‘আবদুল্লাহ ইবনু মাস‘উদ (রাঃ) হতে বর্ণিত। নিষিদ্ধ কার্যে মু’মিনদেরকে বাধা দানকারী আল্লাহর চেয়ে অধিক কেউ নেই, এজন্যই প্রকাশ্য-অপ্রকাশ্য যাবতীয় অশ্লীলতা নিষিদ্ধ করেছেন, আল্লাহর প্রশংসা প্রকাশ করার চেয়ে প্রিয় তাঁর কাছে অন্য কিছু নেই, সেজন্যেই আল্লাহ আপন প্রশংসা নিজেই করেছেন। ‘আমর ইবনু মুররাহ্ (রহ.) বলেন, আমি আবূ ওয়ায়িলকে জিজ্ঞেস করলাম, আপনি তা ‘আবদুল্লাহ ইবনু মাস‘ঊদ থেকে শুনেছেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ। আমি বললাম, এটাকে কি তিনি রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী হিসেবে বর্ণনা করেছেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ। [৪৬৩৭, ৫২২০, ৭৪০৩; মুসলিম ৪৯/৬, হাঃ ২৭৬০, আহমাদ ৩৬১৬] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪২৭৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
হাদিস 4635 — Sahih al Bukhari 65:157
حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَاحِدِ، حَدَّثَنَا عُمَارَةُ، حَدَّثَنَا أَبُو زُرْعَةَ، حَدَّثَنَا أَبُو هُرَيْرَةَ، رضى الله عنه قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لاَ تَقُومُ السَّاعَةُ حَتَّى تَطْلُعَ الشَّمْسُ مِنْ مَغْرِبِهَا، فَإِذَا رَآهَا النَّاسُ آمَنَ مَنْ عَلَيْهَا، فَذَاكَ حِينَ لاَ يَنْفَعُ نَفْسًا إِيمَانُهَا، لَمْ تَكُنْ آمَنَتْ مِنْ قَبْلُ ".
بَاب ৬৫/৬/৮. অধ্যায়: (وَكِيْلٌ) حَفِيْظٌ وَمُحِيْطٌ بِهِ (قُبُلًا) جَمْعُ قَبِيْلٍ وَالْمَعْنَى أَنَّهُ ضُرُوْبٌ لِلْعَذَابِ كُلُّ ضَرْبٍ مِنْهَا قَبِيْلٌ (زُخْرُفَالْقَوْلِ) كُلُّ شَيْءٍ حَسَّنْتَهُ وَوَشَّيْتَهُ وَهُوَ بَاطِلٌ فَهُوَ زُخْرُفٌ (وَحَرْثٌحِجْرٌ) حَرَامٌ وَكُلُّ مَمْنُوْعٍ فَهْوَ حِجْرٌ مَحْجُوْرٌ وَالْحِجْرُ كُلُّ بِنَاءٍ بَنَيْتَهُ وَيُقَالُ لِلْأُنْثَى مِنَ الْخَيْلِ حِجْرٌ وَيُقَالُ لِلْعَقْلِ حِجْرٌ وَحِجًى وَأَمَّا الْحِجْرُ فَمَوْضِعُ ثَمُوْدَ وَمَا حَجَّرْتَ عَلَيْهِ مِنَ الْأَرْضِ فَهُوَ حِجْرٌ وَمِنْهُ سُمِّيَ حَطِيْمُ الْبَيْتِ حِجْرًا كَأَنَّه مُشْتَقٌّ مِنْ مَحْطُوْمٍ مِثْلُ قَتِيْلٍ مِنْ مَقْتُوْلٍ وَأَمَّا حَجْرُ الْيَمَامَةِ فَهْوَ مَنْزِلٌ. ইমাম বুখারী (রহ.) বলেন, وَكِيْلٌ-রক্ষক ও বেষ্টনকারী, قُبُلًا- একবচনে قَبِيْلٌ অর্থাৎ শাস্তি বহু প্রকারের, এগুলোর এক একটি এক এক قَبِيْلٌ বা প্রকার। زُخْرُفٌ-বাতিল ও অসার কথাকে শোভনীয় ও অলঙ্কৃত করে প্রকাশ করলে তাকে বলা হয় زُخْرُفٌ। حَرْثٌ حِجْرٌ-নিষিদ্ধ, প্রত্যেক নিষিদ্ধ বস্তুকে مَحْجُوْرٌ حِجْرٌ বলা হয়, আবার নির্মিত ঘরও حِجْرٌ, মাদী ঘোড়াকেও حِجْرٌ বলা হয়, عَقْلٌ বা বুদ্ধি-বিবেচনাকেও حِجْى حِجْرٌ বলা হয়। আবার حِجْرٌ নামক স্থানে হচ্ছে সামূদ গোত্রের স্থান, ভূমির যে অংশকে তুমি নিষিদ্ধ ও সংরক্ষিত ঘোষণা করেছ তার নাম حِجْرٌ। এই জন্যে বাইতুল্লাহ শরীফের হাতীম নামক অংশকে حِجْرٌ বলা হয়, مَقْتُوْلٌ থেকে, যেমন قَتِيْلٌ তেমনি مَحْطُوْمٌথেকে গৃহীত, حَطِيْمٌ-ইয়ামামারحِجْرٌ হচ্ছে একটি মনজিল বা ছোট্ট ঘর। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪২৭৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪২৭৬) 65/6/9. بَاب :(هَلُمَّ شُهَدَآءَكُمُ)لُغَةُ أَهْلِ الْحِجَازِ (هَلُمَّ) لِلْوَاحِدِ وَالِاثْنَيْنِ وَالْجَمِيْعِ. ৬৫/৬/৯. অধ্যায়: আল্লাহর বাণীঃ সাক্ষীদেরকে হাযির কর। (সূরাহ আল-আম‘আম ৬/১৫০) হিজাযীদের পরিভাষায় একবচন, দ্বিবচন এবং বহুবচনের জন্যে هَلُمَّ ব্যবহৃত হয়। 65/6/10. بَاب قَوْلِهِ تَعَالَي :(يَوْمَ ... لَا يَنْفَعُ نَفْسًا إِيْمَانُهَا). ৪৬৩৫. আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, পশ্চিম দিক থেকে সূর্যোদয়ের পূর্ব পর্যন্ত ক্বিয়ামাত (কিয়ামত) অনুষ্ঠিত হবে না। লোকেরা যখন তা দেখবে, তখন পৃথিবীর সকলে ঈমান আনবে এবং সেটি হচ্ছে এমন সময় পূর্বে ঈমান আনেনি এমন ব্যক্তির ঈমান তার কাজে আসবে না। [৮৫; মুসলিম ৪/৭২, হাঃ ১৫৭, আহমাদ ৭১৬৪] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪২৭৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
হাদিস 4636 — Sahih al Bukhari 65:158
حَدَّثَنِي إِسْحَاقُ، أَخْبَرَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، عَنْ هَمَّامٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ ـ رضى الله عنه ـ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لاَ تَقُومُ السَّاعَةُ حَتَّى تَطْلُعَ الشَّمْسُ مِنْ مَغْرِبِهَا فَإِذَا طَلَعَتْ وَرَآهَا النَّاسُ آمَنُوا أَجْمَعُونَ، وَذَلِكَ حِينَ لاَ يَنْفَعُ نَفْسًا إِيمَانُهَا ". ثُمَّ قَرَأَ الآيَةَ.
আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যতক্ষণ না পশ্চিম দিক থেকে সূর্যোদয় ঘটবে ততক্ষণ ক্বিয়ামাত (কিয়ামত) হবে না, যখন সেদিক থেকে সূর্য উদিত হবে এবং লোকেরা তা দেখবে তখন সবাই ঈমান গ্রহণ করবে, এটাই সময় যখন কোন ব্যক্তিকে তার ঈমান কল্যাণ সাধন করবে না। তারপর তিনি আয়াতটি তিলাওয়াত করলেন। [৮৫] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪২৭৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
(وَلَمَّا جَآءَ مُوْسٰى لِمِيْقَاتِنَا وَكَلَّمَه” رَبُّه” لا قَالَ رَبِّ أَرِنِيْٓأَنْظُرْ إِلَيْكَ ط قَالَ لَنْ تَرٰﯨـنِىْ وَلٰكِنِ انْظُرْ إِلَى الْجَبَلِ فَإِنِ اسْتَقَرَّ مَكَانَه” فَسَوْفَ تَرٰﯨـنِىْ ج فَلَمَّا تَجَلّٰى رَبُّه” لِلْجَبَلِ جَعَلَه” دَكًّا وَّخَرَّ مُوْسٰى صَعِقًا ج فَلَمَّآ أَفَاقَ قَالَ سُبْحٰنَكَ تُبْتُ إِلَيْكَ وَأَنَا أَوَّلُ الْمُؤْمِنِيْنَ) ‘‘তারপর মূসা যখন আমার নির্ধারিত সময়ে এসে হাজির হল এবং তার সঙ্গে তার রব কথা বললেন, তখন সে বলল-হে আমার রব! আমাকে আপনার দর্শন দিন, যেন আমি আপনাকে দেখতে পাই। তিনি বললেন-তুমি আমাকে কিছুতেই দেখতে পাবে না। তবে তুমি এ পর্বতের দিকে দৃষ্টিপাত কর, যদি তা স্বস্থানে স্থির থাকে তাহলে তুমি আমাকে দেখতে পাবে। তারপর যখন তার রব পর্বতের উপর জ্যোতির বিকাশ ঘটালেন তখন তা পর্বতটিকে চূর্ণ-বিচূর্ণ করে ফেলল এবং মূসা অজ্ঞান হয়ে পড়ে গেল। যখন সে জ্ঞান ফিরে পেল তখন বললঃ আপনি পবিত্র মহান, আমি আপনার কাছে তওবা করছি এবং মু’মিনদের মধ্যে আমিই প্রথম।’’ (সূরাহ আল-‘আরাফ ৭/১৪৩) قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ (أَرِنِيْ) أَعْطِنِي. ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) বলেন, أَرِنِيْ-আমাকে দেখা দাও। ৪৬৩৮. আবূ সা‘ঈদ খুদরী (রাঃ) বলেছেন যে, এক ইয়াহূদী নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকটে উপস্থিত হল। তার মুখমন্ডলে চপেটাঘাত খেয়ে সে বলল, হে মুহাম্মাদ! আপনার এক আনসারী সাহাবী আমার মুখমন্ডলে চপেটাঘাত করেছে। তিনি বললেন, তাকে ডেকে আন। তারা ওকে ডেকে আনল, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ‘‘একে চপেটাঘাত করেছ কেন?’’ সে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আমি এই ইয়াহূদীর পার্শ্ব দিয়ে অতিক্রম করছিলাম। তখন শুনলাম সে বলছে তাঁরই শপথ যিনি মূসা (আঃ)-কে মানবজাতির উপর মনোনীত করেছেন, আমি বললাম মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উপরও মনোনীত করেছেন কি? এরপর আমার রাগ চেপে গিয়েছিল, তাই তাকে চপেটাঘাত করেছি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমরা আমাকে অন্যান্য নবীর থেকে উত্তম বলো না। কারণ ক্বিয়ামাত (কিয়ামত) দিবসে সব মানুষই জ্ঞানশূন্য হয়ে পড়বে, সর্বপ্রথম আমিই জ্ঞান ফিরে পাব। তিনি বলেন, তখন আমি দেখব যে, মূসা (আঃ) আকাশের খুঁটি ধরে আছেন, আমি বুঝতে পারব না যে, তিনি কি আমার পূর্বে জ্ঞান ফিরে পেয়েছেন নাকি তূর পর্বতের জ্ঞানশূন্যতার পুরস্কার হিসেবে তাঁকে পুনরায় জ্ঞানশূন্য করা হয়নি। [২৪১২] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪২৭৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
হাদিস 4639 — Sahih al Bukhari 65:161
حَدَّثَنَا مُسْلِمٌ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ عَبْدِ الْمَلِكِ، عَنْ عَمْرِو بْنِ حُرَيْثٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ زَيْدٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " الْكَمْأَةُ مِنَ الْمَنِّ وَمَاؤُهَا شِفَاءُ الْعَيْنِ ".
