রেওয়ায়ত ১৬০. ইকরামা (রহঃ) আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস (রাঃ) হইতে যেরূপ বর্ণনা করিয়াছেন মালিক (রহঃ) রবী'আ ইবন আবূ আবদুর রহমানকে এ সম্পর্কে অনুরূপ বলিতে শুনিয়াছেন। মালিক (রহঃ) বলেনঃ এই বিষয়ে যাহা শুনিয়াছি তন্মধ্যে ইহাই আমার পছন্দনীয়। ইয়াহইয়া (রহঃ) বলেন- মালিক (রহঃ)-কে জিজ্ঞাসা করা হইলঃ তাওয়াফে যিয়ারত ভুলিয়া গিয়া যদি বাড়ি ফিরিয়া আসে তবে সে কি করিবে? তিনি বলিলেনঃ স্ত্রীসম্ভোগ না করিয়া থাকিলে মক্কায় ফিরিয়া যাইবে এবং তাওয়াফে যিয়ারত আদায় করিবে। আর স্ত্রীসম্ভোগ করিয়া থাকিলে মক্কায় ফিরিয়া গিয়া তাওয়াফ আদায় করিবে এবং উমরা করিয়া একটি কুরবানী দিবে। মক্কা হইতে উট ক্রয় করিয়া কুরবানী দিলে হইবে না। সঙ্গে যদি কুরবানীর পশু আনিয়া না থাকে তবে মক্কা হইতে কুরবানীর পশু কিনিয়া ইহাসহ হারমের বাহিরে চলিয়া যাইবে এবং সেই স্থান হইতে উহাকে মক্কায় হাকাইয়া নিয়া আসিবে এবং সেখানে নাহর করিবে।
রেওয়ায়ত ১৬১. জাফর ইবন মুহাম্মদ (রহঃ) তাহার পিতা হইতে বর্ণনা করেন- আলী ইবন আবি তালিব (রাঃ) বলতেনঃ (مَا اسْتَيْسَرَ مِنَ الْهَدْى) অর্থাৎ, তবে সহজলভ্য কুরবানী করিও। (বাকারাঃ ১৯৬) এই কথার অর্থ হইল, অন্তত একটি বকর কুরবানী করা।
রেওয়ায়ত ১৬২. মালিক (রহঃ) বলেনঃ তাহার নিকট রেওয়ায়ত পৌছিয়াছে যে, আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস (রাঃ) বলিয়াছেনঃ (مَا اسْتَيْسَرَ مِنَ الْهَدْى) এর অর্থ হইল, অন্তত একটি বকরী কুরবানী করা। মালিক (রহঃ) বলেনঃ এই বর্ণনাটি আমার নিকট খুবই প্রিয়। কেননা কুরআনুল করীমে আল্লাহ্ তা'আলা ইরশাদ করেনঃ হে মু’মিনগণ, তোমরা যখন ইহরাম অবস্থায় থাক তখন তোমরা কোন প্রাণী বধ করিও না। কেউ যদি কোনকিছু ইচ্ছাকৃতভাবে বধ করে তবে যে ধরনের পশু সে বধ করিয়াছে সেই ধরনের কোন পশু তাহাকে প্রতিদান (জরিমানা) দিতে হইবে। তোমাদের দুইজন ন্যায়নিষ্ঠ লোক ইহার ফয়সালা করিয়া দিবে। এই প্রতিদান বায়তুল্লাহতে প্রেরিত হাদয়ী হইবে অথবা কাফফারা হিসাবে হইবে যাহা মিসকীনদেরকে আহার করানো হইবে অথবা তাহাকে তৎপরিমাণ রোযা রাখিতে হইবে যাহাতে সে তাহার কৃতকর্মের শাস্তি ভোগ করিয়া নেয়। যাহা হউক, শিকারকৃত পশুর পরিবর্তে কোন সময়ে বকরীও ওয়াজিব হইতে পারে। উক্ত আয়াতে উহাকেও হাদয়ী বলিয়া উল্লেখ করা হইয়াছে। এই কথায় একজন কি করিয়া সন্দেহ করিতে পারে? কারণ যে পশু উট বা গরুর সমতুল্য নহে উহার প্রতিদানে (জরিমানা) একটি বকরীই ওয়াজিব হইতে পারে। একটি বকরীর সমতুল্যও যেখানে হইবে না সেখানে কাফফারা ওয়াজিব হইবে। সে রোযার মাধ্যমে উহা আদায় করুক বা মিসকীনদেরকে আহার করাইয়া তাহা আদায় করুক, উভয় অবস্থায় ইহা কাফফারা হিসাবেই গণ্য হইবে।
