমি পড়লাম, وَاللَّيْلِ إِذَا يَغْشَى وَالنَّهَارِ إِذَا تَجَلَّى وَالذَّكَرِ وَالأُنْثَى এভাবে পড়েন। তিনি বললেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে সূরাটি সরাসরি এভাবে পড়তে শিখিয়েছেন। কিন্তু এসব লোক বার বার ব’লে আমাকে এ থেকে সরিয়ে দেয়ার চেষ্টা করেছে। (৩২৮৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৪৭৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
হাদিস 3762 — Sahih al Bukhari 62:107
حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ يَزِيدَ،، قَالَ سَأَلْنَا حُذَيْفَةَ عَنْ رَجُلٍ، قَرِيبِ السَّمْتِ وَالْهَدْىِ مِنَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم حَتَّى نَأْخُذَ عَنْهُ فَقَالَ مَا أَعْرِفُ أَحَدًا أَقْرَبَ سَمْتًا وَهَدْيًا وَدَلاًّ بِالنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم مِنِ ابْنِ أُمِّ عَبْدٍ.
আবদুর রাহমান ইবনু ইয়াযীদ (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা হুযাইফাহ (রাঃ)-কে এমন এক ব্যক্তির সন্ধান দিতে অনুরোধ করলাম যার আকার আকৃতি, চাল-চলন, আচার-ব্যবহার এবং স্বভাব-চরিত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে সবচেয়ে মিল আছে, আমরা তাঁর হতে শিক্ষা গ্রহণ করব। হুযায়ফাহ (রাঃ) বললেন, আকার-আকৃতি, চাল-চালন, আচার-ব্যবহার এবং স্বভাব-চরিত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে সবচেয়ে মিল আছে এমন লোক ‘আবদুল্লাহ ইবনু মাস‘ঊদ (রাঃ) ছাড়া অন্য কাউকেও আমি জানি না। (৬০৯৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৪৭৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
হাদিস 3763 — Sahih al Bukhari 62:108
حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ الْعَلاَءِ، حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ يُوسُفَ بْنِ أَبِي إِسْحَاقَ، قَالَ حَدَّثَنِي أَبِي، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، قَالَ حَدَّثَنِي الأَسْوَدُ بْنُ يَزِيدَ، قَالَ سَمِعْتُ أَبَا مُوسَى الأَشْعَرِيَّ ـ رضى الله عنه ـ يَقُولُ قَدِمْتُ أَنَا وَأَخِي مِنَ الْيَمَنِ، فَمَكُثْنَا حِينًا مَا نُرَى إِلاَّ أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ مَسْعُودٍ رَجُلٌ مِنْ أَهْلِ بَيْتِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، لِمَا نَرَى مِنْ دُخُولِهِ وَدُخُولِ أُمِّهِ عَلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم.
আসওয়াদ ইবনু ইয়াযীদ (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আবূ মূসা আশ‘আরী (রাঃ)-কে বলতে শুনেছি যে, আমি এবং আমার ভাই ইয়ামান হতে মদিনা্তে আসি এবং বেশ কিছুদিন মদিনা্তে অবস্থান করি। তখন আমরা মনে করতাম যে, ‘আবদুল্লাহ ইবনু মাস‘ঊদ (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পরিবারেরই একজন লোক। কারণ আমরা তাঁকে এবং তাঁর মাকে সর্বদা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ঘরে প্রবেশ করতে দেখতাম। (৪৩৮৪, মুসলিম ৪৪/২২ হাঃ ২৪৬০) (১৪০৮আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৪৮০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
ইবনু আবূ মুলাইকাহ (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার মু‘আবিয়াহ (রাঃ) ‘ইশার সালাতের পর এক রাক‘আত বিতরের সালাত আদায় করেন। তখন তাঁর নিকট ইবনু ‘আব্বাসের আযাদকৃত গোলাম হাযির ছিলেন। তিনি ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)-এর নিকট ঘটনাটি বর্ণনা করেন, তখন ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) বললেন, তাঁকে কিছু বলোনা, কেননা, তিনি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহচর্য লাভ করেছেন। (৩৭৬৫) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৪৮১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
