وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، أَنَّهُ بَلَغَهُ عَنْ جَدِّهِ، مَالِكِ بْنِ أَبِي عَامِرٍ أَنَّ عُثْمَانَ بْنَ عَفَّانَ، قَالَ قَالَ لِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لاَ تَبِيعُوا الدِّينَارَ بِالدِّينَارَيْنِ وَلاَ الدِّرْهَمَ بِالدِّرْهَمَيْنِ " .
রেওয়ায়ত ৩২. উসমান ইবন আফফান (রাঃ) বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে উদ্দেশ্য করিয়া বলিয়াছেন, তোমরা এক দীনারকে দুই দীনারের বিনিময়ে এবং এক দিরহামকে দুই দিরহামের বিনিময়ে বিক্রয় করিও না।
রেওয়ায়ত ৩৩. আতা ইবন ইয়াসার (রহঃ) হইতে বর্ণিত, মু'আবিয়া ইবন আবী সুফিয়ান (রাঃ) স্বর্ণ কিংবা চাঁদির একটি পানপাত্র (সিকায়া) ক্রয় করিয়াছিলেন উহার চাইতে অধিক ওজনের (স্বর্ণ বা চাঁদির) বিনিময়ে। আবুদ্দারদা (রাঃ) তাহাকে উদ্দেশ্য করিয়া বলিলেন- আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে এইরূপ (কার্য) হইতে নিষেধ করিতে শুনিয়াছি। কিন্তু যদি সমান সমান হয় (তবে উহা বৈধ হইবে) মু'আবিয়া (রাঃ) বললেন, আমি এইরূপ কার্যে কোন দোষ মনে করি না, আবুদ্দারদা (রাঃ) বলিলেন, (মু'আবিয়ার ব্যাপারে) আমাকে কে মদদ করিবে? আমি তাহাকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হইতে হাদীসের সংবাদ দিতেছি আর তিনি আমার কাছে তাহার মত বর্ণনা করিতেছেন। (হে মু'আবিয়া) তুমি যেই স্থানে বসবাস কর, সেই স্থানে আমি তোমার সহিত বসবাস করিব না। তারপর আবুদ্দারদা (রাঃ) উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ)-এর নিকট আগমন করিলেন এবং তাহার নিকট ঘটনা বর্ণনা করিলেন। অতঃপর উমর (রাঃ) মু'আবিয়ার নিকট লিখিলেন-এইরূপ বিক্রয় করিবেন না, কিন্তু যদি সমান সমান এবং একই পরিমাণের হয় (তবে বিক্রয় করা বৈধ হইবে)।
রেওয়ায়ত ৩৪. আবদুল্লাহ্ ইবন উমর (রাঃ) হইতে বর্ণিত, উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ) বলিয়াছেন, স্বর্ণের বিনিময়ে স্বর্ণ সমান সমান ছাড়া বিক্রয় করিও না। এবং একটিকে অপরটির উপর বৃদ্ধি করিয়া বিক্রয় করিও না। আর চাঁদির বিনিময়ে চাঁদি সমান সমান ছাড়া বিক্রয় করিও না। উহার এক অংশকে অপর অংশের উপর বাড়তি করিয়া বিক্রয় করিও না আর স্বর্ণের বিনিময়ে চাঁদি বিক্রয় করিও না, যে দুইটির একটি অনুপস্থিত, আর অপরটি বর্তমানে মওজুদ রহিয়াছে। (কব্জা করার পূর্বে) যদি মহাজন তার গৃহে প্রবেশ করা পর্যন্তের জন্য সময় চাহে তবে সেই সময়ও তাহাকে দিও না। আমি তোমাদের বেলায় ‘রামা’ এর আশঙ্কা করি। ‘রামা’ হইতেছে সুদ।
