وَقَالَ عُمَرُ أَخْرِجَاهُ مِنْ الْمَسْجِدِ وَيُذْكَرُ عَنْ عَلِيٍّ نَحْوُهُ. ‘উমার (রাঃ) বলেন, তোমরা দু’জন একে মাসজিদ হতে বাইরে নিয়ে যাও। ‘আলী (রাঃ) থেকেও এরকমই বর্ণিত হয়েছে। ৭১৬৭. আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। এক লোক রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এল। তখন তিনি ছিলেন মসজিদে। লোকটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে ডেকে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আমি যিনা করে ফেলেছি। তিনি তাঁর থেকে মুখ ঘুরিয়ে নিলেন। এভাবে সে যখন নিজের সম্পর্কে চারবার সাক্ষ্য দিল, তখন তিনি বললেনঃ তুমি কি পাগল? লোকটি বলল, না। তখন তিনি বললেনঃ একে নিয়ে যাও এবং রজম কর। [৫২৭১] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৬৬৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
হাদিস 7168 — Sahih al Bukhari 93:32
قَالَ ابْنُ شِهَابٍ فَأَخْبَرَنِي مَنْ، سَمِعَ جَابِرَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ كُنْتُ فِيمَنْ رَجَمَهُ بِالْمُصَلَّى. رَوَاهُ يُونُسُ وَمَعْمَرٌ وَابْنُ جُرَيْجٍ عَنِ الزُّهْرِيِّ عَنْ أَبِي سَلَمَةَ عَنْ جَابِرٍ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فِي الرَّجْمِ.
ইবনু শিহাব বলেন, জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ্ (রাঃ) হতে যিনি শুনেছেন, তিনি আমাকে বলেছেন যে, যারা তাকে জানাযা পড়ার জায়গায় নিয়ে রজম করেছিলেন আমি তাদের মধ্যে ছিলাম। ইউনুস, মা‘মার ও ইবনু জুরায়জ (রহ.) জাবির (রাঃ) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রজমের ব্যাপারে এ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। [৫২৭০] (আধুনিক প্রকাশনী- নাই, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
হাদিস 7169 — Sahih al Bukhari 93:33
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْلَمَةَ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ هِشَامٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ زَيْنَبَ ابْنَةِ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ ـ رضى الله عنها ـ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِنَّمَا أَنَا بَشَرٌ، وَإِنَّكُمْ تَخْتَصِمُونَ إِلَىَّ، وَلَعَلَّ بَعْضَكُمْ أَنْ يَكُونَ أَلْحَنَ بِحُجَّتِهِ مِنْ بَعْضٍ فَأَقْضِي نَحْوَ مَا أَسْمَعُ، فَمَنْ قَضَيْتُ لَهُ بِحَقِّ أَخِيهِ شَيْئًا فَلاَ يَأْخُذْهُ، فَإِنَّمَا أَقْطَعُ لَهُ قِطْعَةً مِنَ النَّارِ ".
