রেওয়ায়ত ৯৮. নাফি' (রহঃ) হইতে বর্ণিত, আবদুল্লাহ্ ইবনে উমর (রাঃ) মুহরিম ব্যক্তির জন্য উটের উকুন ইত্যাদি বাহির করা মাকরূহ বলিয়া মনে করিতেন। মালিক (রহঃ) বলেন, আমার নিকট এই মতটিই অধিক প্রিয়।
রেওয়ায়ত ৯৯. মুহাম্মদ ইবন আবদুল্লাহ্ ইবন আবূ মরইয়াম (রহঃ) সাঈদ ইবন মুসায়্যাব (রহঃ)-এর নিকট জিজ্ঞাসা করিলেনঃ ইহরামকালে আমার একটা নখ ভাঙিয়া গিয়াছে, এখন কি করিব? সাঈদ (রহঃ) বললেনঃ ইহা কাটিয়া ফেল। ইয়াহইয়া (রহঃ) বলেনঃ মালিক (রহঃ)-কে জিজ্ঞাসা করা হইল- মুহরিম ব্যক্তির কানে ব্যথা হইলে সে কানে গন্ধবিহীন তেল ব্যবহার করিতে পারিবে কি? তিনি বলিলেনঃ ইহাতে কোন দোষ নাই। যদি মুখেও ঢালে, তবুও আমি দোষ মনে করি না। মালিক (রহঃ) বলেনঃ মুহরিম ব্যক্তি যদি ফোড়া বা ফোস্কা ফাটাইয়া দেয় বা প্রয়োজনে সিঙ্গা লাগায় তবে কোন গুনাহ্ হইবে না।
রেওয়ায়ত ১০০. আবদুল্লাহ্ ইবন আব্বাস (রাঃ) বর্ণনা করেন, ফযল ইবন আব্বাস (রাঃ) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সহিত তাহার পিছনে আরোহী ছিলেন। এমন সময় খাস'আম কবীলার এক মহিলা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট মাসআলা জানিতে আসিলেন। ফযল তাহার দিকে তাকাইতে লাগিলেন আর সেই মহিলাটিও ফযলকে দেখিতে লাগিলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ফযলের চেহারা অন্যদিকে ঘুরাইয়া দিলেন। মহিলাটি বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমার পিতার উপর হজ্জ এমন সময় ফরয হইল যে, বাৰ্ধক্যজনিত কারণে তিনি এত দুর্বল যে, উটের পিঠে বসিতে সক্ষম নন। তাহার পক্ষ হইতে হজ্জ করা আমার জন্য বৈধ হইবে কি? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হ্যাঁ, করিয়া নাও। এই ঘটনাটি ছিল বিদায় হজ্জের।
হাদিস 798 — Muwatta Malik 20:94
সহিহ Lighairihi
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، أَنَّهُ بَلَغَهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حَلَّ هُوَ وَأَصْحَابُهُ بِالْحُدَيْبِيَةِ فَنَحَرُوا الْهَدْىَ وَحَلَقُوا رُءُوسَهُمْ وَحَلُّوا مِنْ كُلِّ شَىْءٍ قَبْلَ أَنْ يَطُوفُوا بِالْبَيْتِ وَقَبْلَ أَنْ يَصِلَ إِلَيْهِ الْهَدْىُ ثُمَّ لَمْ يُعْلَمْ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَمَرَ أَحَدًا مِنْ أَصْحَابِهِ وَلاَ مِمَّنْ كَانَ مَعَهُ أَنْ يَقْضُوا شَيْئًا وَلاَ يَعُودُوا لِشَىْءٍ .
