। উম্মু সালামা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তোমাদের (মহিলাদের) কারো মালিকানায় মুকাতাব দাস থাকলে এবং তার নিকট চুক্তিকৃত অর্থের সম-পরিমাণ সম্পদ থাকলে তার থেকে তোমাদের পর্দা করা উচিত।
। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর স্ত্রী আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। বারীরা (রাঃ) তার নিকট এলেন, তিনি ছিলেন মুকাতাবা। তিনি তার মালিকের সাথে নয় উকিয়া পরিশোধে চুক্তিবদ্ধ হয়েছিলেন। আয়েশা (রাঃ) তাকে বলেন, তোমার মালিক চাইলে আমি এককালীন তাদেরকে তা পরিশোধ করে দিতে পারি এই শর্তে যে, ওয়ালার মালিক হবো আমি। রাবী বলেন, বারীরা তার মালিকের নিকট এসে একথা জানালে তারা এতে অসম্মতি জানায় এবং ওয়ালার মালিকানা তাদের থাকার শর্ত আরোপ করে। আয়েশা (রাঃ) বিষয়টি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট উল্লেখ করলে তিনি বলেনঃ তুমি তাকে ক্রয় করো। রাবী বলেন, অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লোকেদের উদ্দেশে দাঁড়িয়ে খুতবা দিলেন। তিনি প্রথমে আল্লাহর প্রশংসা ও গুণগান করেন, তারপর বলেনঃ লোকেদের কী হলো যে, তারা এমন সব শর্ত আরোপ করে, যা আল্লাহর কিতাবে নাই। যেসব শর্ত আল্লাহর কিতাবে নেই তা বাতিল, যদিও তা সংখ্যায় এক শত হয়। আল্লাহর কিতাবই যথার্থ এবং আল্লাহর শর্তই অধিক মজবুত। ওয়ালার মালিক হবে আযাদকারী।
হাদিস 2522 — Sunan Ibn Majah 19:11
সহিহসহিহদাঈফদাঈফ
حَدَّثَنَا أَبُو كُرَيْبٍ، حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ عَمْرِو بْنِ مُرَّةَ، عَنْ سَالِمِ بْنِ أَبِي الْجَعْدِ، عَنْ شُرَحْبِيلَ بْنِ السِّمْطِ، قَالَ قُلْتُ لِكَعْبٍ يَا كَعْبَ بْنَ مُرَّةَ حَدِّثْنَا عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَاحْذَرْ . قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " مَنْ أَعْتَقَ امْرَأً مُسْلِمًا كَانَ فِكَاكَهُ مِنَ النَّارِ يُجْزِئُ بِكُلِّ عَظْمٍ مِنْهُ عَظْمٌ مِنْهُ وَمَنْ أَعْتَقَ امْرَأَتَيْنِ مُسْلِمَتَيْنِ كَانَتَا فِكَاكَهُ مِنَ النَّارِ يُجْزِئُ بِكُلِّ عَظْمَيْنِ مِنْهُمَا عَظْمٌ مِنْهُ " .
। শুরাহবীল ইবনুস সিমত (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি কা‘ব (রাঃ)-কে বললাম, হে কাব ইবনে মুররা! আমাদের নিকট রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর হাদীস বর্ণনা করুন এবং সাবধানতা অবলম্বন করুন। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছিঃ যে ব্যক্তি একটি মুসলিম গোলাম আযাদ করলো, সে তার জন্য জাহান্নাম থেকে মুক্তিলাভের বিনিময় হবে। আজাদকৃত দাসের প্রতিটি হাড় তার হাড়ের প্রতিদান হবে। যে ব্যক্তি দু’জন মুসলিম দাসীকে আযাদ করবে তারা তার জন্য জাহান্নাম থেকে মুক্তিলাভের বিনিময় হবে। তাদের দু’টি হাড় তার একটি হাড়ের প্রতিদান হবে।
। আবূ যার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! কোন্ গোলাম আযাদ করা অধিক উত্তম? তিনি বলেনঃ যে গোলাম তার মনিবের বেশি পছন্দনীয় এবং বেশি মূল্যবান।
। সামুরা ইবনে জুনদুব (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ কেউ নিজের সাথে রক্তের সম্পর্কযুক্ত দাসের মালিক হলে সে স্বয়ং আযাদ হয়ে যাবে।
। ইবনে উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কেউ নিজের সাথে রক্তের সম্পর্কযুক্ত দাসের মালিক হলে, সে আপনা আপনি আযাদ হয়ে যাবে।
হাদিস 2526 — Sunan Ibn Majah 19:15
হাসানহাসানIsnaad Hasan
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُعَاوِيَةَ الْجُمَحِيُّ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُمْهَانَ، عَنْ سَفِينَةَ أَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ، قَالَ أَعْتَقَتْنِي أُمُّ سَلَمَةَ وَاشْتَرَطَتْ عَلَىَّ أَنْ أَخْدُمَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم مَا عَاشَ .
। আবূ আবদুর রহমান সাঈদ ইবনে জুমহান ইবনে সাফীনা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমাকে উম্মু সালামা (রাঃ) দাসত্বমুক্ত করেন এবং এই শর্ত আরোপ করেন যে, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর খেদমত করবো, যাবত তিনি জীবিত থাকেন।
। আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোন মালদার ব্যক্তি এজমালি গোলামের নিজ অংশ আযাদ করলে তার বাকী অংশও নিজের মাল দিয়ে আযাদ করে দেয়া উচিত। সে মালদার না হলে উক্ত গোলামকে (অবশিষ্ট মূল্য পরিশোধের জন্য) তার সামর্থ্য অনুযায়ী আয়াসসাধ্য কাজে মজুরী খাটাবে।
। ইবনে উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোন ব্যক্তি এজমালি গোলামের তার নিজ অংশ আযাদ করে দিলে সে তার ন্যায়সংগত মূল্য নির্ধারণপূর্বক তার মাল দ্বারা অন্যান্য শরীকের অংশের মূল্যও পরিশোধ করবে। অন্যথায় যতটুকু আযাদ করা হয়েছে সে ততটুকুই আযাদ গণ্য হবে।