Qurani·قرآني
বাংলা

হজ্জ

253 হাদিস · #705–957

হাদিস 935 — Muwatta Malik 20:8
সহিহ
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ قُرَيْرٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ سِيرِينَ، أَنَّ رَجُلاً، جَاءَ إِلَى عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ فَقَالَ إِنِّي أَجْرَيْتُ أَنَا وَصَاحِبٌ، لِي فَرَسَيْنِ نَسْتَبِقُ إِلَى ثُغْرَةِ ثَنِيَّةٍ فَأَصَبْنَا ظَبْيًا وَنَحْنُ مُحْرِمَانِ فَمَاذَا تَرَى فَقَالَ عُمَرُ لِرَجُلٍ إِلَى جَنْبِهِ تَعَالَ حَتَّى أَحْكُمَ أَنَا وَأَنْتَ ‏.‏ قَالَ فَحَكَمَا عَلَيْهِ بِعَنْزٍ فَوَلَّى الرَّجُلُ وَهُوَ يَقُولُ هَذَا أَمِيرُ الْمُؤْمِنِينَ لاَ يَسْتَطِيعُ أَنْ يَحْكُمَ فِي ظَبْىٍ حَتَّى دَعَا رَجُلاً يَحْكُمُ مَعَهُ ‏.‏ فَسَمِعَ عُمَرُ قَوْلَ الرَّجُلِ فَدَعَاهُ فَسَأَلَهُ هَلْ تَقْرَأُ سُورَةَ الْمَائِدَةِ قَالَ لاَ ‏.‏ قَالَ فَهَلْ تَعْرِفُ هَذَا الرَّجُلَ الَّذِي حَكَمَ مَعِي فَقَالَ لاَ ‏.‏ فَقَالَ لَوْ أَخْبَرْتَنِي أَنَّكَ تَقْرَأُ سُورَةَ الْمَائِدَةِ لأَوْجَعْتُكَ ضَرْبًا ثُمَّ قَالَ إِنَّ اللَّهَ تَبَارَكَ وَتَعَالَى يَقُولُ فِي كِتَابِهِ ‏{‏يَحْكُمُ بِهِ ذَوَا عَدْلٍ مِنْكُمْ هَدْيًا بَالِغَ الْكَعْبَةِ‏}‏ وَهَذَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عَوْفٍ ‏.‏
রেওয়ায়ত ২৩৩. মুহাম্মদ ইবন সীরীন (রহঃ) বর্ণনা করেন, এক ব্যক্তি উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ)-এর নিকট আসিয়া বলিলঃ আমি ও আমার সঙ্গী একটি গিরিবর্তে আমাদের ঘোড়া দৌড়াইয়া ইহরাম অবস্থায় একটি হরিণ শিকার করিয়া ফেলিয়াছি। উমর (রাঃ) তখন পার্শ্বে উপবিষ্ট এক ব্যক্তিকে বলিলেনঃ চলুন, আমরা দুইজনে ইহার একটি ফয়সালা করিয়া দেই। শেষে তাহারা উভয়ে ঐ ব্যক্তির উপর একটা বকরী ফিদয়া প্রদানের বিধান দেন। ঐ ব্যক্তি ফিরিয়া যাইতে যাইতে বলিতেছিলঃ ইনি আমিরুল মু'মিনীন, যিনি অন্যের সহযোগিতা ভিন্ন একটি হরিণের ফয়সালা দিতে পারিলেন না। উমর (রাঃ) তাহার উক্তি শুনিয়া ফেলিলেন। তাহাকে ডাকিয়া বলিলেনঃ তুমি কুরআনুল কারীমের সূরা-ই-মায়িদা পড়িয়াছ কি? সে বলিলঃ জি, না। তিনি বলিলেনঃ যিনি আমার সঙ্গে ফয়সালা দিয়াছেন তাহাকে চিন? সে বলিলঃ জি, না। উমর (রাঃ) তখন বলিলেনঃ যদি সূরা-ই-মায়িদা পড়িয়াছ বলিতে তবে তোমাকে আমি আজ শাস্তি দিতাম। আল্লাহ্ তা'আলা তাহার কিতাবে (সূরা-ই-মায়িদায়) ইরশাদ করিয়াছেনঃ “তোমাদের দুইজন ন্যায়নিষ্ঠ সত্যবাদী ব্যক্তি ফিদয়া সম্পর্কে ফয়সালা করিয়া দিবে। উহা কুরবানীর জন্য হইবে যাহা মক্কায় পৌছিবে।” আর যিনি আমার সহিত ফয়সালা প্রদানে সহযোগিতা করিয়াছেন ইনি হইতেছেন আবদুর রহমান ইবন আউফ (রাঃ)।
