وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ دِينَارٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " مَنِ ابْتَاعَ طَعَامًا فَلاَ يَبِعْهُ حَتَّى يَقْبِضَهُ " .
রেওয়ায়ত ৪২. আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেন, যে খাদ্যদ্রব্য ক্রয় করিয়া থাকে সে উহাকে কব্জা করার পূর্বে বিক্রয় করিবে না।
হাদিস 1331 — Muwatta Malik 31:42
সহিহ
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ نَافِعٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، أَنَّهُ قَالَ كُنَّا فِي زَمَانِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم نَبْتَاعُ الطَّعَامَ فَيَبْعَثُ عَلَيْنَا مَنْ يَأْمُرُنَا بِانْتِقَالِهِ مِنَ الْمَكَانِ الَّذِي ابْتَعْنَاهُ فِيهِ إِلَى مَكَانٍ سِوَاهُ قَبْلَ أَنْ نَبِيعَهُ .
রেওয়ায়ত ৪৩. আবদুল্লাহ্ ইবন উমর (রাঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগে আমরা খাদ্যদ্রব্য ক্রয় করিলে তিনি আমাদের নিকট লোক পাঠাইতেন। প্রেরিত লোক আমাদিগকে ক্রয় স্থল হইতে খাদ্যদ্রব্য বিক্রয়ের পূর্বে অন্যত্র সরাইয়া ফেলার নির্দেশ দিতেন।
রেওয়ায়ত ৪৪. নাফি' (রহঃ) হইতে বর্ণিত, হাকিম ইবন হিযাম (রাঃ) খাদ্যদ্রব্য ক্রয় করিলেন। উহা জনসাধারণের নিকট বিক্রয়ার্থে ক্রয় করার জন্য উমর (রাঃ) হুকুম দিয়াছিলেন। হাকিম ইবন হিযাম কব্জা করার পূর্বে সে খাদ্যদ্রব্য বিক্রয় করিলেন। উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ)-এর নিকট সেই সংবাদ পৌছিলে তিনি সেই বিক্রয় বাতিল করিয়াছিলেন এবং বলিলেন, তোমার ক্রয়কৃত খাদ্যদ্রব্যকে কব্জা করার পূর্বে বিক্রয় করিও না।
রেওয়ায়ত ৪৬. মালিক (রহঃ) বলেন, তাহার নিকট রেওয়ায়ত পৌছিয়াছে যে, এক ব্যক্তি ইচ্ছা করিল অন্য এক ব্যক্তি হইতে খাদ্যশস্য ধারে ক্রয় করিতে। যেই ব্যক্তি তাহার নিকট খাদ্যশস্য বিক্রয় করিতে মনস্থ করিয়াছে সে এই ব্যক্তিকে বাজারে লইয়া গেল। তারপর তাহাকে রূপ দেখাইতে লাগিল এবং তাহাকে বলিল, এই রূপসমূহের কোনটি হইতে আপনার নিকট বিক্রয় করিলে আপনি পছন্দ করিবেন? ক্রেতা বলিল, যেই বস্তু আপনার নিকট মওজুদ নাই আপনি সেই বস্তু আমার কাছে বিক্রয় করিবেন কি? তারপর তাহারা উভয়ে আবদুল্লাহ্ ইবন উমর (রাঃ)-এর নিকট আসিলেন। তাহার কাছে উভয়ে ঘটনা ব্যক্ত করিলেন। আবদুল্লাহ্ ইবন উমর (রাঃ) ক্রেতাকে বলিলেন, তুমি উহা হইতে তাহার নিকট মওজুদ নাই এইরূপ বস্তু ক্রয় করিও না, আর বিক্রেতাকে বলিলেন, তোমার নিকট যাহা মওজুদ নাই উহা বিক্রয় করিও না।