রেওয়ায়ত ১০১. মালিক (রহঃ) বলেন, শক্ৰ যদি কাহারও যাত্রাপথে বাধার সৃষ্টি করে এবং বায়তুল্লাহ পর্যন্ত সে যদি পৌছিতে না পারে তবে যে স্থানে বাধাপ্রাপ্ত হইবে সেই স্থানেই সে ইহরাম খুলিয়া ফেলিবে ও কুরবানী দিবে এবং মাথা কামাইয়া ফেলিবে। তাহাকে আর দ্বিতীয়বার এই হজ্জ কাযা করিতে হইবে না। মালিক (রহঃ) বলেনঃ তাহার নিকট রেওয়ায়ত পৌছিয়াছে যে, মক্কার কাফিরগণ হুদায়বিয়ার ময়দানে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাহার সাহাবীগণকে মক্কায় যাইতে বাধা দিল। তখন তাহারা সেখানেই ইহরাম খুলিয়া ফেলিয়াছিলেন, হাদয়ী কুরবানী দিয়াছিলেন এবং মাথা কামাইয়া নিয়াছিলেন। বায়তুল্লাহ তাওয়াফ এবং কুরবানীর পশু মক্কায় পৌছার পূর্বেই তাহারা হালাল হইয়া গিয়াছিলেন। পরে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোন সঙ্গী বা সাহাবীকে দ্বিতীয়বার এই হজ্জ কাযা করার বা পুনরায় করার নির্দেশ দিয়াছিলেন বলিয়া আমাদের জানা নাই।
রেওয়ায়ত ১০২. নাফি' (রহঃ) হইতে বর্ণিত, বিশৃংখলার বৎসর আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ) উমরা করার নিয়তে মক্কার উদ্দেশ্যে যাত্রা করার সময় বলিয়াছিলেনঃ বায়তুল্লায় যাওয়ার পথে যদি আমি বাধাপ্রাপ্ত হই, তবে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে থাকাকালীন এই অবস্থায় আমরা যাহা করিয়াছিলাম আজও তাহাই করিব। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হুদায়বিয়ার বৎসর শুধু উমরার নিয়তেই মক্কা যাত্রা করিয়াছিলেন– এই কথা খেয়াল করিয়া আবদুল্লাহ্ ইবন উমর (রাঃ)-ও শুধু উমরার ইহরাম বাধিলেন। পরে চিন্তা করিয়া দেখিলেন, বাধাপ্রাপ্ত হওয়ার বেলায় হজ্জ ও উমরার হুকুম একই ধরনের। তোমাদিগকে সাক্ষী বানাইতেছি যে, আমি এখন হজ্জ ও উমরা উভয়ই আমার উপর ওয়াজিব করিয়া নিলাম। এই বলিয়া তিনি যাত্রা শুরু করিলেন এবং বায়তুল্লাম আসিয়া তাওয়াফ সমাধা করিলেন, আর এইটুকুই নিজের জন্য যথেষ্ট মনে করিলেন। কুরবানীর যে পশু ছিল তাহাও নাহর করিলেন।[1] মালিক (রহঃ) বলেনঃ আমার মতে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তাহার সাহাবীগণ যাহা করিয়াছিলেন হজ্জের পথে বাধাপ্রাপ্ত হইলে তাহাই করা উচিত। তবে শত্রুর দ্বারা নয়, অন্য কোন কারণে বাধাপ্রাপ্ত হইলে বায়তুল্লাহু না যাওয়া পর্যন্ত আর সে হালাল হইবে না।
রেওয়ায়ত ১০৩. আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) বলেনঃ অসুস্থতার কারণে যদি কাহারও যাত্রা বাধাপ্রাপ্ত হয় তবে তাওয়াফ ও সাফা মারওয়ার সায়ী করা ব্যতীত সে হালাল হইবে না। কোন কাপড় বা ঔষধ ব্যবহার করার প্রয়োজন হইলে (যাহা ইহরাম অবস্থায় জায়েয নহে) তাহা ব্যবহার করিবে এবং উহার ফিদয়া দিবে।
হাদিস 801 — Muwatta Malik 20:97
Mauquf Sahih
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ، أَنَّهُ بَلَغَهُ عَنْ عَائِشَةَ، زَوْجِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهَا كَانَتْ تَقُولُ الْمُحْرِمُ لاَ يُحِلُّهُ إِلاَّ الْبَيْتُ .