হাদিস 936 — Muwatta Malik 20:9
Maqtu Sahih
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، أَنَّ أَبَاهُ، كَانَ يَقُولُ فِي الْبَقَرَةِ مِنَ الْوَحْشِ بَقَرَةٌ وَفِي الشَّاةِ مِنَ الظِّبَاءِ شَاةٌ ‏.‏
রেওয়ায়ত ২৩৫. হিশাম ইবন উরওয়া (রহঃ) বর্ণনা করেন- তাহার পিতা উরওয়াহ বলিতেনঃ একটি বন্য গাভী হত্যা করিলে একটি গরু এবং হরিণ হত্যা করিলে একটি বকরী ফিদয়া দিতে হইবে।
হাদিস 937 — Muwatta Malik 20:10
Maqtu Sahih
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ، أَنَّهُ كَانَ يَقُولُ فِي حَمَامِ مَكَّةَ إِذَا قُتِلَ شَاةٌ ‏.‏ وَقَالَ مَالِكٌ فِي الرَّجُلِ مِنْ أَهْلِ مَكَّةَ يُحْرِمُ بِالْحَجِّ أَوِ الْعُمْرَةِ وَفِي بَيْتِهِ فِرَاخٌ مِنْ حَمَامِ مَكَّةَ فَيُغْلَقُ عَلَيْهَا فَتَمُوتُ فَقَالَ أَرَى بِأَنْ يَفْدِيَ ذَلِكَ عَنْ كُلِّ فَرْخٍ بِشَاةٍ ‏.‏ قَالَ مَالِكٌ لَمْ أَزَلْ أَسْمَعُ أَنَّ فِي النَّعَامَةِ إِذَا قَتَلَهَا الْمُحْرِمُ بَدَنَةً ‏.‏ قَالَ مَالِكٌ أَرَى أَنَّ فِي بَيْضَةِ النَّعَامَةِ عُشْرَ ثَمَنِ الْبَدَنَةِ كَمَا يَكُونُ فِي جَنِينِ الْحُرَّةِ غُرَّةٌ عَبْدٌ أَوْ وَلِيدَةٌ وَقِيمَةُ الْغُرَّةِ خَمْسُونَ دِينَارًا وَذَلِكَ عُشْرُ دِيَةِ أُمِّهِ وَكُلُّ شَىْءٍ مِنَ النُّسُورِ أَوِ الْعِقْبَانِ أَوِ الْبُزَاةِ أَوِ الرَّخَمِ فَإِنَّهُ صَيْدٌ يُودَى كَمَا يُودَى الصَّيْدُ إِذَا قَتَلَهُ الْمُحْرِمُ وَكُلُّ شَىْءٍ فُدِيَ فَفِي صِغَارِهِ مِثْلُ مَا يَكُونُ فِي كِبَارِهِ وَإِنَّمَا مَثَلُ ذَلِكَ مَثَلُ دِيَةِ الْحُرِّ الصَّغِيرِ وَالْكَبِيرِ فَهُمَا بِمَنْزِلَةٍ وَاحِدَةٍ سَوَاءٌ ‏.‏
রেওয়ায়ত ২৩৭. মালিক (রহঃ) বলেনঃ ইহরামরত ব্যক্তি যদি একটি উটপাখি মারিয়া ফেলে, তবে উহার বদলে একটি উট ফিদয়া দিতে হইবে। ইহাই আমি হামেশা শুনিয়া আসিয়াছি। মালিক (রহঃ) বলেনঃ উটপাখির ডিম নষ্ট করিলে প্রতিটি ডিমের পরিবর্তে একটি উটের মূল্যের এক-দশমাংশ হিসাবে ফিদয়া দিতে হইবে। যেমন, আযাদ কোন মহিলার গর্ভস্থ সন্তান যদি কেউ মারিয়া ফেলে তবে ইহার কাফফারায় (মালিক (রহঃ) বলিয়াছেন) একটি দাসী বা দাস আযাদ করিতে হয়। মালিক (রহঃ) বলেনঃ পঞ্চাশ দীনার হইতেছে একটি মানুষের পূর্ণাঙ্গ দিয়্যতের (রক্তপণ) এক-দশমাংশ। মালিক (রহঃ) বলেনঃ শকুন, বাজ, ঈগল, রখম (এক প্রকার শকুন জাতীয় প্রাণী) শিকার বলিয়া গণ্য। মুহরিম ব্যক্তি এইগুলি হত্যা করিলেও বদলা আদায় করিতে হইবে। মালিক (রহঃ) বলেনঃ প্রাণী ছোট হউক আর বড় হউক যাহার যে ফিদয়ার বিধান করা হইয়াছে তাহাই আদায় করিতে হইবে। দিয়্যতের মধ্যে যেমন বড়-ছোটর তারতম্য হয় না, এইখানেও কোন তারতম্য করা হইবে না।
