রেওয়ায়ত ১৭২. নাফি’ (রহঃ) হইতে বর্ণিত, আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) বলেনঃ মুযদালিফার রাত্রির (১০ তারিখের রাত্রি) কিছু অংশ হইতে আরাফাতে অবস্থান না করিলে হজ্জ হইবে না। আর যে ব্যক্তি ইয়াওমুন-নাহরের ফজর পর্যন্ত সময়ের মধ্যে আরাফাতে অবস্থান করিতে পারবে তাহার হজ্জ হইয়া যাইবে।
রেওয়ায়ত ১৭৩. হিশাম ইবন উরওয়াহ (রহঃ) তাহার পিতা হইতে বর্ণনা করেন, তিনি বলিয়াছেনঃ মুযদালিফার রাত ফজর হওয়া পর্যন্তও যদি কেউ (কিছু সময়ের জন্য) আরাফাতে অবস্থান না করিয়া থাকে তবে তাহার হজ্জ বিনষ্ট হইবে। আর যে ব্যক্তি মুযদালিফার রাতে ফজরের পূর্ব পর্যন্ত ইহরাম বাঁধিয়া (কিছু সময়) আরাফাতে অবস্থান করিতে পারিবে তাহার হজ্জ হইয়া যাইবে। মালিক (রহঃ) বলেনঃ আরাফাতে অবস্থানকালে যদি কোন ক্রীতদাস আযাদ হইয়া যায় তবে এই হজ্জ দ্বারা তাহার ফরয হজ্জ আদায় হইবে না। কিন্তু আযাদ হওয়ার পূর্বে সে যদি ইহরাম না বাধিয়া থাকে এবং আযাদ হওয়ার পর ইয়াওমুন-নাহরের ফজরের পূর্বে ইহরাম বাঁধিয়া আরাফাতে অবস্থান করিয়া নিতে পারে তবে তাহার ফরয হজ্জ আদায় হইয়া যাইবে। আর ইয়াওমুন-নাহরের ফজর পর্যন্ত সে যদি ইহরাম না বাঁধে তবে তাহার অবস্থা ঐ ব্যক্তির মত হইবে যে ব্যক্তি মুযদালিফার রাত্রের ফজর পর্যন্ত আরাফাতে অবস্থান করে নাই, ফলে তাহার হজ্জ বিনষ্ট হইয়া গিয়াছে। সুতরাং ঐ আযাদ ক্রীতদাসেরও পুনরায় ফরয হজ্জ আদায় করিতে হইবে।
রেওয়ায়ত ১৭৪. আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ)-এর পুত্র সলিম (রহঃ) এবং উবায়দুল্লাহ (রহঃ) বর্ণনা করেন, তাহাদের পিতা আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) শিশু ও মহিলাদেরকে প্রথম মুযদালিফা হইতে মিনায় পাঠাইয়া দিতেন, মিনায় ফজরের নামায আদায় করার পরপরই অন্যান্য লোক আসিবার পূর্বে যেন তাহারা প্রস্তর নিক্ষেপ করিয়া নিতে পারেন।
রেওয়ায়ত ১৭৫. আতা ইবন রাবা' (রহঃ) হইতে বর্ণিত, আসমা বিনত আবি বকর (রাঃ)-এর আযাদ দাসী বর্ণনা করেনঃ অন্ধকার থাকিতেই আসমা বিনত আবি বকর (রাঃ)-এর সহিত আমরা মিনায় চলিয়া আসিলাম। আসমাকে তখন আমি বলিলামঃ অন্ধকার থাকিতেই যে মিনায় আমরা চলিয়া আসিলাম? তিনি বলিলেন, তোমাদের হইতে যিনি শ্ৰেষ্ঠ ছিলেন অর্থাৎ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাহার আমলেও আমরা এই ধরনের আমল করিয়াছি।
রেওয়ায়ত ১৭৭. মালিক (রহঃ) কতিপয় আলিমের নিকট শুনিয়াছেন যে, তাহারা ইয়াওমুন-নাহরের ফজর হওয়ার পূর্বে প্রস্তর নিক্ষেপ করা মাকরূহ বলিয়া মনে করিতেন। যে ব্যক্তি প্রস্তর নিক্ষেপ করিয়াছে তাহার জন্য নাহর করা হালাল হইয়া গিয়াছে।
রেওয়ায়ত ১৭৮. হিশাম ইবন উরওয়াহ (রহঃ) বর্ণনা করেন, ফাতিমা বিনত মুনযির বলিয়াছেনঃ মুযদালিফা অবস্থানকালে আসমা বিনতে আবি বকর (রাঃ)-কে দেখিয়াছি, যে ব্যক্তি তাহাদের নামায পড়াইতেন তাহাকে তিনি বলিতেনঃ সুবহে সাদিক হওয়ামাত্রই যেন নামায পড়াইয়া দেন। পরে নামায পড়ামাত্র আর বিলম্ব না করিয়া তিনি মিনায় চলিয়া আসিতেন।
রেওয়ায়ত ১৮০. নাফি' (রহঃ) হইতে বর্ণিত, আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) বাতনে-মুহাসসির হইতে প্রস্তর নিক্ষেপ করার স্থান পর্যন্ত তাহার উটের গতি দ্রুত করিয়া দিতেন।
হাদিস 883 — Muwatta Malik 20:179
সহিহ Lighairihi
حَدَّثَنِي يَحْيَى، عَنْ مَالِكٍ، أَنَّهُ بَلَغَهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ بِمِنًى " هَذَا الْمَنْحَرُ وَكُلُّ مِنًى مَنْحَرٌ " . وَقَالَ فِي الْعُمْرَةِ " هَذَا الْمَنْحَرُ - يَعْنِي الْمَرْوَةَ - وَكُلُّ فِجَاجِ مَكَّةَ وَطُرُقِهَا مَنْحَرٌ " .