রেওয়ায়ত ১৬৪. আবদুল্লাহ ইবন আবু বকর (রহঃ) বর্ণনা করেন, আমরাহ বিনত আবদুর রহমানের আযাদকৃত দাসী রুকাইয়া (রহঃ) খবর দিয়েছেন- তিনি একবার আমরাহ বিনত আবদুর রহমানের সঙ্গে মক্কা অভিমুখে রওয়ানা হন। তিনি বলেনঃ যিলহজ্জ মাসের অষ্টম তারিখে তিনি (আমরাহ) মক্কায় গিয়া উপনীত হন। আমি তাহার সঙ্গে সঙ্গেই ছিলাম। তিনি কা'বার তাওয়াফ ও সাফা-মারওয়ার সায়ী করিয়া মসজিদে গেলেন। আমাকে বললেনঃ তোমার নিকট কাঁচি আছে কি? আমি বলিলামঃ নাই। তিনি বলিলেনঃ তালাশ করিয়া একটি কাঁচি লইয়া আস। আমি তাহাই করিলাম। তিনি উহা দ্বারা তাঁছার চুলের কিছু অংশ কাটিলেন। পরে কুরবানীর দিন (ইয়াওমুননাহরে) তিনি একটি বকরী যবেহ করিলেন।
রেওয়ায়ত ১৬৫. সাদাকাহ ইবন ইয়াসার মক্কী (রহঃ) বর্ণনা করেন- ইয়ামনের অধিবাসী এক ব্যক্তি আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) এর নিকট আসে। চুলগুলি তাহার জটপাকানো ছিল। সে বলিলঃ হে আবু আবদুর রহমান! আমি শুধু উমরার ইহরাম বাঁধিয়া আসিয়াছি। আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) বলিলেনঃ তুমি যদি আমার সঙ্গে থাকিতে বা আমার নিকট পূর্বে জিজ্ঞাসা করিতে তবে তোমাকে আমি হজ্জে কিরান করার কথা বলিতাম। লোকটি বলিলঃ উহার সময় অতিবাহিত হইয়া গিয়াছে। আবদুল্লাহ্ ইবন উমর (রাঃ) বললেনঃ তোমার এই লম্বা চুলগুলি কাটিয়া ফেল এবং কুরবানী কর। ইরাকের অধিবাসী একজন মহিলা তখন বলিলঃ হে আবু আবদুর রহমান! এই লোকটির হাদয়ী (কুরবানী) কি হইবে? তিনি বলিলেনঃ উত্তম হাদয়ী সে দিবে। মহিলাটি পুনরায় বলিলঃ ইহা কি হইবে? আবদুল্লাহ্ ইবন উমর (রাঃ) বলিলেনঃ যবেহ করিবার জন্য বকরী ব্যতীত অন্য কিছু যদি না পায় বা দিতে অসমর্থ হয়, তবে আমার কাছে রোযা রাখা অপেক্ষা বকরী হাদয়ী দেওয়াই উত্তম।
রেওয়ায়ত ১৬৭. মালিক (রহঃ) কতিপয় আলিমের নিকট শুনিয়াছেন- স্বামী-স্ত্রী কুরবানীতে একই উটে শরীক হইবে না। প্রত্যেকেরই আলাদা উট কুরবানী করা উচিত। মালিক (রহঃ)-এর নিকট জিজ্ঞাসা করা হইয়াছিলঃ হজ্জের সময় নাহর করার জন্য যদি কাহারও সঙ্গে মক্কায় হাদয়ী পাঠাইয়া দেয় আর সে নিজে উমরার ইহরাম বাধিয়া আসে তবে উমরা শেষ হইতেই সে ঐ হাদয়ীটি ‘নাহর’ করিতে পারিবে কি অথবা উহা নাহর করার জন্য হজ্জ শেষ না হওয়া পর্যন্ত সে কি অপেক্ষা করিবে? তিনি উত্তরে বলিলেনঃ উমরা করিয়া সে ইহরাম খুলিয়া ফেলিবে এবং কুরবানীর জন্য হজ্জ শেষ না হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করিবে এবং ইয়াওমুন-নাহরের সময় উহাকে সে 'নাহর করিবে এবং এই কুরবানীকে তাহার উমরারই অংশবিশেষ জানিবে। মালিক (রহঃ) বলেনঃ ইহরাম অবস্থায় শিকার করার কারণে বা অন্য কোন কারণে যদি কাহারও উপর কুরবানী করা ওয়াজিব হইয়া যায়, তবে উহাকে মক্কায় নিয়া আসা উচিত। কারণ আল্লাহ্ তা'আলা ইরশাদ করেনঃ (هَدْيًا بَالِغَ الْكَعْبَةِ) ‘এমন হাদয়ী যাহা কাবায় পৌছায়’। শিকার করার কারণে বা কুরবানীর পরিবর্তে রোযা বা সাদকা করিতে হইলে তাহার ইখতিয়ার থাকিবে হারম্ বা হারম্ এর বাহিরে যেকোন স্থানে ইচ্ছা সে উহা করিতে পারিবে।