রেওয়ায়ত ১০৪. ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ (রহঃ) বলেনঃ তাহার নিকট রেওয়ায়ত পৌঁছিয়াছে যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সহধর্মিণী আয়েশা (রাঃ) বলিতেন, ইহরামকে শুধু বায়তুল্লাহই হালাল করিতে পারে।
রেওয়ায়ত ১০৫. আইয়ুব ইবন আবি তামীম সাখতীয়ানী (রহঃ) বসরার জনৈক প্রবীণ[1] ব্যক্তি হইতে বর্ণনা করেন- তিনি বলেনঃ মক্কার উদ্দেশ্যে একবার রওয়ানা ইলাম। পথে উট হইতে পড়িয়া আমার উরু ভাঙিয়া যায়। মক্কায় আমি একজনকে পাঠাইলাম। তখন সেখানে আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস (রাঃ), আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) এবং আরও অনেক বিজ্ঞ লোক উপস্থিত ছিলেন। তাঁহাদের কেউই আমাকে এই অবস্থায় ইহরাম খুলিতে অনুমতি দিলেন না। ফলে সাত মাস পর্যন্ত সেখানে আমি পড়িয়া রহিলাম। শেষে সুস্থ হইয়া উমরা আদায় করিয়া ইহরাম খুলিলাম।
রেওয়ায়ত ১০৬. আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) বলেনঃ অসুস্থতার কারণে যদি কেউ যাত্রা করিয়াও খানা-এ-কাবায় পৌঁছিতে না পারে তবে তাওয়াফ ও সাফা-মারওয়ার সায়ী না করা পর্যন্ত সে আর হালাল হইবে না। সুলায়মান ইবন ইয়াসার (রাঃ) হইতে বর্ণিত-মাবদ ইবন হুযাবা মাখযুমী (রহঃ) মক্কা আসার পথে তাহার বাহন হইতে পড়িয়া গিয়া আহত হন। তিনি তখন ইহরাম অবস্থায় ছিলেন। অতঃপর একটি কূপের নিকট যাত্রা বিরতি করিলেন এবং খোঁজ নিয়া জানিতে পারিলেন যে, সেখানে আবদুল্লাহ্ ইবনে উমর (রাঃ), আবদুল্লাহ্ ইবন যুবায়র (রাঃ) এবং মারওয়ান ইবনুল হাকাম (রাঃ) আছেন। তাহাদের নিকট উক্ত ঘটনা বর্ণনা করিলে তাহারা বলিলেনঃ প্রয়োজনীয় ঔষধ ব্যবহার কর আর উহার ফিদয়া আদায় করিয়া দিও। সুস্থ হওয়ার পর উমরা আদায় করিয়া ইহরাম খুলিয়া ফেলিও। আগামী বৎসর পুনরায় এই হজ্জ আদায় করিয়া নিও এবং সামর্থ্যানুযায়ী কুরবানী দিও। মালিক (রহঃ) বলেনঃ শক্র ছাড়া অন্য কোন কারণে হজ্জে বাধাপ্রাপ্ত হইলে আমাদের নিকটও মাসআলা অনুরূপ। মালিক (রহঃ) বলেনঃ আবু আইয়ুব আনসারী (রাঃ) এবং হাব্বান ইবন আসওয়াদ (রাঃ) যখন হজ্জের নির্ধারিত সময়ে উপস্থিত হইতে পারিলেন না এবং নাহরের দিন উপস্থিত হইলেন, সেই বৎসর দশ তারিখে মক্কায় গিয়া পৌছিলেন, তখন উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ) তাহাদিগকে বলিয়াছিলেনঃ উমরা করিয়া ইহরাম খুলিয়া নিন এবং এই বৎসর ফিরিয়া যান। আগামী বৎসর হজ্জ করিবেন এবং কুরবানী দিবেন। কুরবানীর সামর্থ্য না হইলে আপনাদেরকে হজ্জের সময় তিনদিন এবং বাড়ি ফিরিয়া সাতদিন রোযা রাখিতে হইবে। মালিক (রহঃ) বলেনঃ ইহরাম বাঁধার পর অসুস্থতা বা অন্য কোন কারণে- যেমন তারিখে ভুল করার দরুন, যদি হজ্জ করিতে না পারে তবে তাহার হুকুম মুহসারের মত হইবে।