রেওয়ায়ত ২২৫. আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) বর্ণনা করেন- উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ) বলিয়াছেনঃ যে ব্যক্তি কঙ্কর নিক্ষেপ, মাথা কামান বা ছাটান এবং কুরবানী ওয়াজিব থাকিলে উহা আদায় করিয়াছেন, তাহার জন্য সুগন্ধি দ্রব্য এবং স্ত্রীসম্ভোগ ব্যতীত আর সকল কিছুই হালাল হইয়া গিয়াছে। বায়তুল্লাহর তাওয়াফের পর তাহার জন্য এ দুইটিও হালাল হইয়া যাইবে।
রেওয়ায়ত ২২৬. উম্মুল মুমিনীন আয়েশা (রাঃ) বলেনঃ বিদায় হজ্জের সময় আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সহিত যাত্রা করি। আমরা উমরার ইহরাম বাধিয়াছিলাম। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিলেনঃ কুরবানীর পশু যাহার আছে সে যেন হজ্জ ও উমরা উভয়টিরই ইহরাম বাঁধিয়া নেয় এবং কাজ সমাধা না করা পর্যন্ত যেন ইহরাম না খোলে। আয়েশা (রাঃ) বলেনঃ মক্কায় যখন প্রবেশ করি তখন আমি ঋতুমতী হইয়া পড়ি। ফলে আমি তাওয়াফ এবং সায়ী করিতে পারলাম না। এ সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট আরয করলে তিনি বলিলেন, বিনুনি খুলিয়া আঁচড়াইয়া নাও আর উমরা পরিত্যাগ করিয়া হজ্জের ইহরাম বাঁধিয়া নাও। আমি তাহাই করিলাম। আমার হজ্জ আদায়ের পর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবদুর রহমান ইবন আবু বকর (রাঃ)-এর সহিত আমাকে তানয়ীম প্রেরণ করেন। তখন সেই স্থান হইতে আমি উমরা আদায় করি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিলেনঃ পূর্বে পরিত্যক্ত উমরার বদল হইল তোমার এই উমরা। যাহারা কেবল উমরার ইহরাম বাঁধিয়াছিল তাহারা তাওয়াফ ও সায়ী করার পর হালাল হইয়া যায় এবং মিনা হইতে ফিরিয়া আসিয়া তাহারা হজ্জের জন্য দ্বিতীয় তাওয়াফ আদায় করবে। আর যাহারা কেবল হজ্জের বা হজ্জ ও উমরা উভয়ের ইহরাম বাঁধিয়াছিল তাহারা শুধু একবারই তাওয়াফ আদায় করিবে। উরওয়াহ ইবন যুবায়র (রহঃ) আয়েশা (রাঃ) হইতে অনুরূপ রেওয়ায়ত করিয়াছেন।
রেওয়ায়ত ২২৭. নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সহধর্মিণী আয়েশা (রাঃ) বলেনঃ ঋতুমতী অবস্থায় আমি মক্কায় আসিয়াছিলাম। ফলে আমি তাওয়াফ ও সায়ী করি নাই। এই কথা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট পেশ করিলে তিনি বলিয়াছিলেনঃ একজন হাজী যে সমস্ত কাজ করে তুমি তাহাই করিয়া যাও। তবে পাক না হওয়া পর্যন্ত তাওয়াফ ও সায়ী স্থগিত রাখ। মালিক (রহঃ) বলেনঃ উমরার ইহরাম বাঁধিয়া কোন মহিলা মক্কায় আসিলে আর হজ্জের সময় তাহার ঋতুস্রাব আরম্ভ হওয়ার দরুন সে যদি তাওয়াফ করিতে না পারে, পাক হইতে হইতে হজ্জের সময় শেষ হইয়া যাওয়ার আশঙ্কা হইলে, সে হজ্জের ইহরাম বাঁধিয়া নিবে এবং একটা কুরবানী করিবে। কিরান হজ্জকারীর মত তাহাকেও একবার তাওয়াফ করিলেই হইবে। তাওয়াফ করিয়া দুই রাকাআত তাওয়াফের নামায আদায় করার পর যদি ঋতুস্রাব শুরু হয় তবে সে হজ্জের অন্যান্য আহকাম, যথা সায়ী, আরাফাতে মুযদালিফায় অবস্থান এবং প্রস্তর নিক্ষেপ এই অবস্থায়ই চালাইয়া যাইতে পারিবে। তবে হায়য হইতে পাক না হওয়া পর্যন্ত তাওয়াফে যিয়ারত করিতে পারিবে না।
