রেওয়ায়ত ৭৪. মালিক (রহঃ)-এর নিকট রেওয়ায়ত পৌছিয়াছে যে, এক ব্যক্তি অপর এক ব্যক্তিকে বলিল, “তুমি এই উটটি ক্রয় কর নগদ মূল্যে আমার উদ্দেশ্যে, আমি উহাকে তোমা হইতে বাকী ক্রয় করিব [অধিক মূল্যে] 'আবদুল্লাহ্ ইবন উমর (রাঃ)-কে এই ব্যাপারে প্রশ্ন করা হইল। তিনি উহাকে মাকরূহ বলিলেন এবং এইরূপ করিতে বারণ করিলেন।
রেওয়ায়ত ৭৫. মালিক (রহঃ)-এর নিকট রেওয়ায়ত পৌছিয়াছে যে, কাসিম ইবন মুহাম্মদকে প্রশ্ন করা হইল এক ব্যক্তি সম্পর্কে যে ব্যক্তি কোন পণ্য ক্রয় করিল নগদ মূল্যে দশ দীনারের বিনিময়ে অথবা ধারে পনের দীনার বিনিময়ে। তিনি উহাকে মাকরূহ মনে করিলেন এবং এইরূপ করিতে নিষেধ করিলেন। মালিক (রহঃ) বলেনঃ এক ব্যক্তি আর এক ব্যক্তি হইতে পণ্য ক্রয় করিয়াছে নগদ দশ দীনার মূল্যে কিংবা ধারে পনর দীনার মূল্যে, ক্রেতাকে দুই মূল্যের যেকোন একটি পরিশোধ করিত হইবে। মালিক (রহঃ) বলেনঃ ইহা জায়েয হইবে না। কারণ সে যদি দশ দীনার নগদ আদায় না করে তবে পনের দীনার ধারে রহিল। আর যদি নগদ দশ দীনার আদায় করিল তবে সে যেন এই দশ দীনারের বিনিময়ে ধারে বিক্রয়ের পনর দীনারকে ক্রয় করিল। মালিক (রহঃ) বলেনঃ এক ব্যক্তি অন্য ব্যক্তি হইতে সামগ্ৰী ক্রয় করিল নগদ এক দীনার মূল্যে, অথবা বাকী মূল্যে এক বকরীর বিনিময়ে যাহার গুণাগুণ খুলিয়া বলা হইয়াছে। সে ব্যক্তির উপর ক্রয় ওয়াজিব হইয়াছে উভয় মূল্যের যে কোন এক মূল্যে। উহা মাকরূহ জায়েয নাই। কারণ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক বিক্রয়ে দুই বিক্রয় ঢুকাইতে নিষেধ করিয়াছেন; উহা এক বিক্রয়ে দুই বিক্রয় ঢুকানোর অন্তর্ভুক্ত (কাজেই ইহা নিষিদ্ধ)।মালিক (রহঃ) বলেনঃ জনৈক ব্যক্তি সম্বন্ধে যে অপর এক ব্যক্তিকে বলিল-আমি আপনার নিকট হইতে এই আজওয়া খেজুরের পনের সা' কিংবা সায়হানীর দশ সা’ অথবা মাহমূলা[1] গমের পনের সা’ অথবা সিরীয় গমের দশ সা’ এক দীনারের বিনিময়ে ক্রয় করিলাম। বর্ণিত দুইটির একটি আমার প্রাপ্য হইবে। ইহা মাকরূহ, ইহা হালাল হইবে না। এক বিক্রয়ে দুই বিক্রয় ঢুকান যে নিষিদ্ধ এই বিক্রয় উহারই সদৃশ। ইহা আরও সদৃশ সেই নিষিদ্ধ বেচাকেনার যাহাতে একই প্রকারের খাদ্যদ্রব্য একের বিনিময়ে দুইটি বিক্রয় করা হয়।
রেওয়ায়ত ৭৬. সাঈদ ইবন মুসায়্যাব (রহঃ) হইতে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহু সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ধোঁকার বিক্রয় নিষেধ করিয়াছেন। মালিক (রহঃ) বলেনঃ ধোঁকা ও সংশয়ের বিক্রয় হইতেছে এইরূপ-যেমন, এক ব্যক্তির জানোয়ার খোয়া গিয়াছে কিংবা তাহার দাস পালাইয়াছে, [সে এই অবস্থাতে উহা বিক্রয় করিতে ইচ্ছুক হইল] উহার মূল্য হইতেছে পঞ্চাশ দীনার। আন এক ব্যক্তি ললিল, আমি আপনার নিকট হইতে ইহা ক্রয় করিলাম বিশ দীনারের মূল্যে। অতঃপর যদি ক্রেতা উহা পায় সবে ত্রিশ দীনার বিক্রেতা হইতে চলিয়া যাইবে। আর না পাইলে বিক্রেতা ক্রেতা হইতে কুড়ি দীনার (পূর্বেই) পকেটস্থ করিয়াছে। মালিক (রহঃ) বলেনঃ ইহাতে অপর একটি ক্রটি রহিয়াছে, তাহা এই হারানো জানোয়ার [বা পলাতক দাস] যদি পাওয়াও যায় (তবুও) জানা যায় নাই যে, উহাতে (কিছু) বৃদ্ধি হইয়াছে না ঘাটতি হইয়াছে, কিংবা উহাতে কোন দোষ জন্মিয়াছে। ইহা বড় রকমের ঝুঁকি। মালিক (রহঃ) বলেনঃ আমাদের নিকট ফায়সালা এই, মাদী জানোয়ার এবং স্ত্রীলোকের পেটের বাচ্চা ক্রয় করাও ঝুঁকি এবং ধোঁকার মধ্যে গণ্য। কারণ পেটের বাচ্চা বাহির হইবে কি হইবে না জানা নাই। যদি বাহির হয় তবে জানা নাই যে, উহা সুন্দর হইবে না কুশ্রী হইবে পূর্ণ হইবে না অসম্পূর্ণ হইবে? নর হইবে না নারী হইবে ইহার প্রত্যেকটিই মূল্যের ব্যাপারে তারতম্য হওয়ার কারণ হয়। এইরূপ হইলে, উহার মূল্য এই হইবে, এইরূপ হইলে উহ্যর মূল্য অন্যরূপ হইবে [ইত্যাদি ইত্যাদি]। মালিক (রহঃ) বলেনঃ স্ত্রী জাতীয় পশুদিগকে বিক্রয় করিয়া উহাদের গর্ভস্থ বাচ্চাদেরকে বিক্রয় হইতে বাদ রাখা জায়েয নহে, ইহা এইরূপ—যেমন কোন ব্যক্তি অপর ব্যক্তিকে বলিল, আমার এই দুধাল বকরীর মূল্য হইতেছে তিন দীনার, কিন্তু দুই দীনার মূল্যে তোমাকে প্রদান করিতেছি। উহার গর্ভস্থ বাচ্চা আমার জন্য থাকিবে, ইহা মাকরূহ। কারণ ইহাতেও ধোঁকা রহিয়াছে। মালিক (রহঃ) বলেনঃ যাইতুন তৈলের বিনিময়ে যাইতুন ফল বিক্রয় করা এবং তিল নিঃসৃত তৈলের বিনিময়ে তিল শস্য বিক্রয় করা। ঘি-এর বিনিময়ে পনির বিক্রয় করা জায়েয নহে। কারণ ইহাতে ‘মুযাবানা’ প্রবেশ করিয়া থাকে, আর এই কারণেও ইহা না-জায়েয যে, যে ব্যক্তি শস্য হইতে নিঃসৃত নির্দিষ্ট পরিমাণ বস্তুর বিনিময়ে শস্য ক্রয় করিতেছে ইহা জানা নাই যে, উহা হইতে সেই পরিমাণের কম উৎপন্ন হইবে না বেশি উৎপন্ন হইবে। কাজেই ইহাও ধোঁকার অন্তর্ভুক্ত হইল। মালিক (রহঃ) বলেনঃ হাব্বুল-বান[1] [বান বা বকায়ন বৃক্ষের শস্য]-কে উহা সলীখা-র বিনিময়ে ক্রয় করাও নাজায়েয। কারণ ইহাতে ধোঁকা রহিয়াছে। কারণ সলীখা হইতেছে হাব্বুল-বান হইতে নিঃসৃত তৈল। তবে সুগন্ধ বান তৈলের বিনিময়ে হাব্বুল-বান ক্রয় করাতে কোন দোষ নাই। কারণ সুগন্ধ বানে অন্য দ্রব্য মিশান হইয়াছে, উহাকে সুগন্ধযুক্ত করা হইয়াছে। তাই উহা কেবল মাত্র হাব্বুল-বান নিঃসৃত সলীখা রূপে অবশিষ্ট নাই। মালিক (রহঃ) বলেনঃ এক ব্যক্তি অন্য ব্যক্তির নিকট কোন সামগ্ৰী বিক্রয় করিল এবং বলিল যে, লোকসান সম্পর্কে ক্রেতার কোন দায়িত্ব নাই।[2] ইহা জয়েয নহে। ইহা ধোঁকার অন্তর্ভুক্ত, ইহার ব্যাখ্যা এই, সে যেন এই সামগ্রীতে যে লাভ অর্জিত হয় উহা তাহাকে ক্রেতাকে বিক্রয় চুক্তির মাধ্যমে দিয়াছে। যদি এই মাল খরিদ মূল্যে বা লোকসানে বিক্রয় করে তবে সে (ক্রেতা) কিছু পাইবে না এবং তাহার শ্রম বৃথা যাইবে। ইহা জায়েয নহে। (জায়েয তখন হইবে যখন) ক্রেতা তাহার শ্রমের মজুরি পাইবে শ্রম পরিমাণ। আর এই বস্তুতে যাহা লাভ লোকসান হইবে, উহা বিক্রেতার প্রাপ্য হইবে। ইহা তখন যখন সেই সামগ্ৰী বিক্রয় হইয়া যায় কিংবা ধ্বংস হয়। যদি উহা নষ্ট না হয় তবে উভয়ের মধ্যকার বেচাকেনা বাতিল হইয়া যাইবে।