সা‘ঈদ ইবনু যুবায়র (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)-কে আল্লাহ্ তা‘আলার বাণীঃ فَجَزَآؤُهُ جَهَنَّمُ (তাদের পরিণতি জাহান্নাম) সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেন, তার জন্য তওবার সুযোগ নেই। এরপরে আমি আল্লাহ্ তা‘আলার বাণীঃ لَا يَدْعُوْنَ مَعَ اللهِ إِلَهًااٰخَرَ সম্পর্কে তাঁকে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেন, এ আয়াত মুশরিকদের ব্যাপারে (নাযিল হয়েছে)।[৩৮৫৫] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৪০১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
সা‘ঈদ ইবনু যুবায়র (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ইবনু আবযা (রাঃ) বলেন, ইবনু ‘আব্বাসকে জিজ্ঞেস করা হল, আল্লাহ্ তা‘আলার বাণীঃ ‘‘কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে কোন মু’মিনকে হত্যা করলে তার শাস্তি জাহান্নাম’’ এবং আল্লাহর এ বাণীঃ ‘‘এবং আল্লাহ যার হত্যা নিষেধ করেছেন যথার্থ কারণ ব্যতীত, তারা তাকে হত্যা করে না’’ এবং ‘‘কিন্তু যারা তওবা করে’’ পর্যন্ত সম্পর্কে। আমিও তাঁকে জিজ্ঞেস করলাম। তখন তিনি উত্তরে বললেন, যখন এ আয়াত নাযিল হল তখন মক্কা্বাসী বলল, আমরা আল্লাহর সাথে শারীক করেছি, আল্লাহ্ যার হত্যা নিষিদ্ধ করেছেন যথার্থ কারণ ব্যতীত তাকে হত্যা করেছি এবং আমরা অশ্লীল কার্যে লিপ্ত হয়েছি। তারপর আল্লাহ তা‘আলা এ আয়াত অবতীর্ণ করলেন, ‘‘যারা তওবাহ করে, ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে।’’ إِلَّا مَنْ تَابَ وَاٰمَنَ وَعَمِلَ عَمَلًا صَالِحًا থেকে غَفُوْرًا رَّحِيْمًا পর্যন্ত। [৩৮৫৫; মুসলিম ৫৪/হাঃ ৩০২৩] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৪০২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
(إِلَّا مَنْ تَابَ وَاٰمَنَ وَعَمِلَ عَمَلًا صَالِحًا فَأُولٰٓئِكَ يُبَدِّلُ اللهُ سَيِّئٰتِهِمْ حَسَنٰتٍ ط وَكَانَ اللهُ غَفُوْرًا رَّحِيْمًا). ‘‘তবে তারা নয় যারা তাওবা করে, ঈমান আনে ও সৎ কাজ করে; আল্লাহ এরূপ লোকের পাপসমূহকে পুণ্যে পরিবর্তিত করে দেবেন। আল্লাহ্ পরম ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।’’ (সূরাহ ফুরক্বান ২৫/৭০) ৪৭৬৬. সা‘ঈদ ইবনু যুবায়র (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‘আবদুর রহমান ইবনু আব্যা (রাঃ) আমাকে নির্দেশ দিলেন যে, আমি যেন ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)-এর কাছে এ দু’টি আয়াত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করি। وَمَنْ يَّقْتُلْ مُؤْمِنًا مُّتَعَمِّدًا আমি তাকে (এ আয়াত সম্পর্কে) জিজ্ঞেস করায় তিনি বললেন, এ আয়াতকে অন্য কিছু মানসূখ করেনি এবং وَالَّذِيْنَ لَا يَدْعُوْنَ مَعَ اللهِ إِلَهًااٰخَرَ সম্পর্কেও জিজ্ঞেস করলাম, তিনি [‘আব্বাস (রাঃ)] বললেন, এ আয়াত মুশরিকদের সম্পর্কে নাযিল হয়েছে। [৩৮৫৫] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৪০৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
‘আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, পাঁচটি ঘটনা ঘটে গেছে ধূম্রাচ্ছন্ন, চন্দ্র খন্ডিত হওয়া, রোমানদের পরাজিত হওয়া, প্রবলভাবে পাকড়াও এবং ধ্বংস হওয়া।لِزَامًا ধ্বংস। [১০০৭] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৪০৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
হাদিস 4768 — Sahih al Bukhari 65:290
وَقَالَ إِبْرَاهِيمُ بْنُ طَهْمَانَ عَنِ ابْنِ أَبِي ذِئْبٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي سَعِيدٍ الْمَقْبُرِيِّ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ ـ رضى الله عنه ـ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِنَّ إِبْرَاهِيمَ ـ عَلَيْهِ الصَّلاَةُ وَالسَّلاَمُ ـ رَأَى أَبَاهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ عَلَيْهِ الْغَبَرَةُ وَالْقَتَرَةُ ". الْغَبَرَةُ هِيَ الْقَتَرَةُ.