রেওয়ায়ত ৪৭. ইয়াহইয়া ইবন সাঈদ (রহঃ) জামিল ইবন আবদির রহমান আল মুয়াযযিন (রহঃ)-কে সাঈদ ইবন মুসায়্যাব (রহঃ)-এর নিকট বলিতে শুনিয়াছেন, জার নামক স্থান হইতে লোকের জন্য (চেক মারফত) যেসব রসদ বন্টন করা হইয়া থাকে, (লোকের নিকট হইতে) আমি সেইসব খরিদ করিয়া লই। যেই পরিমাণ আল্লাহ তৌফিক দেন। অতঃপর যেসব খাদ্যশস্যের মূল্য নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পরিশোধ করা আমার জিম্মায় রহিয়াছে সেইরূপ খাদ্যশস্য আমি বিক্রয় করিতে প্রয়াস পাই। সাঈদ তাহাকে বলিলেন-(জার হইতে) যে রসদ ক্রয় করিয়াছ তুমি ক্রেতাদের উহা হইতে দিতে চাও কি? তিনি বলিলেন-হ্যাঁ, সাঈদ তাহাকে ইহা করিতে বারণ করিলেন। মালিক (রহঃ) বলেনঃ আমাদের নিকট সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত যাহাতে কোন মতানৈক্য নাই তাহা এই, যে কোন খাদ্যশস্য খরিদ করে যেমন-গম, যব, সুরত,[1] বাজরা, কংগনী,[2] অথবা কলাই, মটর জাতীয় শস্য, কিংবা এইগুলির সদৃশ কোন শস্য যেইগুলির যাকাত দিতে হয়। অথবা ব্যঞ্জন জাতীয় যাবতীয় দ্রব্য-যেমন-যাইতুন তৈল, ঘি, মধু, সির্কা, পনির, দুধ, তিল, তৈল এবং এই জাতীয় এই সবের সদৃশ অন্যান্য ব্যঞ্জনা। ক্রেতা এইসব বস্তুকে কজা ও পূর্ণ দখলে আনার পূর্বে বিক্রয় করিবে না।
রেওয়ায়ত ৪৮. আবিয যিনাদ (রহঃ) সাঈদ ইবন মুসায়্যাব ও সুলায়মান ইবন ইয়াসার (রহঃ)-কে বলিতে শুনিয়াছেন, কোন ব্যক্তি স্বর্ণের (অথবা চাঁদির) বিনিময়ে বাকী মূল্যে গম বিক্রয় করিয়া পরে সেই বাকী মূল্য হস্তগত হওয়ার পূর্বে উহার বিনিময়ে খুর্মা ক্রয় করিল। তাহারা উভয়ে এই ধরনের ক্রয়-বিক্রয় নিষেধ করিতেন।
রেওয়ায়ত ৪৯. কসীর ইবন ফরকদ (রহঃ) আবু বকর ইবন মুহাম্মদ ইবন আমর ইবন হাযম (রহঃ)-কে প্রশ্ন করিলেন এক ব্যক্তি সম্পর্কে, যে জনৈক ব্যক্তির নিকট খাদ্যদ্রব্য বাকী মূল্যে বিক্রয় করিয়া অতঃপর সেই মূল্য হস্তগত হওয়ার পূর্বে (বাকী) মূল্যে খুর্মা ক্রয় করিতেছে। তিনি ইহাকে মাকরূহ জানাইলেন এবং ইহা করিতে নিষেধ করিলেন। মালিক (রহঃ) ইবন শিহাব (রহঃ) হইতে অনুরূপ বর্ণনা করিয়াছেন। মালিক (রহঃ) বলিয়াছেনঃ সাঈদ ইবন মুসায়্যাব সুলায়মান ইবন ইয়াসার, আবু বকর ইবন মুহাম্মদ ইবন আমর ইবন হাযম (রহঃ) এবং ইবন শিহাব (রহঃ) হইতে বর্ণিত, কোন ব্যক্তি গম বিক্রয় করিতেছে বাকী মূল্যে, অতঃপর তাহার নিকট হইতে যে (বাকী মূল্যে) গম ক্রয় করিয়াছে, সে ব্যক্তি হইতে মূল্য হস্তগত করার পূর্বে সে খুর্মা ক্রয় করিতেছে (অনাদায়ী) মূল্যের বিনিময়ে। তাহারা সকলে ইহা নিষেধ করিয়াছেন। তবে (বিক্রেতা) বাকী