রেওয়ায়ত ১. আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেনঃ পাঁচটির কম উটে যাকাত ওয়াজিব হয় না। পাঁচ উকিয়া হইতে কম রৌপ্য এবং পাঁচ অছক হইতে কম পরিমাণ শস্যেও যাকাত (উশর) ফরয হয় না।
রেওয়ায়ত ২. আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) বর্ণনা করেন- রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেনঃ পাঁচ আছক হইতে কম পরিমাণ খেজুরে যাকাত (উশর) নাই। পাচ উকিয়া হইতে কম পরিমাণ রৌপ্যে এবং পাঁচটির কম উটে যাকাত ফরয হয় না।
রেওয়ায়ত ৩. মালিক (রহঃ) বলেনঃ তাহার নিকট রেওয়ায়ত পৌছিয়াছে যে, উমর ইবন আবদুল আযীয (রহঃ) দামেশকে নিযুক্ত শাসনকর্তাকে লিখিয়া পাঠাইলেন-স্বর্ণ, রৌপ্য, শস্য এবং পশুপালে যাকাত ধার্য করা হইয়া থাকে মালিক (রহঃ) বলেনঃ তিন প্রকার বস্তুতে যাকাত ধার্য হয়-ক্ষেতের শস্য, স্বর্ণ-রৌপ্য এবং পশুপালে।
রেওয়ায়ত ৪. মুহাম্মদ ইবন উকবা (রহঃ) কাসিম ইবন মুহাম্মদ (রহঃ)-কে জিজ্ঞাসা করিলেনঃ আমার মুকাতাব[1] চুক্তিকৃত দাসের সঙ্গে একটি বিরাট অংকের টাকার বিনিময়ে মুকতাআ[2] করিয়া ফেলিয়াছি। ইহাতেও কি যাকাত দিতে হইবে? কাসিম (রহঃ) উত্তরে বললেন, পূর্ণ এক বৎসর অতিবাহিত না হওয়া পর্যন্ত আবু বকর সিদ্দীক (রাঃ) কোন মালের যাকাত লইতেন না। কাসিম ইবন মুহাম্মদ (রহঃ) বলেন, কাহাকেও সরকারী ভাতা প্রদানের সময় আবূ বকর সিদ্দীক (রাঃ) জিজ্ঞাসা করিয়া নিতেন, আপনার এমন ধন-সম্পদ আছে কি যাহাতে যাকাত দেওয়া ওয়াজিব হয়? ঐ ব্যক্তি স্বীকারোক্তি করিলে তিনি দেয় ভাতা হইতে ইহা কাটিয়া রাখতেন। স্বীকার না করিলে ভাতা সম্পূর্ণটাই দিয়া যেতেন। কিছুই রাখিয়া দিতেন না।
রেওয়ায়ত ৫. আয়েশা বিনত কোদামা (রাঃ) তাহার পিতা হইতে বর্ণনা করেন- তিনি বলিয়াছেনঃ বাৎসরিক ভাতা নেওয়ার জন্য উসমান ইবন আফফান (রাঃ)-এর নিকট যখন আসিতাম তখন তিনি জিজ্ঞাসা করিতেনঃ যাকাত ধার্য হওয়ার মত কোন সম্পদ আপনার নিকট রহিয়াছে কি? আমি হ্যাঁ-সূচক জবাব প্ৰদান করিলে তিনি এই ভাতা হইতে যাকাত পরিমাণ অংক কাটিয়া রাখতেন, আর না বলিলে সম্পূর্ণ ভাতা দিয়া দিতেন।
রেওয়ায়ত ৭. ইবন শিহাব (রহঃ) বলেনঃ সর্বপ্রথম মুয়াবিয়া (রাঃ)-ই বেতন হইতে যাকাত আদায় করেন। মালিক (রহঃ) বলেনঃ আমাদের নিকট সর্বসম্মত প্রচলিত পদ্ধতি হইল- দুই শত দিরহাম (রৌপ্যমুদ্রা) পরিমাণ অংকে যেমন যাকাত ধার্য করা হইয়া থাকে তেমনি বিশ দীনার[1] (স্বর্ণমুদ্রা) পরিমাণ অংকেও যাকাত ফরয হইবে। মালিক (রহঃ) বলেন, দীনার ওজনে কম হইলে এবং প্রকৃত মূল্য বিশ দীনার না হইলে ইহাতে যাকাত ধার্য হইবে না। অনুরূপ বিশ দীনারের বেশি হইলে এবং প্রকৃত মূল্য বিশ দীনার পরিমাণ হইলে ইহাতে যাকাত ধার্য হইবে। মালিক (রহঃ) বলেন, বিশ দীনার হইতে কম পরিমাণ অংকে যাকাত ফরয হয় না। মালিক (রহঃ) বলেনঃ দুই শত দিরহাম পরিমাণ অংক ওজনে হালকা