রেওয়ায়ত ৮৬. মূসা ইবন মাইসারা (রহঃ) জনৈক ব্যক্তিকে সাঈদ ইবন মুসায়্যাব (রহঃ)-এর নিকট প্রশ্ন করিতে শুনিয়াছেন। তিনি বলিলেন, আমি ধারে বিক্রয় করিয়া থাকি (নিজ আয়ত্তে আনার পূর্বে পণ্য বিক্রয় করি)। (উত্তরে) সাঈদ ইবন মুসায়্যাব (রহঃ) বললেন—(পণ্য আয়ত্ত করার পর উহাকে) তোমার গৃহে না আনা পর্যন্ত তুমি উহা বিক্রয় করিও না। মালিক (রহঃ) বলেনঃ এক ব্যক্তি অন্য এক ব্যক্তি হইতে পণ্য ক্রয় করিয়াছে এই শর্তে—বিক্রেতা নির্দিষ্ট সময়ের পর উহা পুরোপুরি ক্রেতার দখলে দিয়া দিবে। হয়ত (মেয়াদ নির্দিষ্ট করিয়াছে) বাজার পরিস্থিতির দরুন, (নির্দিষ্ট মেয়াদ শেষে মাল তাহার নিকট হস্তান্তর করা হইলে এবং তারপর মাল বাজারে ছাড়িলে সে কিছু লাভ করিবে বলিয়া আশাবাদী, কিংবা মেয়াদ পর্যন্ত সে যে শর্ত করিয়াছে এই শর্ত করার প্রয়োজন ক্রেতার রহিয়াছে। অতঃপর বিক্রেতা ক্রেতার সহিত সেই মেয়াদের ব্যাপারে (শর্তের) খেলাফ করিল (অর্থাৎ) মেয়াদ পূর্ণ করিল না। তাই ক্রেতা সেই পণ্য বিক্রেতার নিকট ফিরাইয়া দিতে ইচ্ছা করিল, ইহা ক্রেতার পক্ষে জায়েয হইবে না, ক্রয় তাহার জন্য বাধ্যতামূলক হইবে, আর যদি বিক্রেতা নির্দিষ্ট সময়ের পূর্বে সেই পণ্য ক্রেতার নিকট উপস্থিত করে তবে উহা গ্রহণ করার জন্য ক্রেতাকে বাধ্য করা যাইবে না। মালিক (রহঃ) বলেনঃ এক ব্যক্তি খাদ্যদ্রব্য ক্রয় করিল, তারপর উহাকে ওজন করিয়া লইল। অতঃপর তাহার নিকট হইতে ক্রয় করার জন্য অন্য একজন আসিল, যে ক্রয় করিতে আসিয়াছে উহাকে সে জানাইল যে, সে এই খাদ্যদ্রব্য নিজের জন্য ওজন করিয়া লইয়াছে এবং পূর্ণরূপে আয়ত্তাধীন করিয়াছে। ইহা শুনিয়া ক্রেতা উহাকে বিশ্বাস করিয়া তাহারই প্রকাশিত ওজনে উহাকে গ্রহণ করিল। এইরূপে যাহা নগদ বিক্রয় করা হইল ইহাতে কোন দোষ নাই। আর অন্যের ওজনের উপর যদি ধারে বিক্রয় করা হয় তবে উহা মাকরূহ হইবে যাবত দ্বিতীয় ক্রেতা নিজের জন্য উহা ওজন করিয়া না লয়, ধারে বিক্রয় এই কারণে মাকরূহ যে, ইহা সুদের ওসীলা হয় এবং আশংকা রহিয়াছে সে মাপ ও ওজন ছাড়া এইভাবে বারংবার ইহার পুনরাবৃত্তি ঘটিতে পারে। তাই ধারে হইলে উহা মাকরূহ হইবে, এই বিষয়ে আমাদের মতানৈক্য নাই। মালিক (রহঃ) বলেনঃ অনুপস্থিত ব্যক্তির জিম্মার ঋণ ক্রয় করা জায়েয নহে, উপস্থিত ব্যক্তির ঋণ ক্রয় করাও জায়েয নহে। তবে যাহার জিম্মায় ঋণ রহিয়াছে সে যদি স্বীকার করে। মৃত ব্যক্তির ঋণ ক্রয় করাও জায়েয নহে। যদিও সে যে সম্পদ রাখিয়া গিয়াছে উহা জানা থাকে। কারণ ইহা ক্রয় করাতে ধোঁকা রহিয়াছে। বলা যায় না এই বিক্রীত ঋণের অর্থ উশুল হইবে, না উশুল হইবে না। মালিক (রহঃ) বলেনঃ ইহা মাকরুহ হওয়ার ব্যাখ্যা এই, যদি অনুপস্থিত ব্যক্তির কিংবা মৃত ব্যক্তির জিম্মায় ঋণ ক্রয় করা হয়; তবে সেই মৃত ব্যক্তির জিম্মায় কি পরিমাণ ঋণ নির্ধারিত হইবে তাহা অজ্ঞাত, যদি মৃত ব্যক্তির জিম্মায় ঋণ নির্ধারিত হয় তবে ক্রেতা যে মূল্য পরিশোধ করিয়াছে উহা বৃথা যাইবে। মালিক (রহঃ) বলেন—এইরূপ ক্রয়ে আরও একটি ক্রটি রহিয়াছে, তাহা এই ক্রেতা মুর্দা হইতে এমন বস্তু ক্রয় করিয়াছে যে বস্তুর প্রতি মুর্দার কোন দায়িত্ব বা জামানত নাই, যদি সেই বস্তু সে পূর্ণরূপে দখল করিতে না পারে তবে তাহার মূল্য বৃথা যাইবে, ইহাই ধোকা, ইহা না-জায়েয। মালিক (রহঃ) বলেনঃ যেই বস্তু কাহারো আয়ত্তে না থাকে উহা বিক্রয় করা জায়েয নহে। পক্ষান্তরে যেই (عيتة) বস্তু মূল্য বিক্রেতার আয়ত্তে নাই তাহার জন্য সলফ বিক্রয় বৈধ, এতদুভয়ের মধ্যে পার্থক্য এই, ‘ঈনা বিক্রয়ের মধ্যে ঈনার মালিক অর্থ বহন করিয়া থাকে। যেই অর্থ দ্বারা সে ক্রয় করিতে ইচ্ছুক, তাই সে যেন এইরূপ বলিল, এই আমার নিকট দশ দীনার রহিয়াছে [যেমন খালিদের নিকট]। আপনার [যেমন দবীরের] ইচ্ছা আছে কি আমি আপনার পক্ষে দশ দীনার দিয়া ক্রয় করি এৰং আপনার পক্ষে উহাকে পনর দীনারের বিনিময়ে বিক্রয় করি। এইভাবে সে খালিদ যেন নগদ দশ দীনার বিক্রয় করিল বাকী পনর দীলারের বিনিময়ে। এই জন্য আমি উহাকে মাকরূহ বলি। ইহা সুদের ওসীলা এবং ইহাই ধোঁকা।
রেওয়ায়ত ৮৮. আবু বকর ইবন আবদির রহমান ইবন হারিস ইবন হিশাম (রাঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেন, যে ব্যক্তি (কাহারো নিকট) কোন পণ্য বিক্রয় করিয়াছে। অতঃপর তাহার নিকট হইতে যে ক্রয় করিয়াছে সে দরিদ্র হইয়া গিয়াছে। আর বিক্রেতা ক্রেতার নিকট হইতে পণ্যের মূল্যের কিছুই আয়ত্তে আনে নাই। সে ব্যক্তি (বিক্রেতা) পণ্যদ্রব্য ক্রেতার নিকট যদি হুবহু পায় তবে সে-ই উহার হকদার হইবে অধিক। আর যদি ক্রেতার মৃত্যু হয় তবে পণ্যের মালিক উক্ত পণ্যে অপর ঋণদাতাদের সমান (শরীক) হইবে।
রেওয়ায়ত ৮৯. আবু হুরায়রা (রাঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেন, যে ব্যক্তি দরিদ্র হইয়াছে এবং কোন ব্যক্তি তাহার মাল হুবহু তাহার নিকট পায় তবে সে অন্যের তুলনায় সেই মালের অধিক হকদার হইবে। মালিক (রহঃ) বলেনঃ এক ব্যক্তি অন্য এক ব্যক্তির নিকট কোন পণ্য বা খাদ্যদ্রব্য বিক্রয় করিয়াছে। অতঃপর ক্রেতা দরিদ্র হইয়া গিয়াছে, তবে বিক্রেতা তাহার পণ্যের হুবহু কিছু পাইলে সে এই পণ্য গ্রহণ করিবে। যদি ক্রেতা উহার কিছু অংশ বিক্রয় করিয়া থাকে এবং উহাকে পৃথক করিয়া দিয়া থাকে তবে পণ্যের মালিক অন্যান্য ঋণদাতা বা মহাজনদের অপেক্ষা এই পণ্যের অধিক হকদার হইবে। ক্রেতা কর্তৃক উহ্য হইতে কিছু অংশ পৃথক করার কারণে তাহার পণ্যের যাহা হুবহু সে পাইয়াছে তাহা আয়ত্তে আনিতে কোন বাধা হইবে না। আর যদি বিক্রেতা পণ্যের মূল্যের কিছু তলব করিয়াছে অতঃপর বিক্রেতা পণ্যের যে মূল্য গ্রহণ করিয়াছে উহা ফেরত দিতে এবং যে পণ্য পাওয়া গিয়াছে উহা আয়ত্তে আনিতে পছন্দ করে এবং যাহা আদায় হয় নাই তাহাতে অন্যান্য মহাজনের সমান হইয়া যায় তবে ইহা জায়েয আছে। মালিক (রহঃ) বলেনঃ কোন ব্যক্তি কিছু পণ্য খরিদ করিল উহা পশম হউক বা অন্য কোন