রেওয়ায়ত ৯৭. আবু হুরায়রা (রাঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেন, বণিকদের সহিত তাহাদের পণ্য খরিদ করার জন্য আগে আগে মিলিত হইও না। আর কেউ যেন একজনের ক্রয়ের উপর ক্রয় না করে, আর একে অন্যের উপর নাজাশ[1] করিও না। আর কোন শহরবাসী যেন কোন গ্রামবাসীর পক্ষ হইতে বিক্রয় না করে। আর উট এবং বকরীর স্তনে দুধ জমা[2] করিয়া রাখিও না যদি কেহ এইরূপ উট ও বকরী ক্রয় করে, যদি পরে উহার অবস্থা অবগত হয় তবে তাহার ইচ্ছার উপর নির্ভর করিবে, ইচ্ছা হইলে রাখিবে আর উহা ফেরত দিবার অধিকারও তাহার থাকিবে। যদি ফেরত দেয়, তবে যেন দুধের পরিবর্তে এক সা’ খেজুর দিয়া দেয়। মালিক (রহঃ) বলেনঃ রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেন, একে অন্যের ক্রয়ের উপর ক্রয় করিও না। উহার ব্যাখ্যা হইল, একজন যেন অন্যজনের দাম বলার সময় দাম না করে। যখন বিক্রেতার ক্রেতার নিকট বিক্রয় করিতে আগ্রহ প্রকাশ পায় এবং পণ্যের দাম ঠিক করে পণ্যকে নির্দোষ প্রমাণ করিতে আরম্ব করে অথবা এমন কোন কাজ করে যাহাতে মনে হয় যে, বিক্রেতা প্রথম ক্রেতার নিকট বিক্রয় করিতে ইচ্ছুক। এমতাবস্থায় অন্য কাউকে দাম করিতে নিষেধ করা হইয়াছে।মালিক (রহঃ) বলেনঃ যদি বিক্রেতা প্রথম ব্যক্তির দামে বিক্রয় করিতে রাযী না হয় বরং মাল বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে রাখা হয় তবে সকলেই উহার মূল্য বলিতে পারে। যদি একজনের দাম বলার সঙ্গে সঙ্গে অন্যের দাম বলা নিষেধ হইত, তবে নামমাত্র মূল্যের বিনিময়ে প্রথম ক্রেতা উহা গ্রহণ করিতে পারিত এবং বিক্রেতা ক্ষতিগ্রস্ত হইত। মদীনায় বর্ধিত মূল্যে ক্রয় করার বরাবর রেওয়াজ ছিল।
হাদিস 1381 — Muwatta Malik 31:43
সহিহ
قَالَ مَالِكٌ عَنْ نَافِعٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم نَهَى عَنِ النَّجْشِ .
রেওয়ায়ত ৯৮. ইবন উমর (রাঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নাজাশ করিতে নিষেধ করিয়াছেন। নাজাশ বলা হয় মালের উপযুক্ত দামের চাইতে অধিক দাম বলা অথচ তাহার ক্রয়ের ইচ্ছা নাই। বরং এই অধিক দাম বলার উদ্দেশ্য যেন অন্য ব্যক্তি তাহার অনুসরণ করিয়া ধোঁকায় পড়িয়া এই দামে উহা ক্রয় করে।
হাদিস 1382 — Muwatta Malik 31:44
সহিহ
حَدَّثَنِي يَحْيَى، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ دِينَارٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، أَنَّ رَجُلاً، ذَكَرَ لِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ يُخْدَعُ فِي الْبُيُوعِ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِذَا بَايَعْتَ فَقُلْ لاَ خِلاَبَةَ " . قَالَ فَكَانَ الرَّجُلُ إِذَا بَايَعَ يَقُولُ لاَ خِلاَبَةَ .
