রেওয়ায়ত ১৫২. সাঈদ ইবন মুসায়্যাব (রহঃ) বলেনঃ যে ব্যক্তি হাদয়ী নিয়া রওয়ানা হইয়াছে, সে যদি ইহাকে পথে মরিয়া যাইতে দেখে, তবে নাহর করিয়া রাখিয়া দিবে, যাহাতে লোকজন উহা খাইয়া নিতে পারে। ঐ ব্যক্তির কোন বদলা দিতে হইবে না। কিন্তু ইহার গোশত নিজে খাইলে বা অন্য কাহাকেও খাইতে বলিলে বদলা দিতে হইবে। মালিক (রহঃ) সাওর ইবন যায়দ দীলি (রহঃ) হইতে বর্ণনা করেনঃ আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস (রাঃ)-ও উপরিউক্ত মত ব্যক্ত করিয়াছেন।
রেওয়ায়ত ১৫৩. ইবন শিহাব (রহঃ) হইতে বর্ণিত, তিনি বলিয়াছেনঃ কাফফারা, মানত বা হজ্জে তামাত্তু'র কুরবানীর উট লইয়া রওয়ানা হওয়ার পর পথে যদি মারা যায় বা নষ্ট হইয়া যায় তবে ইহার পরিবর্তে আরেকটি উট কুরবানী দিতে হইবে। নাফি' (রহঃ) হইতে বর্ণিত, আবদুল্লাহ্ ইবন উমর (রাঃ) বলিয়াছেনঃ কুরবানীর পশু পথে মারা গেলে বা হারাইয়া গেলে উহা মানতের হইয়া থাকিলে ইহার পরিবর্তে আরেকটি কুরবানী দিতে হইবে, আর নফলী হইয়া থাকিলে আরেকটি কুরবানী দেওয়া না দেওয়া মালিকের ইচ্ছাধীন থাকিবে। মালিক (রহঃ) বলেনঃ তিনি বিজ্ঞ আলিমগণকে বলিতে শুনিয়াছেন, শাস্তিস্বরূপ অথবা ইহরামের পরিপন্থী পরিচ্ছন্নতা ও আরাম-আয়েশ গ্রহণ করার দরুন যে হাদয়ী (কুরবানী) ওয়াজিব হয় উহা হইতে কুরবানী প্রদানকারী আহার করিবে না।
রেওয়ায়ত ১৫৪. মালিক (রহঃ) বলেন, তাহার নিকট রেওয়ায়ত পৌছিয়াছে যে, উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ), আলী ইবন আবি তালিব (রাঃ) ও আবু হুরায়রা (রাঃ)-কে জিজ্ঞাসা করা হইয়াছিল- ইহরাম অবস্থায় কেউ যদি স্ত্রীর সহিত সহবাস করে তবে সে কি করিবে? তাহারা বলিলেনঃ স্বামী-স্ত্রী উভয়েই হজ্জের অবশিষ্ট রুকনগুলি আদায় করিয়া হজ্জ পুরা করিবে। আগামী বৎসর তাহাদিগকে পুনরায় হজ্জ করিতে হইবে এবং কুরবানী দিতে হইবে। মালিক (রহঃ) বলেনঃ আলী ইবন আবি তালিব (রাঃ) বলিয়াছেনঃ আগামী বৎসর পুনরায় হজ্জের ইহরাম বাঁধিলে হজ্জ পুরা না হওয়া পর্যন্ত তাহারা স্বামী-স্ত্রী উভয়ে আলাদা আলাদা থাকিবে।
রেওয়ায়ত ১৫৫. ইয়াহইয়া ইবন সাঈদ (রহঃ) সাঈদ ইবন মুসায়্যাব (রহঃ)-এর নিকট শুনিয়াছেন- তিনি সমবেত লোকদেরকে লক্ষ করিয়া বলিতেছিলেনঃ ইহরাম অবস্থায় যে ব্যক্তি স্ত্রী সহবাস করে তাহার সম্পর্কে তোমরা কি বল? উপস্থিত সকলেই চুপ হইয়া রহিলেন। শেষে সাঈদ (রহঃ) নিজেই বলিলেনঃ এক ব্যক্তি ইহরাম অবস্থায় স্ত্রী সহবাস করিয়াছিল। পরে সে এই সম্পর্কে মাসআলা জিজ্ঞাসার জন্য এক ব্যক্তিকে মদীনায় প্রেরণ করে। কেউ কেউ জবাব দিলেনঃ স্বামী-স্ত্রী এক বৎসর পর্যন্ত উভয়েই আলাদা হইয়া থাকিবে। কিন্তু সাঈদ (রহঃ) বললেনঃ এই বৎসর তাহারা হজ্জে অবশিষ্ট কাজসমূহ পুরা করবে। পরের বৎসর জীবিত থাকিলে পুনরায় হজ্জ করিবে এবং কুরবানী দিবে। প্রথম হজ্জের ইহরাম যে স্থান হইতে বাঁধিয়াছিল এই হজ্জের ইহরামও সেই স্থান হইতে বাঁধিবে। আর কাযা হজ্জ করিতে যখন আসিবে তখন উভয়েই তাহারা হজ্জ পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত আলাদা আলাদা থাকিবে। মালিক (রহঃ) বলেনঃ উভয়কেই এক একটি করিয়া কুরবানী করিতে হইবে। মালিক (রহঃ) বলেনঃ আরাফাতে অবস্থানের পর এবং প্রস্তর নিক্ষেপের পূর্বে যদি কেউ স্ত্রী সহবাস করে তবে তাহার উপর কুরবানী করা ওয়াজিব হইবে এবং