Qurani·قرآني
বাংলা

হজ্জ

253 হাদিস · #705–957

হাদিস 825 — Muwatta Malik 20:121
সহিহ
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ الْمَكِّيِّ، أَنَّ أَبَا مَاعِزٍ الأَسْلَمِيَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ سُفْيَانَ، أَخْبَرَهُ أَنَّهُ، كَانَ جَالِسًا مَعَ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ فَجَاءَتْهُ امْرَأَةٌ تَسْتَفْتِيهِ فَقَالَتْ إِنِّي أَقْبَلْتُ أُرِيدُ أَنْ أَطُوفَ بِالْبَيْتِ حَتَّى إِذَا كُنْتُ بِبَابِ الْمَسْجِدِ هَرَقْتُ الدِّمَاءَ فَرَجَعْتُ حَتَّى ذَهَبَ ذَلِكَ عَنِّي ثُمَّ أَقْبَلْتُ حَتَّى إِذَا كُنْتُ عِنْدَ بَابِ الْمَسْجِدِ هَرَقْتُ الدِّمَاءَ فَرَجَعْتُ حَتَّى ذَهَبَ ذَلِكَ عَنِّي ثُمَّ أَقْبَلْتُ حَتَّى إِذَا كُنْتُ عِنْدَ بَابِ الْمَسْجِدِ هَرَقْتُ الدِّمَاءَ ‏.‏ فَقَالَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ إِنَّمَا ذَلِكَ رَكْضَةٌ مِنَ الشَّيْطَانِ فَاغْتَسِلِي ثُمَّ اسْتَثْفِرِي بِثَوْبٍ ثُمَّ طُوفِي ‏.‏
রেওয়ায়ত ১২৭. আবূয যুবায়র মক্কী (রহঃ) বলেনঃ আবা মায়িয আসলামী আবদুল্লাহ ইবন সুফইয়ান (রহঃ) তাহার নিকট বর্ণনা করিয়াছেন, তিনি আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ)-এর নিকট বসা ছিলেন। তখন এক মহিলা আসিয়া বলিলঃ আমি বায়তুল্লাহর তাওয়াফের ইচ্ছা করিয়াছিলাম। মসজিদের দরওয়াজা পর্যন্ত পৌছিতেই আমার ঋতুস্রাব আরম্ভ হইল। এমতাবস্থায় আমি ফিরিয়া যাই। পরে ঋতুস্রাব বন্ধ হইলে আবার তাওয়াফের জন্য আসি, কিন্তু মসজিদের দরওয়াজা পর্যন্ত পৌছিতেই আবার ঋতুস্রাব শুরু হইল। ফলে আবার ফিরিয়া গেলাম। শেষে ঋতুস্রাব বন্ধ হইলে আবার তাওয়াফ করিতে গেলাম। কিন্তু এইবারও দরওয়াজা পর্যন্ত যাইতে না যাইতে পুনরায় রক্ত দেখা দেয়। এখন কি করিব? আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) বলিলেনঃ ইহা শয়তানের কাণ্ড! গোসল করিয়া লজ্জাস্থানে কাপড়ের পটি দিয়া তাওয়াফ সারিয়া নাও।
হাদিস 826 — Muwatta Malik 20:122
Mauquf Daif
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، أَنَّهُ بَلَغَهُ أَنَّ سَعْدَ بْنَ أَبِي وَقَّاصٍ، كَانَ إِذَا دَخَلَ مَكَّةَ مُرَاهِقًا خَرَجَ إِلَى عَرَفَةَ قَبْلَ أَنْ يَطُوفَ بِالْبَيْتِ وَبَيْنَ الصَّفَا وَالْمَرْوَةِ ثُمَّ يَطُوفُ بَعْدَ أَنْ يَرْجِعَ ‏.‏ قَالَ مَالِكٌ وَذَلِكَ وَاسِعٌ إِنْ شَاءَ اللَّهُ ‏.‏ وَسُئِلَ مَالِكٌ هَلْ يَقِفُ الرَّجُلُ فِي الطَّوَافِ بِالْبَيْتِ الْوَاجِبِ عَلَيْهِ يَتَحَدَّثُ مَعَ الرَّجُلِ فَقَالَ لاَ أُحِبُّ ذَلِكَ لَهُ ‏.‏ قَالَ مَالِكٌ لاَ يَطُوفُ أَحَدٌ بِالْبَيْتِ وَلاَ بَيْنَ الصَّفَا وَالْمَرْوَةِ إِلاَّ وَهُوَ طَاهِرٌ ‏.‏
