حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ أَبِي يَعْقُوبَ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ الْكَرْمَانِيُّ، حَدَّثَنَا حَسَّانُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنَا يُونُسُ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عُرْوَةَ، أَنَّ عَائِشَةَ، رضى الله عنها قَالَتْ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " رَأَيْتُ جَهَنَّمَ يَحْطِمُ بَعْضُهَا بَعْضًا، وَرَأَيْتُ عَمْرًا يَجُرُّ قُصْبَهُ، وَهْوَ أَوَّلُ مَنْ سَيَّبَ السَّوَائِبَ ".
‘আয়িশাহ (রাঃ) বলেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আমি জাহান্নামকে দেখেছি যে, তার একাংশ অন্য অংশকে ভেঙ্গে ফেলছে বা আক্রমণ করছে, ‘আমরকে দেখেছি সে তার নাড়িভুঁড়ি টেনে নিয়ে হাঁটছে, সে-ই প্রথম ব্যক্তি যে ‘সায়ীবা’র রেওয়াজ চালু করেছিল। [১০৪৪] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪২৬৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
(وَكُنْتُ عَلَيْهِمْ شَهِيْدًا مَّا دُمْتُ فِيْهِمْ جفَلَمَّا تَوَفَّيْتَنِيْ كُنْتَ أَنْتَ الرَّقِيْبَ عَلَيْهِمْ طوَأَنْتَ عَلٰى كُلِّ شَيْءٍ شَهِيْدٌ). ‘‘আর আমি তাদের ব্যাপারে সাক্ষী ছিলাম যতদিন আমি তাদের মধ্যে ছিলাম। তারপর যখন আপনি আমাকে তুলে নিলেন তখন থেকে আপনিই তাদের সম্বন্ধে ওয়াকিফহাল। আর আপনিই সর্ববিষয়ে পূর্ণ জ্ঞাত।’’ (সূরাহ আল-মায়িদাহ ৫/১১৭) ৪৬২৫. ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক দিন খুতবা দিলেন, বললেন, হে লোক সকল! তোমরা নগ্ন পদ, উলঙ্গ এবং খতনাবিহীন অবস্থায় আল্লাহর নিকট একত্রিত হবে, তারপর তিনি পড়লেন,كَمَا بَدَأْنَآ أَوَّلَ خَلْقٍ نُّعِيْدُه وَعْدًا عَلَيْنَا إِنَّا كُنَّا فٰعِلِيْنَ যেভাবে আমি প্রথম সৃষ্টির সূচনা করেছিলাম সেভাবে পুনরায় সৃষ্টি করব, প্রতিশ্রুতি পালন আমার কর্তব্য, আমি তা পালন করবই। আয়াতের শেষ পর্যন্ত। (সূরাহ আম্বিয়া ২১/১০৪) তারপর তিনি বললেন, কিয়ামতের দিন সর্বপ্রথম যাকে বস্ত্র পরিধান করানো হবে তিনি হচ্ছেন ইবরাহীম (আঃ)। তোমরা জেনে রাখ, আমার উম্মতের কতগুলো লোককে হাজির করা হবে এবং তাদেরকে বামদিকে অর্থাৎ জাহান্নামের দিকে দেয়া হবে। আমি তখন বলব, প্রভু হে! এগুলো তো আমার কতক সাহাবী, তখন বলা হবে যে, আপনার পর তারা কী নবোদ্ভাবিত কাজ করেছে তা আপনি জানেন না। এরপর পুণ্যবান বান্দা যেমন বলেছিলেন আমি তেমন বলবঃ كُنْتُ عَلَيْهِمْ شَهِيْدًا مَّا دُمْتُ فِيْهِمْ جفَلَمَّا تَوَفَّيْتَنِيْ كُنْتَ أَنْتَ الرَّقِيْبَ عَلَيْهِمْ ‘‘আমি যতদিন তাদের ছিলাম ততদিন তাদের খোঁজখবর নিয়েছি, অতঃপর আপনি যখন আমাকে উঠিয়ে নিয়েছেন তখন থেকে আপনিই তাদের রক্ষক’’। এরপর বলা হবে আপনি তাদেরকে ছেড়ে আসার পর থেকে তারা পেছনে ফিরে গিয়ে ধর্মত্যাগী হয়েছে। [৩৩৪৯] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪২৬৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন, তোমাদের উঠিয়ে একত্রিত করা হবে এবং কিছু সংখ্যক লোককে বাম দিকে নিয়ে যাওয়া হবে, তখন আমি নেককার বান্দার অর্থাৎ মূসা (আঃ)-এর মতো বলব, وَكُنْتُ عَلَيْهِمْ شَهِيْدًا مَّا دُمْتُ فِيْهِمْ جفَلَمَّا تَوَفَّيْتَنِيْ كُنْتَ أَنْتَ الرَّقِيْبَ عَلَيْهِمْ-إِنْ تُعَذِّبْهُمْ فَإِنَّهُمْ عِبَادُكَ جوَإِنْ تَغْفِرْ لَهُمْ فَإِنَّكَ أَنْتَ الْعَزِيْزُ الْحَكِيْمُ ‘‘আমি যতদিন তাদের মাঝে ছিলাম, ততদিন তাদের খোঁজখবর নিয়েছি, তারপর যখন আপনি আমাকে উঠিয়ে নিয়েছেন তখন থেকে আপনিই তাদের তত্ত্বাবধায়ক। আপনি সব কিছুর ওপরে ক্ষমতাবান। আপনি যদি তাদেরকে শাস্তি দেন তাহলে তারা তো আপনার বান্দা। আর যদি তাদেরকে ক্ষমা করেন তাহলে আপনি পরাক্রমশালী ও সুবিজ্ঞ।’’ [৩৩৪৯] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪২৬৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
‘আবদুল্লাহ ইবনু মাস‘উদ (রাঃ) বলেন, যখন وَلَمْ يَلْبِسُوْآ إِيْمَانَهُمْ بِظُلْمٍ আয়াত অবতীর্ণ হল, তখন তাঁর সহাবাগণ বললেন, ‘‘জুলুম করেনি আমাদের মধ্যে এমন কোন্ ব্যক্তি আছে?’’ এরপর অবতীর্ণ হল إِنَّ الشِّرْكَ لَظُلْمٌ عَظِيْمٌ -‘‘নিশ্চয় শির্ক মহা জুলুম’’- (সূরাহ লুক্বমান ৩১/১৩)। [৩২] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪২৬৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
হাদিস 4630 — Sahih al Bukhari 65:152
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا ابْنُ مَهْدِيٍّ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَبِي الْعَالِيَةِ، قَالَ حَدَّثَنِي ابْنُ عَمِّ، نَبِيِّكُمْ يَعْنِي ابْنَ عَبَّاسٍ ـ رضى الله عنهما ـ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " مَا يَنْبَغِي لِعَبْدٍ أَنْ يَقُولَ أَنَا خَيْرٌ مِنْ يُونُسَ بْنِ مَتَّى ".
