রেওয়ায়ত ১১ নাফি’ (রহঃ) বর্ণনা করেন, আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) স্বীয় কন্যা ও ক্রীতদাসীদেরকে স্বর্ণের অলংকার পরাইতেন। তিনি সমস্ত অলংকারের যাকাত দিতেন না।[1] মালিক (রহঃ) বলেনঃ কাহারও নিকট যদি স্বর্ণ বা রৌপ্যের পিণ্ড থাকে এবং ইহা কাজে না লাগায় তবে নিসাব পরিমাণ হইলে ইহাতে বাৎসরিক চল্লিশ ভাগের এক ভাগ হারে যাকাত ধার্য হইবে। অলংকার তৈয়ারের উদ্দেশ্যে রক্ষিত পিণ্ড বা মেরামতের উদ্দেশ্যে রক্ষিত ভগ্ন অলংকার গৃহস্থালীর প্রয়োজনীয় মাল আসবাবের মত। ইহাতে যাকাত ফরয হইবে না। মালিক (রহঃ) বলেনঃ মোতি, কস্তুরী, আম্বর ইত্যাদি সুগন্ধি দ্রব্যে যাকাত ফরয হয় না।
রেওয়ায়ত ১৩. কাসিম ইবন মুহাম্মদ (রহঃ) বলেনঃ আয়েশা (রাঃ) আমার ও আমার ভ্রাতাকে লালন-পালন করিতেন। আমরা উভয়েই ছিলাম ইয়াতীম। আয়েশা (রাঃ) আমাদের ধন-সম্পত্তিরও যাকাত প্রদান করিতেন।
হাদিস 591 — Muwatta Malik 17:14
Mauquf Sahih
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، أَنَّهُ بَلَغَهُ أَنَّ عَائِشَةَ، زَوْجَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم كَانَتْ تُعْطِي أَمْوَالَ الْيَتَامَى الَّذِينَ فِي حَجْرِهَا مَنْ يَتَّجِرُ لَهُمْ فِيهَا .
রেওয়ায়ত ১৪. মালিক (রহঃ) বলেনঃ তাহার নিকট রেওয়ায়ত পৌছিয়াছে যে, আয়েশা (রাঃ) ব্যবসায়ীদেরকে তেজারতের জন্য ইয়াতীমদের মাল দিয়া দিতেন।
রেওয়ায়ত ১৫. মালিক (রহঃ) বর্ণনা করেনঃ ইয়াহইয়া ইবন সাঈদ (রহঃ) তাহার ইয়াতীম ভ্রাতুষ্পপুত্রদের নিমিত্ত কিছু ক্রয় করিয়াছিলেন। পরে অতি উচ্চ মূল্যে ইহা বিক্রয় করা হইয়াছিল। মালিক (রহঃ) বলেনঃ ইয়াতীমদের ওলী বা তত্ত্বাবধায়ক যদি আস্থাভাজন এবং আমানতদার হন তবে ইয়াতীমদের সম্পত্তি দ্বারা ব্যবসা করায় খারাপ কিছু নাই। ব্যবসায়ে ঘাটতি দেখা দিলে ক্ষতিপূরণের দায়িত্ব তাহার উপর বর্তাইবে না।
রেওয়ায়ত ১৮. আইয়ুব ইবন আবি তামীম সুখতিয়ানী (রহঃ) বর্ণনা করেন, উমাইয়া শাসকগণ অবৈধভাবে যে সমস্ত মাল কবজা করিয়া নিয়াছিলেন সে সম্পর্কে নির্দেশ দিতে যাইয়া উমর ইবন আবদুল আযীয (রহঃ) লিখিয়াছেন- প্রকৃত মালিকদের নিকট ঐগুলি ফিরাইয়া দেওয়া হউক এবং যে কয় বৎসর অতিবাহিত হইয়াছে হিসাব করিয়া সেই কয় বৎসরের যাকাত ইহা হইতে আদায় করিয়া নেওয়া হউক।পরে আরেকটি পত্রে লিখেন- এই কয় বৎসরের যাকাত যেন উসুল না করা হয়, কেননা ইহা মাল-ই-যিমারের অন্তর্ভুক্ত।
রেওয়ায়ত ১১. মালিক (রহঃ) বলেনঃ ব্যবসায়ী শরীকী কারবারের মাল হইতে হেথা করিতে পারিবে না; কোন ফকীরকে কিছু দিতে পরিবে না এবং কাহারো ইহসানের বদলা দিতে পরিবে না। যদি অন্যান্য লোক নিজেদের খাবার লইয়া আসে তবে ব্যবসায়ীও নিজের খাবার তাহার সঙ্গে মিশাইয়া খাইতে পারে, তবে অধিক লইতে পরিবে না। যদি অধিক লইতে ইচ্ছা করে, তবে অর্থ বিনিয়োগকারী হইতে অনুমতি না মিলিলে তবে উহার ক্ষতি পূরণ দিতে হইবে।
