রেওয়ায়ত ২০. আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) রোযাদারের জন্য চুমু খাওয়া এবং স্ত্রীর সহিত মিলিত হওয়াকে নিষেধ করিতেন।
হাদিস 652 — Muwatta Malik 18:23
সহিহ
حَدَّثَنِي يَحْيَى، عَنْ مَالِكٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُتْبَةَ بْنِ مَسْعُودٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم خَرَجَ إِلَى مَكَّةَ عَامَ الْفَتْحِ فِي رَمَضَانَ فَصَامَ حَتَّى بَلَغَ الْكَدِيدَ ثُمَّ أَفْطَرَ فَأَفْطَرَ النَّاسُ وَكَانُوا يَأْخُذُونَ بِالأَحْدَثِ فَالأَحْدَثِ مِنْ أَمْرِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم .
রেওয়ায়ত ২১. আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস (রাঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কা বিজয় বৎসরে রমযান মাসে মক্কার দিকে সফরে বাহির হইলেন এবং রোযা রাখিলেন। কাদীদ নামক স্থানে পৌছিলে পর তিনি রোযা ভঙ্গ করিলেন এবং তাহার সাথে অন্যরাও রোযা ভঙ্গ করিলেন। আর তাহারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর হুকুম হইতে যাহা সদ্য অতঃপর যাহা অতি সদ্য তাহা গ্রহণ করিতেন। (অর্থাৎ যে কোন নূতন হুকুম পাওয়া বা শোনামাত্রই গ্রহণ করিতেন)।
হাদিস 653 — Muwatta Malik 18:24
সহিহ
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ سُمَىٍّ، مَوْلَى أَبِي بَكْرِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَنْ أَبِي بَكْرِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ بَعْضِ، أَصْحَابِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَمَرَ النَّاسَ فِي سَفَرِهِ عَامَ الْفَتْحِ بِالْفِطْرِ وَقَالَ " تَقَوَّوْا لِعَدُوِّكُمْ " . وَصَامَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم . قَالَ أَبُو بَكْرٍ قَالَ الَّذِي حَدَّثَنِي لَقَدْ رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِالْعَرْجِ يَصُبُّ الْمَاءَ عَلَى رَأْسِهِ مِنَ الْعَطَشِ أَوْ مِنَ الْحَرِّ ثُمَّ قِيلَ لِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ طَائِفَةً مِنَ النَّاسِ قَدْ صَامُوا حِينَ صُمْتَ - قَالَ - فَلَمَّا كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِالْكَدِيدِ دَعَا بِقَدَحٍ فَشَرِبَ فَأَفْطَرَ النَّاسُ .
রেওয়ায়ত ২২. রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জনৈক সাহাবী হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিজয় বৎসর তাহার সফরে সাহাবীগণকে রোযা খুলিতে নির্দেশ দিলেন এবং বলিলেন, তোমরা তোমাদের শক্রদের জন্য শক্তি সঞ্চয় কর, আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজে রোযা রাখিলেন। আবু বকর ইবন আবদুর রহমান (রহঃ) বলেনঃ যে ব্যক্তি আমার নিকট হাদীস বর্ণনা করিয়াছেন তিনি বলিয়াছেনঃ আমি আরজ নামক স্থানে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে নিজের মাথায় পানি ঢালিতে দেখিয়াছি, পিপাসায় অথবা প্রচণ্ড গরমের কারণে। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলা হইল, আপনি রোযা রাখিয়াছেন বলিয়া একদল লোক (এখনও) রোযা রাখিয়াছে। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন কাদীদে পৌছিলেন, তখন তিনি পেয়ালা চাহিলেন এবং (পানি অথবা দুধ) পান করিলেন, তারপর সাহাবীগণ রোযা ভঙ্গ করিলেন।
হাদিস 654 — Muwatta Malik 18:25
সহিহ
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ حُمَيْدٍ الطَّوِيلِ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، أَنَّهُ قَالَ سَافَرْنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي رَمَضَانَ فَلَمْ يَعِبِ الصَّائِمُ عَلَى الْمُفْطِرِ وَلاَ الْمُفْطِرُ عَلَى الصَّائِمِ .