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন, ‘‘আমি ইউনুস ইবনু মাত্তা থেকে উত্তম’’ এমন কথা বলা কারও জন্যে শোভনীয় নয়। [৩৩৯৫] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪২৬৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
হাদিস 4631 — Sahih al Bukhari 65:153
حَدَّثَنَا آدَمُ بْنُ أَبِي إِيَاسٍ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، أَخْبَرَنَا سَعْدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ سَمِعْتُ حُمَيْدَ بْنَ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَوْفٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ ـ رضى الله عنه ـ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " مَا يَنْبَغِي لِعَبْدٍ أَنْ يَقُولَ أَنَا خَيْرٌ مِنْ يُونُسَ بْنِ مَتَّى ".
আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন, ‘‘আমি ইউনুস ইবনু মাত্তা (আঃ) থেকে উত্তম’’, এমন কথা বলা কারো জন্য শোভনীয় নয়। [৩৪১৫] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪২৭০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
মুজাহিদ ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করেছিলেন যে, সূরাহ ص-এ সিজদা্ আছে কি না। তিনি উত্তরে বললেন, হ্যাঁ আছে। এরপর এই আয়াত তিলাওয়াত করলেন- وَوَهَبْنَا لَهُ إِسْحَاقَ وَيَعْقُوْبَ ..... فَبِهُدَاهُمُ اقْتَدِهْ তারপর বললেন যে, তিনি অর্থাৎ দাঊদ (আঃ) তাঁদের অন্তর্ভুক্ত। ইয়াযীদ ইবনু হারূন, মুহাম্মাদ ইবনু ‘উবায়দ এবং সাহল ইবনু ইউসুফ আওয়াম থেকে, তিনি মুজাহিদ থেকে একটু বেশি বর্ণনা করেছেন, মুজাহিদ বললেন যে, আমি ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করেছিলাম, এরপর তিনি বললেন, যাদের অনুসরণ করতে বলা হয়েছে তোমাদের নবী তাঁদের অন্তর্ভুক্ত। [৩৪২১] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪২৭১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
হাদিস 4633 — Sahih al Bukhari 65:155
حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ خَالِدٍ، حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي حَبِيبٍ، قَالَ عَطَاءٌ سَمِعْتُ جَابِرَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ ـ رضى الله عنهما ـ سَمِعْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " قَاتَلَ اللَّهُ الْيَهُودَ، لَمَّا حَرَّمَ اللَّهُ عَلَيْهِمْ شُحُومَهَا جَمَلُوهُ ثُمَّ بَاعُوهُ فَأَكَلُوهَا ". وَقَالَ أَبُو عَاصِمٍ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْحَمِيدِ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ، كَتَبَ إِلَىَّ عَطَاءٌ سَمِعْتُ جَابِرًا، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم.
وَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ (كُلَّ ذِيْ ظُفُرٍ) الْبَعِيْرُ وَالنَّعَامَةُ (الْحَوَايَا) الْمَبْعَرُ وَقَالَ غَيْرُهُ (هَادُوْا) صَارُوْا يَهُوْدًا وَأَمَّا قَوْلُهُ هُدْنَا تُبْنَا هَائِدٌ تَائِبٌ. ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) বলেছেন, كُلَّ ذِيْ ظُفُرٍ উট, উটপাখী, الْحَوَايَا অন্ত্রসমূহ। অন্যজন বলেছেন هَادُوْا ইয়াহূদী হয়ে গেছে, তবে আল্লাহর বাণী هُدْنَا মানে تُبْنَا অর্থাৎ আমরা তওবা করেছি, هَائِدٌ تَائِبٌ তওবা্কারী। ৪৬৩৩. জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) বলেছেন যে, আমি নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি যে, আল্লাহ তা‘আলা ইয়াহূদীদেরকে অভিসম্পাত করেছেন, যখন তিনি তাদের উপর চর্বি নিষিদ্ধ করেছেন তখন তারা ওটাকে তরল করে জমা করেছে, তারপর বিক্রি করে তার মূল্য ভক্ষণ করেছে। আবূ আসিম (রহ.) ..... হাদীস বর্ণনা করেছেন জাবির (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে। [২২৩৬] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪২৭২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)