ব্যবসায়ের মাল বা এক টুকরা জমি। অতঃপর যে খরিদ করিয়াছে সে উহাতে নূতন কোন কাজ করিল, যেমন জমিতে ঘর বানাইল বা পশম দ্বারা কাপড় তৈয়ার করিল। অতঃপর যে খরিদ করিয়াছিল সে গরীব হইয়া গেল, জমিওয়ালা তাহাকে বলিল, আমি ঐ জমি এবং উহাতে যাহা নির্মাণ করা হইয়াছে তাহা সমস্তই লইয়া লইব, তবে ইহা তাহার জন্য বৈধ হইবে না বরং ঐ জমি এবং জমিতে যে ঘর ক্রেতা তৈয়ার করিয়াছিল উহার মূল্য নির্ণয় করিতে হইবে। অতঃপর দেখিতে হইবে ঐ জমির মূল্য কত পড়ে এবং ঘরের মূল্য কত হয়। অতঃপর ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়ে উহাতে অংশীদার হইবে। জমির মালিকের জন্য হইবে তাহার জমির অংশ অনুযায়ী এবং ঋণগ্রস্তুদিগের জন্য হইবে নির্মিত গৃহাদির অংশ পরিমাণ। মালিক (রহঃ) বলেনঃ ইহার ব্যাখ্যা এই যে, যেমন ঐ জমি ও ঘরের একত্রে মূল্য হইবে এক হাজার পাঁচ শত দিরহাম। এমতাবস্থায় জমির মূল্য হইবে পাঁচ শত দিরহাম এবং ঘরের মূল্য হইবে এক হাজার দিরহাম। জমির মালিকের জন্য হইবে এক-তৃতীয়াংশ এবং ঋণগ্রস্তদিগের জন্য হইবে দুই-তৃতীয়াংশ। মালিক (রহঃ) বলেনঃ এইরূপেই পশম ইত্যাদির মূল্য ধরিত হইবে যদি খরিদ্দার ঋণগ্রস্ত হইয়া পড়ে আর মূল্য আদায় করিতে অপারক হয়। মালিক (রহঃ) বলেনঃ আর ঐ সমস্ত ব্যবসায়ের মাল যাহাতে খরিদ্দার কোন কাজ করে নাই বরং এমনি ঐ মালের যোগ্যতা তথা গুণাগুণ বৃদ্ধি পাইয়াছে আর উহার মূল্য বৃদ্ধি পাইয়াছে। এখন ঐ মালওয়ালা উহা পাইতে ইচ্ছা করিতেছে। কিন্তু খাতক উহা রাখিতে চাহিতেছে। এমতাবস্থায় ঋণদাতাদের ইচ্ছানুযায়ী তাহারা মালওয়ালাকে উহার মূল্যও দিয়া দিতে পারে, যে দামে উহা বিক্রয় হইয়াছিল। উহা হইতে কমাইতে পরিবে না বা তাহাকে তাহার মালও দিয়া দিতে পারে। আর যদি ঐ মালের মূল্য কমিয়া গিয়া থাকে তবে যে বিক্রয় করিয়াছে সে যদি ইচ্ছা করে তবে তাহার মাল লইয়া লইতে পারে। মালিক (রহঃ) বলেনঃ কোন ব্যক্তি কোন দাসী বা কোন পশু খরিদ করিল এবং উহা তাহার নিকট বাচ্চা দিল অতঃপর ক্রেতা গরীব হইয়া গেল, ঐ দাসী বা পশু যে বাচ্চা প্রসব করিয়াছে উহা বিক্রেতার হইবে। যদি খাতকের উহ্য রাখিবার ইচ্ছা হয়, তবে তাহার পূর্ণ প্রাপ্য দিয়া উহা রাখিতে পারে।
হাদিস 1373 — Muwatta Malik 31:35
সহিহ
حَدَّثَنِي يَحْيَى، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ، عَنْ أَبِي رَافِعٍ، مَوْلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ قَالَ اسْتَسْلَفَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بَكْرًا فَجَاءَتْهُ إِبِلٌ مِنَ الصَّدَقَةِ قَالَ أَبُو رَافِعٍ فَأَمَرَنِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنْ أَقْضِيَ الرَّجُلَ بَكْرَهُ فَقُلْتُ لَمْ أَجِدْ فِي الإِبِلِ إِلاَّ جَمَلاً خِيَارًا رَبَاعِيًا . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " أَعْطِهِ إِيَّاهُ فَإِنَّ خِيَارَ النَّاسِ أَحْسَنُهُمْ قَضَاءً " .