মালিক (রহঃ) বলেনঃ যদি এক ব্যক্তি অপর ব্যক্তির নিকট কোন মাল বিক্রয় করিল স্পষ্টরূপে, অতঃপর ক্রেতা লজ্জিত হইল অর্থাৎ খরিদ করিয়া লজ্জিত এবং বিক্রেতার নিকট বলিল—কিছু মূল্য কমাইয়া দিন। বিক্রেতা উহা স্বীকার করিল না এবং বলিল—আপনি এই মাল বিক্রয় করুন, আপনার কোন লোকসান নাই। ইহা জায়েয হইবে। কারণ ইহা ধোঁকা নহে বরং ইহা তাহার উপর হইতে লাঘব করা হইল। বেচাকেনা এই লাঘব করার শর্তের উপর অনুষ্ঠিত হয় নাই। ইহাই আমাদের নিকট ফয়সালা।
হাদিস 1363 — Muwatta Malik 31:25
সহিহ
حَدَّثَنَا يَحْيَى، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ يَحْيَى بْنِ حَبَّانَ، وَعَنْ أَبِي الزِّنَادِ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم نَهَى عَنِ الْمُلاَمَسَةِ وَالْمُنَابَذَةِ .
রেওয়ায়ত ৭৭. আবু হুরায়রা (রাঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুনাবাযা হইতে নিষেধ করিয়াছেন। মালিক (রহঃ) বলেনঃ মুলামাসা হইতেছে এই, এক ব্যক্তি বস্ত্র স্পর্শ করিল সে উহা খুলিয়া দেখিল না এবং উহাতে কি দোষ-গুণ রহিয়াছে তাহাও বর্ণনা করা হয় নাই। কিংবা রাত্রিতে উহা ক্রয় করিল উহাতে কি আছে তাহা সে জ্ঞাত নহে। আর মুনাবাযা হইল, এক ব্যক্তি অন্য ব্যক্তির দিকে তাহার বস্ত্র ছুড়িয়া মারিল, অপর ব্যক্তিও তাহার বস্ত্র ইহার দিকে ছুড়িয়া মারিল, কোন প্রকার চিন্তা-ভাবনা না করিয়া (ইহা করিল) এবং একে অপরকে বলিল-ইহা উহার বিনিময়ে (বেচাকেনা হইয়াছে)। হাদীসে নিষেধ করা হইয়াছে মুলামাসা ও মুনাবাযা হইতে। মালিক (রহঃ) বলেনঃ ‘সাজ’ যাহা ঝোলাতে আবদ্ধ রহিয়াছে কিংবা থানবন্দী কিবতী[1] বস্ত্র এতদুভয়কে না খুলিয়া এবং ভিতরে কি রহিয়াছে না দেখিয়া বিক্রয় করা জায়েয নহে। কারণ [এই অবস্থায়] এতদুভয়ের বিক্রয় ধোঁকার বিক্রয়ের অন্তর্ভুক্ত এবং ইহা হইতেছে নিষিদ্ধ মুলামাসার একটি রূপ।মালিক (রহঃ) বলিয়াছেন-বস্তা বা গাঁইটবন্দী মাল ফর্দ সম্বলিত অবস্থায় বিক্রয় করা ঝোলাতে সাজ বস্ত্র বা থানে কাপড় বা এতদুভয়ের সদৃশ কোন বস্তু বিক্রয় করার মতো নহে। এতদুভয়ের মধ্যে পার্থক্য এই—ব্যবহারে ইহার প্রচলন ও পরিচয় রহিয়াছে। (উলামা শ্রেণীর) লোকের সীনাতে ইহার অর্থাৎ বিষয়টি তাহাদের জানা আছে। পূর্বের মনীষী ও উলামা ইহার মতো কাজ করিয়াছেন এবং লোকের মধ্যে বৈধ বিক্রয় হিসাবে সর্বদা ইহা চালু রহিয়াছে। অন্যপক্ষে তাহারা ইহাতে কোন দোষ মনে করেন না। কারণ গাইট বা বস্তা ফর্দ সম্বলিত অবস্থায় উহাকে না খুলিয়া বিক্রয় করাতে ধোঁকার কোন ইচ্ছা করা হয় না। ইহা মুলামাসার অন্তর্ভুক্ত নহে।
হাদিস 1364 — Muwatta Malik 31:26
সহিহ
حَدَّثَنِي يَحْيَى، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ نَافِعٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " الْمُتَبَايِعَانِ كُلُّ وَاحِدٍ مِنْهُمَا بِالْخِيَارِ عَلَى صَاحِبِهِ مَا لَمْ يَتَفَرَّقَا إِلاَّ بَيْعَ الْخِيَارِ " .