উম্মু সালামাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমি মানুষ ছাড়া অন্য কিছু নই। তোমরা আমার কাছে ঝগড়া বিবাদ নিয়ে আসো। হয়ত তোমাদের কেউ অন্যজনের অপেক্ষা প্রমাণ পেশের ব্যাপারে অধিক বাকপটু। আর আমি তো যেমন শুনি তার ভিত্তিতেই বিচার করে থাকি। কাজেই আমি যদি কারো জন্য তার অন্য ভাইয়ের হক সম্পর্কে কোন সিদ্ধান্ত দেই, তাহলে সে যেন তা গ্রহণ না করে। কেননা, আমি তার জন্য যে অংশ নির্ধারণ করলাম তা তো কেবল এক টুকরা আগুন। [২৪৫৮] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৬৬৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
وَقَالَ شُرَيْحٌ الْقَاضِي وَسَأَلَهُ إِنْسَانٌ الشَّهَادَةَ فَقَالَ ائْتِ الأَمِيرَ حَتَّى أَشْهَدَ لَكَ وَقَالَ عِكْرِمَةُ قَالَ عُمَرُ لِعَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَوْفٍ لَوْ رَأَيْتَ رَجُلاً عَلَى حَدٍّ زِنًا أَوْ سَرِقَةٍ وَأَنْتَ أَمِيرٌ فَقَالَ شَهَادَتُكَ شَهَادَةُ رَجُلٍ مِنْ الْمُسْلِمِينَ قَالَ صَدَقْتَ قَالَ عُمَرُ لَوْلاَ أَنْ يَقُولَ النَّاسُ زَادَ عُمَرُ فِي كِتَابِ اللهِ لَكَتَبْتُ آيَةَ الرَّجْمِ بِيَدِي وَأَقَرَّ مَاعِزٌ عِنْدَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِالزِّنَا أَرْبَعًا فَأَمَرَ بِرَجْمِهِ وَلَمْ يُذْكَرْ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَشْهَدَ مَنْ حَضَرَهُ وَقَالَ حَمَّادٌ إِذَا أَقَرَّ مَرَّةً عِنْدَ الْحَاكِمِ رُجِمَ وَقَالَ الْحَكَمُ أَرْبَعًا. বিচারক শুরায়হকে এক লোক তার পক্ষে সাক্ষ্য দেয়ার আবেদন করলে তিনি তাকে বললেন, তুমি শাসকের কাছে যাও, সেখানে আমি তোমার পক্ষে সাক্ষ্য দিব। ইক্রামাহ (রহ.) বলেন, ‘উমার (রাঃ) ‘আবদুর রহমান ইবনু ‘আওফ (রাঃ)-কে বললেন, যদি তুমি শাসক হও, আর তুমি নিজে কোন লোককে হদের কাজ যিনা বা চুরিতে লিপ্ত দেখ (সে অবস্থায় তুমি কী করবে?) জওয়াবে তিনি বললেন (আপনি শাসক হলেও) আপনার সাক্ষ্য সাধারণ একজন মুসলিমের সাক্ষ্যের মতই। তিনি [‘উমার (রাঃ)] বললেন, তুমি ঠিকই বলেছ। ‘উমার (রাঃ) বলেন, যদি মানুষ এ কথা বলবে বলে আশংকা না হত যে, ‘উমার আল্লাহর কিতাবে নিজের পক্ষ থেকে বাড়িয়ে দিয়েছে, তাহলে আমি নিজ হাতে রজমের আয়াত লিখে দিতাম। মায়েয নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট চারবার যিনার কথা স্বীকার করেছিলেন; তখন তাকে রজম করার আদেশ দেন। আর এমন বর্ণনা পাওয়া যায় না যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উপস্থিত লোকেদের নিকট থেকে সাক্ষ্য গ্রহণ করেছেন। হাম্মাদ (রহ.) বলেন, বিচারকের কাছে কেউ একবার স্বীকার করলে তাকে রজম করা হবে। আর হাকাম (রহ.) বলেন, চারবার স্বীকার করতে হবে। ৭১৭০. আবূ ক্বাতাদাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, হুনায়নের দিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, শত্রুপক্ষের কোন নিহত লোককে হত্যা করা সম্পর্কে যার সাক্ষী আছে, সেই তার ছেড়ে যাওয়া সম্পদ পাবে। (রাবী বলেন) আমি আমার দ্বারা নিহত ব্যক্তির সাক্ষী খুঁজতে দাঁড়ালাম। কিন্তু আমার সম্পর্কে সাক্ষ্য দিবে এমন কেউ দেখতে পেলাম না, কাজেই আমি বসে গেলাম। তারপর আমার খেয়াল হল। আমি তাই হত্যার ব্যাপারটি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট জানালাম। তখন তাঁর নিকট বসা লোকদের মধ্যে একজন বলল, যে নিহত লোকটির আলোচনা চলছে তার হাতিয়ার আমার কাছে আছে। অতএব আপনি তাকে আমার পক্ষ হয়ে খুশি করে দিন। আবূ বকর (রাঃ) বললেন, কক্ষনো না। আপনি এই পাংশুবর্ণ কুরাইশকে কক্ষনো দিবেন না। আল্লাহ্ ও রাসূলের হয়ে যে আল্লাহর সিংহ যুদ্ধ করছে, তাকে আপনি বঞ্চিত করবেন। রাবী বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিষয়টি বুঝতে পারলেন এবং তা আমাকে দিলেন। আমি তা দিয়ে একটি বাগান কিনলাম। এটাই ছিল আমার প্রথম সম্পদ, যা আমি মূলধন হিসাবে সংরক্ষণ করেছিলাম। ‘আবদুল্লাহ্ (রহ.) লায়সের সূত্রে হাদীসটি বর্ণনা করতে فَعلم رسول الله এর স্থলে فَقَامَ النَّبِيُّ (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাঁড়িয়ে গেলেন) বর্ণনা করেছেন। হিজাযের আলিমরা বলেন, শাসক তার জ্ঞান অনুসারে বিচার করবে না, তা পদে আসীনকালে দেখে থাকুক, কিংবা তার আগে। তাদের কারো কারো মতে যদি বাদী বিবাদীর কোন এক পক্ষ অপর পক্ষের হকের ব্যাপারে বিচার চলাকালে তার সামনে স্বীকার করে তা হলেও তার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত দেয়া যাবে না, যতক্ষণ পর্যন্ত দু’জন সাক্ষী ডেকে সে ব্যক্তির স্বীকারোক্তির সময় তাদের হাজির না রাখবেন। কোন কোন ইরাকী আলিম বলেন, বিচার চলার সময় যা কিছু শুনবে বা দেখবে তার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত দিবে। তবে অন্য জায়গায় যা কিছু শুনবে বা দেখবে দু’জন সাক্ষী ব্যতীত ফায়সালা দিতে পারবে না। তাদের অন্যরা বলেন বরং তার ভিত্তিতে ফায়সালা দিতে পারবে। কেননা সে তো বিশ্বস্ত। আর সাক্ষ্য গ্রহণের উদ্দেশ্য হল প্রকৃত সত্যকে জানা। সুতরাং তার জানা (সাক্ষীর) সাক্ষ্যের চেয়ে বেশি নির্ভরযোগ্য। তাদের অন্য কেউ বলেন যে, মাল সংক্রান্ত বিষয়ে বিচারক তার নিজের জানার ভিত্তিতে ফায়সালা দিবে। তবে অন্য ব্যাপারে নয়। কাসেম (রহ.) বলেন যে, অপরের সাক্ষ্য গ্রহণ ব্যতীত শাসকের নিজের জ্ঞান মুতাবেক ফায়সালা দেয়া উচিত নয়, যদিও তার জানা অন্যের সাক্ষ্যের চেয়ে বেশি নির্ভরযোগ্য তবুও। এতে মুসলিম জনসাধারণের কাছে নিজেকে অপবাদের মুখে পড়তে হয় এবং তাদেরকে সন্দেহে ফেলা হয়। কারণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সন্দেহ করাকে পছন্দ করতেন না। এজন্যেই তিনি পথচারীকে ডেকে বলে দিয়েছেনঃ এ হচ্ছে সফীয়্যাহ (আমার স্ত্রী)। [২১০০] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৬৬৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
হাদিস 7171 — Sahih al Bukhari 93:35
حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ حُسَيْنٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم أَتَتْهُ صَفِيَّةُ بِنْتُ حُيَىٍّ فَلَمَّا رَجَعَتِ انْطَلَقَ مَعَهَا، فَمَرَّ بِهِ رَجُلاَنِ مِنَ الأَنْصَارِ فَدَعَاهُمَا فَقَالَ " إِنَّمَا هِيَ صَفِيَّةُ ". قَالاَ سُبْحَانَ اللَّهِ. قَالَ " إِنَّ الشَّيْطَانَ يَجْرِي مِنِ ابْنِ آدَمَ مَجْرَى الدَّمِ ". رَوَاهُ شُعَيْبٌ وَابْنُ مُسَافِرٍ وَابْنُ أَبِي عَتِيقٍ وَإِسْحَاقُ بْنُ يَحْيَى عَنِ الزُّهْرِيِّ عَنْ عَلِيٍّ ـ يَعْنِي ابْنَ حُسَيْنٍ ـ عَنْ صَفِيَّةَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم.