হাদিস 938 — Muwatta Malik 20:11
Mauquf Daif
حَدَّثَنِي يَحْيَى، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ، أَنَّ رَجُلاً، جَاءَ إِلَى عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ فَقَالَ يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ إِنِّي أَصَبْتُ جَرَادَاتٍ بِسَوْطِي وَأَنَا مُحْرِمٌ ‏.‏ فَقَالَ لَهُ عُمَرُ أَطْعِمْ قَبْضَةً مِنْ طَعَامٍ ‏.‏
রেওয়ায়ত ২৩৮. যায়দ ইবন আসলাম (রহঃ) বর্ণনা করেন, এক ব্যক্তি উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ)-এর নিকট আসিয়া বলিলঃ আমীরুল মু'মিনীন আমি ইহরাম অবস্থায় লাঠি দ্বারা কয়েকটি পঙ্গপাল মারিয়া ফেলিয়াছি। উমর (রাঃ) তখন বলিলেনঃ মুষ্টি পরিমাণ খাদ্য কাহাকেও দিয়া দাও।
হাদিস 939 — Muwatta Malik 20:12
Mauquf Daif
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ، أَنَّ رَجُلاً، جَاءَ إِلَى عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ فَسَأَلَهُ عَنْ جَرَادَاتٍ، قَتَلَهَا وَهُوَ مُحْرِمٌ فَقَالَ عُمَرُ لِكَعْبٍ تَعَالَ حَتَّى نَحْكُمَ ‏.‏ فَقَالَ كَعْبٌ دِرْهَمٌ ‏.‏ فَقَالَ عُمَرُ لِكَعْبٍ إِنَّكَ لَتَجِدُ الدَّرَاهِمَ لَتَمْرَةٌ خَيْرٌ مِنْ جَرَادَةٍ ‏.‏
রেওয়ায়ত ২৩৯. ইয়াহইয়া ইবন সাঈদ (রহঃ) বর্ণনা করেন, এক ব্যক্তি ইহরাম অবস্থায় কিছু পঙ্গপাল মারিয়া ফেলিয়ছিল। উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ)-এর নিকট সে এই সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করিলে তিনি কা'ব (রাঃ)-কে ডাকিয়া বললেনঃ চলুন, আমরা উভয়ে মিলিয়া ইহার একটা ফয়সালা করি। কাব (রাঃ) বললেনঃ ইহাতে এক দিরহাম কাফফারা দিতে হইবে উমর (রাঃ) কা’ব (রাঃ)-কে বলিলেনঃ আপনার নিকট অনেক দিরহাম রহিয়াছে (তাই এই ধরনের বিধান দিতে পারিয়াছেন), আমার নিকট একটি পঙ্গপাল হইতে একটা খেজুর অনেক শ্রেয়।
হাদিস 940 — Muwatta Malik 20:13
সহিহ