রেওয়ায়ত ২০. যুরায়ক ইবন হাইয়ান (রহঃ) বর্ণনা করেন - যুরায়ক ছিলেন মিসরের পথে গমনকারী যাত্রীদের নিকট হইতে কর আদায়কারী কর্মচারী। উমর ইবন আবদুল আযীয (রহঃ) তাঁহাকে লিখিয়াছিলেন, তোমার এই এলাকা দিয়া কোন মুসলিম ব্যবসায়ী পথ অতিক্রম করিলে, তাহার বাণিজ্যিক সম্পদ হইতে প্রতি চল্লিশ দীনারে এক দীনার আদায় করিয়া নিও। চল্লিশ দীনার হইতে কম হইলে সেই অনুপাতে বিশ দীনার পর্যন্ত হইতে আদায় করিবে। বিশ দীনার হইতে এক-তৃতীয়াংশ দীনারও যদি কম হয় তবে তাহা ছাড়িয়া দিও। আর কোন যিম্মী বাসিন্দা ঐ পথ অতিক্রম করিলে তাহার বাণিজ্যিক সম্পদ হইতে প্রতি বিশ দীনারে এক দীনার উসুল করিবে। বিশের কম দশ দীনার পর্যন্ত হইতে সেই অনুপাতে উসুল করবে। দশ দীনার হইতে এক-তৃতীয়াংশ দীনারও কম হইলে উহা ছাড়িয়া দিবে। সম্পূর্ণ বৎসরের জন্য উসুলকৃত পরিমাণের একটা রসিদ করদাতাকে লিখিয়া দিবে যাহাতে এই কর এক বৎসরের মধ্যে তাহাকে পুনরায় দিতে না হয়। মালিক (রহঃ) বলেন, আমাদের নিকট হুকুম হইল, কোন ব্যবসায়ী একবার যাকাত প্রদান করার পর ইহা দ্বারা বাণিজ্যের উদ্দেশ্যে কোন বস্তু অথবা গোলাম অথবা তদ্রুপ কিছু খরিদ করিয়া যাকাত প্রদান করার তারিখ হইতে পূর্ণ এক বৎসর অতিক্রান্ত হওয়ার পূর্বে উহা বিক্রয় করিয়া দিলে, পূর্ণ বৎসর অতিক্রান্ত না হওয়া পর্যন্ত ইহাতে যাকাত ওয়াজিব হইবে না। কয়েক বৎসর পর্যন্ত যদি এই মাল বিক্রয় না করিয়া রাখিয়া দেয় তবে যখন বিক্রয় করিবে তখন শুধু ইহাতে এক বৎসরেরই যাকাত দিতে হইবে। মালিক (রহঃ) বলেনঃ আমাদের নিকট মাসআলা এই- কেহ যদি ব্যবসায়ের উদ্দেশ্যে স্বর্ণ বা রৌপ্য মুদ্রার বিনিময়ে গম বা খেজুর খরিদ করিয়া রাখিয়া দেয় এবং ইহাতে এক বৎসর অতিক্রান্ত হইয়া যায়, তবে যখন মাল বিক্রয় হইবে তখন নিসাব পরিমাণ হইলে ইহাতে যাকাত ওয়াজিব হইবে। ফল বা ফসলের মত ইহার হুকুম হইবে না।[1]মালিক (রহঃ) বলেনঃ কোন ব্যবসায়ীর কাছে বাণিজ্যিক মাল আছে বটে কিন্তু নগদ এত পরিমাণ টাকা তাহার হয় না যাহাতে যাকাত ধার্য হইতে পারে, বাণিজ্যিক মালের মূল্য ও নগদ অর্থ মিলাইয়া নিসাব পরিমাণ হইলে ইহাতে যাকাত ধার্য হইবে নতুবা ধার্য হইবে না। মালিক (রহঃ) বলেনঃ ব্যবসায়ে খাটান হউক বা না হউক সম্পদে বৎসরে একবারই যাকাত ধার্য হইয়া থাকে।
রেওয়ায়ত ২১. আবদুল্লাহ ইবন দীনার (রহঃ) হইতে বর্ণিত, কানয সম্পর্কে আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ)-কে জিজ্ঞাসা করা হইলে তিনি বলিয়াছিলেন, কানয হইল এমন ধরনের সম্পদ, যাহার যাকাত আদায় করা হয় নাই।