সা‘ঈদ ইবনু যায়দ (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, الْكَمْأَةُ জাতীয় উদ্ভিদ মান্না-এর মতো এবং এর পানি চক্ষুরোগ আরোগ্যকারী। [৪৪৭৮] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪২৭৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
হাদিস 4640 — Sahih al Bukhari 65:162
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ، حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، وَمُوسَى بْنُ هَارُونَ، قَالاَ حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ بْنُ مُسْلِمٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْعَلاَءِ بْنِ زَبْرٍ، قَالَ حَدَّثَنِي بُسْرُ بْنُ عُبَيْدِ اللَّهِ، قَالَ حَدَّثَنِي أَبُو إِدْرِيسَ الْخَوْلاَنِيُّ، قَالَ سَمِعْتُ أَبَا الدَّرْدَاءِ، يَقُولُ كَانَتْ بَيْنَ أَبِي بَكْرٍ وَعُمَرَ مُحَاوَرَةٌ، فَأَغْضَبَ أَبُو بَكْرٍ عُمَرَ، فَانْصَرَفَ عَنْهُ عُمَرُ مُغْضَبًا، فَاتَّبَعَهُ أَبُو بَكْرٍ يَسْأَلُهُ أَنْ يَسْتَغْفِرَ لَهُ، فَلَمْ يَفْعَلْ حَتَّى أَغْلَقَ بَابَهُ فِي وَجْهِهِ، فَأَقْبَلَ أَبُو بَكْرٍ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ أَبُو الدَّرْدَاءِ وَنَحْنُ عِنْدَهُ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " أَمَّا صَاحِبُكُمْ هَذَا فَقَدْ غَامَرَ ". قَالَ وَنَدِمَ عُمَرُ عَلَى مَا كَانَ مِنْهُ فَأَقْبَلَ حَتَّى سَلَّمَ وَجَلَسَ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَقَصَّ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الْخَبَرَ. قَالَ أَبُو الدَّرْدَاءِ وَغَضِبَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَجَعَلَ أَبُو بَكْرٍ يَقُولُ وَاللَّهِ يَا رَسُولَ اللَّهِ لأَنَا كُنْتُ أَظْلَمَ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " هَلْ أَنْتُمْ تَارِكُو لِي صَاحِبِي هَلْ أَنْتُمْ تَارِكُو لِي صَاحِبِي إِنِّي قُلْتُ يَا أَيُّهَا النَّاسُ إِنِّي رَسُولُ اللَّهِ إِلَيْكُمْ جَمِيعًا فَقُلْتُمْ كَذَبْتَ. وَقَالَ أَبُو بَكْرٍ صَدَقْتَ قَالَ أَبُو عَبْد اللَّهِ غَامَرَ سَبَقَ بِالْخَيْر".
আবূ দারদা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আবূ বাকর (রাঃ) ও ‘উমার (রাঃ)-এর মধ্যে বিতর্ক হল, আবূ বাকর (রাঃ) ‘উমার (রাঃ)-কে রাগিয়ে দিয়েছিলেন, এরপর রাগান্বিত অবস্থায় ‘উমার (রাঃ) সেখান থেকে চলে গেলেন, আবূ বাকর (রাঃ) তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করতে করতে তাঁর পিছু নিলেন কিন্তু ‘উমার (রাঃ) ক্ষমা করলেন না, বরং তাঁর সম্মুখের দরজা বন্ধ করে দিলেন। এরপর আবূ বাকর (রাঃ) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকটে আসলেন। আবূ দারদা (রাঃ) বলেন, আমরা তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে ছিলাম, ঘটনা শোনার পর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তোমাদের এই সঙ্গী আবূ বাকর আগে কল্যাণ লাভ করেছে। তিনি বলেন, এতে ‘উমার লজ্জিত হলেন এবং সালাম করে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পাশে বসে পড়লেন ও সবকথা রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে বর্ণনা করলেন। আবূ দারদা (রাঃ) বলেন, এতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম অসন্তুষ্ট হলেন। আবূ বাকর সিদ্দীক (রাঃ) বারবার বলছিলেন, হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম! আমি অধিক দোষী ছিলাম। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমরা আমার খাতিরে আমার সাথীর ত্রুটি উপেক্ষা করবে কি? তোমরা আমার খাতিরে আমার সঙ্গীর ত্রুটি উপেক্ষা করবে কি? এমন একদিন ছিল যখন আমি বলেছিলাম, ‘‘হে মানুষেরা! আমি তোমাদের সকলের জন্য রাসূল, তখন তোমরা বলেছিলে, ‘‘তুমি মিথ্যা বলেছ’’ আর আবূ বাকর (রাঃ) বলেছিল, ‘‘আপনি সত্য বলেছেন’’। ইমাম আবূ ‘আবদুল্লাহ বুখারী (রহ.) বলেন, غَامَرَ-আগে কল্যাণ লাভ করেছে। [৩৬৬১] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪২৭৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
হাদিস 4641 — Sahih al Bukhari 65:163
حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ، أَخْبَرَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، عَنْ هَمَّامِ بْنِ مُنَبِّهٍ، أَنَّهُ سَمِعَ أَبَا هُرَيْرَةَ ـ رضى الله عنه ـ يَقُولُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " قِيلَ لِبَنِي إِسْرَائِيلَ {ادْخُلُوا الْبَابَ سُجَّدًا وَقُولُوا حِطَّةٌ نَغْفِرْ لَكُمْ خَطَايَاكُمْ} فَبَدَّلُوا فَدَخَلُوا يَزْحَفُونَ عَلَى أَسْتَاهِهِمْ وَقَالُوا حَبَّةٌ فِي شَعَرَةٍ ".
আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ইসরাঈলীদেরকে আদেশ করা হয়েছিল যে, ‘‘নতশিরে প্রবেশ কর এবং বল, ক্ষমা চাই, আমি তোমাদের অপরাধ ক্ষমা করব’’- (সূরাহ আল-‘আরাফ ১৫৮)। এরপর তারা তার উল্টো করল, তারা নিজেদের নিতম্বে ভর দিয়ে মাটিতে বসে বসে প্রবেশ করল এবং বলল, حَبَّةٌ فِيْ شَعَرَةٍ -যবের ভিতর বিচি চাই। [৩৪০৩) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪২৮০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, ‘‘উয়াইনাহ ইবনু হিসন ইবনু হুযাইফাহ এসে তাঁর ভাতিজা হুর ইবনু কাইসের কাছে অবস্থান করলেন। ‘উমার (রাঃ) যাদেরকে পার্শ্বে রাখতেন হুর ছিলেন তাদের একজন। কারীগণ, যুবক-বৃদ্ধ সকলেই ‘উমার ফারূক (রাঃ)-এর মজলিসের সদস্য এবং উপদেষ্টা ছিলেন। এরপর ‘উয়াইনাহ তাঁর ভাতিজাকে ডেকে বললেন, এই আমীরের কাছে তো তোমার একটা মর্যাদা আছে, সুতরাং তুমি আমার জন্য তাঁর কাছে প্রবেশের অনুমতি নিয়ে দাও। তিনি বললেন, হ্যাঁ, আমি তাঁর কাছে আপনার প্রবেশের অনুমতি প্রার্থনা করব। ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) বলেন, এরপর হুর অনুমতি প্রার্থনা করলেন উয়াইনাহর জন্যে এবং ‘উমার (রাঃ) অনুমতি দিলেন। উয়াইনাহ ‘উমারের কাছে গিয়ে বললেন, হ্যাঁ আপনি তো আমাদেরকে অধিক অধিক দানও করেন না এবং আমাদের মাঝে সুবিচারও করেন না। ‘উমার (রাঃ) রাগান্বিত হলেন এবং তাঁকে কিছু একটা করতে উদ্যত হলেন। তখন হুর বললেন, হে আমিরুল মু’মিনীন! আল্লাহ তা‘আলা তো তাঁর নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলেছেন, ‘‘ক্ষমা অবলম্বন কর, সৎকাজের আদেশ দাও এবং মূর্খদেরকে উপেক্ষা কর’’ আর এই ব্যক্তি তো অবশ্যই মূর্খদের অন্তর্ভুক্ত। আল্লাহর কসম ‘উমার (রাঃ) আয়াতের নির্দেশ অমান্য করেননি। ‘উমার আল্লাহর কিতাবের বিধানের সামনে চুপ হয়ে যেতেন। [৭২৮৬] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪২৮১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)