রেওয়ায়ত ২২৮. উম্মুল মু'মিনীন আয়েশা (রাঃ) বর্ণনা করেন, (হজ্জের সময়) সফিয়্যা বিনত হুয়াই (রাঃ)-এর ঋতুস্রাব আরম্ভ হয়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট ইহা ব্যক্ত করিলে তিনি বলিলেনঃ সফিয়া যেন আমাদেরকে এইখানেই আটকাইয়া রাখিবে। তখন তাহাকে বলা হইল, ইনি তাওয়াফে যিয়ারত (ইফাযা) আদায় করিয়া নিয়াছেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিলেনঃ তবে আর আটকাইবে না।
হাদিস 930 — Muwatta Malik 20:3
সহিহ
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي بَكْرِ بْنِ حَزْمٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَمْرَةَ بِنْتِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ عَائِشَةَ أُمِّ الْمُؤْمِنِينَ، أَنَّهَا قَالَتْ لِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ صَفِيَّةَ بِنْتَ حُيَىٍّ قَدْ حَاضَتْ . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لَعَلَّهَا تَحْبِسُنَا أَلَمْ تَكُنْ طَافَتْ مَعَكُنَّ بِالْبَيْتِ " . قُلْنَ بَلَى . قَالَ " فَاخْرُجْنَ " .
রেওয়ায়ত ২২৯. উম্মুল মু'মিনীন আয়েশা (রাঃ) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট বলিলেনঃ হে আল্লাহর রাসূল! সফিয়্যারতো ঋতুস্রাব শুরু হইয়াছে। তিনি বলিলেনঃ মনে হয় সে আমাদের আটকাইয়া রাখিবে। সে কি তোমাদের সহিত বায়তুল্লাহর তাওয়াফ করে নাই? মহিলাগণ বলিলেনঃ হ্যাঁ, করিয়াছিলেন। তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিলেনঃ তবে আর কি, তাহা হইলে এখন চল।
রেওয়ায়ত ২৩০. আমরাহ বিনত আবদুর রহমান (রহঃ) বর্ণনা করেন, উম্মুল মু'মিনীন আয়েশা (রাঃ) অন্য মহিলাদেরকে নিয়া হজ্জ করিতেন এবং যদি তাহদের কাহারও ঋতুস্রাবের আশঙ্কা দেখা দিত তবে দশ তারিখেই তাহাকে তাওয়াফে যিয়ারত সমাধা করিয়া আসার জন্য পাঠাইয়া দিতেন। তাওয়াফে যিয়ারত করিয়া নেওয়ার পর কাহারও ঋতুস্রাব হইলে তাহার পাক হওয়ার আর অপেক্ষা করিতেন না, গন্তব্যস্থলে রওয়ানা হইয়া পড়িতেন।
হাদিস 932 — Muwatta Malik 20:5
সহিহ
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ أُمِّ الْمُؤْمِنِينَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ذَكَرَ صَفِيَّةَ بِنْتَ حُيَىٍّ فَقِيلَ لَهُ قَدْ حَاضَتْ . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لَعَلَّهَا حَابِسَتُنَا " . فَقَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّهَا قَدْ طَافَتْ . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " فَلاَ إِذًا " . قَالَ مَالِكٌ قَالَ هِشَامٌ قَالَ عُرْوَةُ قَالَتْ عَائِشَةُ . وَنَحْنُ نَذْكُرُ ذَلِكَ فَلِمَ يُقَدِّمُ النَّاسُ نِسَاءَهُمْ إِنْ كَانَ ذَلِكَ لاَ يَنْفَعُهُنَّ وَلَوْ كَانَ الَّذِي يَقُولُونَ لأَصْبَحَ بِمِنًى أَكْثَرُ مِنْ سِتَّةِ آلاَفِ امْرَأَةٍ حَائِضٍ كُلُّهُنَّ قَدْ أَفَاضَتْ .