রেওয়ায়ত ৯৯. আবদুল্লাহ্ ইবন উমর (রাঃ) হইতে বর্ণিত, এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লামের নিকট আসিয়া বলিল, ক্রয়-বিক্রয়ের সময় তাহাকে ধোঁকা দেওয়া হইয়া থাকে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম বলিলেন, তুমি ক্রয়-বিক্রয়ের সময় বলিয়া দিবে, যেন ধোঁকা দেওয়া না হয়। অবশেষে যখন ঐ ব্যক্তি ক্রয়-বিক্রয় করিত তখন বাক্যটি বলিত।
রেওয়ায়ত ১০০. ইয়াইয়া ইবন সাঈদ (রহঃ) হইতে বর্ণিত, তিনি সাঈদ ইবন মুসায়্যাব (রহঃ)-কে বলিতে শুনিয়াছেন, তিনি বলিতেন, যখন তুমি এইরূপ কোন শহরে যাইবে যেখানকার অধিবাসিগণ পূর্ণরূপে ওজন করে তবে তথায় অনেক দিন থাকিও। আর যখন এইরূপ শহরে যাইবে যেখানকার অধিবাসিগণ ওজনে ক্রটি করে, তবে সেখানে অনেক দিন থাকিও না।
রেওয়ায়ত ১০১. ইয়াহইয়া ইবন সাঈদ (রহঃ) হইতে বর্ণিত, তিনি মুহাম্মদ ইবন মুনকাদির (রাঃ)-কে বলিতে শুনিয়াছেন, আল্লাহ্ তা'আলা ঐ ব্যক্তিকে ভালবাসেন, যে ক্রয় করিতে, বিক্রয় করিতে, ঋণ আদায় করিতে, ঋণ উশুল করিতে নরম ব্যবহার করে। মালিক (রহঃ) বলেনঃ কোন ব্যক্তির উট, বকরী, কাপড়, গোলাম, দাসী ইত্যাদি গণনা না করিয়া এক দলকে একত্রে খরিদ করিয়া লওয়া ভাল নয়, যে বস্তু গণনা করিয়া বিক্রি হয় উহা গণনা করিয়া খরিদ করা ভাল। মালিক (রহঃ) বলেনঃ যদি কোন ব্যক্তি কাহাকেও নিজের কোন বস্তু নির্ধারিত মূল্যে এই শর্তে বিক্রয় করিতে দেয় যে, যদি তুমি এই মূল্যে বিক্রয় কর তবে তোমাকে এক দীনার অথবা অন্য কিছু দেওয়া হইবে যাহা নির্দিষ্ট করা হইয়াছে এবং উভয়ে উহাতে সম্মত হইয়াছে তাহা না হইলে কিছুই পাইবে না। তবে ইহাতে কোন ক্ষতি নাই, যদি বিক্রয় মূল্য ও বিক্রয়ের পরের প্রাপ্য নির্ধারিত হইয়া থাকে। বিক্রয় করিলে উহা পাইবে, না করিলে পাইবে না। মালিক (রহঃ) বলেনঃ উহার উদাহরণ এই যে, কোন ব্যক্তি কাহাকেও বলিল, যদি তুমি আমার যে গোলাম বা উট পলাইয়া গিয়াছে উহাকে তালাশ করিয়া আনিয়া দাও তবে তোমাকে এত দিব, তবে ইহা বৈধ। কারণ ইহাতে পারিশ্রমিক নির্দিষ্ট করিয়া কাজে নিযুক্ত করা হইয়াছে। ইহা ইজারা নহে, যদি ইজারা হইত তবে ইহা বৈধ হইত না। মালিক (রহঃ) বলেনঃ কেহ এক ব্যক্তিকে কিছু মাল দিয়া বলিল, ইহা বিক্রয় করিলে প্রতি দীনারে তোমাকে এত দিব; কত দিব তাহা উল্লেখ করিল। ইহাও বৈধ নহে। কেননা উক্ত পণ্যের দাম কম হইলেই তাহার নির্ধারিত পারিশ্রমিক কমিয়া যাইবে। ইহাও এক প্রকার ধোঁকা, জানে না সে কত পাইবে।
রেওয়ায়ত ১০২. মালিক (রহঃ) ইবন শিহাব (রহঃ) হইতে বর্ণনা করেন যে, তাহাকে এমন এক ব্যক্তি সম্বন্ধে জিজ্ঞাসা করা হইয়াছিল, যে একটি জন্তু ভাড়ায় লইয়া উহা আবার অধিক ভাড়ায় অন্যকে দিয়া দেয়। তিনি বলিলেন, উহাতে কোন ক্ষতি নাই।