রেওয়ায়ত ৮০. আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেন-ক্রেতা বিক্রেতা উভয়ের ইখতিয়ার থাকিবে তাহার অপর পক্ষের উপর, যাবত তাহারা পৃথক না হইয়া যায়। কিন্তু “বায়'উল-খিয়ার” এর ব্যাপার স্বতন্ত্র। মালিক (রহঃ) বলেনঃ এই ব্যাপারে আমাদের নিকট কোন নির্দিষ্ট সময়সীমা নাই, এই প্রকার সময়সীমা নির্ধারণ মদীনার আলিমগণও করেন নাই।
হাদিস 1365 — Muwatta Malik 31:27
সহিহ Lighairihi
وَحَدَّثَنِي مَالِكٌ، أَنَّهُ بَلَغَهُ أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ مَسْعُودٍ، كَانَ يُحَدِّثُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " أَيُّمَا بَيِّعَيْنِ تَبَايَعَا فَالْقَوْلُ مَا قَالَ الْبَائِعُ أَوْ يَتَرَادَّانِ " .
وَحَدَّثَنِي مَالِكٌ، أَنَّهُ بَلَغَهُ أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ مَسْعُودٍ، كَانَ يُحَدِّثُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " أَيُّمَا بَيِّعَيْنِ تَبَايَعَا فَالْقَوْلُ مَا قَالَ الْبَائِعُ أَوْ يَتَرَادَّانِ " .
রেওয়ায়ত ৮০. সফফাহ-এর মাওলা উবাইদ আবী সালিহ (রহঃ) হইতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি কিছু বস্ত্র বিক্রয় করিলাম মেয়াদের উপর দার-ই নাখলা এর বাসিন্দাদের নিকট অতঃপর আমি কুফায় যাওয়ার মনস্থ করিলাম। তাহারা আমাকে বলিল, আমি তাহাদেরকে দাম কমাইয়া দিলে তাহারা মূল্য নগদে আদায় করিবে। আমি এই বিষয়ে যায়দ ইবন সাবিত (রাঃ)-কে জিজ্ঞাসা করিলাম। তিনি বলিলেন— আমি তোমার জন্য ইহা (মালের অর্থ) আহার করা জায়েয করিব না এবং অন্যকে আহার করাও ইহা জায়েয করিব না।
রেওয়ায়ত ৮৩. আবদুল্লাহ্ ইবন উমর (রাঃ)-কে প্রশ্ন করা হইল এক ব্যক্তি সম্বন্ধে, যাহার মেয়াদী ঋণ রহিয়াছে অন্য এক ব্যক্তির উপর, অতঃপর ঋখদাতা (কিছু পরিমাণ ঋণ) গ্রহীতা হইতে কমাইরা দিল এবং ঋণগ্রহীতা (মেয়াদ শেষ হওয়ার পূবে ঋণের অর্থ) ঋণদাতাকে নগদ প্রদান করিল। আবদুল্লাহ্ ইবন উমর (রাঃ) ইহা মাকরূহ জানিলেন এবং ইহা হইতে নিষেধ করিলেন।
রেওয়ায়ত ৮৪. যায়দ ইবন আসলাম (রহঃ) বলেনঃ জাহিলিয়া যুগে সুদ ছিল এইরূপ—এক ব্যক্তির অপর ব্যক্তির উপর মেয়াদী হক রহিয়াছে যখন হক আদায় করার মুহূর্তে উপস্থিত হইয়াছে তখন (ঋণগ্রহীতাকে বলা হইত;) আমার হক আদায় করিবে, না ঋণ বৃদ্ধি করিয়া সময় বাড়াইয়া নিবে (এখন) ঋণগ্রহীতা যদি ঋণ শোধ করে (তবে ভাল কথা), অন্যথায় ঋণের হার বাড়াইয়া দেওয়া হইতে এবং ঋণদাতা