سُوْرَةُ الْعَنْكَبُوْتِ সূরাহ (২৯) : আনকাবূত قَالَ مُجَاهِدٌ (وَكَانُوْا مُسْتَبْصِرِيْنَ) ضَلَلَةً وَقَالَ غَيْرُهُ (الْحَيَوَانُ) وَالْحَيُّ وَاحِدٌ (فَلَيَعْلَمَنَّاللهُ) عَلِمَ اللهُ ذَلِكَ إِنَّمَا هِيَ بِمَنْزِلَةِ فَلِيَمِيْزَ اللهُ كَقَوْلِهِ (لِيَمِيْزَ اللهُ الْخَبِيْثَ مِنَ الطَّيِّبِ أَثْقَالًا مَّعَ أَثْقَالِهِمْ) أَوْزَارًا مَعَ أَوْزَارِهِمْ. মুজাহিদ বলেছেন, وَكَانُوْا مُسْتَبْصِرِيْنَ অর্থাৎ পথহারা। অন্যরা বলেছেন, الْحَيَوَانُ এবং الْحَيُّ শব্দ দু’টি একই।فَلَيَعْلَمَنَّ اللهُ আল্লাহ্ আগে থেকেই তা জানতেন। এখানে ব্যবহৃত হয়েছে فَلِيَمِيْزَاللهُ (যেন আল্লাহ্ তা‘আলা চিহ্নিত করেন)-এর অর্থে। যেমন, আল্লাহ্ তা‘আলার বাণীঃلِيَمِيْزَ اللهُ الْخَبِيْثَ مِنَالطَّيِّبِ أَثْقَالًا مَّعَ أَثْقَالِهِمْ (যেন আল্লাহ্ তা‘আলা খবীছকে ভাল থেকে পৃথক করেন) অর্থাৎ তাদের অপরাধের সঙ্গে। (30) سُوْرَةُ الرُّوْمِ সূরাহ (৩০) : রূম (আলিফ-লাম-মীম গুলিবাতির) (فَلَا يَرْبُو) مَنْ أَعْطَى عَطِيَّةً يَبْتَغِيْ أَفْضَلَ، فَلَا أَجْرَ لَهُ فِيْهَا قَالَ مُجَاهِدٌ (يُحْبَرُوْنَ) يُنَعَّمُوْنَ (يَمْهَدُوْنَ) يُسَوُّوْنَ الْمَضَاجِعَ (الْوَدْقُ) الْمَطَرُ قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ (هَلْ لَّكُمْ مِمَّا مَلَكَتْ أَيْمَانُكُمْ)فِي الآلِهَةِ وَفِيْهِ (تَخَافُوْنَهُمْ) أَنْ يَرِثُوْكُمْ كَمَا يَرِثُ بَعْضُكُمْ بَعْضًا (يَصَّدَّعُوْنَ) يَتَفَرَّقُوْنَ فَاصْدَعْ وَقَالَ غَيْرُهُ (ضُعْفٌ) وَضَعْفٌ لُغَتَانِ وَقَالَ مُجَاهِدٌ (السُّوأَى) الإِسَاءَةُ جَزَاءُ الْمُسِيئِيْنَ. فَلَا يَرْبُوْ অর্থাৎ যে এ আশায় দান করে যে, এর চেয়ে উত্তম বিনিময় পাবে, এতে কোন সওয়াব নেই। মুজাহিদ (রহ.) বলেন, يُحْبَرُوْنَ তারা নিয়ামত প্রাপ্ত হবে। يَمْهَدُوْنَ তাদের আরাম আয়েশের জায়গা প্রস্তুত করবে। الْوَدْقُ বৃষ্টি। ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) বলেন, هَلْ لَّكُمْ مِمَّا مَلَكَتْ أَيْمَانُكُمْ এ আয়াত ইলাহ সম্পর্কে। تَخَافُوْنَهُمْ তোমরা কি পছন্দ কর যে, তোমাদের দাস-দাসী তোমাদের অংশীদার হোক, যেমন তোমরা পরস্পরের উত্তরাধিকার হও। يَصَّدَّعُوْنَ পৃথক পৃথক হয়ে যাবে। فَاصْدَعْস্পষ্ট বর্ণনা কর। ইবনু ‘আব্বাস ব্যতীত অন্যে বলেন, ضُعْفٌ এবং ضَعْفٌ উভয়ের অর্থ একই। মুজাহিদ (রহ.) বলেন, السُّوأَى অপরাধীকে যথাযোগ্য শাস্তি দেয়া। ৪৭৭৪. মাসরূক (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি কিন্দাবাসীদের সামনে বলছিল, কিয়ামতের দিন ধোঁয়া আসবে এবং মুনাফিকদের শ্রবণশক্তি ও দৃষ্টিশক্তি নষ্ট করে দেবে। আর মু’মিনের কাছে মনে হবে সর্দি লেগে থাকা অবস্থার