‘আলী ইবনু হুসাইন (রহ.) হতে বর্ণিত। উম্মুল মু‘মিনীন সফীয়্যাহ বিনত হুয়াই (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসেছিলেন। যখন তিনি ফিরে যাচ্ছিলেন তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সাথে সাথে হাঁটছিলেন। এমন সময় দু’জন আনসারী তাঁর পাশ দিয়ে অতিক্রম করল। তিনি তাঁদেরকে ডাকলেন এবং বললেনঃ এ হচ্ছে সফীয়্যাহ। তাঁরা বলল, সুবহানাল্লাহ্ (আমরা আপনার ব্যাপারে সন্দেহ করব নাকি?) তিনি বললেনঃ শয়তান বানী আদমের শিরায় শিরায় বিচরণ করে। শু‘আয়ব ..... সফীয়্যাহ (রাঃ) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে এ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।[1] [৭১৭১] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৬৭০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
আবূ বুরদাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার পিতা ও মু‘আয ইবনু জাবালকে ইয়ামানে প্রেরণ করলেন। তখন তিনি বললেন, তোমরা সহজ করো, কঠোর করো না [1], তাদের সুসংবাদ দাও, ভয় দেখায়ও না এবং পরস্পর পরস্পরকে মেনে চলো। তখন আবূ মূসা (রাঃ) তাঁকে বললেন, আমাদের দেশে ‘বিত্’ নামীয় এক ধরণের পানীয় প্রস্তুত করা হয়। জওয়াবে তিনি বললেনঃ প্রত্যেক নেশা সৃষ্টিকারী বস্তুই হারাম। নাযর, আবূ দাঊদ, ইয়াযিদ ইবনু হারুন, ওকী (রহ.) ..... সা‘ঈদ-এর দাদা আবূ মূসা (রাঃ) সূত্রে হাদীসটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন। [২২৬১] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৬৭১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
হাদিস 7173 — Sahih al Bukhari 93:37
حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، عَنْ سُفْيَانَ، حَدَّثَنِي مَنْصُورٌ، عَنْ أَبِي وَائِلٍ، عَنْ أَبِي مُوسَى، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " فُكُّوا الْعَانِيَ وَأَجِيبُوا الدَّاعِيَ ".
وَقَدْ أَجَابَ عُثْمَانُ بْنُ عَفَّانَ عَبْدًا لِلْمُغِيرَةِ بْنِ شُعْبَةَ ‘উসমান (রাঃ) মুগীরাহ ইবনু শু‘বাহ (রাঃ)-এর ক্রীতদাসের দাওয়াত গ্রহণ করেছিলেন। ৭১৭৩. আবূ মূসা (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ বন্দীদেরকে মুক্ত কর, আর দাওয়াতদাতার দাওয়াত গ্রহণ কর। [৩০৪৬] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৬৭২, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
আবূ হুমায়দ আস্-সা‘ঈদী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বানী আসাদ গোত্রের ইবনু লুতাবিয়্যা নামের এক লোককে যাকাত আদায়ের জন্য কর্মচারী বানালেন। সে যখন ফিরে এল, তখন বলল, এগুলো আপনাদের আর এগুলো আমাকে হাদিয়া দেয়া হয়েছে। এ কথা শোনার পর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিম্বরের উপর দাঁড়ালেন। সুফ্ইয়ান কখনো বলেন, তিনি মিম্বরের উপর উঠলেন এবং আল্লাহর হামদ ও সানা করলেন। এরপর বললেনঃ কর্মকর্তার কী হল! আমি তাকে পাঠাই, তারপর সে ফিরে এসে বলল, এগুলো আপনার আর এগুলো আমার। সে তার বাপের বাড়ি কিংবা মায়ের বাড়িতে বসে থেকে দেখত যে, তাকে হাদিয়া