রেওয়ায়ত ১৮১. মালিক (রহঃ) বলেন, তাহার নিকট রেওয়ায়ত পৌছিয়াছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিনা সম্পর্কে বলিয়াছেনঃ মিনার সারাটা ময়দানই নাহর করার স্থান। আর উমরা সম্পর্কে বলিয়াছেনঃ ইহার জন্য মারওয়াহ্ উত্তম স্থান। মক্কার প্রতিটি পথ এবং গলিও নাহর করার স্থান।
হাদিস 884 — Muwatta Malik 20:180
সহিহ
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ، قَالَ أَخْبَرَتْنِي عَمْرَةُ بِنْتُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، أَنَّهَا سَمِعَتْ عَائِشَةَ أُمَّ الْمُؤْمِنِينَ، تَقُولُ خَرَجْنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لِخَمْسِ لَيَالٍ بَقِينَ مِنْ ذِي الْقَعْدَةِ وَلاَ نُرَى إِلاَّ أَنَّهُ الْحَجُّ فَلَمَّا دَنَوْنَا مِنْ مَكَّةَ أَمَرَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مَنْ لَمْ يَكُنْ مَعَهُ هَدْىٌ إِذَا طَافَ بِالْبَيْتِ وَسَعَى بَيْنَ الصَّفَا وَالْمَرْوَةِ أَنْ يَحِلَّ . قَالَتْ عَائِشَةُ فَدُخِلَ عَلَيْنَا يَوْمَ النَّحْرِ بِلَحْمِ بَقَرٍ فَقُلْتُ مَا هَذَا فَقَالُوا نَحَرَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنْ أَزْوَاجِهِ . قَالَ يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ فَذَكَرْتُ هَذَا الْحَدِيثَ لِلْقَاسِمِ بْنِ مُحَمَّدٍ فَقَالَ أَتَتْكَ وَاللَّهِ بِالْحَدِيثِ عَلَى وَجْهِهِ .
রেওয়ায়ত ১৮২. উম্মুল মুমিনীন আয়েশা (রাঃ) বলেন, তখন যিলকা'দ মাসের পাঁচ দিন অবশিষ্ট ছিল, যখন আমরা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সহিত রওয়ানা হইলাম। আমাদের এই ধারণাই ছিল যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হজ্জের উদ্দেশ্যেই যাইতেছেন। যখন আমরা মক্কার নিকটবর্তী হইলাম তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যাহাদের নিকট হাদয়ী ছিল না তাহাদিগকে তাওয়াফ ও সায়ী করিয়া ইহরাম খুলিয়া ফেলিতে বলেন। আয়েশা (রাঃ) বলেনঃ ইয়াওমুন্নাহরের দিন আমাদের কাছে গরুর গোশত আনা হইল। ইহা দেখিয়া বলিলামঃ ইহা কোথা হইতে আসিয়াছে? লোকেরা বলিলঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্ত্রীগণের তরফ হইতে কুরবানী দিয়াছেন। ইয়াহইয়া (রহঃ) বলেনঃ আমি কাসিম ইবন মুহাম্মদের নিকট উক্ত হাদীসটি বর্ণনা করিলে তিনি বলিলেনঃ আল্লাহর কসম, আমরাহ বিনত আবদুর রহমান এই হাদীসটি সম্পূর্ণরূপে বর্ণনা করিয়াছেন।