سُوْرَةُ الشُّعَرَاءِ সূরাহ (২৬) : শু‘আরা وَقَالَ مُجَاهِدٌ (تَعْبَثُوْنَ) تَبْنُوْنَ (هَضِيْمٌ) يَتَفَتَّتُ إِذَا مُسَّ (مُسَحَّرِيْنَ) الْمَسْحُوْرِيْنَ (اللَّيْكَةُ) وَ(الأَيْكَةُ) جَمْعُ أَيْكَةٍ وَهِيَ جَمْعُ شَجَرٍ (يَوْمِالظُّلَّةِ) إِظْلَالُ الْعَذَابِ إِيَّاهُمْ (مَوْزُوْنٍ) مَعْلُوْمٍ (كَالطَّوْدِ) كَالْجَبَلِ وَقَالَ غَيْرُهُ (لَشِرْذِمَةٌ) الشِّرْذِمَةُ طَائِفَةٌ قَلِيْلَةٌ (فِي السَّاجِدِيْنَ) الْمُصَلِّيْنَ قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ (لَعَلَّكُمْ تَخْلُدُوْنَ) كَأَنَّكُمْ (الرِّيعُ) الْأَيْفَاعُ مِنَ الْأَرْضِ وَجَمْعُهُ رِيَعَةٌ وَأَرْيَاعٌ وَاحِدُهُ رِيْعَةٌ (مَصَانِعَ) كُلُّ بِنَاءٍ فَهُوَ مَصْنَعَةٌ (فَرِهِيْنَ) مَرِحِيْنَ فَارِهِيْنَ بِمَعْنَاهُ وَيُقَالُ فَارِهِيْنَ حَاذِقِيْنَ (تَعْثَوْا) هُوَ أَشَدُّ الْفَسَادِ عَاثَ يَعِيْثُ عَيْثًا (الْجِبِلَّةَ) الْخَلْقُ جُبِلَ خُلِقَ وَمِنْهُ جُبُلًا وَجِبِلًا وَجُبْلًا يَعْنِي الْخَلْقَ قَالَهُ ابْنُ عَبَّاسٍ. মুজাহিদ (রহ.) বলেন-تَعْبَثُوْنَ তোমরা নির্মাণ করে থাক। هَضِيْمٌ স্পর্শ করা মাত্রই চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে যায়। مُسَحَّرِيْنَ জাদুগ্রস্ত। اللَّيْكَةُ ও الأَيْكَةُ أَيْكَةٍ এর বহুবচন যার অর্থ বৃক্ষে পরিপূর্ণ। يَوْمِالظُّلَّةِ যেদিনে শাস্তি তাদের ছেয়ে ফেলবে। مَوْزُوْنٍ জ্ঞাত। كَالطَّوْدِ পর্বতের ন্যায়। অন্যরা বলেন, الَشِرْذِمَةٌ ছোট দল। فِيالسَّاجِدِيْنَ সালাত আদায়কারী। ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) বলেন لَعَلَّكُمْ تَخْلُدُوْنَ যেন তোমরা স্থায়ী থাকবে। الرِّيعُযমীনের উঁচু অংশ। এর বহুবচন رِيَعَةٌএবং أَرْيَاعٌতার একবচনرِيْعَةٌ।مَصَانِعَপ্রত্যেক ইমারতকে مَصْنَعَةٌ বলা হয়। فَرِهِيْنَ অহংকারীরা। مَرِحِيْنَفَارِهِيْنَ একই অর্থের। فَارِهِيْنَ বলা হয় দক্ষদের। تَعْثَوْا ভয়ঙ্কর ফ্যাসাদ। এটি يَا দ্বারাও ব্যবহৃত হয়। যথা-عَاثَيَعِيْثُعَيْثًا। الْجِبِلَّةَ সৃষ্টি جُبِلَ এর অর্থ-সৃষ্টি করা হয়েছে। جُبُلًا وَجِبِلًا وَجُبْلًا সবগুলোর অর্থ সৃষ্টি। ৪৭৬৮. আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ক্বিয়ামাত (কিয়ামত) দিবসে ইব্রাহীম (আঃ) তাঁর পিতাকে ধূলি-মলিন অবস্থায় দেখতে পাবেন। الْغَبَرَةُ ধূলি-ময়লা। [৩৩৫০] (আধুনিক প্রকাশনীঃ অনুচ্ছেদ, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ অনুচ্ছেদ)
হাদিস 4769 — Sahih al Bukhari 65:291
حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ، حَدَّثَنَا أَخِي، عَنِ ابْنِ أَبِي ذِئْبٍ، عَنْ سَعِيدٍ الْمَقْبُرِيِّ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ ـ رضى الله عنه ـ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " يَلْقَى إِبْرَاهِيمُ أَبَاهُ فَيَقُولُ يَا رَبِّ إِنَّكَ وَعَدْتَنِي أَنْ لاَ تُخْزِنِي يَوْمَ يُبْعَثُونَ فَيَقُولُ اللَّهُ إِنِّي حَرَّمْتُ الْجَنَّةَ عَلَى الْكَافِرِينَ ".
আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, (হাশরের ময়দানে ইব্রাহীম (আঃ) তাঁর পিতার সাক্ষাৎ পেয়ে বলবেন, ইয়া রব! আপনি আমার সঙ্গে ওয়া‘দা করেছেন যে, কিয়ামতের দিন আমাকে লাঞ্ছিত করবেন না। আল্লাহ্ তা’আলা বলবেন, আমি কাফিরদের উপর জান্নাত হারাম করে দিয়েছি। [৩৩৫০] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৪০৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
اخْفِضْ جَنَاحَكَ ‘‘তোমার পার্শ্ব নম্র রাখ। ৪৭৭০. ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন وَأَنْذِرْ عَشِيْرَتَكَ الْأَقْرَبِيْنَ এ আয়াত অবতীর্ণ হল, তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাফা (পর্বতে) আরোহণ করলেন এবং আহবান জানালেন, হে বানী ফিহর! হে বানী আদী! কুরাইশদের বিভিন্ন গোত্রকে। অবশেষে তারা জমায়েত হল। যে নিজে আসতে পারল না, সে তার প্রতিনিধি পাঠাল, যাতে দেখতে পায়, ব্যাপার কী? সেখানে আবূ লাহাব ও কুরাইশগণও আসল। তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, বল তো, আমি যদি তোমাদের বলি যে, শত্রুসৈন্য উপত্যকায় চলে এসেছে, তারা তোমাদের উপর হঠাৎ আক্রমণ করতে প্রস্তুত, তোমরা কি আমাকে বিশ্বাস করবে? তারা বলল, হাঁ আমরা আপনাকে সর্বদা সত্য পেয়েছি। তখন তিনি বললেন, ‘‘আমি তোমাদেরকে কঠিন শাস্তির ভয় প্রদর্শন করছি।’’ আবূ লাহাব [রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে] বলল, সারাদিন তোমার উপর ধ্বংস নামুক! এজন্যই কি তুমি আমাদের জমায়েত করেছ? তখন অবতীর্ণ হল, ‘‘ধ্বংস হোক আবূ লাহাবের হস্ত দু’টি এবং ধ্বংস হোক সে নিজেও। তার ধন-সম্পদ ও তার অর্জন তার কোন উপকারে লাগেনি।’’ [১৩৯৪] (আধুনিক প্রকাশনীঃ , ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন وَأَنْذِرْ عَشِيْرَتَكَ الْأَقْرَبِيْنَ (তোমার নিকটাত্মীয়দের সতর্ক কর) এ আয়াত অবতীর্ণ হল, তখন রাসূলূল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাঁড়ালেন এবং বললেন, হে কুরাইশ সম্প্রদায়! অথবা অনুরূপ বাক্য, নিজেদের কিনে নাও। আমি আল্লাহর নিকট তোমাদের কোন উপকারে আসব না। হে বানী আব্দে মানাফ! আল্লাহর নিকট আমি তোমাদের কোন উপকারে আসব না। হে ‘আব্বাস ইবনু আবদুল মুত্তালিব! আমি আল্লাহর নিকট তোমার কোনই উপকারে আসব না। হে আল্লাহর রাসূলের ফুফু সফীয়্যাহ! আমি তোমার কোনই উপকার করতে পারব না। হে মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কন্যা ফাতিমা! আমার ধন-সম্পদ থেকে যা ইচ্ছে চাও, কিন্তু আল্লাহর নিকট আমি তোমার কোনই উপকারে আসব না। আস্বাগ (রহ.).....ইবনু শিহাব (রহ.) থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। [২৭৫৩] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৪০৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