ইবনু আবূ মুলায়কাহ (রহ.) হতে বর্ণিত। ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)-কে বলা হল, আপনি আমীরুল মু’মিনীন মু‘আবিয়াহ (রাঃ)-এর সঙ্গে এ বিষয় আলাপ করবেন কি? যেহেতু তিনি বিতর সালাত এক রাক‘আত আদায় করেছেন। ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) বললেন, তিনি ঠিকই করেছেন, কারণ তিনি নিজেই একজন ফকীহ্। (৩৭৬৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৪৮২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
হাদিস 3766 — Sahih al Bukhari 62:111
حَدَّثَنِي عَمْرُو بْنُ عَبَّاسٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ أَبِي التَّيَّاحِ، قَالَ سَمِعْتُ حُمْرَانَ بْنَ أَبَانَ، عَنْ مُعَاوِيَةَ ـ رضى الله عنه ـ قَالَ إِنَّكُمْ لَتُصَلُّونَ صَلاَةً لَقَدْ صَحِبْنَا النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَمَا رَأَيْنَاهُ يُصَلِّيهَا، وَلَقَدْ نَهَى عَنْهُمَا، يَعْنِي الرَّكْعَتَيْنِ بَعْدَ الْعَصْرِ.
মু‘আবিয়াহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, তোমরা এমন এক সালাত আদায় কর, আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গ লাভ করেছি, আমরা তাঁকে তা আদায় করতে দেখিনি বরং তিনি এ দু’রাক‘আত সালাত আদায় করতে নিষেধ করেছেন। অর্থাৎ ‘আসরের পর দু’ রাক‘আত। (৫৮৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৪৮৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
হাদিস 3767 — Sahih al Bukhari 62:112
حَدَّثَنَا أَبُو الْوَلِيدِ، حَدَّثَنَا ابْنُ عُيَيْنَةَ، عَنْ عَمْرِو بْنِ دِينَارٍ، عَنِ ابْنِ أَبِي مُلَيْكَةَ، عَنِ الْمِسْوَرِ بْنِ مَخْرَمَةَ ـ رضى الله عنهما ـ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " فَاطِمَةُ بَضْعَةٌ مِنِّي، فَمَنْ أَغْضَبَهَا أَغْضَبَنِي ".
وَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَاطِمَةُ سَيِّدَةُ نِسَاءِ أَهْلِ الْجَنَّةِ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ফাতিমাহ (রাঃ) জান্নাতী নারীদের নেত্রী। ৩৭৬৭. মিসওয়ার ইবনু মাখরামাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলূল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ফাতিমাহ আমার অংশ বিশেষ। যে তাকে কষ্ট দিল সে আমাকেই কষ্ট দিল। (৯২৬) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৪৮৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
হাদিস 3768 — Sahih al Bukhari 62:113
حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ بُكَيْرٍ، حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، عَنْ يُونُسَ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، قَالَ أَبُو سَلَمَةَ إِنَّ عَائِشَةَ ـ رضى الله عنها ـ قَالَتْ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَوْمًا " يَا عَائِشَ، هَذَا جِبْرِيلُ يُقْرِئُكِ السَّلاَمَ ". فَقُلْتُ وَعَلَيْهِ السَّلاَمُ وَرَحْمَةُ اللَّهِ وَبَرَكَاتُهُ، تَرَى مَا لاَ أَرَى. تُرِيدُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم.
‘আয়িশাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হে ‘আয়িশাহ! জিবরাঈল (আঃ) তোমাকে সালাম বলেছেন। আমি উত্তরে বললাম, ‘‘ওয়া আলাইহিস্ সালাম ওয়ারহমাতুল্লাহি ওয়াবারাকাতুহু। আপনি যা দেখতে পান আমি তা দেখতে পাই না। এ কথা দ্বারা তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বুঝিয়েছেন। (৩২১৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৪৮৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)