রেওয়ায়ত ৩৫. আবদুল্লাহ ইবন দিনার (রহঃ) আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) সূত্রে বর্ণনা করেন যে, উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ) বলিয়াছেন-স্বর্ণের বিনিময়ে স্বর্ণ সমান সমান ছাড়া বিক্রয় করিও না, এবং একটিকে অপরটির উপর বৃদ্ধি করিয়া বিক্রয় করিও না। আর চাঁদির বিনিময়ে চাঁদি সমান সমান ছাড়া বিক্রয় করিও না। উহার এক অংশকে অপর অংশের উপর বাড়তি করিয়া বিক্রয় করিও না। আর স্বর্ণের বিনিময়ে চাঁদি বিক্রয় করিও না, যে দুইটির একটি অনুপস্থিত, আর অপরটি বর্তমানে মওজুদ রহিয়াছে। (কব্জা করার পূর্বে) যদি মহাজন তার গৃহে প্রবেশ করা পর্যন্তের জন্য সময় চাহে তবে সেই সময়ও তাহাকে দিও না। আমি তোমাদের বেলায় রামা-এর আশঙ্কা করি। রামা’ হইতেছে সুদ।
রেওয়ায়ত ৩৭. আবুয যিনাদ (রহঃ) সাঈদ ইবন মুসায়্যাব (রহঃ)-কে বলিতে শুনিয়াছেন, সুদ হয় কেবলমাত্র স্বর্ণে, চাঁদিতে অথবা যেইসব দ্রব্য ওজন করা হয় কিংবা ওজন করা হয় পানীয় বা খাদ্যদ্রব্য হইতে সেইসব দ্রব্যে।
রেওয়ায়ত ৩৮. ইয়াহইয়া ইবন সাঈদ (রহঃ) সাঈদ ইবন মুসায়্যাব (রহঃ)-কে বলিতে শুনিয়াছেন স্বর্ণ এবং চাঁদিকে কর্তন করা ধরাপৃষ্ঠে ফাসাদ দৃষ্টির অন্তর্ভুক্ত। মালিক (রহঃ) বলেনঃ চাঁদির বিনিময়ে স্বর্ণ এবং স্বর্ণের বিনিময়ে চাঁদি অনুমান করিয়া বিক্রয় করাতে কোন দোষ নাই, যদি ঢালাইবিহীন স্বর্ণ বা তৈরি গহনা হয়। অবশ্য গণনাযোগ্য দিরহাম বা দীনার হইলে সেইসবকে অনুমান করিয়া ক্রয় করা কাহারো পক্ষে বৈধ নহে। যাবত উহার সংখ্যা জানা না যায় এবং উহাকে গণনা করা না হয়। উহাকে অনুমান করিয়া ক্রয় করিলে, উহার লক্ষ্য হইবে প্রতারণা যখন গণনা করা হইল না এবং অনুমান করিয়া ক্রয় করা হইল। ইহা মুসলিমদের ক্রয়-বিক্রয়ের অন্তর্ভুক্ত নহে। আর ঢালাইবিহীন স্বর্ণ বা চাঁদি এবং (তৈরি) গহনা যেসব ওজনে বিক্রয় হয় সেই সবকে অনুমান করিয়া বিক্রয় করাতে কোন দোষ নাই। এইসবকে অনুমানে বিক্রয় করা এইরূপ যেমন গম, খুর্মা এবং উহাদের মতো অন্যান্য খাদ্যদ্রব্য যাহাকে কেহ অনুমান করিয়া বিক্রয় করে যদি উহা ওজন করিয়া বিক্রয় করার মতো দ্রব্য হয়। তাই এইরূপ দ্রব্য অনুমান করিয়া বিক্রয় করাতে কোন দোষ নাই। মালিক (রহঃ) বলেনঃ যে ব্যক্তি স্বর্ণখচিত কুরআন অথবা তলোয়ার অথবা অঙ্গুরীয়কে দীনার, দিরহামের বিনিময়ে ক্রয় করিয়াছে। স্বর্ণখচিত যে বস্তু দীনারের বিনিময়ে ক্রয় করিল সে বস্তুর মূল্যের প্রতি লক্ষ্য করিতে হইবে; যদি উক্ত বস্তুর মূল্য দুই-তৃতীয়াংশ (২/৩) হয় এবং উহাতে লাগানো স্বর্ণের মূল্য হয় এক-তৃতীয়াংশ (১/৩) তবে উহা বৈধ হইবে। ইহাতে কোন দোষ নাই যদি নগদ আদান-প্রদান হয়। আমাদের শহরের লোকের মধ্যে এই নিয়মই প্রচলিত রহিয়াছে।