মেয়াদ আরও পিছাইয়া দিত (ইহাই ছিল জাহিলিয়ার সুদ)। মালিক (রহঃ) বলেনঃ আমাদের নিকট মাকরূহ বিষয় যাহাতে কোন দ্বিমত নাই তাহা হইতেছে এই, এক ব্যক্তির অপর ব্যক্তির উপর মেয়াদী ঋণ রহিয়াছে। ঋণদাতা কিছু পরিমাণ ঋণ কমাইয়া দিল, ঋণগ্রহীতা (মেয়াদ শেষ হওয়ার পূর্বে) ঋণ পরিশোধ করিয়া দিল। মালিক (রহঃ) বলেন, ইহা আমাদের নিকট এইরূপ যেমন কোন ব্যক্তি ঋণ আদায়ের সময় যখন উপস্থিত হইল তখন ঋণগ্রহীতার জন্য মেয়াদ আরও বাড়াইয়া দিল (ইহার পরিবর্তে) ঋণগ্রহীতা ঋণদাতার জন্য ঋণ (পরিশোধ করার সময়) কিছু বাড়াইয়া দিল, ইহাই প্রকৃত সুদ যাহাতে কোন সন্দেহ নাই। মালিক (রহঃ) বলেনঃ এক ব্যক্তির অপর এক ব্যক্তির উপর একশত দীনার (ঋণ) রহিয়াছে মেয়াদে পরিশোধযোগ্য। যখন মেয়াদ উত্তীর্ণ হইল তখন ঋণদাতা ঋণগ্রহীতাকে বলিল—আমার নিকট একটি পণ্য বিক্রয় কর, যাহার নগদ মূল্য একশত দীনার এবং বাকী মূল্য হইতেছে দেড়শত দীনার। মালিক (রহঃ) বলেন, এই বিক্রয় জায়েয হইবে না আহলে ইলম (উলামা) সর্বদা ইহা হইতে নিষেধ করিতেন। মালিক (রহঃ) বলেনঃ ইহা এইজন্য মাকরূহ যে, সে (ক্রেতা) ইহা (বিক্রেতা)-কে বিক্রীত বস্তুর মূল্য পরিশোধ করিতেছে, বিক্রেতা ক্রেতাকে দ্বিতীয়বার যেই সময় উল্লেখ করিয়াছে সেই সময় পর্যন্ত ক্রেতার জন্য মেয়াদ পিছাইয়া দিতেছে এবং এই পিছাইয়া দেওয়ার জন্য অতিরিক্ত পঞ্চাশ দীনার তাহার উপর বৃদ্ধি করিল, ইহা মাকরূহ, জায়েয নহে। যায়দ ইবন আসলাম (রহঃ)-এর হাদীসে বর্ণিত জাহিলিয়া যুগের বেচাকেনার ইহা সদৃশ তাহারা ঋণ আদায় করার যখন মেয়াদ উপস্থিত হইত, তখন তাহারা ঋণগ্রহীতাকে বলিত, হয়ত ঋণ পরিশোধ কর, নচেৎ ঋণে কিছু বাড়তি দাও, অতঃপর যদি (ঋণগ্রহীতা) ঋণ পরিশোধ করে, তাহারা উহা গ্রহণ করিত, আর (যথাসময়ে) পরিশোধ না করিত, তবে তাহারা তাহদের প্রাপ্য হকসমূহে কিছু পরিমাণ বৃদ্ধি করিয়া দিত এবং ঋণগ্রহীতার জন্য মেয়াদ বাড়াইয়াদিত।
হাদিস 1369 — Muwatta Malik 31:31
সহিহ
حَدَّثَنَا يَحْيَى، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ أَبِي الزِّنَادِ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " مَطْلُ الْغَنِيِّ ظُلْمٌ وَإِذَا أُتْبِعَ أَحَدُكُمْ عَلَى مَلِيءٍ فَلْيَتْبَعْ " .
রেওয়ায়ত ৮৫. আবূ হুরায়রা (রাঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেন (হক আদায় করিতে) সক্ষম ব্যক্তির তালবাহানা অন্যায় বটে, আর তোমাদের কাহাকেও যদি ধনবান ব্যক্তির হাওয়ালা করা হয় তবে সেই হাওয়ালা গ্রহণ করিও।