মূল্যে যে গম বিক্রয় করিয়াছে, সে মূল্য দ্বারা উহা হস্তগত করার পূর্বে যাহার নিকট গম বিক্রয় করিয়াছিল সে লোক ব্যতীত অন্য বিক্রেতার নিকট হইতে খুর্মা ক্রয় করে এবং সেই খুর্মার মূল্য যাহার নিকট (পূর্বে) গম বিক্রয় করিয়াছিল তাহার দায়িত্বে ছাড়িয়া দেয়, ইহাতে কোন দোষ নাই। মালিক (রহঃ) বলেনঃ আমি এই বিষয়ে অনেক আলিমকে জিজ্ঞাসা করিয়াছি, তাহারা ইহাতে কোন দোষ দেখিতে পান নাই। (অর্থাৎ ইহা বৈধ মনে করেন)।
রেওয়ায়ত ৫০. আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) বলেনঃ এক ব্যক্তি আর এক ব্যক্তিকে (অর্থাৎ ক্রেতা বিক্রেতাকে) নির্দিষ্ট খাদ্যদ্রব্য নির্দিষ্ট মূল্যে ও নির্দিষ্ট মেয়াদে অগ্রিম মূল্য আদায় করিলে কোন দোষ নাই এই শর্তে যে, খেজুর ও শস্য যেন অপরিপুষ্ট না হয়। মালিক (রহঃ) বলেনঃ আমাদের নিকট মাসআলা এই, যে ব্যক্তি ধার্যকৃত মূল্যে নির্ধারিত সময়ে খাদ্যশস্যে সলফ করিল, তারপর নির্ধারিত সময় উপস্থিত হইল। কিন্তু বিক্রেতার নিকট হইতে যাহা ক্রয় করা হইয়াছিল ক্রেতা তাহার নিকট উহা পূর্ণরূপে পায় নাই। তাই সে সলফ বাতিল করিতে মনস্থ করিল। (এইরূপ হইলে) তাহার (ক্রেতার) পক্ষে বিক্রেতা হইতে চাঁদি বা স্বর্ণ কিংবা যেই মূল্য উহাকে আদায় করিয়াছে অবিকল তাহা ছাড়া অন্য কিছু গ্রহণ করা জায়েয হইবে না। সে হস্তগত করার পূর্বে সেই মূল্যের বিনিময়ে অন্য কোন দ্রব্য তাহা হইতে ক্রয় করিবে না। কারণ সে যেই মূল্য উহাকে প্রদান করিয়াছে তাহা ছাড়া যদি অন্য কিছু গ্রহণ করে অথবা খাদ্যদ্রব্য ছাড়া অন্য কোন বস্তুতে উহা ব্যয় করে, তবে খাদ্যদ্রব্য পূর্ণ হস্তগত করার পূর্বে বিক্রয় করা হইবে (যাহা বৈধ নহে)। মালিক (রহঃ) বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পূর্ণরূপে হস্তগত করার পূর্বে খাদ্যদ্রব্য বিক্রয় করিতে নিষেধ করিয়াছেন। মালিক (রহঃ) বলেনঃ যদি ক্রেতা (মাল ক্রয় করার পর ) লজ্জিত হয় এবং বিক্রেতাকে বলে, এই (সলফ বিক্রয়) বাতিল করিয়া দিন। আমি যে মূল্য আপনাকে দিয়াছি সেই মূল্য আদায়ের ব্যাপারে সময় প্রদান করিব (অর্থাৎ বিলম্বে লইব) — ইহা জায়েয হইবে না। আলিমগণ এইরূপ করিতে নিষেধ করেন। কারণ এই যে, যখন বিক্রেতার নিকট প্রাপ্ত খাদ্যদ্রব্য ক্রেতাকে দেওয়ার সময় উপস্থিত হইয়াছে, তখন ক্রেতা তাহার (অগ্রিম দেওয়া) হক (মূল্য আদায় করাকে) এই শর্তে পিছাইয়া দিল যে বিক্রেতা এই বিক্রয় বাতিল করিয়া দিবে। ইহা হইল খাদ্যশস্য পূর্ণরূপে হস্তগত করার পূর্বে উহাকে ধারে বিক্রয় করা (যাহা অবৈধ)। মালিক (রহঃ) বলেনঃ ইহার ব্যাখ্যা