ন্যায়। এ কথা শুনে আমরা ভীত হয়ে গেলাম। এরপর আমি ইবনু মাস‘উদ (রাঃ)-এর নিকট গেলাম। তখন তিনি তাকিয়ায় হেলান দিয়ে বসেছিলেন। এ সব কথা শুনে তিনি রাগান্বিত হয়ে উঠে বসলেন এবং বললেন, যার জানা আছে সেও যেন তা বলে, আর যে না জানে সে যেন বলে, আল্লাহ্ তা‘আলাই ভাল জানেন। জ্ঞানের মধ্যে এটাও একটা জ্ঞান যে, যার যে বিষয় জানা নেই সে বলবে ‘‘আমি এ বিষয়ে জানি না।’’ আল্লাহ্ তা‘আলা নবীকে বলেছেন, হে নবী! আপনি বলুন, ‘‘আমি আল্লাহর দ্বীনের দিকে ডাকার জন্য তোমাদের নিকট কোন পারিশ্রমিক চাই না এবং যারা মিথ্যা দাবী করে আমি তাদের মধ্যে নই। কুরায়শগণ ইসলাম গ্রহণে দেরী করতে লাগল, সুতরাং রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের জন্য এই বলে বদদু‘আ করলেন। ‘‘হে আল্লাহ্! আপনি তাদের উপর ইউসুফ (আঃ)-এর মত সাত বছর (দুর্ভিক্ষ) দিয়ে আমাকে সাহায্য করুন।’’ তারপর তারা এমন ভয়াবহ দুর্ভিক্ষে পতিত হলো যে, তারা তাতে ধ্বংস হয়ে গেল এবং মরা জন্তু ও তার হাড় খেতে বাধ্য হলো। তারা (দুর্ভিক্ষের কারণে) আকাশও পৃথিবীর মধ্যস্থলে ধোঁয়ার মত দেখতে পেল। তারপর আবূ সুফ্ইয়ান তাঁর কাছে এসে বলল, হে মুহাম্মাদ! তুমি আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখার আদেশ দিচ্ছ, অথচ তোমার গোত্রের লোকেরা এখন ধ্বংস হয়ে গেল। সুতরাং আমাদের (এ দুর্ভিক্ষ থেকে) বাঁচার জন্য দু‘আ কর। তখন তিনি এ আয়াত পাঠ করলেন فَارْتَقِبْ يَوْمَ تَأْتِي السَّمَآءُ بِدُخَانٍ مُّبِيْنٍ إِلَى قَوْلِهِعَآئِدُوْنَ ‘‘অতএব, তুমি অপেক্ষা কর সেদিনের, যেদিন স্পষ্ট ধূম্রাচ্ছন্ন হবে আকাশ..... তোমরা তো তোমাদের পূর্বাবস্থায় ফিরে যাবে।’’ অবশেষে দুর্ভিক্ষের অবসান ঘটল কিন্তু তারা কুফরীর দিকে ফিরে গেল। তখন আল্লাহ্ তা‘আলা এদের ব্যাপারেই অবতীর্ণ করলেন, যেদিন আমি তোমাদের শক্তভাবে পাকড়াও করব। الْبَطْشَةَ এবং لِزَامًا দ্বারা বদরের যুদ্ধ বোঝানো হয়েছে। আল্লাহ্ তা‘আলার বাণীঃ আলিফ, লাম, মীম। রোমানরা পরাজিত হয়েছে। ..... এবং পরাজয়ের পর শীঘ্রই বিজয়ী হবে। রোমানদের ঘটনা অতিক্রান্ত হয়েছে। [১০০৭] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৪১০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
হাদিস 4775 — Sahih al Bukhari 65:297
حَدَّثَنَا عَبْدَانُ، أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ، أَخْبَرَنَا يُونُسُ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، قَالَ أَخْبَرَنِي أَبُو سَلَمَةَ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، أَنَّ أَبَا هُرَيْرَةَ ـ رضى الله عنه ـ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَا مِنْ مَوْلُودٍ إِلاَّ يُولَدُ عَلَى الْفِطْرَةِ، فَأَبَوَاهُ يُهَوِّدَانِهِ أَوْ يُنَصِّرَانِهِ أَوْ يُمَجِّسَانِهِ، كَمَا تُنْتَجُ الْبَهِيمَةُ بَهِيمَةً جَمْعَاءَ، هَلْ تُحِسُّونَ فِيهَا مِنْ جَدْعَاءَ " ثُمَّ يَقُولُ {فِطْرَةَ اللَّهِ الَّتِي فَطَرَ النَّاسَ عَلَيْهَا لاَ تَبْدِيلَ لِخَلْقِ اللَّهِ ذَلِكَ الدِّينُ الْقَيِّمُ}