রেওয়ায়ত ২৩. আনাস ইবন মালিক (রাঃ) বলেনঃ আমরা রমযানে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে সফর করিয়াছি। অতঃপর কোন রোযাদার রোযাভঙ্গকারীর উপর দোষারোপ করেন নাই এবং কোন রোযাভঙ্গকারীও কোন রোযাদারের উপর দোষারোপ করেন নাই।
হাদিস 655 — Muwatta Malik 18:26
সহিহ
وَحَدَّثَنِي يَحْيَى، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّ حَمْزَةَ بْنَ عَمْرٍو الأَسْلَمِيَّ، قَالَ لِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنِّي رَجُلٌ أَصُومُ أَفَأَصُومُ فِي السَّفَرِ فَقَالَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِنْ شِئْتَ فَصُمْ وَإِنْ شِئْتَ فَأَفْطِرْ " .
রেওয়ায়ত ২৪. হামযা ইবন আমর আসলামী (রাঃ) রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট বলিলেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি প্রায়ই রোযা রাখি। আমি কি সফরে রোযা রাখিব? রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁহাকে বলিলেনঃ তুমি ইচ্ছা করিলে রোযা রাখ, আর ইচ্ছা করিলে রোযা ছাড়।
রেওয়ায়ত ২৭. মালিক (রহঃ) বলেনঃ তাহার নিকট রেওয়ায়ত পৌছিয়াছে, উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ) রমযানে যদি সফরে থাকিতেন, তবে তিনি যদি জানিতেন যে, তিনি মদীনায় দিনের প্রথম দিকে প্রবেশ করিবেন, তবে তিনি রোযা অবস্থায় (মদীনায়) প্রবেশ করিতেন। মালিক (রহঃ) বলেনঃ যে ব্যক্তি রমযানে সফরে থাকে অতঃপর জানিতে পারে যে, সে নিজের পরিজনের মধ্যে দিনের প্রথমদিকে প্রবেশ করিবে এবং প্রবেশ করার পূর্বে ফজর হয়, তবে সে রোযা অবস্থায় প্রবেশ করিবে। মালিক (রহঃ) বলেনঃ আর যে ব্যক্তি রমযানে সফরে বাহির হইতে ইচ্ছা করে এবং স্বীয় (আবাস) ভূমিতে থাকিতেই ফজর হয়, তাহার বাহির হওয়ার পূর্বে সেই দিনের রোযা রাখিবে। মালিক (রহঃ) বলেনঃ যে ব্যক্তি রোযা না রাখা অবস্থায় সফর হইতে ফিরিয়াছে, আর তাহার স্ত্রীও রোযা রাখে নাই (ঋতুমতী বলিয়া), এখন রমযানের মধ্যে ঋতু হইতে পাক হইয়াছে, তবে তাহার স্বামী ইচ্ছা করিলে (রোযার দিনে) তাহার সহিত সহবাস করিতে পারে (কারণ উভয়ে রোযা অবস্থায় নহে)।
হাদিস 659 — Muwatta Malik 18:30
সহিহ
حَدَّثَنِي يَحْيَى، عَنْ مَالِكٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ حُمَيْدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَوْفٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَجُلاً، أَفْطَرَ فِي رَمَضَانَ فَأَمَرَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنْ يُكَفِّرَ بِعِتْقِ رَقَبَةٍ أَوْ صِيَامِ شَهْرَيْنِ مُتَتَابِعَيْنِ أَوْ إِطْعَامِ سِتِّينَ مِسْكِينًا . فَقَالَ لاَ أَجِدُ . فَأُتِيَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِعَرَقِ تَمْرٍ . فَقَالَ " خُذْ هَذَا فَتَصَدَّقْ بِهِ " . فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ مَا أَحَدٌ أَحْوَجَ مِنِّي . فَضَحِكَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حَتَّى بَدَتْ أَنْيَابُهُ ثُمَّ قَالَ " كُلْهُ " .
রেওয়ায়ত ২৮. আবু হুরায়রা (রাঃ) হইতে বর্ণিত- এক ব্যক্তি রমযানের রোযা ভঙ্গ করিয়াছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাহাকে একটি ক্রীতদাস আযাদ করার নির্দেশ দিলেন অথবা একনাগাড়ে দুই মাস রোযা রাখার অথবা ষাটজন মিসকিনকে আহার দেওয়ার জন্য বলিলেন। লোকটি বলিলঃ আমি সামর্থ রাখি না। তারপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এক টুকরি খেজুর আনা হয়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিলেন ইহা গ্রহণ কর এবং সদকা কর। লোকটি বলিলঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমা হইতে অধিক মুহতাজ আমি পাই না। (এই কথা শুনিয়া) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাসিলেন, এমনকি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সামনের দন্ত মুবারক প্রকাশিত হইল। অতঃপর বলিলেনঃ ইহা তুমি খাও।