রেওয়ায়ত ৩৯. মালিক ইবন আওস ইন হাদাসান নাসরী (রহঃ) হইতে বর্ণিত, তিনি একশত দীনারের পরিবর্তে দিরহাম সন্ধান করিলেন। তিনি বলেনঃ (ইহা শুনিয়া) তালহা ইবন উবায়দুল্লাহ (রাঃ) আমাকে ডাকিলেন। আমরা উভয়ে এই বিষয়ে পরস্পর কথাবার্তা বলিলাম, (এমনকি) তিনি আমার নিকট হইতে দীনার গ্রহণ করিলেন, উহার পরিবর্তে দিরহাম দেওয়ার জন্য এবং দীনার হাতে লইয়া উহাকে উলট-পালট করিতে লাগিলেন। অতঃপর বলিলেন-(অপেক্ষা করুন) আমার খাজাঞ্চী গারাঃ হইতে আসুক। উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ) ইহা শুনিতেছিলেন, তিনি বলিলেন, না, (এইরূপ করিও না) আল্লাহর কসম! তুমি তাহা [তালহা (রহঃ)] হইতে পৃথক হইও না যাবত তাহার নিকট হইতে দিরহাম গ্রহণ না কর। তারপর বলিলেন— রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেন, চাঁদির বিনিময়ে স্বর্ণ (গ্রহণ করা সুদের অন্তর্ভুক্ত) অবশ্য যদি উভয়ে নগদ আদান-প্রদান করে। গমের বিনিময়ে গম (ক্রয়-বিক্রয় সুদের অন্তর্ভুক্ত হইবে) কিন্তু যদি নগদ আদান-প্রদান করে। খুর্মার পরিবর্তে খুর্মা (ক্রয়-বিক্রয় সুদ হইবে) অবশ্য যদি নগদ আদান-প্রদান করে। যবের বিনিময়ে যব (ক্রয়-বিক্রয় সুদে গণ্য হইবে), কিন্তু নগদ আদান-প্রদান করে। লবণের বিনিময়ে লবণ (ক্রয়-বিক্রয় সুদ হইবে)। অবশ্য যদি উতয়ে নগদ আদান-প্রদান করে (তবে বৈধ হইবে)। মালিক (রহঃ) বলেনঃ এক ব্যক্তি দীনারকে বদলাইল দিরহাম দ্বারা, অতঃপর সে উহাকে একটি খোটা (দোষযুক্ত) দিরহাম পাইল, যখন সেই দিরহাম ফেরত দিল তখন দীনারের বদলানোর ব্যাপারটি ভঙ্গ হইয়া গেল। (এখন তাহার কর্তব্য হইল) সে চাঁদি ফেরত দিবে (চাঁদির মালিককে) এবং তাহার নিকট হইতে নিজের দীনার ফেরত গ্রহণ করিবে। ইহার ব্যাখ্যা হইতেছে এই, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেন, চাঁদির বিনিময়ে স্বর্ণ (গ্রহণ করা) সুদ হইবে, অবশ্য (বৈধ হইবে) যদি নগদ আদান-প্রদান করে। উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ) বলিয়াছেনঃ যদি (অপর পক্ষ) গৃহে প্রবেশ করা পর্যন্ত তোমার নিকট সময় চায়, তবে তুমি তাহাকে সময় দিও না। বদলানো দিরহাম হইতে দিরহামওয়ালার নিকট হইতে আলাদা হওয়ার পর এক দিরহামও যদি রদ করা হয় তবে ইহা ঋণ বা পরবর্তী বস্তুর মতো হইবে। এই জন্যই ইহা অবৈধ হইয়াছে এবং বিনিময়ে ব্যবসা ভঙ্গ হইয়া গিয়াছে। উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ) ইচ্ছা করিয়াছেন যে, স্বর্ণ, চাঁদি ও খাদ্যশস্য এইসবের মধ্যে ধারের বিনিময়ে নগদ যেন বিক্রয় করা না হয়। কারণ এইসবের মধ্যে বিলম্ব ও সময় দান বৈধ নহে; এক জাতের বস্তু হউক কিংবা বিভিন্ন জাতের বস্তু হউক।
রেওয়ায়ত ৪০. ইয়াযিদ ইবন আবদিল্লাহ ইবন কুসাইত (রহঃ) হইতে বর্ণিত, তিনি সাঈদ ইবন মুসায়্যাব (রহঃ)-কে স্বর্ণের বিনিময়ে স্বর্ণের মুরাতালা করিতে দেখিয়াছেন। তিনি দাঁড়িপাল্লার এক হাতে স্বর্ণ ঢালিতেন, তাহার সহিত মুরাতালাকারী অপর পক্ষ তাহার স্বর্ণ ঢালিতেন পাল্লার অপর হাতে। পাল্লার কাটা বরাবর হইলে (পাল্লার এক হাত হইতে) তিনি গ্রহণ করিতেন এবং (অপর হাত হইতে) সাথীকে