(لَا تَبْدِيْلَ لِخَلْقِ اللهِ) لِدِيْنِ اللهِ (خُلُقُ الْأَوَّلِيْنَ) دِيْنُ الْأَوَّلِيْنَ وَالْفِطْرَةُ الإِسْلَامُ. আল্লাহর সৃষ্টির কোনই পরিবর্তন নেই। (সূরাহ রূম ৩০/৩০) خَلْقِ اللهِ (আল্লাহর সৃষ্টি) এর অর্থ-আল্লাহর দ্বীন। যেমন خُلُقُ الْأَوَّلِيْنَ অর্থাৎ دِيْنُ الْأَوَّلِيْنَ পূর্ববর্তীদের দ্বীন। فِطْرَةُ ইসলাম। ৪৭৭৫. আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, সকল মানব শিশুরই ফিতরাত (ইসলাম)-এর ওপর জন্ম হয়। তারপর তার পিতা ও মাতা তাকে ইয়াহূদী, নাসারা অথবা অগ্নি উপাসক করে ফেলে। যেমন জানোয়ার পূর্ণ বাচ্চার জন্ম দেয়। তোমরা কি তার মধ্যে কোন ত্রুটি পাও? পরে তিনি এ আয়াত পাঠ করলেন। (আল্লাহর প্রকৃতির অনুসরণ কর) যে প্রকৃতি মুতাবিক তিনি মানুষ সৃষ্টি করেছেন। আল্লাহর সৃষ্টিতে কোন পরিবর্তন নেই। এ-ই সরল দ্বীন। [১৩৫৮] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৪১১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
হাদিস 4776 — Sahih al Bukhari 65:298
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ عَلْقَمَةَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ ـ رضى الله عنه ـ قَالَ لَمَّا نَزَلَتْ هَذِهِ الآيَةُ {الَّذِينَ آمَنُوا وَلَمْ يَلْبِسُوا إِيمَانَهُمْ بِظُلْمٍ} شَقَّ ذَلِكَ عَلَى أَصْحَابِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَقَالُوا أَيُّنَا لَمْ يَلْبِسْ إِيمَانَهُ بِظُلْمٍ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِنَّهُ لَيْسَ بِذَاكَ، أَلاَ تَسْمَعُ إِلَى قَوْلِ لُقْمَانَ لاِبْنِهِ {إِنَّ الشِّرْكَ لَظُلْمٌ عَظِيمٌ}"
‘আবদুল্লাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন এ আয়াতটি অবতীর্ণ হল (আল্লাহর বাণী) : যারা ঈমান এনেছে এবং তাদের ঈমানকে জুলুম দ্বারা কলুষিত করেনি। এটি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবীদের উপর খুবই কঠিন মনে হল। তখন তাঁরা বললেন, আমাদের মধ্যে এমন কে আছে যে, তারা তাদের ঈমানকে জুলুম দ্বারা কলুষিত করেনি? রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, এ আয়াত দ্বারা এ অর্থ বুঝানো হয়নি। তোমরা কি লুকমানের কথা শুননি যা তিনি তাঁর পুত্রকে বলেছিলেন? إِنَّ الشِّرْكَ لَظُلْمٌ عَظِيْمٌ নিশ্চয় শির্ক হচ্ছে