রেওয়ায়ত ১৮৩. উম্মুল মুমিনীন হাফসা (রাঃ) হইতে বর্ণিত-তিনি বাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বললেনঃ অন্যরা তো উমরা করিয়া ইহরাম খুলিয়া ফেলিয়াছে, কিন্তু আপনি খুলিলেন না? তিনি বলিলেনঃ আমি আমার চুল জমাট করিয়া নিয়াছি আর হাদয়ীর গলায় হার লটকাইয়া দিয়াছি। সুতরাং ‘নাহর’ না করা পর্যন্ত আমি ইহরাম খুলিব না।
হাদিস 886 — Muwatta Malik 20:182
সহিহ
حَدَّثَنِي يَحْيَى، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ جَعْفَرِ بْنِ مُحَمَّدٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم نَحَرَ بَعْضَ هَدْيِهِ وَنَحَرَ غَيْرُهُ بَعْضَهُ .
রেওয়ায়ত ১৮৪. আলী ইবন আবি তালিব (রাঃ) বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্বীয় কুরবানীর কিছুসংখ্যক পশু নিজের হাতে নাহর করেন আর বাকিগুলি অন্যরা ‘নাহর’ করেন।
রেওয়ায়ত ১৮৫. নাফি' (রহঃ) হইতে বর্ণিত, আবদুল্লাহ্ ইবন উমর (রাঃ) বলিয়াছেনঃ হাদয়ীর কুরবানী করার মানত করিলে উহার গলায় একজোড়া জুতা লটকাইয়া দিবে এবং উহার কুঁজ যখমী করিয়া দিবে। পরে দশ তারিখে কা'বা শরীফের নিকট বা মিনা ময়দানে উহা নাহর করিবে। ইহা ছাড়া ‘নাহর’ করার আর কোন স্থান নাই। আর যদি কেউ উট বা গরু ইত্যাদি কুরবানী করার মানত করে, তবে সে যে স্থানে ইচ্ছা কুরবানী করিতে পারে।
রেওয়ায়ত ১৮৬. হিশাম ইবন উরওয়াহ্ (রহঃ) বর্ণনা করেন, তাহার পিতা উটগুলিকে দাঁড় করাইয়া ঐগুলির নাহর করিতেন। মালিক (রহঃ) বলেনঃ কুরবানী করার পূর্বে মাথা কামানো জায়েয নহে। দশ তারিখের সুবহে সাদিকের পূর্বে কুরবানী করাও জায়েয নহে। কুরবানী করা, কাপড় বদলান, শরীরের ময়লা সাফ করা, মাথা কামান ইত্যাদি বিষয় যিলহজ্জের দশ তারিখে করিতে হইবে। উহার পূর্বে এই সমস্ত করা জায়েয নহে।
রেওয়ায়ত ১৮৮. আবদুর রহমান ইবন কাসিম (রহঃ) তাহার পিতা হইতে বর্ণনা করেন, তিনি (কাসিম ইবন মুহাম্মদ) উমরার ইহরাম বাধিয়া রাত্রে মক্কায় আসিতেন, তাওয়াফ ও সায়ী করার পর ভোর পর্যন্ত মাথা মুণ্ডন করার জন্য অপেক্ষা করিতেন। মাথা না কামানো পর্যন্ত বায়তুল্লাহর তাওয়াফ করিতেন না। নিকটবর্তী মসজিদে আসিয়া কখনও কখনও বিতরের নামায আদায় করিতেন বটে তবে বায়তুল্লাহর নিকটবর্তী হইতেন না। মালিক (রহঃ) বলেনঃ ‘তাফাস' অর্থ হইল, হজ্জের পর মাথা কামানো এবং কাপড়-চোপড় বদলান ইত্যাদি। মালিক (রহঃ)-কে জিজ্ঞাসা করা হয়ঃ হজ্জের সময় একজন মাথা কামাইতে ভুলিয়া গেলে সে কি মক্কায় আসিয়া মাথা মুণ্ডন করিতে পারিবে? তিনি বলিলেনঃ হ্যাঁ, পারবে। তবে মিনাতে অবস্থানকালে উহা করা ভাল। মালিক (রহঃ) বলেনঃ আমাদের নিকট সর্বসম্মত বিষয় এই—যতক্ষণ পর্যন্ত হাদয়ী যবেহ করে নাই ততক্ষণ কেউ মাথা মুণ্ডন করিবে না বা চুল ছাঁটিবে না। আর যতক্ষণ মিনায় পৌছিয়া যিলহজ্জ মাসের দশ তারিখে ইহরাম না খুলিবে, ততক্ষণ তাহার হারাম বিষয়সমূহ হালাল হইবে না। কারণ আল্লাহ্ তা'আলা ইরশাদ করিয়াছেনঃ কুরবানী যতক্ষণ তাহার নিজ স্থলে না পৌছাইবে ততক্ষণ তোমরা মাথা মুণ্ডন করিও না।
রেওয়ায়ত ১৮৯. নাফি' (রহঃ) হইতে বর্ণিত- আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) যখন রমযানের রোযা সমাপ্ত করিতেন আর ঐ বৎসর হজ্জ করার ইচ্ছা করিতেন তখন হজ্জ সমাধা না করা পর্যন্ত মাথার চুল কাটিতেন না ও দাড়ি ছাঁটিতেন না। মালিক (রহঃ) বলেনঃ এ বিষয়টি ওয়াজিব নহে।
রেওয়ায়ত ১৯১. রবী'আ ইবন আবু আবদুর রহমান (রহঃ) হইতে বর্ণিত, এক ব্যক্তি কাসিম ইবন মুহাম্মদ (রহঃ)-এর নিকট আসিয়া বলিলঃ আমি ও আমার স্ত্রী তাওয়াফে যিয়ারত সমাধা করার পর সহবাস করার ইচ্ছায় আমার স্ত্রীকে এক নির্জন স্থানে লইয়া গেলাম। আমার স্ত্রী তখন বলিলঃ হজ্জের পর আমি এখনও আমার চুল ছাঁটাই নাই। আমি তখন দাঁত দিয়া তাহার চুল কাটিয়া তাহার সহিত মিলিত হই। এখন কি করিব? কাসিম (রহঃ) হাসিয়া বলিলেনঃ যাও, স্ত্রীকে কাচির সাহায্যে চুল ছাঁটিয়া নিতে বল।। মালিক (রহঃ) বলেন, এই অবস্থায় স্বামী যদি একটি কুরবানী দেয় তবে উহা ভাল। কেননা আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস (রাঃ) বলিয়াছেনঃ যে কেউ কোন আমল বা রুকন ভুলিয়া বসিলে সে ইহার পরিবর্তে একটি কুরবানী দিবে।
রেওয়ায়ত ১৯২. নাফি’ (রহঃ) হইতে বর্ণিত, মুজাব্বার নামক কোন এক নিকট-আত্মীয়ের সঙ্গে আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ)-এর সাক্ষাৎ হয়। সে তাওয়াফে যিয়ারত করিয়া গিয়াছিল বটে তবে অজ্ঞতার দরুন মাথার চুল ছাঁটায় নাই বা কামায় নাই। তাহাকে তখন আবদুল্লাহ্ ইবন উমর (রাঃ) পুনরায় মক্কায় গিয়া চুল কামাইতে বা ছাটাইতে এবং পুনরায় তাওয়াফে যিয়ারত করিতে নির্দেশ দেন।