আগামী বৎসর পুনরায় তাহাকে হজ্জ করিতে হইবে। রমিয়ে হাজর বা প্রস্তর নিক্ষেপের পর যদি স্ত্রী সহবাস করে, তবে তাহাকে একটি উমরা এবং একটি কুরবানী করিতে হইবে। পরেরবার পুনরায় হজ্জ করিতে হইবে না। মালিক (রহঃ) বলেনঃ স্খলন না হইয়া শুধু পুরুষাঙ্গ প্রবিষ্ট হইলেও হজ্জ ও উমরা বিনষ্ট হইয়া যাইবে এবং হাদয়ী ওয়াজিব হইবে। প্রবিষ্ট না হইয়াও যদি রতিলীলায় স্খলন হইয়া যায় তবুও হজ্জ বিনষ্ট হইয়া যাইবে। আর কল্পনা করার দরুন যদি কাহারও স্বলন হইয়া যায় তবে ইহাতে কিছুই ওয়াজিব হইবে না। মালিক (রহঃ) বলেনঃ কেউ স্ত্রীকে চুমা খাইলে স্খলন না হইলেও তাহার উপর কুরবানী ওয়াজিব হইবে। মালিক (রহঃ) বলেনঃ কোন মুহরিম মহিলার স্বামী যদি তাহার সম্মতিক্রমে তাহার সঙ্গে হজ্জ ও উমরার মধ্যে কয়েকবার সহবাস করে তবে ঐ মহিলাকে পরের বৎসর এই হজ্জের কায আদায় করিতে হইবে এবং কুরবানী দিতে হইবে। আর এইরূপ সহবাস উমরার মধ্যে হইলেও অতি সত্বর উমরা কাযা করিতে হইবে ও কুরবানী দিতে হইবে।
রেওয়ায়ত ১৫৬. সুলায়মান ইবন ইয়াসার (রাঃ) বর্ণনা করেন, আবু আইয়ুব আনসারী (রহঃ) হজ্জের নিয়তে রওয়ানা হইয়াছিলেন। মক্কার পথে নাযিয়া নামক স্থানে পৌছার পর তাহার উটটি হারাইয়া যায়। নাহর দিবস অর্থাৎ দশ তারিখে তিনি উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ)-এর নিকট উপস্থিত হইয়া ঘটনা বিবৃত করলেন। তখন উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ) বলিলেনঃ এখন উমরা করিয়৷ ইহরাম খুলিয়া ফেল। আগামী বৎসর হজ্জ করিয়া নিও এবং সামর্থ্যানুসারে একটি কুরবানী করিও।
রেওয়ায়ত ১৫৭. সুলায়মান ইবন ইয়াসার (রাঃ) বর্ণনা করেন- ইয়াওমুন-নাহারে অর্থাৎ দশ তারিখে হাব্বার ইবন আসওয়াদ (রাঃ) হজ্জের জন্য আসিয়া পৌছেন। উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ) তখন তাহার কুরবানীর পশুগুলির নাহর করিতেছিলেন। হাব্বার বলিলেনঃ আমীরুল মু'মিনীন! তারিখের ব্যাপারে আমাদের ভুল হইয়া গিয়াছে। আমরা ধারণা করিয়াছিলাম আজ আরাফাতের দিন। উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ) বলিলেনঃ তুমি সঙ্গিগণসহ মক্কায় চলিয়া যাও এবং তাওয়াফ করিয়া নাও। কোন কুরবানীর পশু সঙ্গে থাকিলে উহার কুরবানী করিয়া ফেল। পরে মাথা কামাইয়া বা চুল ছাঁটাইয়া বাড়ি ফিরিয়া যাও। আগামী বৎসর পুনরায় হজ্জ করিবে এবং কুরবানী দিবে। যাহার কুরবানী করার সামর্থ্য নাই সে তিনদিন হজ্জের সময় এবং বাড়ি ফিরিয়া সাতদিন রোযা রাখিবে। মালিক (রহঃ) বলেনঃ হজ্জে কিরানের ইহরাম বাঁধার পর যদি হজ্জ না পায়, তবে পরের বৎসরও হজ্জে কিরান করিবে এবং তাহকে দুইটি কুরবানী দিতে হইবে- একটি হজ্জে কিরানের আর একটি গত বৎসর হজ্জ না পাওয়ার।
রেওয়ায়ত ১৫৮. আতা ইবন রাবাহ (রহঃ) হইতে বর্ণিত- আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস (রাঃ)-এর নিকট এমন এক ব্যক্তি সম্বন্ধে জিজ্ঞাসা করা হইল, যে ব্যক্তি ইহরাম অবস্থায় মিনাতে তাওয়াফে ইফাযার পূর্বে স্ত্রী সহবাস করিয়াছে, তিনি তাহাকে একটি উট কুরবানী করিতে হুকুম দেন।
রেওয়ায়ত ১৫৯. ইকরামা (রহঃ) হইতে বর্ণিত, আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস (রাঃ) বলেনঃ তাওয়াফে ষিয়ারত করার পূর্বে কেউ যদি স্ত্রীসহবাস করে তবে তাহাকে উমরা এবং কুরবানী করিতে হইবে।