রেওয়ায়ত ১২৮. মালিক (রহঃ) বলেনঃ তাহার নিকট রেওয়ায়ত পৌছিয়াছে যে, সা'দ ইবন আবি ওয়াক্কাস (রাঃ) মক্কায় পৌছিয়া যদি দেখিতেন নয় তারিখ অতি নিকটবর্তী (সময় অতি অল্প), তবে তাওয়াফ ও সায়ী করার পূর্বেই আরাফাতে চলিয়া যাইতেন এবং সেখান হইতে ফিরিবার পর তাওয়াফ করিতেন। মালিক (রহঃ) বলেনঃ সময় সংকীর্ণ হইলে এইরূপ করা (আরাফাতে প্রথমে যাওয়া) জায়েয। মালিক (রহঃ)-কে জিজ্ঞাসা করা হইলঃ ওয়াজিব তাওয়াফ আদায় করার সময় কাহারও সঙ্গে কথা বলার জন্য কি থামিয়া যাওয়া বৈধ? তিনি বলিলেনঃ আমি উহা পছন্দ করি না। মালিক (রহঃ) বলেনঃ তাওয়াফ এবং সাফা-মারওয়ার সায়ী পবিত্রতার সহিত করা উচিত।
হাদিস 827 — Muwatta Malik 20:123
Mauquf Daif
حَدَّثَنِي يَحْيَى، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ جَعْفَرِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ عَلِيٍّ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، أَنَّهُ قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ حِينَ خَرَجَ مِنَ الْمَسْجِدِ وَهُوَ يُرِيدُ الصَّفَا وَهُوَ يَقُولُ ‏ "‏ نَبْدَأُ بِمَا بَدَأَ اللَّهُ بِهِ ‏"‏ ‏.‏ فَبَدَأَ بِالصَّفَا ‏.‏
রেওয়ায়ত ১২৯. জাবির ইবন আবদুল্লাহ (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মসজিদ হইতে সাফার উদ্দেশ্যে যখন বাহির হইলেন তখন শুনিয়াছি, তিনি বলিতেছেনঃ আল্লাহ যে স্থানটির উল্লেখ প্রথমে করিয়াছিলেন আমরাও সেই স্থান হইতে শুরু করিব। অতঃপর তিনি সাফা হইতে সায়ী করা শুরু করেন।
হাদিস 828 — Muwatta Malik 20:124
সহিহ
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ جَعْفَرِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ عَلِيٍّ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ إِذَا وَقَفَ عَلَى الصَّفَا يُكَبِّرُ ثَلاَثًا وَيَقُولُ ‏ "‏ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَحْدَهُ لاَ شَرِيكَ لَهُ لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَىْءٍ قَدِيرٌ ‏"‏ ‏.‏ يَصْنَعُ ذَلِكَ ثَلاَثَ مَرَّاتٍ وَيَدْعُو وَيَصْنَعُ عَلَى الْمَرْوَةِ مِثْلَ ذَلِكَ ‏.‏
রেওয়ায়ত ১৩০. জাবির ইবন আবদুল্লাহ (রাঃ) বলেন-রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন সাফায় গিয়া দাঁড়াইতেন তখন তিনবার ‘আল্লাহু আকবর’ বলিতেন এবং এই দু'আ পড়িতেনঃ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَحْدَهُ لاَ شَرِيكَ لَهُ لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَىْءٍ قَدِيرٌ অর্থাৎ, আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নাই, তাহার কোন শরীক নাই, সকল সাম্রাজ্য, ক্ষমতা এবং সকল প্রশংসা শুধু তাহারই, আর তিনি সকল বস্তুর উপর ক্ষমতাশীল। তিনবার ইহা পড়িয়া পরে দুআ করিতেন। মারওয়া পাহাড়েও তিনি এইরূপ করিতেন।