سُوْرَةُ النَّمْلِ সূরাহ (২৭) : নামল (وَالْخَبْءُ) مَا خَبَأْتَ (لَا قِبَلَ لَهُمْ) لَا طَاقَةَ (الصَّرْحُ) كُلُّ مِلَاطٍ اتُّخِذَ مِنَ الْقَوَارِيْرِ وَالصَّرْحُ الْقَصْرُ وَجَمَاعَتُهُ صُرُوْحٌ وَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ (وَلَهَا عَرْشٌ) سَرِيْرٌ كَرِيْمٌ حُسْنُ الصَّنْعَةِ وَغَلَاءُ الثَّمَنِ (يَأْتُوْنِيْ مُسْلِمِيْنَ) طَائِعِيْنَ (رَدِفَ) اقْتَرَبَ (جَامِدَةً) قَائِمَةً (أَوْزِعْنِي) اجْعَلْنِيْ وَقَالَ مُجَاهِدٌ (نَكِّرُوْا) غَيِّرُوْا (وَأُوْتِيْنَا) الْعِلْمَ يَقُوْلُهُ سُلَيْمَانُ (الصَّرْحُ) بِرْكَةُ مَاءٍ ضَرَبَ عَلَيْهَا سُلَيْمَانُ قَوَارِيْرَ أَلْبَسَهَا إِيَّاهُ. وَالْخَبْءُ যা তুমি গোপন কর। لَا قِبَلَ لَهُمْ তাদের কোন শক্তি নেই।[1] الصَّرْحُ কাঁচ মিশ্রিত গারা এবং الصَّرْحُ প্রাসাদকেও বলা হয়। এর বহুবচন صُرُوْحٌ। ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) বলেন, وَلَهَا عَرْشٌ তার সিংহাসন অতি সম্মানিত, শিল্প কর্মে উত্তম এবং বহু মূল্যবান। يَأْتُوْنِيْ مُسْلِمِيْنَ অনুগত হয়ে আমার নিকট আসবে। رَدِفَ নিকটবর্তী হয়েছে। جَامِدَةً স্থির। أَوْزِعْنِيْ আমাকে বানিয়ে দাও। মুজাহিদ (রহ.) বলেন, نَكِّرُوْا পরিবর্তন করে দাও। وَأُوْتِيْنَا (আমাদের জ্ঞান দেয়া হয়েছে) এ কথা সুলাইমান (আঃ) বলেন, الصَّرْحُ পানির একটি হাউয। সুলাইমান (আঃ) সেটি কাঁচ দিয়ে ঢেকে দিয়েছিলেন। (28) سُوْرَةُ الْقَصَصِ সূরাহ (২৮) : ক্বাসাস يُقَالَ (كُلُّ شَيْءٍ هَالِكٌ إِلَّا وَجْهَه”) إِلَّا مُلْكَهُ وَيُقَالُ إِلَّا مَا أُرِيْدَ بِهِ وَجْهُ اللهِ وَقَالَ مُجَاهِدٌ فَعَمِيَتْ عَلَيْهِمْ (الأَنْبَآءُ) الْحُجَجُ. আল্লাহর চেহারা ব্যতীত সব কিছু ধ্বংস হবে। ইমাম বুখারী বলেছেন, এ আয়াতের ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, তাঁর রাজত্ব [2] ব্যতীত এবং এও বলা হয়েছে যে, যে ‘আমল দ্বারা আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন উদ্দেশ্য তা ব্যতীত সবই ধ্বংস হবে। অতঃপর তাদের কথাবার্তা বন্ধ হয়ে যাবে। মুজাহিদ (রহ.) الْأَنْبَاءُ শব্দের অর্থ বলেছেন প্রমাণাদি। ৪৭৭২. মুসাইয়্যাব (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন আবূ তালিবের মৃত্যু নিকটবর্তী হল, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর কাছে আসলেন। তিনি সেখানে আবূ জাহল এবং ‘আবদুল্লাহ্ ইবনু আবূ ‘উমাইয়াহ ইবনু মুগীরাহ্কে পেলেন। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হে চাচা! আপনি বলুন ‘‘লা- ইলা-হা ইল্লাল্লা-হ।’’ এ ‘কালেমা’ দ্বারা আমি আপনার জন্য কিয়ামতে আল্লাহর কাছে ওযর পেশ করতে পারব। আবূ জাহল এবং ‘আবদুল্লাহ্ ইবনু আবূ ‘উমাইয়াহ বলল, তুমি কি ‘আবদুল মুত্তালিবের ধর্ম ত্যাগ করবে? রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বারবার তার কাছে এ ‘কালিমা’ পেশ করতেই থাকলেন। আর তারা তাদের কথা বারবার বলেই চলল। অবশেষে আবূ তালিব তাঁদের সঙ্গে সর্বশেষ এ কথা বললেন, আমি ‘আবদুল মুত্তালিবের মিল্লাতের উপর আছি, এবং কালিমা ‘‘লা- ইলা-হা ইল্লাল্লা-হ’’ পাঠ করতে অস্বীকৃতি জানালেন। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আল্লাহর কসম! আমাকে নিষেধ না করা অবধি আপনার জন্য ক্ষমা চাইতেই থাকব। তারপর আল্লাহ্ তা‘আলা অবতীর্ণ করলেন, নবী ও মু’মিনদের জন্য এটা শোভনীয় নয় যে, তারা মুশরিকদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করবে। আর আল্লাহ্ তা‘আলা আবূ তালিব সম্পর্কে অবতীর্ণ করেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে সম্বোধন করে আল্লাহ্ তা‘আলা বললেন, ‘‘তুমি যাকে ভালবাস তাকেই সৎপথে আনতে পারবে না। তবে আল্লাহ্ যাকে ইচ্ছা হিদায়াত দান করেন।’’ ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) বলেন أُوْلِي الْقُوَّة লোকের একটি দল সে চাবিগুলো বহন করতে সক্ষম ছিল না। لَتَنُوْءُবহন করা কষ্টসাধ্য ছিল। فَارِغًا মূসা (আঃ)-এর স্মরণ ব্যতীত সব কিছু থেকে খালি ছিল। الْفَرِحِيْنَ দম্ভকারীরা! قُصِّيْهِ তার চিহ্ন অনুসরণ কর। কথার বর্ণনা অর্থেও প্রয়োগ হয়। نَحْنُ نَقُصُّ عَلَيْكَعَنْ جُنُبٍ এখানে جُنُبٍ অর্থ দূর থেকে। عَنْ جَنَابَةٍ، عَنْ اجْتِنَابٍ এর একই অর্থবোধক।يَبْطِشُـــيَبْطُشُ উভয়ই পড়া হয়। يَأْتَمِرُوْنَ পরস্পর পরামর্শ করছে। ـ وَالْعَدَاءُ وَالتَّعَدِّيْ (শব্দ তিনটির) অর্থ একই ; সীমা অতিক্রম করা। آنَسَ দেখা الْجِذْوَةُ কাঠের মোটা টুকরা যাতে শিখা নেই। الشِّهَابُ যাতে শিখা আছে। الْحَيَّاتُবহু প্রকার সাপ; যেমন, চিকন জাতি, অজগর, কালনাগ (ইত্যাদি) رِدْءًا সাহায্যকারী। ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) বলেন, يُصَدِّقُنِيْ (তিনি قاف-কে পেশ দিয়ে পড়েন। অন্য হতে বর্ণিত سَنَشُدُّ আমরা শীঘ্র তোমাকে সাহায্য করব। যখন তুমি কোন জিনিসকে শক্তিশালী করলে, তখন তুমি যেন তার জন্য বাহুবল প্রদান করলে। যখন আরবগণ কাউকে সাহায্য করেন তখন বলে থাকেন جَعَلْتَ لَهُ عَضُدًا (বাহুবল প্রদান করলে) مَقْبُوْحِيْنَ ধ্বংসপ্রাপ্ত। وَصَّلْنَا আমি বর্ণনা করেছি; আমি তা পূর্ণ করেছি। يُجْبَى আমদানি করা হয়। بَطِرَتْ দম্ভ করল। فِيْ أُمِّهَا رَسُوْلًا মক্কা এবং তার চতুষ্পার্শকে বলা হয়। تُكِنُّ গোপন করছ। আরবগণ বলে থাকেন أَكْنَنْتُ الشَّيْءَ আমি তা গোপন করেছি। كَنَنْتُهُ আমি তা লুকিয়েছি; আমি প্রকাশ করেছি। وَيْكَأَنَّ اللهَ আর أَوَلَمْ يَرَوْا أَنَّ اللهَ সমার্থক (তারা কি দেখেনি?) يَبْسُطُ الرِّزْقَ لِمَنْ يَشَاءُ وَيَقْدِر আল্লাহ্ যার জন্য চান খাদ্য প্রসারিত করে দেন, আর যার থেকে চান সংকুচিত করে দেন। [১৩৬০] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৪০৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)