حَدَّثَنِي يَحْيَى، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ عَبْدِ الْكَرِيمِ بْنِ مَالِكٍ الْجَزَرِيِّ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي لَيْلَى، عَنْ كَعْبِ بْنِ عُجْرَةَ، أَنَّهُ كَانَ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مُحْرِمًا فَآذَاهُ الْقَمْلُ فِي رَأْسِهِ فَأَمَرَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنْ يَحْلِقَ رَأْسَهُ وَقَالَ ‏ "‏ صُمْ ثَلاَثَةَ أَيَّامٍ أَوْ أَطْعِمْ سِتَّةَ مَسَاكِينَ مُدَّيْنِ مُدَّيْنِ لِكُلِّ إِنْسَانٍ أَوِ انْسُكْ بِشَاةٍ أَىَّ ذَلِكَ فَعَلْتَ أَجْزَأَ عَنْكَ ‏"‏ ‏.‏
রেওয়ায়ত ২৪০. কাব ইবন উজরা (রাঃ) বর্ণনা করেন- তিনি ইহরাম অবস্থায় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সহিত ছিলেন। তাহার মাথায় উকূন তাহাকে কষ্ট দিতেছিল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন তাহাকে মাথার চুল কামাইয়া ফেলিতে হুকুম করিয়া বলিলেনঃ ইহার পরিবর্তে তিনদিন রোযা বা ছয়জন মিসকীনের প্রত্যেককে দুই মুদ পরিমাণ খাদ্য কিংবা একটি বকরী কুরবানী দিয়া দাও। উপরিউক্ত তিনটি বিষয়ের যেকোন একটিই তোমার জন্য যথেষ্ট।
হাদিস 941 — Muwatta Malik 20:14
সহিহ
حَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ حُمَيْدِ بْنِ قَيْسٍ، عَنْ مُجَاهِدٍ أَبِي الْحَجَّاجِ، عَنِ ابْنِ أَبِي لَيْلَى، عَنْ كَعْبِ بْنِ عُجْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ لَهُ ‏"‏ لَعَلَّكَ آذَاكَ هَوَامُّكَ ‏"‏ ‏.‏ فَقُلْتُ نَعَمْ يَا رَسُولَ اللَّهِ ‏.‏ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏"‏ احْلِقْ رَأْسَكَ وَصُمْ ثَلاَثَةَ أَيَّامٍ أَوْ أَطْعِمْ سِتَّةَ مَسَاكِينَ أَوِ انْسُكْ بِشَاةٍ ‏"‏ ‏.‏
রেওয়ায়ত ২৪১. কা’ব ইবন উজরা (রাঃ) বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেনঃ মনে হয় উকুন তাহাকে খুবই কষ্ট দিতেছে? আমি বলিলামঃ হ্যা, ইয়া রাসূলাল্লাহ্। তিনি তখন বলিলেনঃ চুল কামাইয়া ফেল এবং তিনদিন রোযা রাখ বা ছয়জন মিসকীনকে আহার করাও বা একটি বকরী কুরবানী দিয়া দিও।
হাদিস 942 — Muwatta Malik 20:15
সহিহ Lighairihi
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ الْخُرَاسَانِيِّ، أَنَّهُ قَالَ حَدَّثَنِي شَيْخٌ، بِسُوقِ الْبُرَمِ بِالْكُوفَةِ عَنْ كَعْبِ بْنِ عُجْرَةَ، أَنَّهُ قَالَ جَاءَنِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَأَنَا أَنْفُخُ تَحْتَ قِدْرٍ لأَصْحَابِي وَقَدِ امْتَلأَ رَأْسِي وَلِحْيَتِي قَمْلاً فَأَخَذَ بِجَبْهَتِي ثُمَّ قَالَ ‏ "‏ احْلِقْ هَذَا الشَّعَرَ وَصُمْ ثَلاَثَةَ أَيَّامٍ أَوْ أَطْعِمْ سِتَّةَ مَسَاكِينَ ‏"‏ ‏.‏ وَقَدْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَلِمَ أَنَّهُ لَيْسَ عِنْدِي مَا أَنْسُكُ بِهِ ‏.‏