হইলে এবং প্রকৃত মূল্য দুইশত দিরহাম না হইলে উহাতে যাকাত ধার্য হইবে না। সংখ্যায় দুই শতের বেশি হইলেও যদি প্রকৃত মূল্য দুইশত দিরহামের হয়, তবে ইহাতে যাকাত ধার্য হইবে। মালিক (রহঃ) বলেনঃ কাহারও নিকট যদি এক শত ষাট দিরহাম থাকে এবং সে যে অঞ্চলে বসবাস করে সেই শহরে এক দীনার সমান আট দিরহাম হিসেবে হইলেও (যদি সেই অনুপাতে একশত ষাট দিরহাম সমান বিশ দীনার হইয়া যায় তবুও) ইহাতে যাকাত ধার্য হইবে না। কেননা যাকাত ফরয হওয়ার জন্য কাহারও নিকট বিশ দীনার বা দুইশত দিরহাম থাকিতে হইবে।[2] মালিক (রহঃ) বলেনঃ পাঁচ দীনার পরিমাণ অর্থ নিয়া একজন ব্যবসা শুরু করিল। বৎসর শেষ হইতে না হইতেই সে যাকাত পরিমাণ দীনারের মালিক হইয়া পড়িলে তাহাকে যাকাত আদায় করিতে হইবে। বৎসর সম্পূর্ণ হওয়ার একদিন পূর্বে বা পরে ঐ পরিমাণ দীনারের মালিক হইলেও যাকাত দিতে হইবে। পরে এই যাকাত প্রদানের দিন হইতে দ্বিতীয় এক বৎসর পূর্ণ অতিক্রাপ্ত না হওয়া পর্যন্ত আর তাহাকে যাকাত দিতে হইবে না। মালিক (রহঃ) বলেনঃ কেহ দশ দীনার নিয়া ব্যবসা শুরু করিল, পূর্ণ বৎসর অতিক্রান্ত হইতে না হইতে সে বিশ দীনারের মালিক হইল। তাহার উপর যাকাত ধার্য করা হইবে। যেদিন হইতে বিশ দীনারের মালিক হইল সেইদিন হইতে পূর্ণ এক বৎসর অতিক্রাপ্ত হইতে হইবে, এরূপ নয়। কেননা বৎসর অতিক্রান্ত হওয়ার সময় সে বিশ দীনারের মালিক। পরে দ্বিতীয় এক বৎসর পূর্ণ অতিক্রান্ত না হওয়া পর্যন্ত আর তাহার উপর যাকাত ধার্য হইবে না। মালিক (রহঃ) বলেনঃ আমাদের সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত হইল, ক্রীতদাস কর্তৃক উপার্জিত মজুরি, ভাড়া এবং কিতাবত-চুক্তির বিনিময়ে প্রদত্ত অর্থ বা সম্পদে কম হউক বা বেশি হউক যাকাত ধার্য হইবে না, যতদিন মালিক কর্তৃক অর্থপ্রাপ্তির দিন হইতে পূর্ণ এক বৎসর অতিক্রান্ত না হইবে। মালিক (রহঃ) বলেনঃ স্বর্ণ বা রৌপ্যে যদি কয়েকজনের হিস্যা থাকে তবে যাহার হিস্যা বিশ দীনার (স্বর্ণ হইলে) বা দুইশত দিরহাম (রৌপ্য হইলে) পরিমাণ হইবে তাহার উপর যাকাত ধার্য হইবে। যাহার হিস্যা ইহার চেয়ে কম হইবে তাহার উপর যাকাত ফরয হইবে না। সকলের হিস্যাই যদি নিসাব পরিমাণ হয় কিন্তু কাহারও কম আর কাহারও বেশি হয় তবে প্রত্যেকের উপরই নিজ নিজ হিস্যানুসারে যাকাত ফরয হইবে। উহা এই জন্য যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেনঃ রৌপ্য পাঁচ উকিয়ার কম হইলে যাকাত ওয়াজিব নহে। মালিক (রহঃ) বলেন, আমি এ বিষয়ে যাহা কিছু শুনিয়াছি উহাদের মধ্যে উল্লিখিত ফয়সালাটি আমার পছন্দনীয়। মালিক (রহঃ) বলেন, কাহারও মালিকানাধীন স্বর্ণ ও রৌপ্য বিভিন্নজনের নিকট বিক্ষিপ্ত হইয়া পড়িয়া থাকিলে সাকল্য টাকা হিসাব করিয়া যাকাত দিতে হইবে।মালিক (রহঃ) বলেনঃ স্বর্ণ বা রৌপ্য যদি কেহ প্রাপ্ত হয়, তবে প্রাপ্তির দিন হইতে পূর্ণ এক বৎসর অতিক্রান্ত না হওয়া পর্যন্ত ইহাতে যাকাত ধার্য হইবে না।