দিতেন। মালিক (রহঃ) বলেনঃ আমাদের নিকট মাসআলা এই, ওজন করিয়া স্বর্ণের বিনিময়ে স্বর্ণ এবং চাঁদির বিনিময়ে চাঁদি বিক্রয় করাতে কোন দোষ নাই। যদিও বা নগদ দশ দীনারের বিনিময়ে এগার দীনার গ্রহণ করা হয়। উভয় স্বর্ণের ওজন সমপরিমাণ হইলে। মুদ্রার বিনিময়ে মুদ্রা (ওজন করিয়া বিক্রয় করা বৈধ) সংখ্যায় যদিও বাড়তি হয়। এই ব্যাপারে দিরহামও দীনারের মতো। মালিক (রহঃ) বলেনঃ যে ব্যক্তি স্বর্ণের বিনিময়ে স্বর্ণের মুরাতালা করিয়াছে কিংবা চাঁদির বিনিময়ে চাঁদির মুরাতালা করিয়াছে, উভয় স্বর্ণের মধ্যে একটিতে এক মিসকাল (স্বর্ণ) বাড়তি রহিয়াছে, অতঃপর তাহার সাথী (যাহার অংশের স্বর্ণ ওজনে কম) চাঁদি অথবা অন্য বস্তুর দ্বারা উহার মূল্য আদায় করিল। তবে সে (বর্ধিত স্বর্ণের মালিক) এই মূল্য কবুল করিবে না। কারণ ইহা ভাল নহে এবং ইহা সুদের উসীলা মাত্র। কারণ (অতিরিক্ত) এক মিসকাল যদি উহার মূল্য আদায় করিয়া গ্রহণ করা তাহার জন্য জায়েয হয়, তবে সে যেন এই এক মিসকাল স্বর্ণ পৃথকভাবে (নূতন) খরিদ করিল। এইরূপে এক মিসকালকে উহার মূল্য আদায় করিয়া কয়েকবার গ্রহণ করা হইল। এইভাবে সেও তাহার সার্থীর মধ্যে বিক্রয়কে জায়েয করার জন্য (ইহা করা হইল)। মালিক (রহঃ) বলেনঃ যদি সেই ব্যক্তি যে বর্ধিত এক মিসকাল বিক্রয় করিল সেই মিসকাল বিক্রয় করে পৃথকভাবে, যার সহিত অন্য কিছু না থাকে তাহা হইলে (ক্রেতা) বিক্রয়কে হালাল করিবার উদ্দেশ্যে যেই মূল্যে সে উহা ক্রয় করিয়াছে সেই মূল্য ব্যতীত অন্য কোন মূল্যে সে উহা ক্রয় করিবে না, ইহা হইতেছে হারামকে হালাল করার একটি পন্থা বটে। আর ইহা নিষিদ্ধ। মালিক (রহঃ) বলেনঃ এক ব্যক্তি অন্য এক ব্যক্তির সহিত মুরাতালা করিতেছে এবং উহাকে খাঁটি ও উন্নতমানের স্বর্ণ দিতেছে, তৎসঙ্গে দিতেছে কতকটা কৃত্রিম সোনা। ইহার বদলে তাহার সাথী হইতে সে লইতেছে কুফী মাধ্যমিক মানের সোনা। যে কুকী-স্বর্ণ লোকের নিকট অপছন্দীয়। এবং তাহারা উভয়ে উহা বেচা-কেনা করিতেছে সমান সমান ওজনে। এইরূপ বেচা-কেনা জায়েয হইবে না। মালিক (রহঃ) বলেনঃ ইহা মাকরুহ হওয়ার বিশ্লেষণ এই, বিশুদ্ধ স্বর্ণওয়ালা তাহার বিশুদ্ধ স্বর্ণের অতিরিক্ত মূল্য আদায় করিয়াছে যে কতকটা নিম্নমানের স্বর্ণ উহার সহিত মিশ্রিত করিয়াছে তাহাতে। তাহার সাথী (কুফী স্বর্ণ ওয়ালা)-র স্বর্ণের তুলনায় তাহার স্বর্ণের মান উচ্চ না হইত, তবে তাহার সাথী কুফী-স্বর্ণের বিনিময়ে তাহার নিম্নমানের স্বর্ণের সহিত মুরাতালা করিত না। ইহার দৃষ্টান্ত সেই ব্যক্তির মতো যেই ব্যক্তি তিন সা’ আজওয়াহ্ খুর্মা ক্রয় করার ইচ্ছা করিল দুই সা’ এবং দুই মুদ কাবীস খুর্মার বিনিময়ে। তাহাকে যখন বলা হইল, ইহা জায়েয নহে। তখন বিক্রয় বৈধ করার জন্য দুই সা’ কাবীস খুর্মার সাথে এক সা’ নিকৃষ্ট খুর্মা মিলাইয়া দিল। ইহা জায়েয হইবে