‘উরওয়াহ ইবনু যুবায়র (রহঃ) হতে বর্ণিত যে, মারওয়ান ইবনু হাকাম ও মিসওয়ার ইবনু মাখরামাহ (রাঃ) তার কাছে বর্ণনা করেছেন যে, হাওয়াযেনের বন্দীদেরকে মুক্ত করার ব্যাপারে মুসলিমরা যখন এসে সর্বসম্মতভাবে অনুমতি দিলেন, তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমাদের মধ্যে কে অনুমতি দিয়েছ, আর কে দাওনি, তা আমি বুঝতে পারিনি। কাজেই তোমরা ফিরে যাও, তোমাদের প্রতিনিধিরা তোমাদের মতামত জেনে আমার নিকট আসবে। লোকেরা ফিরে গেল এবং তাদের প্রতিনিধিরা তাদের সঙ্গে এ সম্পর্কে আলোচনা করল। পরে তারা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট ফিরে এসে তাঁকে সংবাদ দিল যে, লোকেরা সন্তোষ সহকারে অনুমতি দিয়েছে।[1] [২৩০৭, ২৩০৮] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৬৭৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
মুহাম্মাদ ইবনু যায়দ ইবনু ‘আবদুল্লাহ্ ইবনু ‘উমার তার পিতা হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, কয়েকজন লোক ইবনু ‘উমার (রাঃ)-কে বলল, আমরা আমাদের শাসকের কাছে গিয়ে তার এমন কথা বলি, তার নিকট থেকে বাইরে আসার পর সে কথার উল্টো বলি। তিনি বললেন, আমরা এটাকেই নিফাক বলে গণ্য করতাম। (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৬৭৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
হাদিস 7179 — Sahih al Bukhari 93:42
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي حَبِيبٍ، عَنْ عِرَاكٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّهُ سَمِعَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " إِنْ شَرَّ النَّاسِ ذُو الْوَجْهَيْنِ، الَّذِي يَأْتِي هَؤُلاَءِ بِوَجْهٍ وَهَؤُلاَءِ بِوَجْهٍ ".
আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছেন- দু'মুখো লোকেরা সবচেয়ে খারাপ যারা এদের কাছে এক চেহারা নিয়ে আসে আবার ওদের কাছে আর এক চেহারা নিয়ে আসে। [৩৪৯৪] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৬৭৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
হাদিস 7180 — Sahih al Bukhari 93:43
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ كَثِيرٍ، أَخْبَرَنَا سُفْيَانُ، عَنْ هِشَامٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ ـ رضى الله عنها ـ أَنَّ هِنْدَ، قَالَتْ لِلنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم إِنَّ أَبَا سُفْيَانَ رَجُلٌ شَحِيحٌ، فَأَحْتَاجُ أَنْ آخُذَ مِنْ مَالِهِ. قَالَ " خُذِي مَا يَكْفِيكِ وَوَلَدَكِ بِالْمَعْرُوفِ ".
