حَدَّثَنِي يَحْيَى، عَنْ مَالِكٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُتْبَةَ بْنِ مَسْعُودٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبَّاسٍ، عَنِ الصَّعْبِ بْنِ جَثَّامَةَ اللَّيْثِيِّ، أَنَّهُ أَهْدَى لِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حِمَارًا وَحْشِيًّا وَهُوَ بِالأَبْوَاءِ أَوْ بِوَدَّانَ فَرَدَّهُ عَلَيْهِ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَلَمَّا رَأَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مَا فِي وَجْهِي قَالَ " إِنَّا لَمْ نَرُدَّهُ عَلَيْكَ إِلاَّ أَنَّا حُرُمٌ " .
রেওয়ায়ত ৮৬. সা’ব ইবনে জাস্সামা লায়াসী (রাঃ) বর্ণনা করেন- রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবওয়াহ বা ওয়াদ্দান নামক স্থানে অবস্থান করিতেছিলেন। তখন তিনি (রাবী) একটা বন্য গাধা হাদিয়া হিসাবে তাহার খেদমতে পেশ করেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাহা ফিরাইয়া দিলেন। সাব (রহঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইহাতে আমার চেহারায় দুঃখের অভিব্যক্তি প্রকাশ পাইতে দেখিয়া বলিলেনঃ আমরা মুহরিম, ইহরাম অবস্থায় আছি। কেবল এইজন্য ইহা ফিরাইয়া দিয়াছি।
রেওয়ায়ত ৮৭. আবদুল্লাহ্ ইবন রবী'আ (রহঃ) বলেনঃ গরমের সময় আরজ নামক স্থানে উসমান ইবনে আফফান (রাঃ)-কে ইহরামের হালতে একটি লাল কম্বল দ্বারা মুখ ঢাকিয়া বসিয়া থাকিতে দেখিলাম। সেই সময় শিকার করা জন্তুর কিছু গোশত তাহার নিকট পেশ করা হয়। তিনি সঙ্গীদেরকে উহা খাইয়া নিতে বলিলেন। সঙ্গীরা বলিলেনঃ আপনি নিজে খাইতেছেন না? উসমান (রাঃ) বলিলেন, আমি তোমাদের মত নই, ইহা আমার নিয়তে শিকার করা হইয়াছে; সুতরাং আমি খাইতে পারি না।
রেওয়ায়ত ৮৯. মালিক (রহঃ) বলেনঃ হারাম শরীফের[1] এলাকায় যদি কোন প্রাণী শিকার করা হয় বা হারম শরীফের এলাকায় কোন প্রাণীকে লক্ষ করিয়া শিকারী কুকুর ছাড়া হয় আর উহা যদি হারম শরীফের বাহিরে নিয়াও উহাকে শিকার করে তবু উক্ত পশু খাওয়া হালাল নহে। যে ব্যক্তি ঐ ধরনের কাজ করবে তাহাকে কাফফার হিসাবে উহার বদলা দিতে হইবে। আর যদি হারম শরীফের বাহিরে কোন প্রাণীকে লক্ষ করিয়া শিকারী কুকুর ছাড়া হয় আর উহা হারম শরীফের ভিতর আনিয়া শিকার করে, তবে উহাও খাওয়া জায়েয নহে, কিন্তু উক্ত ব্যক্তির উপর কাফফারা আসিবে না। তবে হারম শরীফের অতি নিকট সীমানায় যদি কুকুর ছাড়িয়া থাকে তবে তাহাকেও কাফফারা দিতে হইবে।
হাদিস 788 — Muwatta Malik 20:84
সহিহ
حَدَّثَنِي يَحْيَى، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ نَافِعٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " خَمْسٌ مِنَ الدَّوَابِّ لَيْسَ عَلَى الْمُحْرِمِ فِي قَتْلِهِنَّ جُنَاحٌ الْغُرَابُ وَالْحِدَأَةُ وَالْعَقْرَبُ وَالْفَأْرَةُ وَالْكَلْبُ الْعَقُورُ " .