রেওয়ায়ত ৮. রবীআ ইবন আবু আবদুর রহমান (রহঃ) হইতে একাধিকজন বর্ণনা করিয়াছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘ফুরআ’ অঞ্চলে অবস্থিত কাবালিয়া খনিসমূহ বিলাল ইবন হারিস মুযানীকে জায়গীর হিসাবে দিয়াছিলেন। এইগুলি হইতে আজ পর্যন্ত যাকাত ব্যতীত আর কিছুই লওয়া হয় না। মালিক (রহঃ) বলেনঃ খনি হইতে উত্তোলিত দ্রব্যের মূল্য দুইশত দিরহাম বা বিশ দীনারের পরিমাণ না হওয়া পর্যন্ত উহাতে যাকাত ধার্য হইবে না। কিন্তু ঐ পরিমাণ হইলে উহাতে যাকাত ধার্য করা হইবে। ইহার বেশি হইলে সেই অনুপাতে যাকাত নেওয়া হইবে। খনি মাঝখানে বন্ধ হইয়া যাওয়ার পর যদি আবার চালু হয় তবে সর্বপ্রথম চালু হওয়ার সময় যেমন যাকাত ধার্য করা হইয়াছিল তেমনি ইহাতে পুনরায় যাকাত ধার্য করা হইবে। মালিক (রহঃ) বলেনঃ খনি শস্যক্ষেত্রের মতই, শস্যক্ষেত্রে যেমন ফসল উৎপন্ন হইলে উহাতে যাকাত ধার্য হয়, তেমনি খনি হইতে খনিজ দ্ৰব্য উত্তোলিত হইলে ইহা হইতে যাকাত নেওয়া হইবে। পূর্ণ এক বৎসর অতিক্রান্ত হওয়ার অপেক্ষা করা হইবে না।
হাদিস 586 — Muwatta Malik 17:9
সহিহ
حَدَّثَنِي يَحْيَى، عَنْ مَالِكٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ، وَعَنْ أَبِي سَلَمَةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " فِي الرِّكَازِ الْخُمُسُ " .
রেওয়ায়ত ৯. আবু হুরায়রা (রাঃ) বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেনঃ ভূগর্ভে প্রোথিত সম্পদে এক-পঞ্চমাংশ যাকাত ধার্য হইবে। মালিক (রহঃ) বলেনঃ বিজ্ঞ আলিমদের নিকট যাহা শুনিয়াছি এবং যাহাতে কোন দ্বিমত নাই তাহা এই— তাহারা বলিতেনঃ রিকায হইল পরিশ্রম ও টাকা ব্যয় ব্যতিরেকে হস্তগত অমুসলিম কর্তৃক ভূগর্ভে প্রোথিত সম্পদ। ইহা হস্তগত করিতে বিরাট শ্রম ও টাকার প্রয়োজন হইলে এবং কখনও কৃতকার্য কখনও অকৃতকার্য হইলে আর ইহা রিকায বলিয়া গণ্য হইবে না। ইহাতে তখন হিসাবানুসারে কেবল যাকাত ধার্য হইবে।
হাদিস 587 — Muwatta Malik 17:10
Mauquf Sahih
حَدَّثَنِي يَحْيَى، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الْقَاسِمِ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّ عَائِشَةَ، زَوْجَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم كَانَتْ تَلِي بَنَاتِ أَخِيهَا يَتَامَى فِي حَجْرِهَا لَهُنَّ الْحَلْىُ فَلاَ تُخْرِجُ مِنْ حُلِيِّهِنَّ الزَّكَاةَ .
রেওয়ায়ত ১০. আবদুর রহমান ইবন কাসিম (রহঃ) তাহার পিতা হইতে বর্ণনা করেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পত্নী আয়েশা (রাঃ) তাহার ভ্রাতা মুহাম্মদ ইবন আবু বকর (রাঃ)-এর ইয়াতীম ছেলে-মেয়েদের লালন-পালন করিতেন। ইহাদের অনেকেরই অলংকার ছিল। কিন্তু আয়েশা (রাঃ) এইগুলির যাকাত আদায় করিতেন না।