দেয়া হয় কিনা? যে সত্তার হাতে আমার প্রাণ তাঁর কসম! যা কিছুই সে গ্রহণ করবে, কিয়ামতের দিন তা কাঁধে বয়ে নিয়ে হাজির হবে। যদি উট হয়, তাহলে তা চিৎকার করবে, যদি গাভী হয় তবে তা হাম্বা হাম্বা করবে, অথবা যদি বক্রী হয় তাহলে তা ভ্যাঁ ভ্যাঁ করবে। তারপর তিনি উভয় হাত উঠালেন। এমনকি আমরা তাঁর দু’ বগলের শুভ্র ঔজ্জ্বল্য দেখতে পেলাম। তারপর বললেন, শোন! আমি কি আল্লাহর হুকুম পৌঁছে দিয়েছি? এ কথাটি তিনি তিনবার বললেন। সুফ্ইয়ান বলেন, আমাদের কাছে যুহরী এ রেওয়ায়াত বর্ণনা করেছেন। তবে হিশাম তার পিতার সূত্রে আবূ হুমায়দ থেকে বর্ণনা করতে আর একটু বৃদ্ধি করে বলেছেন যে, তিনি (আবূ হুমায়দ) বলেছেন, আমার দু’ কান তা শুনেছে এবং দু’চোখ তা দেখেছে। যায়দ ইবনু সাবিতকে জিজ্ঞেস কর, সেও আমার সঙ্গে শুনেছিল। আমি বলল ‘‘দু’ কান শুনেছে এবং দু’চোখ তাকে দেখেছে’’ যুহরী এ কথা বলেননি। [বুখারী (রহ.) বলেন] خُوَارٌ বলা হয় শব্দকে। আর خُؤََارٌ থেকে يحرءون গরুর শব্দের মত চেঁচানো।[1] [৯২৫] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৬৭৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
হাদিস 7175 — Sahih al Bukhari 93:39
حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ صَالِحٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي ابْنُ جُرَيْجٍ، أَنَّ نَافِعًا، أَخْبَرَهُ أَنَّ ابْنَ عُمَرَ ـ رضى الله عنهما ـ أَخْبَرَهُ قَالَ كَانَ سَالِمٌ مَوْلَى أَبِي حُذَيْفَةَ يَؤُمُّ الْمُهَاجِرِينَ الأَوَّلِينَ وَأَصْحَابَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فِي مَسْجِدِ قُبَاءٍ، فِيهِمْ أَبُو بَكْرٍ وَعُمَرُ وَأَبُو سَلَمَةَ وَزَيْدٌ وَعَامِرُ بْنُ رَبِيعَةَ.
ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবূ হুযাইফাহর আযাদকৃত দাস সালিম (রাঃ) মসজিদে কুবাতে প্রথম পর্যায়ের মুহাজিরীন ও নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবীদের ইমামত করতেন। যাদের মাঝে ছিলেন আবূ বকর, ‘উমার, আবূ সালামাহ, যায়দ ও ‘আমির ইবনু রাবীআ (রাঃ)। [৬৯২] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৬৭৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
‘উরওয়াহ ইবনু যুবায়র (রহঃ) হতে বর্ণিত যে, মারওয়ান ইবনু হাকাম ও মিসওয়ার ইবনু মাখরামাহ (রাঃ) তার কাছে বর্ণনা করেছেন যে, হাওয়াযেনের বন্দীদেরকে মুক্ত করার ব্যাপারে মুসলিমরা যখন এসে সর্বসম্মতভাবে অনুমতি দিলেন, তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমাদের মধ্যে কে অনুমতি দিয়েছ, আর কে দাওনি, তা আমি বুঝতে পারিনি। কাজেই তোমরা ফিরে যাও, তোমাদের প্রতিনিধিরা তোমাদের মতামত জেনে আমার নিকট আসবে। লোকেরা ফিরে গেল এবং তাদের প্রতিনিধিরা তাদের সঙ্গে এ সম্পর্কে আলোচনা করল। পরে তারা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট ফিরে এসে তাঁকে সংবাদ দিল যে, লোকেরা সন্তোষ সহকারে অনুমতি দিয়েছে।[1] [২৩০৭, ২৩০৮] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৬৭৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)