রেওয়ায়ত ৯০. রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আযাদকৃত দাস আবূ রাফি' (রাঃ) বলিয়াছেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহ আলায়হি ওয়া সাল্লাম একটি ছোট উট লইয়াছিলেন, অতঃপর তাছার নিকট সাদকার উট আসে। আবু রাফি' বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলয়হি ওয়া সাল্লাম আমাকে ঐ ব্যক্তির উটের বাচ্চ আদায় করিয়া দিতে বলিলেন, আমি বলিলাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! উহাদের মধ্যে তো বাচ্চা উট নাই, সমস্তই বয়ষ্ক উট। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলয়হি ওয়া সাল্লাম বললেন, উহাই দিয়া দাও। কেননা ঐ লোকই উত্তম যে উৎকৃষ্ট বস্তু দ্বারা ঋণ পরিশোধ করে।
রেওয়ায়ত ৯১. মুজাহিদ (রহঃ) বলেনঃ আবদুল্লাহ্ ইবন উমর (রাঃ) এক ব্যক্তির নিকট হইতে কিছু দিরহাম কর্জ লইলেন। অতঃপর আদায় করিবার সময় যে দিরহাম ঋণস্বরূপ লইয়াছিলেন উহা হইতে উৎকৃষ্ট দিরহাম দিলেন। ঐ ব্যক্তি বলিল, হে আবু আবদুর রহমান এই দিরহাম আমার দিরহাম হইতে উৎকৃষ্ট যাহা আমি আপনাকে ধার দিয়াছিলাম। আবদুল্লাহ্ ইবন উমর বলিলেন, আমার তাহা জানা আছে তবুও আমি খুশী হইয়া উহা দিয়াছি। মালিক (রহঃ) বলেনঃ যে ব্যক্তি কাহাকেও স্বর্ণরৌপ্য বা কোন খাদ্যদ্রব্য ধার দেয় তবে ফেরত লইবার সময় যাহাকে ধার দিয়াছিল তাহা হইতে উৎকৃষ্ট বস্তু গ্রহণ করাতে কোন দোষ নাই, যদি এইরূপ কোন শর্ত করিয়া না থাকে বা ইহা নিয়মে পরিণত না হয়; যদি শর্ত করে বা এইরূপ দেওয়ার নিয়ম থাকে তবে উহা মাকরূহ। মালিক (রহঃ) বলেনঃ ইহা এইজন্য যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উটের বাচ্চা ধার লইয়া বড় বয়স্ক উট দিয়াছিলেন আর আবদুল্লাহ্ ইবন উমর (রাঃ) দিরহাম লইয়া উহা হইতে উৎকৃষ্ট দিরহাম দিয়াছিলেন। যদি ইহা খাতকের সন্তুষ্ট মনে হইয়া থাকে আর ইহার জন্য কোন শর্ত বা রীতি না থাকে তবে ইহা হালাল, ইহাতে কোন ক্ষতি নাই।
রেওয়ারত ৯২. মালিক (রহঃ) বলেনঃ তাঁহার নিকট রেওয়ায়ত পৌছিয়াছে যে, এক ব্যক্তি অপর একজনের নিকট কিছু খাদ্যদ্রব্য ধার দিয়াছিল এই শর্তে যে, অন্য শহরে সে উহা পরিশোধ করিবে। উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ) বলিলেন, ঐ স্থানে বহন করিবার খরচ কে বহন করিবে? তাই উহা অপছন্দ করিলেন।