বড় জুলুম। [৩২] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৪১২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, একদিন রাসূলূল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম লোকদের সঙ্গে উপবিষ্ট ছিলেন। এক ব্যক্তি তাঁর নিকট এসে জিজ্ঞেস করল, ঈমান কী? তিনি বললেন, ‘‘আল্লাহ্তে ঈমান আনবে এবং তাঁর মালায়িকাহ, তাঁর নবী-রাসূলগণের প্রতি ঈমান আনবে এবং আল্লাহর দর্শন ও পুনরুত্থানের ওপর ঈমান আনবে।’’ লোকটি জিজ্ঞেস করল, ইসলাম কী? তিনি বললেন, ইসলাম (হল) আল্লাহর ‘ইবাদাত করবে ও তাঁর সঙ্গে অন্য কাউকে শরীক করবে না এবং সালাত কায়িম করবে, ফারয্ যাকাত দিবে ও রমাযানের সিয়াম পালন করবে। লোকটি জিজ্ঞেস করল, ইহ্সান কী? তিনি বললেন, ইহ্সান হচ্ছে আল্লাহর ‘ইবাদাত এমন নিষ্ঠার সঙ্গে করবে, যেন তুমি তাঁকে দেখছ। আর যদি তুমি তাঁকে দেখতে না পাও, তবে (জানবে) আল্লাহ্ তোমাকে দেখছেন। লোকটি আরও জিজ্ঞেস করল, হে আল্লাহর রাসূল! কখন ক্বিয়ামাত (কিয়ামত) ঘটবে? রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, এ ব্যাপারে প্রশ্নকারীর চেয়ে যাকে প্রশ্ন করা হয়েছে, সে অধিক জানে না। তবে আমি তোমার কাছে এর কতগুলো নিদর্শন বলছি। তা হল, যখন দাসী তার মনিবকে জন্ম দিবে, এটা তার একটি নিদর্শন। আর যখন দেখবে, নগ্নপদ ও নগ্নদেহ বিশিষ্ট লোকেরা মানুষের নেতা হবে, এও তার একটি নিদর্শন। এটি ঐ পাঁচটি বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত, যা আল্লাহ্ ব্যতীত আর কেউ জানেন নাঃ (১) ক্বিয়ামাত (কিয়ামত) সম্পর্কিত জ্ঞান কেবল আল্লাহর নিকটই রয়েছে। (২) তিনিই বৃষ্টি বর্ষণ করেন, (৩) তিনিই জানেন, মাতৃগর্ভে কী আছে। এরপরে সে লোকটি চলে গেল। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তাঁকে আমার নিকট ফিরিয়ে আন। সাহাবীগণ তাঁকে ফিরিয়ে আনতে গেলেন, কিন্তু কিছুই দেখতে পেলেন না। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তিনি হলেন জিব্রীল, লোকেদেরকে শিক্ষা দেয়ার জন্য এসেছিলেন। [৫০] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৪১৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৪১৫)র
হাদিস 4778 — Sahih al Bukhari 65:300
حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سُلَيْمَانَ، قَالَ حَدَّثَنِي ابْنُ وَهْبٍ، قَالَ حَدَّثَنِي عُمَرُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ زَيْدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، أَنَّ أَبَاهُ، حَدَّثَهُ أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ ـ رضى الله عنهما ـ قَالَ قَالَ النَّبِيُّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ " مَفَاتِيحُ الْغَيْبِ خَمْسٌ " ثُمَّ قَرَأَ {إِنَّ اللَّهَ عِنْدَهُ عِلْمُ السَّاعَةِ}.