না। কারণ আজওয়া খুর্মাওয়ালা এক সা’ নিকৃষ্ট খুর্মার বিনিময়ে এক সা’ আজওয়া খুর্মা দিতে রাজী হইবে না। তবুও তিনি (এইখানে) কাবীসের শ্রেষ্ঠত্বের জন্য প্রদান করিলেন। কিংবা ইহার (দৃষ্টান্ত) এই যে, একজন লোক আর একজন লোককে বলিল, আপনি আমার নিকট তিন সা’ গম বিক্রয় করুন আড়াই সা’ শামী গমের বিনিময়ে। সে লোক বলিল, ইহা বৈধ নহে। কিন্তু (বৈধ হইবে) যদি (ওজনে) সমান সমান হয়। তখন দুই সা’ শামী (সিরীয়) গমের সাথে এক সা’ যব মিলান হইল। উদ্দেশ্য ইহার দ্বারা উভয়ের মধ্যকার বিক্রয় বৈধ করা। ইহা জায়েয হইবে না। কারণ এক সা’ যবের বিনিময়ে এক সা’ গম সে উহাকে কখনো দিবে না, যদি পৃথকভাবে এক সা বিক্রয় করা হয়। (এইখানে) সে এইজন্য দিয়াছে যে, তাহা সাধারণ গমের তুলনায় শামী গম শ্রেষ্ঠ। ইহা বৈধ নহে। নিম্নমানের স্বর্ণের বেলায় আমরা যেইরূপ বর্ণনা করিয়াছি, ইহাও সেইরূপ বৈধ নহে। মালিক (রহঃ) বলেনঃ সর্বপ্রকার স্বর্ণ চাঁদি এবং সব খাদ্যদ্রব্য যেই সব বস্তু বরাবর ছাড়া ক্রয়-বিক্রয় নিষিদ্ধ। সেই সবের উৎকৃষ্ট প্রকারের পছন্দীয় বস্তুর সহিত অপছন্দীয় রদ্দী প্রকারের বস্তু মিলিত করা যাহাতে ক্রয়-বিক্রয় জায়েয করার উদ্দেশ্যে এবং অবৈধ ও নিষিদ্ধ ব্যাপারকে হালাল করার মতলবে। যেমন নিকৃষ্ট বস্তুকে উৎকৃষ্ট বস্তুর সহিত মিশ্রিত করা হইল। ইহার দ্বারা সে উৎকৃষ্টের সঙ্গে নিকৃষ্ট মিশ্রয়কারী যে উৎকৃষ্ট মাল বিক্রয় করিতেছে উহার উৎকৃষ্টতার (অতিরিক্ত) মূল্য উত্তল করিয়া লইতেছে। তাই তিনি এমন নিকৃষ্ট বস্তু (অপর পক্ষকে) দিতেছে। যদি উহাকে আলাদা বিক্রয় করে তাহার অপর পক্ষ উহাকে গ্রহণ করিবে না এবং এই দিকে খেয়ালও করিবে না। এখন সে উহা গ্রহণ করিতেছে এই (নিকৃষ্ট মানের) মালের সহিত যে (উৎকৃষ্ট মানের) মাল সে পাইতেছে উহার আকর্ষণে। কারণ তাহার মালের তুলনায় তাহার সাথীর মাল উৎকৃষ্ট, কাজেই স্বর্ণ বা চাঁদি কিংবা খাদ্যদ্রব্যে কোনটিতেই অন্য কোন (নিকৃষ্ট) বস্তু মিশ্রিত করা জায়েয হইবে না; তবে যদি রদ্দী খাদ্যদ্রব্যের মালিক উহাকে অন্য (উত্তম) খাদ্যদ্রব্যের বিনিময়ে বিক্রয় করিতে চাহে তবে পৃথকভাবে উহা বিক্রয় করিবে এবং উহার সহিত (উৎকৃষ্ট) অন্য কোন দ্রব্য মিশ্ৰিত করিবে না, এইরূপ করিলে তবে ইহাতে কোন দোষ নাই, যদি এইরূপ (পৃথকভাবে বিক্রয়) হইয়া থাকে।
হাদিস 1329 — Muwatta Malik 31:40
সহিহ
حَدَّثَنِي يَحْيَى، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ نَافِعٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " مَنِ ابْتَاعَ طَعَامًا فَلاَ يَبِعْهُ حَتَّى يَسْتَوْفِيَهُ " .
রেওয়ায়ত ৪১. আবদুল্লাহ্ ইবন উমর (রাঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেন, যে ব্যক্তি খাদ্যদ্রব্য ক্রয় করিয়াছে, সে উহা কব্জা করার পূর্বে যেন ইহা বিক্রয় না করে।