حَدَّثَنِي مَالِكٌ، عَنْ نَافِعٍ، عَنْ أَبِي لُبَابَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم نَهَى عَنْ قَتْلِ الْحَيَّاتِ الَّتِي فِي الْبُيُوتِ .
রেওয়ায়ত ৩১. আবু লুবাবা (রাঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে সমস্ত সর্প ঘরে বাস করে উহাদেরকে মারিতে (হত্যা করিতে) নিষেধ করিয়াছেন।
হাদিস 1794 — Muwatta Malik 54:32
সহিহ
وَحَدَّثَنِي مَالِكٌ، عَنْ نَافِعٍ، عَنْ سَائِبَةَ، مَوْلاَةٍ لِعَائِشَةَ . أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم نَهَى عَنْ قَتْلِ الْجِنَّانِ الَّتِي فِي الْبُيُوتِ إِلاَّ ذَا الطُّفْيَتَيْنِ وَالأَبْتَرَ فَإِنَّهُمَا يَخْطِفَانِ الْبَصَرَ وَيَطْرَحَانِ مَا فِي بُطُونِ النِّسَاءِ .
রেওয়ায়ত ৩২. আয়েশা (রাঃ) কর্তৃক আযাদকৃত বাদী সায়েবা (রাঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেই সমস্ত সর্পকে মারিতে নিষেধ করিয়াছেন, যাহা ঘরে বাস করে। তবে যুততুফয়াতাইন ও আবতর জাতীয় সর্প মারিতে নিষেধ করেন নাই। কেননা এই দুই প্রকার সর্প চক্ষু নষ্ট করে এবং মহিলাদের গর্ভ নষ্ট করে।
রেওয়ায়ত ৩৩. হিশামের আযাদকৃত গোলাম আবু সায়েব (রাঃ) হইতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আবূ সাঈদ খুদরী (রাঃ)-এর নিকট গেলাম। তিনি নামায পড়িতেছিলেন। আমি তাহার নামায হইতে অবসর হইবার অপেক্ষায় বসিয়া রহিলাম। তিনি যখন নামায শেষ করিলেন তখন আমি তাহার ঘরের চৌকির নিচে সরসর শুনিতে পাইলাম। আমি তাকাইয়া দেখিলাম যে, উহা একটি সর্প। আমি উহাকে মারিতে উদ্যত হইলাম। আবু সাঈদ (রাঃ) আমাকে ইশারা করিলেন যে বস (অর্থাৎ মারিও না)। অতঃপর তিনি (আমার দিকে) ফিরিয়া ঘরের একটি কামরার দিকে ইশারা করিয়া বলিলেন, ঐ ঘরটি দেখিতেছ ? আমি বলিলাম, হ্যাঁ। তিনি বলিলেন, সেই ঘরে জনৈক যুবক বাস করিত, নূতন বিবাহ করিয়াছিল। সে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লামের সঙ্গে পরিখা যুদ্ধে গমন করিয়াছিল। ইহার পর হঠাৎ এক সময় সে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লামের নিকট আসিয়া বলিল, ইয়া রাসূলাল্লাহু! আমাকে একটু অনুমতি দান করুন, আমি আমার পরিবারের সঙ্গে একটু কথা বলিয়া আসি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাহাকে অনুমতি দান করিলেন এবং বলিলেন, যুদ্ধাস্ত্র সঙ্গে রাখ। কেননা বনু কুরায়যার আশঙ্কা রহিয়াছে (বনু কুরায়যা সেই ইহুদী গোত্র, যাহারা পরিখা যুদ্ধের সময় ওয়াদা ভঙ্গ করিয়া মক্কাবাসীদের সঙ্গে মিলিয়া মুসলিমদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অবতীর্ণ হইয়াছিল)। যুবকটি অস্ত্রসহ রওয়ানা হইয়া গেল। ঘরে পৌছিয়া সে তাহার স্ত্রীকে ঘরের দুই দরজার মধ্যবর্তী স্থানে দগুায়মান দেখিতে পাইল। স্ত্রীকে এই অবস্থায় দেখিয়া সে ক্রোধান্বিত হইল এবং বর্শা দিয়া স্ত্রীকে হত্যা করিতে উদ্যত হইল। স্ত্রী বলিল, (আমাকে মারিতে এত) তাড়াহুড়া করিও না, বরং আগে ঘরের ভিতরে যাইয়া দেখ। অতঃপর সে ঘরের ভিতরে গিয়া দেখিল যে, কুগুলী পাকাইয়া একটি সর্প তাহার বিছানায় বসিয়া আছে। সে বর্শা দিয়া সপটিকে গাথিয়া ফেলিল এবং বর্শাটিকে ঘরে দাড় করাইয়া রাখিয়া দিয়া নিজে বাহির হইয়া আসিল। সপটি বর্শার ফলায় পেচাইতেছিল, আর তখনই যুবকটি মারা গেল। তবে ইহা জানা যায় নাই যে, যুবকটি আগে মারা গেল, না-সর্পটি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লামের নিকট উক্ত ঘটনা বিবৃত করা হইলে পরে তিনি বলিলেন, মদীনায় জ্বিন ইসলাম গ্রহণ করিয়াছে। অতএব তোমরা যদি সৰ্প দেখ তবে তিনদিন পর্যন্ত তাহাকে সতর্ক কর। তারপরেও যদি তাহাকে দেখ, তবে তাহাকে হত্যা কর। কেননা সে শয়তান।
وَحَدَّثَنِي مَالِكٌ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ حَرْمَلَةَ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ، أَنَّهُ كَانَ يَقُولُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " الشَّيْطَانُ يَهُمُّ بِالْوَاحِدِ وَالاِثْنَيْنِ فَإِذَا كَانُوا ثَلاَثَةً لَمْ يَهُمَّ بِهِمْ " .