রেওয়ায়ত ৯১. আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, পাঁচ প্রকার প্রাণী মুহরিম ব্যক্তি যদি বধ করে তবে তাহার কোন গুনাহ হইবে না- কাক, চিল, বিচ্ছু, ইদুর, হিংস্ৰ কুকুর (বা হিংস্র জন্তু, যথা বাঘ, চিতাবাঘ ইত্যাদি)।
রেওয়ায়ত ৯২. আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, পাঁচ ধরনের প্রাণী ইহরাম অবস্থায় যদি কেউ হত্যা করে, তবে তাহার কোন গুনাহ হইবে না; যথা বিচ্ছু, ইদুর, হিংস্র কুকুর, চিল ও কাক।
হাদিস 790 — Muwatta Malik 20:86
সহিহ
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " خَمْسٌ فَوَاسِقُ يُقْتَلْنَ فِي الْحَرَمِ الْفَأْرَةُ وَالْعَقْرَبُ وَالْغُرَابُ وَالْحِدَأَةُ وَالْكَلْبُ الْعَقُورُ " .
রেওয়ায়াত ৯৩. হিশাম ইবন উরওয়াহ (রহঃ) তাহার পিতা হইতে বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেনঃ পাঁচ প্রকার প্রাণী ফাসিক। এইগুলি হারম শরীফের ভিতর ও বাহিরে যেকোন স্থানে পাওয়া গেলে মারিয়া ফেলা উচিত; যথা ইদুর, বিচ্ছু, কাক, চিল ও হিংস্ৰ কুকুর।
রেওয়ায়ত ৯৪. ইবন শিহাব (রহঃ) হইতে বর্ণিত- উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ) হারম শরীফে সাপ মারার হুকুম দিয়াছেন। মালিক (রহঃ) বলেনঃ হিংস্র কুকুর বলিতে যাহাকে হারম শরীফে হত্যার অনুমতি দেওয়া হইয়াছে, তাহা এই ধরনের পশুকে বুঝায় যাহা মানুষকে কামড়ায় বা হামলা করে বা ভয় প্রদর্শন করে, যেমন সিংহ, বাঘ, চিতাবাঘ ইত্যাদি। কিন্তু যে সমস্ত পশু হিংস্র বটে, তবে হামলা করে না, যেমন হায়েনা, শিয়াল, বিড়াল ইত্যাদি পশু — মুহরিম ব্যক্তির এইগুলি মারা উচিত নহে। মারিলে তাহার উপর ফিদয়া দেওয়া ওয়াজিব। আর যে সমস্ত পাখির উল্লেখ নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম করিয়াছেন (যেমন কাক ও চিল), এইগুলি ব্যতীত অন্যান্য ক্ষতিকারক পাখিও মুহরিম ব্যক্তির জন্য হত্যা করিলে তাহাকে ফিদয়া দিতে হইবে।
রেওয়ায়ত ৯৫. রবী'আ ইবন আবদুল্লাহ ইবনে হুদায়র (রহঃ) উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ)-কে সুকুইয়া নামক জনপদে স্বীয় উটের উকুন বাহির করিয়া কাদায় ফেলিতে দেখিয়াছেন, অথচ তিনি তখন ইকবাম অবস্থায় ছিলেন। মালিক (রহঃ) বলেনঃ আমি ইহাকে অপছন্দ করি।
হাদিস 793 — Muwatta Malik 20:89
Mauquf Hasan
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ عَلْقَمَةَ بْنِ أَبِي عَلْقَمَةَ، عَنْ أُمِّهِ، أَنَّهَا قَالَتْ سَمِعْتُ عَائِشَةَ، زَوْجَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم تُسْأَلُ عَنِ الْمُحْرِمِ أَيَحُكُّ جَسَدَهُ فَقَالَتْ نَعَمْ فَلْيَحْكُكْهُ وَلْيَشْدُدْ وَلَوْ رُبِطَتْ يَدَاىَ وَلَمْ أَجِدْ إِلاَّ رِجْلَىَّ لَحَكَكْتُ .
রেওয়ায়ত ৯৬. আলকামা ইবন আবি আলকামা (রহঃ) তাহার মাতা হইতে বর্ণনা করেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পত্নী আয়েশা (রাঃ)-কে বলতে শুনিয়াছি, তাহাকে জিজ্ঞাসা করা হইয়াছিল, ইহরাম অবস্থায় শরীর চুলকাইতে পারবে কি? তিনি [আয়েশ (রাঃ)] বলেনঃ হ্যাঁ, চুলকাইতে পারিবে, ভালভাবে চুলকাইতে পারিবে। কেউ আমার হাত বাঁধিয়া রাখিলে তবে পা দ্বারা যদি সম্ভব হয়, প্রয়োজন হইলে তাহা দিয়াই আমি চুলকাইব।