রেওয়ায়ত ১৬৮. আবদুল্লাহ ইবন জাফর (রহঃ)-এর আযাদকৃত গোলাম আবু আসমা (রহঃ) বর্ণনা করেন যে, তিনি আবদুর রহমান ইবন জাফর (রহঃ)-এর সহিত মদীনা হইতে যাত্রা করেন, পথে সুকইয়া নামক স্থানে হুসায়ন ইবন আলী (রাঃ)-এর সহিত তাহাদের সাক্ষাৎ হয়। তিনি [হুসায়ন (রাঃ)] সেখানে অসুস্থ অবস্থায় ছিলেন। আবদুল্লাহ ইবন জাফরও সেখানে রহিয়া গেলেন। হজ্জের সময় শেষ হইয়া যাইতেছে দেখিয়া তিনি পুনরায় রওয়ানা হইয়া পড়েন এবং একজন লোককে খবর দিয়া আলী ইবন আবি তালিব (রাঃ) ও তাহার স্ত্রী আসমা বিনত উমাইসের নিকট পাঠাইয়া দিলেন। তাহারা ঐ সময় মদীনায় ছিলেন। তাহারা খবর পাইয়া সুকইয়ায় অসুস্থ পুত্রের নিকট আসিলেন। তিনি [হুসায়ন (রাঃ)] নিজের মাথার দিকে ইশারা করিয়া দেখাইলেন। আলী (রাঃ)-এর নির্দেশে তখন সেখানেই তাহার মাথা কামান হইল এবং একটি উট কুরবানী দেওয়া হইল । ইয়াহইয়া ইবন সাঈদ (রহঃ) বলেনঃ হুসায়ন (রাঃ) ঐ সময় উসমান ইবন আফফান (রাঃ)-এর সহিত হজ্জ করিতে রওয়ানা হইয়াছিলেন।
হাদিস 873 — Muwatta Malik 20:169
সহিহ
حَدَّثَنِي يَحْيَى، عَنْ مَالِكٍ، أَنَّهُ بَلَغَهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " عَرَفَةُ كُلُّهَا مَوْقِفٌ وَارْتَفِعُوا عَنْ بَطْنِ عُرَنَةَ وَالْمُزْدَلِفَةُ كُلُّهَا مَوْقِفٌ وَارْتَفِعُوا عَنْ بَطْنِ مُحَسِّرٍ " .
রেওয়ায়ত ১৬৯. মালিক (রহঃ)-এর নিকট রেওয়ায়ত পৌছিয়াছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেনঃ আরাফাতের সারা ময়দানে অবস্থান করা যায়, তবে তোমরা বাতনে উরানায় অবস্থান করিও না। এমনিভাবে মুযদালিফার সারা ময়দানে অবস্থান করা যায় তবে তোমরা বাতনে মুহাসসিরে অবস্থান করিও না।
রেওয়ায়ত ১৭১. ইয়াহইয়া (রহঃ) বলেনঃ মালিক (রহঃ)-কে জিজ্ঞাসা করা হইলঃ অপবিত্র অবস্থায় কোন ব্যক্তি আরাফাত বা মুযদালিফায় অবস্থান বা প্রস্তর নিক্ষেপ বা সাফা-মারওয়ার সায়ী করিতে পারবে কি? তিনি বলিলেনঃ ঋতুমতী স্ত্রীলোক হজ্জের যে সমস্ত আহকাম-আরকান আদায় করিতে পারে তাহা ওযূবিহীন অবস্থায় তাহাকে আদায় করিতে হয়। তদ্রুপ ওযু ছাড়া পুরুষ ও স্ত্রীলোক এইগুলি করিতে পারে। ইহাতে দোষের কিছুই হয় না। তবে ওযুসহ ঐ সমস্ত বিষয় আদায় করা উত্তম। স্বেচ্ছায় ওযূবিহীন অবস্থায় এইসব কাজ করা ঠিক নহে। মালিক (রহঃ)-কে জিজ্ঞাসা করা হইলঃ কোন ব্যক্তি আরোহী হইলে আরাফাতে অবস্থানকালে সে আরোহী অবস্থায় থাকিবে কিনা। তিনি বলিলেনঃ আরোহী অবস্থায় ওয়াকুফ করিবে। তবে তাহার বা তাহার ভারবাহী পশুর কোন অসুবিধা থাকিলে আল্লাহ্ তা'আলা তাহা কবূল করিবেন।