রেওয়ায়ত ৩৬. সাঈদ ইবনে মুসায়্যাব (রহঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেন, শয়তান একজন কিংবা দুইজনকে ক্ষতি করিবার ইচ্ছা করে। তিনজন হইলে ইচ্ছা করে না (কারণ তিনজন হইলে জমাআত হয়, আর কোন জমাআতে সে ক্ষতি করিতে পারে না)।
হাদিস 1800 — Muwatta Malik 54:38
সহিহ
وَحَدَّثَنِي مَالِكٌ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي سَعِيدٍ الْمَقْبُرِيِّ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " لاَ يَحِلُّ لاِمْرَأَةٍ تُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الآخَرِ تُسَافِرُ مَسِيرَةَ يَوْمٍ وَلَيْلَةٍ إِلاَّ مَعَ ذِي مَحْرَمٍ مِنْهَا " .
রেওয়ায়ত ৩৭. আবূ হুরায়রা (রাঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেন, যেই স্ত্রীলোক আল্লাহ্ ও শেষ বিচারের দিনের প্রতি ঈমান আনয়ন করিয়াছে, তাহার জন্য মাহরম ব্যতীত একাকী সফর করা হালাল নহে।
রেওয়ায়ত ৩৮. খালেদ ইবন মা’দান (রহঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেন, আল্লাহ তা’আলা নম্রতা প্রদর্শন করেন, নম্রতা পছন্দ করেন, নম্রতায় আনন্দিত হন এবং নম্রতায় সাহায্য করেন, যাহা কঠোরতায় করেন না। যখন তোমরা এই সব বাকশক্তিহীন সওয়ারীর উপর আরোহণ কর, তখন উহাকে সাধারণ মঞ্জিলে নামাও (অর্থাৎ স্বাভাবিক দূরত্বের অধিক চালাইয়া উহাকে অধিক কষ্ট দিও না)। যেখানে বিশ্রাম করিবে, সেখানকার জায়গা যদি পরিষ্কার হয় এবং ঘাস না থাকে তবে শীঘ্রই সেখান হইতে উহাকে বাহির করিয়া লইয়া যাও নতুবা উহার হাড় শুকাইয়া যাইবে। (অর্থাৎ ঘাসপাতাহীন জায়গায় বিলম্ব করিলে উহারা না খাইয়া শুকাইয়া যাইবে। ফলে হাঁটিতে পারিবে না)। আর তোমাদের জন্য রাত্রে ভ্রমণ করাই উচিত। কারণ রাত্রে যেই পরিমাণ পথ অতিক্রম করা যায়, দিনে তাহা হয় না। রাত্রে যদি কোন স্থানে অবস্থান কর, তবে পথে অবস্থানে করিও না। কেননা সেখানে জীবজন্তু চলাফেরা করে এবং সর্প বাস করে।
রেওয়ায়ত ৩৯. আবু হুরায়রা (রাঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেন, সফর হইল আযাবের এক অংশ। ইহা মানুষকে পানাহার ও নিদ্রায় বাধা দান করে। তোমাদের কেহ যদি কোন প্রয়োজনে সফরে গমন করে, তবে কাজ হইয়া গেলেই যেন সে পরিবারের দিকে প্রত্যাবর্তন করে।