[1] ইয়াহইয়া (রহঃ) বলেন- মালিক (রহঃ)-কে জিজ্ঞাসা করা হইল- মক্কাবাসী কোন ব্যক্তি হজ্জের নিয়তে ইহরাম বাঁধার পর তাহার পা ভাঙিয়া গেল বা দাস্ত শুরু হইল, এখন সে কি করিবে? তিনি বলিলেনঃ তাহার হুকুম মুহসারের মত। মক্কার বাহিরের অধিবাসী কোন ব্যক্তির ইহসার বা বাধাপ্রাপ্ত হইলে যে হুকুম, এখানেও সেই হুকুম প্রযোজ্য হইবে। মালিক (রহঃ) বলেনঃ হজ্জের মাসে কোন ব্যক্তি উমরার ইহরাম বাধিয়া মক্কা আসিল এবং উমরা সমাধা করিয়া মক্কা হইতে পুনরায় হজ্জের ইহরাম বাঁধার পর তাহার পা ভাঙিয়া গেল বা এমন কোন কষ্ট পাইল যাহাতে সে আরাফাতে যাইতে আর সক্ষম হইল না। তখন সে যখন সুস্থ হইবে হারম শরীফের বাহিরে গিয়া মক্কায় ফিরিয়া আসিবে এবং তাওয়াফ ও সাফা-মারওয়ার সায়ী করিয়া ইহরাম খুলিয়া ফেলিবে। পরে আগামী বৎসর পুনরায় হজ্জ করিবে এবং কুরবানী দিবে। মালিক (রহঃ) বলেনঃ কোন ব্যক্তি হজ্জের মওসুমে উমরার ইহরাম বাঁধিয়া মক্কায় প্রবেশ করিল। অতঃপর উমরা পূর্ণ করিয়া মক্কা হইতে হজ্জের ইহরাম বাঁধিল। অতঃপর (দুর্ঘটনায় হাত-পা) ভাঙিল অথবা অন্য কোন বাঁধার সম্মুখীন হইল। ফলে অন্য লোকদের সঙ্গে আরাফাতে উপস্থিত হইতে পারে নাই। মালিক (রহঃ) বলেনঃ উক্ত ব্যক্তি ইহরাম অবস্থায় থাকিবে। যখন সে সুস্থ হইবে, হিলের (হারম শরীফের বাহিরে) দিকে যাইবে। অতঃপর মক্কার দিকে প্রত্যাবর্তন করিবে। তাওয়াফ করিবে ও সাফা-মারওয়া সায়ী করিবে এবং হালাল হইবে। তাহার উপর আগামী বৎসর হাদয়ী ও হজ্জ ওয়াজিব হইবে। মালিক (রহঃ) বলেনঃ যে ব্যক্তি মক্কা হইতে হজ্জের ইহরাম বাধিয়াছে, তাওয়াফ ও সাফা-মারওয়া সায়ী করিয়াছে, অতঃপর সে অসুস্থ হইয়া পড়ে এবং লোকের সঙ্গে আরাফাতে উপস্থিত হইতে পারে নাই। তিনি বলেনঃ যদি সে হজ্জ করিতে না পারে যখন সম্ভব হইবে তখন সে হিলের দিকে যাইবে এবং উমরার নিয়ত করিয়া মক্কায় প্রবেশ করবে। ইহার কারণ, প্রথমে সে তাওয়াফ ও উমরার নিয়ত করে নাই। এইজন্য সে পুনরায় তাওয়াফ ও সায়ী করিবে এবং তাহার উপর আগামী বৎসর হাদয়ী ও হজ্জ ওয়াজিব হইবে।মালিক (রহঃ) বলেনঃ যে ব্যক্তি হজ্জের ইহরাম বাধিয়াছে সে যদি মক্কার বাহিরের লোক হয়, সে অসুস্থতার দরুন যদি হজ্জ করিতে না পারে, অথচ ইহার পূর্বে সে তাওয়াফ ও সাফা-মারওয়া সায়ী করিয়াছিল, সেই ব্যক্তি উমরা করিয়া হালাল হইবে এবং আরেকবার বায়তুল্লাহ্ তাওয়াফ ও সাফা-মারওয়ার সায়ী করবে। কারণ তাহার পূর্বের তাওয়াফ ও সায়ী ছিল হজ্জের নিয়তে। তাহার উপর আগামী বৎসর হাদয়ী ও হজ্জ ওয়াজিব হইবে।