‘আবদুল্লাহ্ ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলূল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, গায়বের [1] চাবি পাঁচটি। এরপর তিনি এ আয়াত পাঠ করলেনঃ ক্বিয়ামাত (কিয়ামত) সম্পর্কিত জ্ঞান কেবল আল্লাহ্ তা‘আলারই আছে। [১০৩৯] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৪১৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
سُوْرَةُ السَّجْدَةِ সূরাহ (৩২) : আস্-সিজদা وَقَالَ مُجَاهِدٌ (مَهِيْنٍ) ضَعِيْفٍ نُطْفَةُ الرَّجُلِ (ضَلَلْنَا) هَلَكْنَا وَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ (الْجُرُزُ) الَّتِيْ لَا تُمْطَرُ إِلَّا مَطَرًا لَا يُغْنِيْ عَنْهَا شَيْئًا (نَهْدِ) يُبَيِّنْ. মুজাহিদ (রহ.) বলেন, مَهِيْنٍ দুর্বল অর্থাৎ পুরুষের বীর্য। ضَلَلْنَا আমরা ধ্বংস হয়েছি। ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) বলেন, الْجُرُزُ ঐ মাটি যেখানে এত অল্প বৃষ্টি হয়, যাতে তা কোন উপকারে আসে না। نَهْدِ তাকে সঠিক পথ বলে দিয়েছি। ৪৭৭৯. আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আল্লাহ্ তা‘আলা বলেন, আমি আমার নেক বান্দাদের জন্য এমন সব বস্তু বানিয়ে রেখেছি, যা কোন চোখ দেখেনি, কোন কান শোনেনি এবং কোন অন্তঃকরণ চিন্তা করেনি। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) বলেছেন, তোমরা চাইলে এ আয়াত তিলাওয়াত করঃ ‘‘কেউ জানে না তাদের জন্য চোখ জুড়ানো কোন্ বিষয় লুকিয়ে রাখা হয়েছে’’- (আস্-সিজদা ৩২/১৭)।(আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৪১৫) সুফ্ইয়ান (রহ.).....আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, আল্লাহ্ তা‘আলা বলেন, পরের অংশ আগের হাদীসের মত। আবূ সুফ্ইয়ান (রাঃ)-এর কাছে জিজ্ঞেস করা হল, আপনি কি এ হাদীস রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন? তিনি বললেন, তা ছাড়া আর কী? আবূ মু‘আবীয়াহ (রহ.).....আবূ সালিহ্ (রহ.) হতে বর্ণিত। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ)قُرَاتِ ‘‘আলিফ’’ এবং লম্বা ‘তা’ সহ) পড়েছিলেন। [৩২৪৪] (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
হাদিস 4780 — Sahih al Bukhari 65:302
حَدَّثَنِي إِسْحَاقُ بْنُ نَصْرٍ، حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ، عَنِ الأَعْمَشِ، حَدَّثَنَا أَبُو صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ ـ رضى الله عنه ـ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم " يَقُولُ اللَّهُ تَعَالَى أَعْدَدْتُ لِعِبَادِي الصَّالِحِينَ مَا لاَ عَيْنٌ رَأَتْ، وَلاَ أُذُنٌ سَمِعَتْ، وَلاَ خَطَرَ عَلَى قَلْبِ بَشَرٍ، ذُخْرًا، بَلْهَ مَا أُطْلِعْتُمْ عَلَيْهِ ". ثُمَّ قَرَأَ {فَلاَ تَعْلَمُ نَفْسٌ مَا أُخْفِيَ لَهُمْ مِنْ قُرَّةِ أَعْيُنٍ جَزَاءً بِمَا كَانُوا يَعْمَلُونَ}
আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আল্লাহ্ তা‘আলা বলেন, আমি আমার নেক বান্দাদের জন্য এমন সব বস্তুরাজি তৈরি করে রেখেছি, যা কোন চোখ দেখেনি, কোন কান শোনেনি এবং কোন ব্যক্তির মন কল্পনা করেনি। এসব ছাড়া যা কিছুই তোমরা দেখছ, তার কোন মূল্যই নেই। তারপর এ আয়াত পাঠ করলেন, কেউ জানে না তাদের জন্য নয়ন তৃপ্তিকর কী লুক্কায়িত রাখা হয়েছে, তাদের কৃতকর্মের পারিতোষিক হিসেবে। আবূ মুয়াবিয়াহ আ‘মাশ হতে তিনি আবূ সালিহ হতে বর্ণনা করেন, আবূ হুরাইরাহ قُرَّةِ أَعْيُنٍএর স্থলে قُرَّاتِ أَعْيُنٍ পড়তেন।[৩২৪৪] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৪১৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
হাদিস 4781 — Sahih al Bukhari 65:303
حَدَّثَنِي إِبْرَاهِيمُ بْنُ الْمُنْذِرِ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ فُلَيْحٍ، حَدَّثَنَا أَبِي، عَنْ هِلاَلِ بْنِ عَلِيٍّ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي عَمْرَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ ـ رضى الله عنه ـ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " مَا مِنْ مُؤْمِنٍ إِلاَّ وَأَنَا أَوْلَى النَّاسِ بِهِ فِي الدُّنْيَا وَالآخِرَةِ، اقْرَءُوا إِنْ شِئْتُمْ {النَّبِيُّ أَوْلَى بِالْمُؤْمِنِينَ مِنْ أَنْفُسِهِمْ} فَأَيُّمَا مُؤْمِنٍ تَرَكَ مَالاً فَلْيَرِثْهُ عَصَبَتُهُ مَنْ كَانُوا، فَإِنْ تَرَكَ دَيْنًا أَوْ ضِيَاعًا فَلْيَأْتِنِي وَأَنَا مَوْلاَهُ ".