এই, যখন (ক্রয়কৃত শস্য) ক্রেতার নিকট অর্পণ করার নির্ধারিত সময় উপস্থিত হইল, ক্রেতা খাদ্যশস্য অপছন্দ করিল। তাই তিনি (বিক্রয় ফেরত চাহিলেন) [সালম বিক্রয়ে যেই খাদ্যদ্রব্য দেওয়ার কথা ছিল] সেই খাদ্যদ্রব্যের বিনিময়ে দীনার ধারে গ্রহণ করিলেন। ইহা [আসলে কিন্তু] ইকালা [বিক্রয় ফেরত দেওয়া] নহে। ইকালা তখন হয় যখন ক্রেতা বিক্রেতা কেহ ইহাতে কোন কিছু বৃদ্ধি না করে। যখন উহাতে কিছু বর্ধিত করা হইল, মূল্য আদায়ে নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত বিলম্ব করার সুযোগ প্রদান করিয়া কিংবা অন্য কোন (টাকা-পয়সার মতো) বস্তু একে অপরের উপর বর্ধিত করিয়া অথবা অন্য এমন কোন বস্তু বর্ধিত করিয়া যদ্বারা (ক্রেতা-বিক্রেতা) উভয়ের একজন উপকৃত হয় তবে উহ্য ইকালা নহে। ইকালা হয় (কখন) যখন পূর্বে তাহারা উভয়ে বিনাশর্তে বেচাকেনা করিয়া থাকে। ইকালা, শরীকানা এবং তওলিয়ত (খরিদ দামে) বিক্রয়কারী-এর অনুমতি দেওয়া হইয়াছে যাবত সেইসবে বর্ধন, কমকরণ কিংবা সময় প্রদান ইত্যাদি প্রবিষ্ট করান না হয়। যদি বর্ধন লোকসানকরণ, মেয়াদ বর্ধিতকরণ (ইত্যাদি) সেই সবে প্রবিষ্ট হয়, তবে উহা হইবে (নূতনভাবে) বেচাকেনা, ইহাকে জায়েয করিবে যাহা ক্রয়-বিক্রয়কে জায়েয করিয়া থাকে এবং ইহাকে হারাম করিবে যাহা ক্রয়-বিক্রয়কে হারাম করিয়া দেয়। মালিক (রহঃ) বলেনঃ যে ব্যক্তি সলফে সিরীয় গম ক্রয় করিয়াছে (গম গ্রহণ করার) নির্ধারিত সময় আসার পর (তৎপরিবর্তে) ছোট দানার গম (মাহমুলা) গ্রহণ করাতে কোন দোষ নাই। মালিক (রহঃ) বলেন, অনুরূপ যে ব্যক্তি বিশেষ রকমের বস্তুতে সলফ করিয়াছে, নির্ধারিত মেয়াদ উপস্থিত হওয়ার পর তাহার পক্ষে সেই বিশেষ রকমের বস্তু হইতে উত্তম কিংবা নিকৃষ্ট বস্তু গ্রহণ করাতে কোন দোষ নাই। ইহার ব্যাখ্যা এইরূপ যেমন কোন ব্যক্তি মাহমুলা গম সলফে ক্রয়-করিয়াছে, (উহা হইতে নিকৃষ্ট শস্য) সব কিংবা (উৎকৃষ্ট শস্য) সিরীয় গম গ্রহণ করাতে কোন দোষ নাই। আর যদি কেহ সলফ মারফত আজওয়াহ খেজুর ক্রয় করিয়াছে, তাহার পক্ষে (উহা হইতে উত্তম খেজুর) সায়হানী কিংবা নিকৃষ্ট খেজুর জমা (جمع) গ্রহণ করাতে কোন দোষ নাই। আর যদি লাল কিশমিশ সলফ মারফত ক্রয় করিয়াছে, তবে (উহার পরিবর্তে) কালো কিশমিশ গ্রহণ করাতে কোন দোষ নাই। যদি এইসব নির্ধারিত মেয়াদ উপস্থিত হওয়ার পর হইয়া থাকে। [সলফ মারফত ক্রয়কৃত দ্রব্যের পরিবর্তে যেই দ্রব্য ক্রেতা গ্রহণ করিয়াছে] যদি উহা كيل ইত্যাদি দ্বারা ওজন করা হয় তেমন দ্রব্য হয় তবে এই দ্রব্য সলফ মারফত ক্রয়কৃত দ্রব্যের পরিমাপে সমান হইতে হইবে।