হাদিস 829 — Muwatta Malik 20:125
সহিহ
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ نَافِعٍ، أَنَّهُ سَمِعَ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ، وَهُوَ عَلَى الصَّفَا يَدْعُو يَقُولُ اللَّهُمَّ إِنَّكَ قُلْتَ ادْعُونِي أَسْتَجِبْ لَكُمْ وَإِنَّكَ لاَ تُخْلِفُ الْمِيعَادَ وَإِنِّي أَسْأَلُكَ كَمَا هَدَيْتَنِي لِلإِسْلاَمِ أَنْ لاَ تَنْزِعَهُ مِنِّي حَتَّى تَتَوَفَّانِي وَأَنَا مُسْلِمٌ ‏.‏
রেওয়ায়ত ১৩১. নাফি’ (রহঃ) হইতে বর্ণিত, তিনি আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ)-কে সাফার উপর দাঁড়াইয়া এই দুআ পড়িতে শুনিয়াছেনঃ اللَّهُمَّ إِنَّكَ قُلْتَ ادْعُونِي أَسْتَجِبْ لَكُمْ وَإِنَّكَ لاَ تُخْلِفُ الْمِيعَادَ وَإِنِّي أَسْأَلُكَ كَمَا هَدَيْتَنِي لِلإِسْلاَمِ أَنْ لاَ تَنْزِعَهُ مِنِّي حَتَّى تَتَوَفَّانِي وَأَنَا مُسْلِمٌ অর্থাৎ, হে আল্লাহ! আপনি বলিয়াছেনঃ আমার কাছে চাও, আমি তাহা কবুল করিব। আর আপনি কখনও ওয়াদা খেলাফ করেন না। এখন আপনার নিকটই আমি চাহিতেছি, আমাকে যেরূপ ইসলামের দিকে হিদায়াত করিয়াছেন উহা আমার নিকট হইতে ছিনাইয়া নিবেন না। আমার মৃত্যু পর্যন্ত আমি মুসলিম হিসাবে আপনার অনুগত বান্দা হইয়াই যেন থাকি।
হাদিস 830 — Muwatta Malik 20:126
Mauquf Sahih
حَدَّثَنِي يَحْيَى، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّهُ قَالَ قُلْتُ لِعَائِشَةَ أُمِّ الْمُؤْمِنِينَ وَأَنَا يَوْمَئِذٍ، حَدِيثُ السِّنِّ أَرَأَيْتِ قَوْلَ اللَّهِ تَبَارَكَ وَتَعَالَى ‏{‏إِنَّ الصَّفَا وَالْمَرْوَةَ مِنْ شَعَائِرِ اللَّهِ فَمَنْ حَجَّ الْبَيْتَ أَوِ اعْتَمَرَ فَلاَ جُنَاحَ عَلَيْهِ أَنْ يَطَّوَّفَ بِهِمَا‏}‏ فَمَا عَلَى الرَّجُلِ شَىْءٌ أَنْ لاَ يَطَّوَّفَ بِهِمَا ‏.‏ فَقَالَتْ عَائِشَةُ كَلاَّ لَوْ كَانَ كَمَا تَقُولُ لَكَانَتْ فَلاَ جُنَاحَ عَلَيْهِ أَنْ لاَ يَطَّوَّفَ بِهِمَا إِنَّمَا أُنْزِلَتْ هَذِهِ الآيَةُ فِي الأَنْصَارِ كَانُوا يُهِلُّونَ لِمَنَاةَ وَكَانَتْ مَنَاةُ حَذْوَ قُدَيْدٍ وَكَانُوا يَتَحَرَّجُونَ أَنْ يَطُوفُوا بَيْنَ الصَّفَا وَالْمَرْوَةِ فَلَمَّا جَاءَ الإِسْلاَمُ سَأَلُوا رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنْ ذَلِكَ فَأَنْزَلَ اللَّهُ تَبَارَكَ وَتَعَالَى ‏{‏إِنَّ الصَّفَا وَالْمَرْوَةَ مِنْ شَعَائِرِ اللَّهِ فَمَنْ حَجَّ الْبَيْتَ أَوِ اعْتَمَرَ فَلاَ جُنَاحَ عَلَيْهِ أَنْ يَطَّوَّفَ بِهِمَا ‏}‏