রেওয়ায়ত ২৩১. উম্মুল মু'মিনীন আয়েশা (রাঃ) বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উম্মুল মু'মিনীন সফিয়া (রাঃ)-এর কথা জিজ্ঞাসা করিলে তাহারা বলিলেনঃ তাহার ঋতুস্রাব শুরু হইয়াছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিলেনঃ হয়তো সে আমাদেরকে আটকাইয়া রাখিবে। অন্যরা বলিলেনঃ হে আল্লাহর রাসূল! তিনি তাওয়াফ করিয়া নিয়াছেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিলেনঃ তবে আর আটকাইবে না। হিশাম ইবন উরওয়াহ (রহঃ) হইতে বর্ণিত, তিনি বলিয়াছেনঃ আমরা উপরিউক্ত বিষয় আলোচনা করিয়াছিলাম। তখন আয়েশা (রাঃ) বলেনঃ মহিলাগণকে যদি পূর্বে তাওয়াফের জন্য পাঠাইয়া দেওয়া উপকারী না হয়, তবে মানুষ কেন পাঠায়? মানুষের এই ধারণা যদি ঠিক হইত, তবে ছয় হাজারেরও অধিক মহিলাকে ঋতুমতী অবস্থায় তাওয়াফে রুখসতের অপেক্ষায় মিনায় পড়িয়া থাকিতে হইত।
হাদিস 933 — Muwatta Malik 20:6
দাঈফ
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي بَكْرٍ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّ أَبَا سَلَمَةَ بْنَ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، أَخْبَرَهُ أَنَّ أُمَّ سُلَيْمٍ بِنْتَ مِلْحَانَ اسْتَفْتَتْ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَحَاضَتْ - أَوْ وَلَدَتْ - بَعْدَ مَا أَفَاضَتْ يَوْمَ النَّحْرِ فَأَذِنَ لَهَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَخَرَجَتْ .
রেওয়ায়ত ২৩২. আবদুল্লাহ ইবন আবু বকর (রহঃ) তাহার পিতা হইতে বর্ণনা করেন, তাহাকে আবু সালমা ইবন আবদুর রহমান (রহঃ) খবর দিয়াছেনঃ উম্মে সুলায়ম বিনত মিলহান (রাঃ)-এর তাওয়াফে যিয়ারতে ঋতুস্রাব শুরু হইলে অথবা তাহার সন্তান ভূমিষ্ঠ হইলে তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট চলিয়া যাওয়ার অনুমতি চাহিলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাহাকে চলিয়া যাইতে অনুমতি দিলেন। পরে তিনি চলিয়া গেলেন। মালিক (রহঃ) বলেনঃ মিনায় অবস্থানকালে কাহারও ঋতুস্রাব শুরু হইলে তাওয়াফে যিয়ারত না করা পর্যন্ত সে অপেক্ষা করিবে। তাওয়াফে যিয়ারত করার পর যদি কাহারও ঋতুস্রাব শুরু হয় তবে সে তাহার দেশে ফিরিয়া যাইতে পারে। কারণ এমন ঋতুমতী মহিলা সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর তরফ হইতে অনুমতি প্রদানের রেওয়ায়ত আমাদের নিকট পৌছিয়াছে। তাওয়াফে যিয়ারতের পূর্বেই যদি ঋতুস্রাব শুরু হয় এবং উহা বন্ধ না হয় তবে ঋতুস্রাবের জন্য নির্ধারিত পূর্ণ মেয়াদ পর্যন্ত সে অবস্থান করিবে।
রেওয়ায়ত ২৩৩. আবূয যুবায়র মক্কী (রহঃ) বর্ণনা করেন, উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ) হায়েনা হত্যার বেলায় একটি মেষ, হরিণের বেলায় একটি ছাগল এবং খরগোশ হত্যার বেলায় এক বৎসর বয়সের ছাগলছানা, বন্য ইদুর হত্যার বেলায় চার মাস বয়সের ছাগলছানা প্রদানের বিধান দিয়াছেন।