রেওয়ায়ত ২৪২. কাব ইবন উজরা (রাঃ) বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার নিকট আসিলেন। আমি চুলায় আগুন ধরাইয়া সঙ্গীদের জন্য রান্না-বান্নায় ব্যস্ত ছিলাম। আমার মাথা ও দাড়ি উকুনে ভরা ছিল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার পেরেশানী অনুভব করিয়া আমার ললাটে হাত রাখিলেন এবং বলিলেনঃ চুল কাটিয়া ফেল এবং তিনদিন রোযা রাখ বা ছয় জন মিসকীনকে খাদ্য দিয়া দাও। আর আমার নিকট কুরবানী করার মত কিছু ছিল না, এই কথা তিনি জানিতেন। মালিক (রহঃ) বলেন, অপরাধ না হওয়া পর্যন্ত কেউ কিছু ফিদয়া দিবে না। কারণ অপরাধ করার পরই শুধু কাফফারা ওয়াজিব হইয়া থাকে। কাফফারার বেলায় কুরবানী বা রোযা বা মিসকীনকে খাদ্য প্রদান, এই তিনটির যেকোন একটি এবং মক্কা বা মক্কার বাহিরে যেকোন শহরে উহা আদায় করার ইখতিয়ার রহিয়াছে। মালিক (রহঃ) বলেনঃ ইহরাম না খোলা পর্যন্ত মুহরিমের জন্য চুল উপড়ান বা কামানো বা ছাটা কিছুই জায়েয নহে। চুলে উকুন ইত্যাদি হইয়া গেলে উহা জায়েয। কিন্তু উহার পরিবর্তে আল্লাহর নির্দেশমত ফিদয়া দিতে হইবে। মুহরিমের জন্য নখ কাটা, উকুন মারা বা মাথার চুল হইতে উকুন বাহির করিয়া মাটিতে ফেলিয়া দেওয়া বা শরীর ও কাপড়ের উকুন বাহির করা জায়েয নহে। এইরূপ করিলে এক মুষ্টি খাদ্য খয়রাত করিবে। মালিক (রহঃ) বলেনঃ যদি ইহরাম অবস্থায় কোন ব্যক্তি নাকের চুল বা বগলতলা বা নাভীর নিচের লোম চিমটি দ্বারা উপড়ায় অথবা মাথায় যখম হওয়ার দরুন প্রয়োজনের খাতিরে চুল কামায় বা সিঙ্গা লাগাইবার উদ্দেশ্যে গর্দানের চুল কাটে, এইসব জানিয়া করুক বা ভুলবশত করুক, সকল অবস্থায়ই তাহার জন্য ফিদয়া দেওয়া ওয়াজিব। সিঙ্গা লাগানো স্থানের চুল কামানো মুহরিমের জন্য জায়েয নহে। মালিক (রহঃ) বলেনঃ অজ্ঞতার দরুন যদি কেউ কঙ্কর নিক্ষেপের পূর্বেই মাথার চুল কামাইয়া ফেলে তবে তাহাকে ফিদয়া দিতে হইবে।
হাদিস 943 — Muwatta Malik 20:16
Mauquf Sahih
حَدَّثَنِي يَحْيَى، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ أَيُّوبَ بْنِ أَبِي تَمِيمَةَ السَّخْتِيَانِيِّ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ مَنْ نَسِيَ مِنْ نُسُكِهِ شَيْئًا أَوْ تَرَكَهُ فَلْيُهْرِقْ دَمًا ‏.‏ قَالَ أَيُّوبُ لاَ أَدْرِي قَالَ تَرَكَ أَوْ نَسِيَ ‏.‏ قَالَ مَالِكٌ مَا كَانَ مِنْ ذَلِكَ هَدْيًا فَلاَ يَكُونُ إِلاَّ بِمَكَّةَ وَمَا كَانَ مِنْ ذَلِكَ نُسُكًا فَهُوَ يَكُونُ حَيْثُ أَحَبَّ صَاحِبُ النُّسُكِ ‏.‏