রেওয়ায়ত ১৩২. হিশাম ইবন উরওয়াহ (রহঃ) তাহার পিতা হইতে বর্ণনা করেন- তিনি বলিয়াছেন, আমি উম্মুল মু'মিনীন আয়েশা (রাঃ)-কে বললাম (তখন আমি অল্প বয়স্ক), দেখুন, আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করিয়াছেনঃ (‏إِنَّ الصَّفَا وَالْمَرْوَةَ مِنْ شَعَائِرِ اللَّهِ) সুতরাং যে কেউ বাইতুল্লাহর হজ্জ বা উমরা করিবে তাহার জন্য এই দুইটির মধ্যে সায়ী করায় কোন গুনাহ নাই- তাই কেউ যদি সায়ী না করে তবে ইহাতে তাহার গুনাহ হইবে কি? তিনি বলিলেনঃ সাবধান, তুমি যাহা বুঝিয়াছ তাহা ঠিক নহে। তাহাই যদি হইত তবে আয়াতে বলার ভঙ্গী হইত- এই দুইয়ের মধ্যে সায়ী না করায় কোন গুনাহ নাই। (অথচ আল্লাহ্ তা'আলা বলিয়াছেনঃ সায়ী করায় কোন গুনাহ নাই।) এই আয়াতটি মূলত আনসারদের ব্যাপারে নাযিল হইয়াছিল। ইহারা জাহিলী যুগে মানাতের উদ্দেশ্যে ইহরাম বাধিয়া হজ্জের নিয়তে আসিত। মক্কার পথে কুদায়দ নামক স্থানের বিপরীতে ছিল ওদের দেবী মানাত। সাফা-মারওয়ায় সায়ী করা তাহারা মনে করিত গুনাহর কাজ। ইসলাম আসার পর তাহারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এই সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে, তখন নাযিল হয় এই আয়াতঃ ‏إِنَّ الصَّفَا وَالْمَرْوَةَ مِنْ شَعَائِرِ اللَّهِ فَمَنْ حَجَّ الْبَيْتَ أَوِ اعْتَمَرَ فَلاَ جُنَاحَ عَلَيْهِ أَنْ يَطَّوَّفَ بِهِمَا অর্থাৎ, সাফা ও মারওয়া আল্লাহর নিদর্শনসমূহের অন্যতম। সুতরাং যে কেহ কাবা গৃহের হজ্জ কিংবা উমরা সম্পন্ন করে এই দুইটির মধ্যে যাতায়াত করিলে তাহার কোন পাপ নাই। (বাকারাঃ)
হাদিস 831 — Muwatta Malik 20:127
সহিহ
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، أَنَّ سَوْدَةَ بِنْتَ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، كَانَتْ عِنْدَ عُرْوَةَ بْنِ الزُّبَيْرِ فَخَرَجَتْ تَطُوفُ بَيْنَ الصَّفَا وَالْمَرْوَةِ فِي حَجٍّ أَوْ عُمْرَةٍ مَاشِيَةً وَكَانَتِ امْرَأَةً ثَقِيلَةً فَجَاءَتْ حِينَ انْصَرَفَ النَّاسُ مِنَ الْعِشَاءِ فَلَمْ تَقْضِ طَوَافَهَا حَتَّى نُودِيَ بِالأُولَى مِنَ الصُّبْحِ فَقَضَتْ طَوَافَهَا فِيمَا بَيْنَهَا وَبَيْنَهُ ‏.‏ وَكَانَ عُرْوَةُ إِذَا رَآهُمْ يَطُوفُونَ عَلَى الدَّوَابِّ يَنْهَاهُمْ أَشَدَّ النَّهْىِ فَيَعْتَلُّونَ بِالْمَرَضِ حَيَاءً مِنْهُ فَيَقُولُ لَنَا فِيمَا بَيْنَنَا وَبَيْنَهُ لَقَدْ خَابَ هَؤُلاَءِ وَخَسِرُوا ‏.‏ قَالَ مَالِكٌ مَنْ نَسِيَ السَّعْىَ بَيْنَ الصَّفَا وَالْمَرْوَةِ فِي عُمْرَةٍ فَلَمْ يَذْكُرْ حَتَّى يَسْتَبْعِدَ مِنْ مَكَّةَ أَنَّهُ يَرْجِعُ فَيَسْعَى وَإِنْ كَانَ قَدْ أَصَابَ النِّسَاءَ فَلْيَرْجِعْ فَلْيَسْعَ بَيْنَ الصَّفَا وَالْمَرْوَةِ حَتَّى يُتِمَّ مَا بَقِيَ عَلَيْهِ مِنْ تِلْكَ الْعُمْرَةِ ثُمَّ عَلَيْهِ عُمْرَةٌ أُخْرَى وَالْهَدْىُ ‏.‏ وَسُئِلَ مَالِكٌ عَنِ الرَّجُلِ يَلْقَاهُ الرَّجُلُ بَيْنَ الصَّفَا وَالْمَرْوَةِ فَيَقِفُ مَعَهُ يُحَدِّثُهُ فَقَالَ لاَ أُحِبُّ لَهُ ذَلِكَ ‏.‏ قَالَ مَالِكٌ وَمَنْ نَسِيَ مِنْ طَوَافِهِ شَيْئًا أَوْ شَكَّ فِيهِ فَلَمْ يَذْكُرْ إِلاَّ وَهُوَ يَسْعَى بَيْنَ الصَّفَا وَالْمَرْوَةِ فَإِنَّهُ يَقْطَعُ سَعْيَهُ ثُمَّ يُتِمُّ طَوَافَهُ بِالْبَيْتِ عَلَى مَا يَسْتَيْقِنُ وَيَرْكَعُ رَكْعَتَىِ الطَّوَافِ ثُمَّ يَبْتَدِئُ سَعْيَهُ بَيْنَ الصَّفَا وَالْمَرْوَةِ ‏.‏