‘আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, হিন্দা (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলল, আবূ সুফ্ইয়ান (রাঃ) বড় কৃপণ লোক। কাজেই তার সম্পদ থেকে কিছু নিতে আমি বাধ্য হয়ে পড়ি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমার ও সন্তানের জন্য যতটা প্রয়োজন ন্যায়সঙ্গতভাবে ততটা নিতে পার। [২২১১] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৬৭৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
যাইনাব বিন্ত আবূ সালামাহ (রাঃ) বর্ণনা করেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সহধর্মিণী উম্মু সালামাহ (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে তার কাছে বর্ণনা করেছেন যে, একবার তিনি তাঁর কক্ষের দরজায় ঝগড়া বিবাদের শব্দ শুনতে পেলেন। এরপর তিনি তাদের কাছে এসে বললেন, আমি তো একজন মানুষ। আমার নিকট বাদী-বিবাদীরা আসে। হয়ত তোমাদের মাঝে কেউ অন্যের তুলনায় কথায় পটু। আমি মনে করি যে সে সত্যবাদী। ফলে আমি তার পক্ষে ফায়সালা করি। কিন্তু আমি যদি কোন মুসলিমের হক অন্য কারো জন্য ফায়সালা করি, তাহলে সেটা এক খন্ড আগুন ব্যতীত আর কিছু নয়। কাজেই সে চাইলে তা গ্রহণ করুক অথবা তা ত্যাগ করুক। [২৪৫৮] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৬৭৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
হাদিস 7182 — Sahih al Bukhari 93:45
حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ، قَالَ حَدَّثَنِي مَالِكٌ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ عُرْوَةَ بْنِ الزُّبَيْرِ، عَنْ عَائِشَةَ، زَوْجِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهَا قَالَتْ كَانَ عُتْبَةُ بْنُ أَبِي وَقَّاصٍ عَهِدَ إِلَى أَخِيهِ سَعْدِ بْنِ أَبِي وَقَّاصٍ أَنَّ ابْنَ وَلِيدَةِ زَمْعَةَ مِنِّي فَاقْبِضْهُ إِلَيْكَ. فَلَمَّا كَانَ عَامُ الْفَتْحِ أَخَذَهُ سَعْدٌ فَقَالَ ابْنُ أَخِي، قَدْ كَانَ عَهِدَ إِلَىَّ فِيهِ، فَقَامَ إِلَيْهِ عَبْدُ بْنُ زَمْعَةَ فَقَالَ أَخِي وَابْنُ وَلِيدَةِ أَبِي، وُلِدَ عَلَى فِرَاشِهِ. فَتَسَاوَقَا إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ سَعْدٌ يَا رَسُولَ اللَّهِ ابْنُ أَخِي، كَانَ عَهِدَ إِلَىَّ فِيهِ. وَقَالَ عَبْدُ بْنُ زَمْعَةَ أَخِي وَابْنُ وَلِيدَةِ أَبِي، وُلِدَ عَلَى فِرَاشِهِ. فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " هُوَ لَكَ يَا عَبْدُ بْنَ زَمْعَةَ ". ثُمَّ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " الْوَلَدُ لِلْفِرَاشِ، وَلِلْعَاهِرِ الْحَجَرُ ". ثُمَّ قَالَ لِسَوْدَةَ بِنْتِ زَمْعَةَ " احْتَجِبِي مِنْهُ "، لِمَا رَأَى مِنْ شَبَهِهِ بِعُتْبَةَ، فَمَا رَآهَا حَتَّى لَقِيَ اللَّهَ تَعَالَى.
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম’র স্ত্রী ‘আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, উতবাহ ইবনু আবূ ওয়াক্কাস তাঁর ভাই সা‘দ ইবনু আবূ ওয়াক্কাস-কে ওসিয়ত করেন যে, যাম্আ-এর বাঁদীর গর্ভজাত সন্তানটি আমরের ঔরস থেকে জন্মেছে। কাজেই তাকে তুমি তোমার হেফাজতে নিয়ে এসো। মক্কা বিজয়ের বছর সা‘দ (রাঃ) তাকে ধরলেন এবং বললেন, আমার ভাই এ ছেলের সম্পর্কে আমাকে ওসিয়ত করেছিলেন। তখন আবদ ইবনু যাম‘আহ দাঁড়াল এবং বলল, এ আমার ভাই, আমার পিতার বাঁদীর পেটের সন্তান। আমার পিতার ঔরসে তার জন্ম। তারপর তারা দু’জনেই বিষয়টি নিয়ে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে বিচার প্রার্থী হলেন। সা‘দ বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! এ আমার ভাইয়ের ছেলে। আমার ভাই এর ব্যাপারে আমাকে ওসিয়ত করে গেছেন। আবদ ইবনু যাম‘আহ বলল, এ হচ্ছে আমার ভাই, আমার পিতার বাঁদীর পেটের সন্তান। আমার পিতার ঔরসেই তার জন্ম। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হে আব্দ ইবনু যাম‘আহ! সে তোমারই। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ সন্তান হল বিছানার মালিকেরই আর ব্যভিচারীর জন্য পাথর। পরে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উত্বাহর সঙ্গে এ ছেলেটির চেহারার মিল দেখে, সাওদা বিনত যাম‘আহ (রাঃ)-কে বললেনঃ এর থেকে পর্দা কর। সে জন্য মুত্যুর আগে পর্যন্ত ছেলেটি সাওদা (রাঃ)-কে দেখতে পাইনি। [২০৫৩] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৬৮০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
যখন ‘আবদুল্লাহ্ (রাঃ) তাদেরকে হাদীস বর্ণনা করছিলেন, তখন আশ‘আস ইবনু কায়স (রাঃ) এলেন এবং বললেন যে এ আয়াতটি আমি ও অন্য একটি লোক সম্পর্কে নাযিল হয়েছে। একটি কূয়া নিয়ে যার সাথে আমি বিবাদ করেছিলাম। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, তোমার কাছে প্রমাণ আছে কি? আমি বললাম, না। তিনি বললেনঃ তাহলে সে কসম করুক। আমি বললাম, সে কসম করবেই। তখন এ আয়াতটি অবতীর্ণ হয়: ‘‘যারা আল্লাহর সাথে কৃত ওয়াদা এবং নিজেদের শপথকে নগণ্য মূল্যে বিক্রয় করে.....’’- (সূরাহ আলে ‘ইমরান ৩/৭৭)। [২৩৫৭] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৬৮১ শেষাংশ, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
যখন ‘আবদুল্লাহ্ (রাঃ) তাদেরকে হাদীস বর্ণনা করছিলেন, তখন আশ‘আস ইবনু কায়স (রাঃ) এলেন এবং বললেন যে এ আয়াতটি আমি ও অন্য একটি লোক সম্পর্কে নাযিল হয়েছে। একটি কূয়া নিয়ে যার সাথে আমি বিবাদ করেছিলাম। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, তোমার কাছে প্রমাণ আছে কি? আমি বললাম, না। তিনি বললেনঃ তাহলে সে কসম করুক। আমি বললাম, সে কসম করবেই। তখন এ আয়াতটি অবতীর্ণ হয়: ‘‘যারা আল্লাহর সাথে কৃত ওয়াদা এবং নিজেদের শপথকে নগণ্য মূল্যে বিক্রয় করে.....’’- (সূরাহ আলে ‘ইমরান ৩/৭৭)। [২৩৫৭] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৬৮১ শেষাংশ, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
وَقَالَ ابْنُ عُيَيْنَةَ عَنْ ابْنِ شُبْرُمَةَ الْقَضَاءُ فِي قَلِيلِ الْمَالِ وَكَثِيرِهِ سَوَاءٌ ইবনু ‘উয়াইনাহ ইবনু শুবরুমা-এর সূত্রে বলেন যে, অল্প মাল আর বেশি মালের বিচারের বিধান একই রকম। ৭১৮৫. উম্মু সালামাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর দরজার পাশে ঝগড়া বিবাদের আওয়াজ শুনতে পেলেন। তাই তিনি তাদের কাছে বেরিয়ে গেলেন এবং বললেনঃ আমি একজন মানুষ মাত্র। ঝগড়া বিবাদ আমার কাছে নিয়ে আসা হয়। হয়ত তাদের কেউ অন্যের চেয়ে পটুভাষী। আমি তার ভিত্তিতে ফায়সালা করি এবং আমি মনে করি সে সত্যবাদী। সুতরাং আমি যদি কাউকে অন্য মুসলিমের হক দেয়ার ফায়সালা করি তাহলে তা (তার জন্য) এক টুকরা আগুন ছাড়া কিছু নয়। কাজেই সে তা গ্রহণ করুক কিংবা ছেড়ে দিক। [২৪৫৮] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৬৮২, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
وَقَدْ بَاعَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مُدَبَّرًا مِنْ نُعَيْمِ بْنِ النَّحَّامِ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইবনু নাহ্হামের পক্ষে বিক্রি করেছেন। ৭১৮৬. জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে খবর পৌঁছল যে, তাঁর সাহাবীদের একজন তার গোলামকে এই শর্তে আযাদ করলেন যে মৃত্যুর পর তা কার্যকর হবে। অথচ তাঁর এছাড়া আর কোন সম্পদ ছিল না। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গোলামটিকে আটশ‘ দিরহামে বিক্রি করলেন এবং তার মূল্য তার কাছে পাঠিয়ে দিলেন। [২১৪১; মুসলিম ১২/১৩, হাঃ ৯৯৭, আহমাদ ১৪২৭৭] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৬৮৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)