রেওয়ায়ত ২৪৩. সাঈদ ইবন যুবায়র (রহঃ) বর্ণনা করেন, আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস (রাঃ) বলিয়াছেনঃ যদি কেউ হজ্জে কোন রুকন আদায় করিতে ভুলিয়া যায় বা উহা ছাড়িয়া দেয় তবে তাহাকে কুরবানী দিতে হইবে। আইয়ুব (আইয়ুব ইবন আবি তমীমা সখতিয়ানী) (রহঃ) বলেনঃ আমার মনে নাই সাঈদ (রহঃ) ভুলিয়া গেলে বলিয়াছেন, না ছাড়িয়া দিলে বলিয়াছিলেন। মালিক (রহঃ) বলেনঃ উক্ত কুরবানী মক্কায় পৌছাইতে হইবে। অন্য কোন ইবাদত হইলে যেকোন স্থানেই তাহা আদায় করা যায়।
হাদিস 944 — Muwatta Malik 20:17
সহিহ
حَدَّثَنِي يَحْيَى، عَنْ مَالِكٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ عِيسَى بْنِ طَلْحَةَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ، أَنَّهُ قَالَ وَقَفَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لِلنَّاسِ بِمِنًى وَالنَّاسُ يَسْأَلُونَهُ فَجَاءَهُ رَجُلٌ فَقَالَ لَهُ يَا رَسُولَ اللَّهِ لَمْ أَشْعُرْ فَحَلَقْتُ قَبْلَ أَنْ أَنْحَرَ ‏.‏ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏"‏ انْحَرْ وَلاَ حَرَجَ ‏"‏ ‏.‏ ثُمَّ جَاءَهُ آخَرُ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ لَمْ أَشْعُرْ فَنَحَرْتُ قَبْلَ أَنْ أَرْمِيَ قَالَ ‏"‏ ارْمِ وَلاَ حَرَجَ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ فَمَا سُئِلَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنْ شَىْءٍ قُدِّمَ وَلاَ أُخِّرَ إِلاَّ قَالَ ‏"‏ افْعَلْ وَلاَ حَرَجَ ‏"‏ ‏.‏
রেওয়ায়ত ২৪৫. আবদুল্লাহ ইবন আমর ইবন আস (রাঃ) বর্ণনা করেন, বিদায় হজ্জের (হাজ্জাতুল বিদা) সময় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মানুষের খাতিরে মিনায় দাঁড়ান। বিভিন্ন লোক আসিয়া তাঁহার নিকট বিভিন্ন মাসআলা জিজ্ঞাসা করিতে লাগিল। এমন সময় এক ব্যক্তি আসিয়া বলিলঃ হে আল্লাহর রাসূল! আমি জানিতাম না, তাই কুরবানী করার পূর্বেই মাথা কামাইয়া ফেলিয়াছি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিলেনঃ এখন কুরবানী করিয়া নাও। কোন অসুবিধা নাই। অন্য এক ব্যক্তি আসিয়া বলিলঃ হে আল্লাহর রসূল! আমি কঙ্কর নিক্ষেপ করার পূর্বেই কুরবানী দিয়া ফেলিয়ছি। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ এখন কঙ্কর নিক্ষেপ করিয়া নাও; কোন অসুবিধা হইবে না। আবদুল্লাহ (রাঃ) বলেনঃ আগে বা পরে ফেলা সম্পর্কে সেই দিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে যত প্রশ্ন করা হইয়াছে সকলের বেলায়ই তিনি বলিয়াছেনঃ এখন করিয়া নাও। কোন অসুবিধা হইবে না।
← আগের সংগ্রহে ফিরে যান পরের →

শুধুমাত্র সহিহ ও হাসান হাদিস দেখানো হয়।