রেওয়ায়ত ১৩৩. হিশাম ইবন উরওয়াহ (রহঃ) বর্ণনা করেন- আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ)-এর কন্যা সাওদা (রহঃ) ছিলেন উরওয়াহ ইবন যুবায়র (রহঃ)-এর স্ত্রী। একবার হজ্জ বা উমরার সময় তিনি সাফা-মারওয়ার সায়ীর জন্য বাহির হন। তিনি মোটা ধরনের মহিলা ছিলেন। ইশার নামায পড়িয়া মানুষ যখন বাহির হইয়াছিল তখন তিনি হাঁটিয়া হাঁটিয়া হজ্জ অথবা উমরার তাওয়াফ ও সায়ী শুরু করিয়াছিলেন। কিন্তু তখনও সায়ী শেষ হইতে পারে নাই, আর এইদিকে ফজরের আযান হইয়া যায়। সায়ী শেষ করিতে তাহার ইশা হইতে ফজর পর্যন্ত সময় লাগিয়াছিল। উরওয়াহ কাহাকেও কোন কিছুতে আরোহণ করিয়া সায়ী করিতে দেখিলে কঠোরভাবে নিষেধ করিতেন। লোকেরা তাহাকে দেখিলে অসুস্থতার বাহানা করিত। তিনি পরে আমাদের নিকট আলাপে বলিতেনঃ ইহারা (যাহারা সওয়ার হইয়া সায়ী করে) ক্ষতিগ্রস্ত, তাহারা স্বীয় উদ্দেশ্য হাসিল করিতে পারে নাই। মালিক (রহঃ) বলেনঃ উমরা করার সময় সাফা-মারওয়ার সায়ী করিতে যদি ভুলিয়া যায় এবং মক্কা হইতে দূরে চলিয়া যাওয়ার পর ইহা স্মরণ হইলে তাহাকে পুনরায় মক্কায় আসিয়া সায়ী করিতে হইবে। আর ইহার মধ্যে স্ত্রী সহবাস করিয়া থাকিলে তবে ফিরিয়া আসিয়া সায়ী করিবে এবং দ্বিতীয়বার উমরা করিবে এবং হাদয়ী কুরবানী দিবে। মালিক (রহঃ)-কে জিজ্ঞাসা করা হইলঃ সায়ী করার সময় যদি কেউ কাহারও সঙ্গে দাঁড়াইয়া কথা বলিতে শুরু করে তবে কেমন হইবে? তিনি বলিলেনঃ আমি ইহাকে পছন্দ করি না। মালিক (রহঃ) বলেনঃ কেউ যদি তাওয়াফ করিতে গিয়া কোন চক্কর ভুলিয়া যায় বা এই সম্পর্কে তাহার সন্দেহ হয়, পরে সায়ী করার সময় যদি তাহার উহা খেয়াল হয় তবে সায়ী মওকুফ করিয়া দিবে এবং প্রথমে ইয়াকীনের উপর ভিত্তি করিয়া তাওয়াফ পুরা করিয়া দুই রাকাআত তাওয়াফের নামায পড়িয়া নুতনভাবে সায়ী করিবে।
হাদিস 832 — Muwatta Malik 20:128
Maqtu Sahih
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ جَعْفَرِ بْنِ مُحَمَّدٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ إِذَا نَزَلَ مِنَ الصَّفَا وَالْمَرْوَةِ مَشَى حَتَّى إِذَا انْصَبَّتْ قَدَمَاهُ فِي بَطْنِ الْوَادِي سَعَى حَتَّى يَخْرُجَ مِنْهُ ‏.‏