রেওয়ায়ত ৯৩. মালিক (রহঃ) বলেনঃ তিনি জানিতে পারিয়াছেন যে, এক ব্যক্তি আবদুল্লাহ্ ইবন উমর (রাঃ)-এর নিকট আসিয়া বলেন, হে আবু আবদির রহমান। আমি এক ব্যক্তিকে কিছু ধার দিয়াছিলাম এবং উহা হইতে উৎকৃষ্ট বস্তু দেওয়ার শর্ত করিয়াছিলাম। আবদুল্লাহ্ ইবন উমর (রাঃ) বলিলেন উহা সুদ হইবে। ঐ ব্যক্তি বলিলেন, তবে আমাকে এখন কি করিতে বলেন। তিনি বলিলেন, ঋণ তিন প্রকারের হইয়া থাকে। এক প্রকারের ঋণ যাহাতে আল্লাহর সস্তুষ্টি উদ্দেশ্য হয়। উহাতে আল্লাহর সন্তুষ্টিই অর্জিত হইয়া থাকে। আর এক প্রকারের ঋণ যাহাতে গ্রহীতা ব্যক্তির সস্তুষ্টির উদ্ধেশ্য হইয়া থাকে উহাতে ঐ ব্যক্তির সন্ধুষ্টি লাভ হইয়া থাকে। আর এক প্রকার ঋণ যাহাতে হালালের বিনিময়ে হারাম (সুদ) গ্রহণ উদ্দেশ্য হইয়া থাকে। সে ব্যক্তি বলিল তবে আমাকে এখন কি করিতে বলেন? তিনি বলিলেন, আমার মতে তুমি তোমার সুদের দলীল ছিড়িয়া ফেল, যদি তুমি যাহা ঋণ দিয়াছিলে তোমাকে ঐ পরিমাণ দিয়া দেয় তবে উহা লইবে, তোমার সওয়াব হইবে। আর যদি সে খুশী হইয়া তুমি যাহা দিয়াছ উহা হইতে উৎকৃষ্ট ফুদেয় তবে উহার শোকর করবে। আর তুমি তাহাকে যে সময় দিয়াছ উহার সওয়াব পাইবে।
রেওয়ায়ত ৯৪. নাফি' (রহঃ) হইতে বর্ণিত, তিনি আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ)-কে বলিতে শুনিয়াছেন, যদি কেহ কাহাকেও কোন ঋণ দেয় তবে যেন উহা আদায় করার শর্ত ছাড়া অন্য কোন শর্ত না করে।
রেওয়ায়ত ৯৫. মালিক (রহঃ) বলেন, আবদুল্লাহ ইবন মাসউদ (রাঃ) বলিতেন, যদি কেহ কাহাকেও ঋণ দেয় তবে উহা হইতে উৎকৃষ্ট বস্তু বা অতিরিক্ত কিছুর শর্ত করিবে না যদিও একমুষ্টি ঘাস হয়। কেননা উহা সুদ। মালিক (রহঃ) বলেন, এ ব্যাপারে আমাদের নিকট সর্বসম্মত মত এই যে, যদি কেহ কোন পশু ধার নেয় তাহাতে কোন অসুবিধা নাই, তবে তাহাকে ঐরপ পশুই পরিশোধ করিতে হইবে। তবে ক্রীতদাসীদের ব্যাপারে ইহা প্রযোজ্য হইবে না, কারণ ইহাতে যাহা নিষিদ্ধ তাহা হালাল করার আশংকা রহিয়াছে। ইহার ব্যাখ্যা এই, এক ব্যক্তি অপর এক ব্যক্তিকে ক্রীতদাসী ধার দিল, সে উহার সহিত সহবাস করিল, অতঃপর মালিকের নিকট উহাকে ফেরত দিল, ইহা বৈধ মহে। আহলে ইলম (উলামা) এইরূপ করিতে বরাবর নিষেধ করিতেন এবং কাহাকেও ইহার অনুমতি দিতেম না।
হাদিস 1379 — Muwatta Malik 31:41
সহিহ
حَدَّثَنِي يَحْيَى، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ نَافِعٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " لاَ يَبِعْ بَعْضُكُمْ عَلَى بَيْعِ بَعْضٍ " .
রেওয়ায়ত ৯৬. আবদুল্লাহ্ ইবন উমর (রাঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেন, একে অন্যের ক্রয়ের উপর ক্রয় করিও না।