سُوْرَةُ الْأَحْزَابِ সূরাহ (৩৩) : আহযাব وَقَالَ مُجَاهِدٌ (صَيَاصِيْهِمْ) قُصُوْرِهِمْ. মুজাহিদ (রহ.) বলেন, صَيَاصِيْهِمْ তাদের মহল। ৪৭৮১. আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, দুনিয়া ও আখিরাতে সকল মানুষের চেয়ে মু’মিনের জন্য আমিই ঘনিষ্ঠতম। তোমরা ইচ্ছা করলে এ আয়াত পাঠ করতে পার- ‘‘নবী মু’মিনদের নিকট তাদের নিজেদের চেয়ে অধিক ঘনিষ্ঠ।’’ সুতরাং কোন মু’মিন কোন ধন-সম্পদ রেখে গেলে তার নিকটআত্মীয় সে যে-ই হোক, তার উত্তরাধিকারী হবে, আর যদি ঋণ অথবা অসহায় সন্তানাদি রেখে যায় সে যেন আমার কাছে আসে, আমি তার অভিভাবক। [২২৯৮] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৪১৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
হাদিস 4782 — Sahih al Bukhari 65:304
حَدَّثَنَا مُعَلَّى بْنُ أَسَدٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ الْمُخْتَارِ، حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ عُقْبَةَ، قَالَ حَدَّثَنِي سَالِمٌ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ ـ رضى الله عنهما ـ أَنَّ زَيْدَ بْنَ حَارِثَةَ، مَوْلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مَا كُنَّا نَدْعُوهُ إِلاَّ زَيْدَ ابْنَ مُحَمَّدٍ حَتَّى نَزَلَ الْقُرْآنُ {ادْعُوهُمْ لآبَائِهِمْ هُوَ أَقْسَطُ عِنْدَ اللَّهِ}.
‘আবদুল্লাহ্ ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আযাদকৃত গোলাম যায়দ ইবনু হারিসাহ্কে আমরা ‘‘যায়দ ইবনু মুহাম্মদ-ই’’ ডাকতাম, যে পর্যন্ত না এ আয়াত নাযিল হয়। তোমরা তাদের পিতৃপরিচয়ে ডাক, আল্লাহর দৃষ্টিতে এটিই অধিক ন্যায়সঙ্গত। [মুসলিম ৪৪/১০, হাঃ ২৪২৫, আহমাদ ৫৪৮০] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৪১৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
(نَحْبَه”) عَهْدَهُ (أَقْطَارِهَا) جَوَانِبُهَا الْفِتْنَةَ لآَتَوْهَا لَأَعْطَوْهَا. نَحْبَه তার অঙ্গীকার। أَقْطَارِهَا তার পার্শ্বসমূহ। الْفِتْنَةَ لَاٰتَوْهَا তারা তা গ্রহণ করত। ৪৭৮৩. আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা মনে করি, এ আয়াত আনাস ইবনু নায্র সম্পর্কে নাযিল হয়েছেঃ ‘‘মু’মিনদের মধ্যে কতক আল্লাহর সঙ্গে তাদের কৃত ওয়াদা পূর্ণ করেছে।’’ [২৮০৫] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৪১৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)