রেওয়ায়ত ১৩৪. জাবির ইবন আবদুল্লাহ্ (রাঃ) বর্ণনা করেন- রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাফা ও মারওয়াতে সায়ী করিতে আসিলে সাধারণভাবে হাঁটিতেন, মধ্যবর্তী নিম্নভূমিতে (বাতনে ওয়াদী) যখন চলিতেন তখন ইহা হইতে বাহির না হওয়া পর্যন্ত দ্রুত চলিতেন। মালিক (রহঃ) বলেনঃ যে ব্যক্তি অজ্ঞতার কারণে তাওয়াফের পূর্বে সায়ী করিয়া ফেলে তবে সে ফিরিয়া আসিয়া তাওয়াফ করার পর পুনরায় সায়ী করিবে। তাওয়াফের কথা তুলিয়া মক্কা হইতে দূরে চলিয়া গেলে যত দূরেই যাক তাহাকে ফিরিয়া আসিতে হইবে এবং বায়তুল্লাহর তাওয়াফ ও সাফা-মারওয়ার সায়ী করিতে হইবে। আর স্ত্রী সহবাস করিয়া থাকিলে তবে ফিরিয়া আসিয়া তাওয়াফ ও সায়ী করিতে হইবে এবং উমরার বাকি কার্যাদি সমাধা করিবে। তাহার পক্ষে পুনরায় উমরা করা এবং হাদয়ী কুরবানী করা ওয়াজিব।
হাদিস 833 — Muwatta Malik 20:129
সহিহ
حَدَّثَنِي يَحْيَى، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ أَبِي النَّضْرِ، مَوْلَى عُمَرَ بْنِ عُبَيْدِ اللَّهِ عَنْ عُمَيْرٍ، مَوْلَى عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبَّاسٍ عَنْ أُمِّ الْفَضْلِ بِنْتِ الْحَارِثِ، أَنَّ نَاسًا، تَمَارَوْا عِنْدَهَا يَوْمَ عَرَفَةَ فِي صِيَامِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ بَعْضُهُمْ هُوَ صَائِمٌ وَقَالَ بَعْضُهُمْ لَيْسَ بِصَائِمٍ فَأَرْسَلْتُ إِلَيْهِ بِقَدَحِ لَبَنٍ وَهُوَ وَاقِفٌ عَلَى بَعِيرِهِ فَشَرِبَ ‏.‏
রেওয়ায়ত ১৩৫. হারিস তনয়া উম্মুল ফযল (রাঃ) বর্ণনা করেন- আরাফাত দিবসে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রোযাদার কিনা এই সম্পর্কে কতিপয় সাহাবী আমার নিকট আসিয়া তাহাদের সন্দেহ প্রকাশ করেন। কেউ কেউ বলিয়াছেন, তিনি রোযা রাখিয়াছেন, কেউ কেউ বলিলেন, আজ রোযা রাখেন নাই। উম্মুল ফযল (রাঃ) তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর খিদমতে একটি দুধভর্তি পেয়ালা পাঠাইলেন। তিনি তাহা পান করিলেন। তখন তিনি আরাফাতে একটি উটের উপর আসীন ছিলেন।
হাদিস 834 — Muwatta Malik 20:130
Mauquf Sahih
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ، عَنِ الْقَاسِمِ بْنِ مُحَمَّدٍ، أَنَّ عَائِشَةَ أُمَّ الْمُؤْمِنِينَ، كَانَتْ تَصُومُ يَوْمَ عَرَفَةَ ‏.‏ قَالَ الْقَاسِمُ وَلَقَدْ رَأَيْتُهَا عَشِيَّةَ عَرَفَةَ يَدْفَعُ الإِمَامُ ثُمَّ تَقِفُ حَتَّى يَبْيَضَّ مَا بَيْنَهَا وَبَيْنَ النَّاسِ مِنَ الأَرْضِ ثُمَّ تَدْعُو بِشَرَابٍ فَتُفْطِرُ ‏.‏
রেওয়ায়ত ১৩৬. কাসিম ইবন মুহাম্মদ (রহঃ) বর্ণনা করেনঃ উম্মুল মু'মিনীন আয়েশা (রাঃ) আরাফাত দিবসে রোযা রাখিতেন। কাসিম ইবন মুহাম্মদ বলেনঃ আমি তাহাকে (আয়েশা (রাঃ)-কে আরাফাত দিবসে সন্ধ্যায় দেখিয়াছি, ইমামের (আমীরুল মু'মিনীন) প্রত্যাবর্তনের পরও তিনি [আয়েশা (রাঃ)] অপেক্ষা করিলেন এবং পরে ভিড় কমিয়া পথ পরিষ্কার হইলে পানি আনাইয়া ইফতার করিলেন।
← আগের সংগ্রহে ফিরে যান পরের →

শুধুমাত্র সহিহ ও হাসান হাদিস দেখানো হয়।